বিবাহের জন্য ভালো পাত্র না পেলে আজীবন কুমারী থাকার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৫২১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হলো— বিবাহের জন্য যদি কোনো দ্বীনদার পাত্র না পাওয়া যায়, তাহলে কি সারাজীবন কুমারী/অবিবাহিত থাকা ভালো, নাকি দ্বীন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান নেই এমন পাত্রকে বিবাহ করা ভালো? দয়া করে এর উত্তর দেবেন।"
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সুস্পষ্ট শরঈ ওজর ছাড়া সারাজীবন অবিবাহিত বা কুমারী থাকা পছন্দনীয় নয় । দ্বীনের গভীর ইলম নেই, কিন্তু সাধারণ মুসলিম, সৎচরিত্রবান এবং ন্যূনতম ফরয-ওয়াজিব পালনে সচেষ্ট—এমন মানুষের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সারাজীবন অবিবাহিত থাকার চেয়ে উত্তম ও কল্যাণকর । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অবিবাহিতদের বিবাহের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে রিযিক ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ "
অর্থ: মাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছলতা দান করবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।-সূরা আন-নূর: ৩২
ইসলামে আজীবন অবিবাহিত থাকার মনোভাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَا بَالُ أَقْوَامٍ قَالُوا كَذَا وَكَذَا؟! لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّي وَأَنَامُ، وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي "
অর্থ: লোকদের কী হলো যে তারা এরূপ কথাবার্তা বলে?! আমি তো রোযাও রাখি আবার ভঙ্গও করি, নামাযও পড়ি আবার ঘুমাইও, এবং আমি নারীদের বিবাহও করি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।"-সহীহ বুখারী: ৫০৬৩; সহীহ মুসলিম: ১৪০১
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন:
رَدَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ التَّبَتُّلَ، وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لَاخْتَصَيْنَا "
অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ উসমান ইবনে মাযউন (রা.)-কে বৈরাগ্য তথা স্ত্রীসংসর্গ ত্যাগ করে চিরকুমার থাকার অনুমতি ফিরিয়ে দেন; যদি তিনি তাঁকে অনুমতি দিতেন তবে আমরা নিজেদের খাসি করে নিতাম।-সহীহ বুখারী: ৫০৭৩; সহীহ মুসলিম: ১৪০২
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ، وَفَسَادٌ عَرِيضٌ "
অর্থ: যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো পাত্র বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন করো। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে বিরাট ফেতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" জামে আত-তিরমিযী: ১০৮৪; সুনান ইবনে মাজাহ: ১৯৬৭
তাই যদি কোনো মানুষ মুসলিম হয়, আকীদা সঠিক থাকে, হারাম উপার্জন ও প্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে, কিন্তু দ্বীনের গভীর জ্ঞান না থাকে, তবে তাকে বিবাহ করা যাবে। বিবাহের পর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে দ্বীনি শিক্ষা ও অনুশীলনে উৎসাহিত করা সম্ভব ।
তবে যদি পাত্র সরাসরি দ্বীন বা নামাযকে অবজ্ঞা করে, কুফরী/শিরকী আকীদা পোষণ করে কিংবা চরিত্রহীন ও প্রকাশ্য ফাসেক হয়, তবে এমন পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করা শরীয়তসম্মত । কিন্তু তার বিকল্প হিসেবে আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া বৈধ নয়; বরং সাধারণ ভালো ও দ্বীনমুখী চরিত্রের পাত্র সন্ধান করতে হবে ।
অতএব, কেবল 'উচ্চমানের দ্বীনদার বা আলেম' না পাওয়ার অজুহাতে সারাজীবন কুমারী বা অবিবাহিত থাকা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়; বরং ন্যূনতম দ্বীনদার ও সৎ স্বভাবের মুসলিম পাত্রকে বিবাহ করে দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলাই সুন্নাহসম্মত এবং অধিক নিরাপদ ।
فتح القدير للكمال ابن الهمام (3/ 188)
وبالجملة فالأفضلية في الاتباع لا فيما يخيل للنفس أنه أفضل نظرا إلى ظاهر عبادة وتوجه، ولم يكن الله عز وجل يرضى لأشرف أنبيائه إلا بأشرف الأحوال، وكان حاله إلى الوفاة النكاح فيستحيل أن يقرره على ترك الأفضل مدة حياته
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন