মাসিকের শুরু ও শেষ নির্ণয় এবং নামাজ আদায়ের শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৭৭৫৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, Assalamualaikum amr prottek maser nirdisto somoye masik na hoye 4-5 din age chole ase.protome olpo deka jay 3-4 din por suru hoy.valovabe howar por 3-4 din thake.sob miliye 9-10din chole jay.akon ami ki ei 10din namaz porbona?na j din tikmoto hobe sedin theke porbona?
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
London W১W ৫BG
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মূল বিষয় ও সমস্যার সমাধান বুঝার সহজার্থে আপনার অবস্থাগুলোকে নিচে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে উত্তর দেয়া হলো-
১. মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রথম ৩-৪ দিন সামান্য বা অল্প পরিমাণ রক্ত বা ফোঁটা দেখা গেলেও তা হায়েজের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।
২. সামান্য রক্ত দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পরিষ্কার বা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত যদি মোট সময় ১০ দিন ১০ রাতের কম/সমান সময় হয়, তবে এই পুরো সময়টাই ‘হায়েজ’ (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং আপনার করণীয় হল-
১. যে দিন বা যে সময় থেকে হালকা বা অল্প হলেও রক্ত দেখা যাবে, সে সময় থেকেই নামাজ পড়া বন্ধ করবেন। ঠিকমতো বা বেশি রক্ত শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
২. যদি ৯ বা ১০ দিনের মাথায় রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরজ হবে। তখন গোসল করে নিয়মিত নামাজ শুরু করবেন। হায়েজের দিনগুলোর নামাজ কাজা করতে হবে না।
৩. যদি কোনো মাসে মোট সময় ১০ দিন ১০ রাত পার হয়ে যায়, তবে ১১তম দিন থেকে তা আর হায়েজ থাকবে না, বরং তা ‘ইস্তাহাজা’ (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে।
এমতাবস্থায় আপনার আগের অভ্যাসের দিনগুলো হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে এবং অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তহাজা হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে হায়েজের দিনগুলোকে বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলোর নামাজ কাজা পড়তে হবে।
যেমন ফিকহের কিতাবে আছে -
"وَمَا رَأَتْهُ الْمَرْأَةُ مِنْ حُمْرَةٍ أَوْ صُفْرَةٍ أَوْ كُدْرَةٍ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ فَهُوَ حَيْضٌ"
অনুবাদ: হায়েজের দিনগুলোতে নারী লাল, হলুদ বা ঘোলা রঙের যা কিছু দেখবে, তা হায়েজ হিসেবেই গণ্য হবে।(রদ্দুল মুহতার/ফাতাওয়ায়ে শামী)
"وَالنَّقَاءُ الْمُتَخَلِّلُ بَيْنَ الدَّمَيْنِ فِي مُدَّةِ الْحَيْضِ حَيْضٌ"
অনুবাদ: হায়েজের মেয়াদের ভেতরে রক্ত আসার মাঝখানের পবিত্র বা রক্তহীন সময়টুকুকেও হায়েজ হিসেবে ধরা হবে।(ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি মোহাম্মদ আমীর হোসাইন
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১