সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজের দ্বীন ও আমলের ক্ষতি করা যাবে না
প্রশ্নঃ ১৭১৮২৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বাসায় মেহমান আসা বরকতের লক্ষন।আমাদের বাসায়ও প্রতিদিন কোনো না কোনো আত্মীয়স্বজন আসতেই থাকে। এখন প্রশ্ন হলো তাদের সাথে সময় দিতে গিয়ে আমার আমল ছুটে যায় আবার তখন নানা গিবতও হয়ে থাকে এখন আমি কিভাবে গুনাহ থেকে বাচতে পারি
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আল্লাহর হক আদায় করাও জরুরি।
তাই সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজের দ্বীন ও আমলের ক্ষতি করবেন না। নিজের ইবাদতের সময়টুকু আলাদা রাখুন।
মেহমান আসার আগেই সম্ভব হলে নিজের আমলগুলো সেরে নিন। আর মেহমান থাকা অবস্থায় নামাজের সময় হলে বিনয়ের সঙ্গে একটু বিরতি নিয়ে নামাজ আদায় করুন।
গিবত থেকে বাঁচুন: আলোচনা গীবতের দিকে গেলে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করুন, সম্ভব হলে ভালো কথা বলুন। প্রয়োজন হলে নীরবে সেখান থেকে সরে যান।
যখনি গীবত করার কথা মনে আসবে, কিংবা কেউ আপনার কাছে বলতে চাইবে তখনি এসব আয়াত ও হাদীসের কথা মনে করুন। যিনি আপনাকে বলতে চাচ্ছে তাকে শুনান গীবত সংক্রান্ত মারাত্মক সব ধমকি সম্বলিত আয়াত ও হাদীসের কথা। আশা করি গীবতের মত ভয়াবহ গুনাহ থেকে আল্লাহ তাআলা হিফাযত করবেন।
গীবতের প্রসঙ্গ আসলেই কুরআনের আয়াত ও রাসূল সাঃ এর হাদীস মনে করুন। মেহমানদেরকে স্বরণ করিয়ে দিন।
যেমন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢]
মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}
وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١]
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, {সূরা হুমাজা-১}
عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ
হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন