সালাফি মানে কি
প্রশ্নঃ ১৭১৬৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ভাই সালাফি মানে কি?
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
Baragram
২২২ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সালাফি (سَلَفِيّ) শব্দের অর্থ হলো, সালাফদের অনুসারী। ইসলামী পরিভাষায় সালাফি বলতে সাধারণত সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি কুরআন ও সুন্নাহকে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িনের বুঝ ও পদ্ধতি অনুসারে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সালাফ কারা?
সালাফে সালেহিন (السلف الصالح) বলতে সাধারণত ইসলামের প্রথম তিন প্রজন্মকে বোঝানো হয়:
এক. সাহাবায়ে কেরাম (রা.): যাঁরা ঈমানের সঙ্গে নবীজি ﷺ-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
দুই. তাবেয়িন: যাঁরা সাহাবিদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিন. তাবে-তাবেয়িন: যাঁরা তাবেয়িনদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
সালাফ কারা?
সালাফে সালেহিন (السلف الصالح) বলতে সাধারণত ইসলামের প্রথম তিন প্রজন্মকে বোঝানো হয়:
এক. সাহাবায়ে কেরাম (রা.): যাঁরা ঈমানের সঙ্গে নবীজি ﷺ-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
দুই. তাবেয়িন: যাঁরা সাহাবিদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিন. তাবে-তাবেয়িন: যাঁরা তাবেয়িনদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ
সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের মানুষ, তারপর তাঁদের পরবর্তী যুগের মানুষ, তারপর তাঁদের পরবর্তী যুগের মানুষ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৩৩)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/2476
তাহেল সালাফ হলেন রাসুলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবা-তাবেয়ীদের শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্ম। তাঁদের খাঁটি পথ অনুসরণকারী সকল মুসলমানই সালাফি।
বর্তমান পরিভাষায়, সালাফি বলতে বোঝানো হয় যারা কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাজহাব মানেন না এবং নিজেদের মতে সরাসরি সহিহ হাদিসের ওপর আমল করার দাবি করেন (উপমহাদেশে যাদের আহলে হাদিসও বলা হয়)। তবে সব সালাফি মাজহাব অস্বীকার করেন, এমনটি বলা যথাযথ নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় তাঁদের সঙ্গে আহলে হাদিস ধারার উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে, যদিও দুটি পরিচয় সব ক্ষেত্রে অভিন্ন নয়।
বর্তমান পরিভাষায়, সালাফি বলতে বোঝানো হয় যারা কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাজহাব মানেন না এবং নিজেদের মতে সরাসরি সহিহ হাদিসের ওপর আমল করার দাবি করেন (উপমহাদেশে যাদের আহলে হাদিসও বলা হয়)। তবে সব সালাফি মাজহাব অস্বীকার করেন, এমনটি বলা যথাযথ নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় তাঁদের সঙ্গে আহলে হাদিস ধারার উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে, যদিও দুটি পরিচয় সব ক্ষেত্রে অভিন্ন নয়।
সাধারণ মুসলমানদের জন্য প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের তাকলিদ কেন জরুরি?
সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে কুরআন-হাদিস থেকে সরাসরি শরয়ি বিধান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারণ, এর জন্য আরবি ভাষা, তাফসির, হাদিসশাস্ত্র, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়াদ এবং উসুলে ফিকহসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তাই যাঁরা নিজেরা এসব বিষয়ে যোগ্যতা রাখেন না, তাঁদের নির্ভরযোগ্য আলেমদের জিজ্ঞাসা করা ও তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণ করা কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,
ইসলামের প্রসিদ্ধ চার মাযহাব, হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুসংবদ্ধ ফিকহি ব্যাখ্যা ও বিধান সংরক্ষণ করেছে। তাই সাধারণ মুসলমানদের জন্য এসব মাযহাবের কোনো একটির নির্ভরযোগ্য আলেমদের নির্দেশনা অনুসারে জীবন পরিচালনা করা দ্বীনের বিধান বুঝে আমল করার একটি স্বীকৃত ও নিরাপদ পদ্ধতি।
যাঁরা সরাসরি কুরআন-হাদিস অনুসরণের দাবি করেন, তাঁদেরও প্রতিটি বিষয়ে নিজেরা দলিল বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না, বাস্তবে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো আলেমের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন।
সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে কুরআন-হাদিস থেকে সরাসরি শরয়ি বিধান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারণ, এর জন্য আরবি ভাষা, তাফসির, হাদিসশাস্ত্র, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়াদ এবং উসুলে ফিকহসহ বিভিন্ন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তাই যাঁরা নিজেরা এসব বিষয়ে যোগ্যতা রাখেন না, তাঁদের নির্ভরযোগ্য আলেমদের জিজ্ঞাসা করা ও তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণ করা কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো। (সূরা আন-নাহল, ১৬:৪৩)ইসলামের প্রসিদ্ধ চার মাযহাব, হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুসংবদ্ধ ফিকহি ব্যাখ্যা ও বিধান সংরক্ষণ করেছে। তাই সাধারণ মুসলমানদের জন্য এসব মাযহাবের কোনো একটির নির্ভরযোগ্য আলেমদের নির্দেশনা অনুসারে জীবন পরিচালনা করা দ্বীনের বিধান বুঝে আমল করার একটি স্বীকৃত ও নিরাপদ পদ্ধতি।
যাঁরা সরাসরি কুরআন-হাদিস অনুসরণের দাবি করেন, তাঁদেরও প্রতিটি বিষয়ে নিজেরা দলিল বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না, বাস্তবে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো আলেমের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন।
তবে তাঁরা আমাদের মুসলিম ভাই, মাজহাব অস্বীকার এবং তাকলিদ বর্জনের কারণে তাঁদের সাথে ফিকহি মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতপার্থক্যকে হিংসা-বিদ্বেষ বা অনৈক্যের হাতিয়ার বানানো কোনোভাবেই উচিত নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন