বুজুর্গদের পরীক্ষিত আমল প্রচারের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১৯২০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মনিত মুফতি সাহেব দা:বা: বুজুর্গানে কেরামের তাজরিবাহ বা পরীক্ষিত আমল,,যে আমল করে তারা উপকৃত হয়েছেন!এমন আমল অন্যদেরকে করতে উৎসাহিত করার বিধান কি?এমন আমল কি বেদআত হবে? দলিল সহ জানালে উপকৃত হতাম।
২০ অক্টোবর, ২০২৬
দিরাই
৯৫ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো নেককার আলেম বা বুজুর্গের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উপকারী প্রমাণিত কোনো আমল অন্যকে করতে উৎসাহিত করলেই তা বিদআত হয়ে যায় না। তবে আমলটি কী, তার শরয়ি ভিত্তি কী, সেটিকে কীভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবং এর জন্য বিশেষ সওয়াব, নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিশেষ ফল নিশ্চিত বলে দাবি করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ের ওপর বিধান নির্ভর করবে।
কোনো আমল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উপকারী হওয়া এক বিষয়; আর সেটিকে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত বা সুন্নত বলে প্রতিষ্ঠা করা আরেক বিষয়। দুটিকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
কুরআন-হাদিসে সরাসরি নির্দিষ্টভাবে বর্ণিত নয়, এমন কিছু আমল, ওজিফা বা পদ্ধতি বুজুর্গদের অভিজ্ঞতায় উপকারী প্রমাণিত হলে, বৈধ উদ্দেশ্যে সেগুলো করা জায়েজ। তবে সেগুলোকে কুরআন-হাদিসে সরাসরি প্রমাণিত আমল মনে করা যাবে না।
বুজুর্গদের পরীক্ষিত আমলকে বৈধ চিকিৎসা বা উপায় হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেটিকে শরিয়তের আবশ্যক অংশ মনে করা এক বিষয় নয়। কোনো আমলকে দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা অবশ্যপালনীয় সুন্নত মনে করা হলে তার বিধান ভিন্ন হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুনভাবে প্রবর্তন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৭১৮)হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/11392
আওফ ইবন মালিক (রা.) বলেন, জাহেলি যুগে আমরা ঝাড়ফুঁক করতাম। আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,
اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ
তোমাদের ঝাড়ফুঁকগুলো আমার সামনে উপস্থাপন করো। তাতে শিরক না থাকলে ঝাড়ফুঁকে কোনো অসুবিধা নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২০০)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/12593
এ থেকে বোঝা যায়, কোনো উপায় বা আমল গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু সেটি আগে থেকে প্রচলিত ছিল কি না, তা নয়; বরং এর বিষয়বস্তু ও শরয়ি সীমারেখাও বিবেচ্য।
সুতরাং, বুজুর্গদের পরীক্ষিত আমল যদি কুরআন-সুন্নাহবিরোধী না হয়, তাতে শিরক বা নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে এবং সেটিকে শরিয়ত-নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত বা ফজিলত হিসেবে প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠা করা না হয়, তাহলে তা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গ্রহণ করা এবং অন্যকে উৎসাহিত করা জায়েজ।
المحدثة والمراد بها ما أحدث، وليس له أصلٌ في الشرع ويسمى في عرف الشرع ’’بدعة‘‘، وما كان له أصل يدل عليه الشرع فليس ببدعة، فالبدعة في عرف الشرع مذمومة بخلاف اللغة: فإن كل شيء أحدث على غير مثال يسمى بدعة، سواء كان محمودًا أو مذمومًا.
(فتح الباري، 13: 253)
(فتح الباري، 13: 253)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন