পরিবারকে গীবত থেকে বাঁচানো উপায়
প্রশ্নঃ ১৬৯১৬৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার পরিবারের লোকজন অধিক পরিমাণে গিবতে অভস্ত্য হয়ে যাচ্ছে এদের কিভাবে ফেরানো যায়। পরামর্শ দিলে উপকৃত হইতাম।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মানিকগঞ্জ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
পরিবারের সদস্যদের গীবত বা পরনিন্দা করার অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনতে ধৈর্য, কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে চেষ্টা করতে হবে। হুট করে রাগারাগি না করে নরম ভাষায় এবং কৌশলে তাদের এই অভ্যাস থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
পরিবারকে গীবত থেকে মুক্ত করার জন্য আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো একে একে গ্রহণ করতে পারেন:
আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া:
পরিবারে যখনই কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ চর্চা বা গীবত শুরু হবে, আপনি কৌশলে অন্য কোনো ভালো বা আকর্ষণীয় বিষয়ে কথা শুরু করুন।
কোনো শিক্ষণীয় বা পারিবারিক কোনো মজার স্মৃতি মনে করিয়ে দিন। পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা তুলুন।
আড্ডার মাঝে কোনো ধাঁধা বা কুইজের আয়োজন করে সবার মন ওদিক থেকে সরিয়ে নিন।
সরাসরি প্রশংসা শুরু করা:
যে মানুষটির গীবত করা হচ্ছে, তার কোনো একটি ভালো গুণের কথা সবার সামনে তুলে ধরুন।
যেমন বলতে পারেন, "তার তো এই একটা দোষ আছে ঠিকই, কিন্তু উনি বিপদের সময় আমাদের অনেক সাহায্য করেছিলেন।"
মানুষের ভালো দিকগুলো আলোচনা করলে গীবত করার আগ্রহ এমনিতেই কমে যায়।
গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানানো
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গীবতের শাস্তি ও অপকারিতা কতটা মারাত্মক, তা তাদের সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলুন।
তাদের মনে করিয়ে দিন যে, গীবত করলে নিজের কষ্টার্জিত নেক আমল বা সাওয়াব যার গীবত করা হয়েছে তার আমলনামা বা আমলের অ্যাকাউন্টে চলে যায়।
কোরআনের সেই আয়াতের কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন, যেখানে গীবত করাকে "মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার" সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:
وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
"এবং তোমরা একে অপরের গীবত (পরনিন্দা) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।" সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২।
ঘরোয়া আলোচনার সময় ভালো কোনো ইসলামিক বই বা নির্ভরযোগ্য আলেমদের গীবত-বিরোধী আলোচনা একসঙ্গে শোনতে পারেন। নিচের রেফারেন্স উত্তরটিও তাদের সামনে মুজাকারা করতে পারেন। এতেও আশা করা যায় তাদের মাঝে গীবতের মানসিকতা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করবে। https://muslimbangla.com/masail/37329
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা
পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন যে আপনি এই ধরণের আলোচনা পছন্দ করছেন না।
বিনয়ের সাথে বলুন, "অন্য মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা না বলে, আমরা নিজেদের কোনো ভালো কাজ নিয়ে কথা বলি।"
প্রয়োজনে তারা গীবত শুরু করলে আপনি হালকা কোনো অজুহাত দেখিয়ে সেই জায়গা থেকে উঠে অন্য ঘরে চলে যান। বারবার এমন করলে তারা বুঝতে পারবে যে আপনি এটি সমর্থন করছেন না। শরীয়তে এমন স্থানে বসতে নিষেধ করা হয়েছে যেখানে গুনাহ হয়।
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ
"আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহের সমালোচনায় লিপ্ত হয়, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন (সেখান থেকে সরে যান), যতক্ষণ না তারা অন্য কথায় লিপ্ত হয়।"সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৬৮।
ব্যস্ত থাকার পরিবেশ তৈরি করা:
মানুষ সাধারণত তখনই গীবত করে যখন তারা অলস বা অবসরে থাকে। তাই পরিবারের সবাইকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।
একসঙ্গে বসে তালিমের হালকা কায়েম করুন।
সবাই মিলে জিকির, তাসবিহাতের আমলের মুজাকারা করুন।
নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করে উদাহরণ হওয়া
সবার আগে নিজে গীবত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। পরিবারের কেউ যখন দেখবে আপনি কখনোই কারো নামে মন্দ কথা বলেন না, তখন অবচেতনভাবেই আপনার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বাড়বে এবং তারা আপনার সামনে গীবত করতে দ্বিধাবোধ করবে।
সবশেষে, তাদের হেদায়েত ও মন মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুআ করুন। পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না, তাই হাল না ছেড়ে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যান।
আল্লাহ তায়ালা আপনার পরিবারকে সঠিক পথে দিশা দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১