ব্যবহৃত পানির পরিচয় এবং বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৫১৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ওজু করার সময় ছোট কোনো পাত্র বা বালতি থেকে পানি ব্যবহার করার পর, সেই পাত্রে যদি ওজুর ব্যবহৃত পানি সামান্য পরিমাণ মিশে যায়, তবে কি সেই অবশিষ্ট পানি দিয়ে অন্য কেউ ওজু করতে পারবে? নদী বা পুকুরের বিশাল পানির সাথে এই ছোট পাত্রের পানির শরিয়তি হুকুম বা পার্থক্যের সঠিক কারণটি জানতে চাই।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
এক. সকল ব্যবহৃত পানি নাপাক নয়। বরং যে পানি দিয়ে নাপাকি দূর করা হয়েছে, সেই পানি নাপাকির সংস্পর্শে আসার কারণে নাপাক হয়ে গেলে তা কোনো কাজেই ব্যবহার করা যাবে না।
অন্যদিকে, যে পানি দিয়ে কোনো নাপাকি দূর করা হয়নি, যেমন—সাধারণত খাবারের আগে-পরে হাত ধোয়ার পানি কিংবা ঠান্ডা লাভের উদ্দেশ্যে হাত-মুখ ধোয়ার পানি, সেগুলো পবিত্র পানি। এগুলো দিয়ে পুনরায় অজু ও ফরজ গোসল করা যাবে। কেননা, প্রচলিত অর্থে এসব পানি ব্যবহৃত হলেও শরয়ি পরিভাষায় এগুলো ব্যবহৃত পানি হিসেবে গণ্য নয়। তাই এগুলো নিজেরাও পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম।
তবে যে পানি দিয়ে কোনো ইবাদত আদায়ের উদ্দেশ্যে অজু করা হয়েছে, সেই পানি দিয়ে সাধারণ ধোয়া-মোছার কাজ করা যাবে; কিন্তু তা দিয়ে পুনরায় অজু বা ফরজ গোসল করা যাবে না। কেননা, হানাফি মাজহাবের পরিভাষায় এ ধরনের পানি নিজে পবিত্র হলেও অন্যকে পবিত্র করার উপযোগী নয়।
কাজেই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি হাতে নাপাক না থাকে তাহলে ওই পানি দিয়ে অজু-গোসল করা যাবে। আর নাপাক থাকলে প্রথমবার পাত্রে হাত দেওয়ার ফলে পুরো পানিই নাপাক হয়ে যাবে। তাই তা দিয়ে অযু গোসল করা জায়েজ হবে না।
তবে হাতে নাপাক না থাকলেও বিষয়টি দৃষ্টিকটু! বিশেষত যদি সেই পানি অন্যদের প্রয়োজনীয় হয় কিংবা প্রয়োজনীয় নাহলেও এভাবে ব্যবহারের ফলে অপচয় হওয়ার আশঙ্কা হয়। কাজেই যদি ছোট পাত্র থাকে তাহলে ছোট পাত্র দিয়ে পানি নিয়ে অজু করা উচিত। এবং এটাই সুন্নাহসম্মত।
দুই. অল্প পানি এবং বেশি পানির মাঝে পার্থক্যের মূল কারণ হলো, পানির পরিমাণ, নাপাকির প্রভাব এবং পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটেছে কি না—এসব বিষয় শরিয়তের বিধান নির্ধারণে বিবেচ্য। তবে শুধু ছোট পাত্র বা বড় পুকুর—এটুকুই একমাত্র মানদণ্ড নয়।
ফিকহে হানাফির মূলনীতি:
১. অল্প পানি: অল্প স্থির পানিতে নাপাকি পড়লে, পানির রং, গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তিত না হলেও হানাফি মাজহাবের বিধান অনুযায়ী পানি নাপাক হয়ে যায়।
২. অধিক পানি: অধিক পানিতে নাপাকি পড়লেও যদি নাপাকির কারণে পানির রং, গন্ধ বা স্বাদের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে পানি পবিত্র থাকে। তবে এসব বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হলে পানি নাপাক হয়ে যায়।
পানির পরিমাণ নির্ধারণের মানদণ্ড কী?
ফিকহে হানাফির প্রসিদ্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, পানির উপরিভাগের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রত্যেকটি দশ হাত হলে এবং পানি এতটা গভীর হলে যে হাত দিয়ে পানি তুললে তলদেশ প্রকাশিত হয় না, তাহলে সেটিকে অধিক পানি হিসেবে গণ্য করা হয়।
শরিয়ত এই পার্থক্য কেন করেছে?
এর অন্তর্নিহিত এবং ফিকহি গভীরতা আছে। আর বাহ্যিক এবং দৃশ্যমান তাৎপর্য হলো, অল্প পানি নাপাকির সংস্পর্শে এলে সাধারণত তা দ্রুত প্রভাবিত হতে পারে; কিন্তু বিশাল জলাশয়ে সামান্য নাপাকি পড়লে তা পুরো পানির বৈশিষ্ট্যে প্রভাব ফেলে না।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ»
অনুবাদ: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হলে তা নাপাকি বহন করে না (অর্থাৎ সহজে নাপাক হয় না)।” সুনান আবু দাউদ , হাদিস ৬৩।
مسند احمد، رقم-9786، سنن الدار قطنى، رقم-1361 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَلَمَّا كَبَّرَ انْصَرَفَ، وَأَوْمَأَ إِلَيْهِمْ: أَيْ كَمَا أَنْتُمْ، ثُمَّ خَرَجَ فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ جَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَصَلَّى بِهِمْ،
«الهداية في شرح بداية المبتدي» (1/ 22-23): باب الماء الذي يجوز به الوضوء ومالا يجوز ، قال: " والماء المستعمل لا يجوز استعماله في طهارة الأحداث. والماء المستعمل: هو ماء أزيل به حدث أو استعمل في البدن على وجه القربة "... «ومتى يصير الماء مستعملا الصحيح أنه كما زايل العضو صار مستعملا.
«حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي» (1/ 201): ولو من جنب وهو الظاهر، لكن يكره شربه والعجن به تنزيها للاستقذار، وعلى رواية نجاسته تحريما (و) حكمه أنه (ليس بطهور) لحدث بل لخبث على الراجح المعتمد. (قوله: على الراجح) مرتبط بقوله بل لخبث: أي نجاسة حقيقية، فإنه يجوز إزالتها بغير الماء المطلق من المائعات خلافا لمحمد.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন