হক্কানী আলেম চেনার উপায়
প্রশ্নঃ ১৭২২৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বর্তমানে বাংলাদেশে হক্কানী আলেম চেনার উপায় কি?
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
চট্টগ্রাম
১১২ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হক্কানী আলেম চেনার মূল মানদণ্ড হলো, সহীহ দ্বীনি ইলম, ইলম অনুযায়ী আমল, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র, সত্যবাদিতা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং ফতোয়া প্রদানে সতর্কতা।
তাবেয়ি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) বলেছেন,
তাবেয়ি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) বলেছেন,
إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ
নিশ্চয়ই এই ইলম দ্বীন; অতএব তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ, তা যাচাই করো। (মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম, বর্ণনা ২৫)
এই গুরুত্বপূর্ণ নীতির আলোকে একজন অনুসরণযোগ্য আলেমের মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য খেয়াল করা যেতে পারে।
১. বিশুদ্ধ আকিদা
তিনি কুরআন-সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার আলোকে দ্বীন শিক্ষা দেন। যোগ্য উস্তাদদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইলম অর্জন করেছেন, ফিকহি মতভেদ সম্পর্কে অবগত এবং নিজের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে সচেতন। তিনি না জেনে ফতোয়া দেন না এবং প্রয়োজন হলে অন্য যোগ্য আলেমের শরণাপন্ন হন।
২. তাকওয়া ও আমলের প্রতি যত্ন
আল্লাহ তাআলা বলেন,
এই গুরুত্বপূর্ণ নীতির আলোকে একজন অনুসরণযোগ্য আলেমের মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য খেয়াল করা যেতে পারে।
১. বিশুদ্ধ আকিদা
তিনি কুরআন-সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার আলোকে দ্বীন শিক্ষা দেন। যোগ্য উস্তাদদের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইলম অর্জন করেছেন, ফিকহি মতভেদ সম্পর্কে অবগত এবং নিজের জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে সচেতন। তিনি না জেনে ফতোয়া দেন না এবং প্রয়োজন হলে অন্য যোগ্য আলেমের শরণাপন্ন হন।
২. তাকওয়া ও আমলের প্রতি যত্ন
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে যথার্থভাবে ভয় করেন। (সূরা ফাতির: ২৮)
একজন আলেমের মধ্যে আল্লাহভীতি, ইবাদতের প্রতি যত্ন, সততা, বিনয় এবং হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতনতা থাকা উচিত। তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণে দ্বীনি শিক্ষার প্রভাব দেখা যাবে। তবে কোনো মানুষের অন্তরের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।
৩. আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র
শুধু তথ্য জানা নয়, ইলম অনুযায়ী আমল করা, অহংকার ও আত্মপ্রশংসা থেকে বেঁচে থাকা, মানুষের প্রতি সদাচরণ করা এবং নিজের ভুল সংশোধন করা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নেককার আলেমদের সান্নিধ্য ও আত্মশুদ্ধির চেষ্টা এ ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে নির্দিষ্ট কোনো পীর বা তরিকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকে হক্কানী হওয়ার আবশ্যিক শর্ত মনে করা ঠিক নয়।
৪. ইখলাস ও আর্থিক আমানতদারিতা
তিনি দ্বীনি বক্তব্যে সত্য গোপন করেন না, অর্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য শরয়ি সিদ্ধান্ত বিকৃত করেন না এবং মানুষকে প্রতারণা করেন না। বৈধ বেতন বা সম্মানী গ্রহণ করাই দোষ নয়; বরং অর্থের জন্য মিথ্যা বলা, অন্যায়কে সমর্থন করা কিংবা দ্বীনকে প্রতারণার মাধ্যম বানানো নিন্দনীয়।
৫. হকের ওপর অবিচলতা ও ন্যায়পরায়ণতা
তিনি ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা আর্থিক স্বার্থের কারণে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা বিকৃত করেন না। ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখেন। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাই তাঁর অযোগ্যতার প্রমাণ নয়; বরং সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বিবেচ্য।
৬. মতভেদে শিষ্টাচার ও ভারসাম্য
তিনি ইলমি মতভেদকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেন, অন্য আলেমদের অযথা অপমান করেন না এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে ফাসিক, বিদআতি বা কাফির আখ্যা দেন না। একই সঙ্গে শরয়ি ভুলের সমালোচনা করতে হলে দলিল ও শিষ্টাচার বজায় রাখেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
একজন আলেমের মধ্যে আল্লাহভীতি, ইবাদতের প্রতি যত্ন, সততা, বিনয় এবং হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতনতা থাকা উচিত। তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণে দ্বীনি শিক্ষার প্রভাব দেখা যাবে। তবে কোনো মানুষের অন্তরের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।
৩. আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র
শুধু তথ্য জানা নয়, ইলম অনুযায়ী আমল করা, অহংকার ও আত্মপ্রশংসা থেকে বেঁচে থাকা, মানুষের প্রতি সদাচরণ করা এবং নিজের ভুল সংশোধন করা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নেককার আলেমদের সান্নিধ্য ও আত্মশুদ্ধির চেষ্টা এ ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে নির্দিষ্ট কোনো পীর বা তরিকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকে হক্কানী হওয়ার আবশ্যিক শর্ত মনে করা ঠিক নয়।
৪. ইখলাস ও আর্থিক আমানতদারিতা
তিনি দ্বীনি বক্তব্যে সত্য গোপন করেন না, অর্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য শরয়ি সিদ্ধান্ত বিকৃত করেন না এবং মানুষকে প্রতারণা করেন না। বৈধ বেতন বা সম্মানী গ্রহণ করাই দোষ নয়; বরং অর্থের জন্য মিথ্যা বলা, অন্যায়কে সমর্থন করা কিংবা দ্বীনকে প্রতারণার মাধ্যম বানানো নিন্দনীয়।
৫. হকের ওপর অবিচলতা ও ন্যায়পরায়ণতা
তিনি ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা আর্থিক স্বার্থের কারণে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা বিকৃত করেন না। ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখেন। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাই তাঁর অযোগ্যতার প্রমাণ নয়; বরং সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বিবেচ্য।
৬. মতভেদে শিষ্টাচার ও ভারসাম্য
তিনি ইলমি মতভেদকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেন, অন্য আলেমদের অযথা অপমান করেন না এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে ফাসিক, বিদআতি বা কাফির আখ্যা দেন না। একই সঙ্গে শরয়ি ভুলের সমালোচনা করতে হলে দলিল ও শিষ্টাচার বজায় রাখেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا اللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيءِ
মুমিন অন্যকে দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও কটুভাষী হয় না। (জামে তিরমিযি, হাদিস: ১৯৭৭)والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন