অজ্ঞতাবশত মাহরামকে বিয়ে করলে করণীয়
প্রশ্নঃ ১৭০৪৭৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের পিতা এক কিন্তু মাতা ভিন্ন (বৈমাত্রেয় ভাই-বোন)। আমার সৎ বোন তাঁর স্বামীর অগোচরে ও আমাদের না জানিয়ে, তাঁর মেয়ের মেয়েকে (আপন ভাগ্নির মেয়ে/রক্তীয় নাতনি) আমার সাথে বিয়ে দেন। অজ্ঞতাবশত এই সংসারে ২৮ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং আমাদের তিনটি সন্তান (দুটি বিবাহিত মেয়ে ও এক ছেলে) রয়েছে। এখন করনীয় কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মূলনীতি: অজ্ঞতাবশত কোনো মাহরাম নারী ও পুরুষের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেলে শরীয়তের দৃষ্টিতে সেই বিবাহ 'নিকাহে ফাসেদ' বা ত্রুটিপূর্ণ বিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। নিকাহে ফাসেদের ফলে স্ত্রী মোহর পাওয়ার অধিকারী হন এবং তার ঔরসে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তানের বংশপরিচয় উক্ত পিতার সঙ্গেই সাব্যস্ত হয়। তবে যেহেতু মাহরাম নারী-পুরুষ পরস্পরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নয়, তাই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া আবশ্যক।
সেমতে প্রশ্নে বর্ণিত তথ্যানুযায়ী, আপনার বৈমাত্রেয় বোনের মেয়ের মেয়ে আপনার রক্তীয় ভাগনির মেয়ে। তাই তিনি আপনার জন্য স্থায়ীভাবে হারাম এবং তাঁকে বিয়ে করা জায়েয নয়।
করণীয়,
আপনারা যদি সত্যিই বিবাহের সময় এই বিষয়টি না জেনে থাকেন, তাহলে উক্ত বিবাহ নিকাহে ফাসেদ হিসেবে গণ্য হবে। আর অজ্ঞতাবশত দীর্ঘ ২৮ বছর সংসার করে থাকলেও, বিষয়টি জানার পর এখন আর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না। বরং অবিলম্বে সঙ্গে সঙ্গেই দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করে পৃথক হয়ে যেতে হবে। স্বামী মৌখিকভাবেও স্পষ্ট করে বলে দেবেন যে, তিনি স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছেন বা তালাক দিয়ে দিয়েছে। আর এ পর্যন্ত একসঙ্গে বসবাস করার জন্য উভয়কে আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।
তবে যেহেতু উক্ত বিবাহ নিকাহে ফাসেদ হিসেবে গণ্য, তাই এ বিবাহের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী আপনাদের সন্তানদের বংশপরিচয় পিতা হিসেবে আপনার সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে এবং তারা আপনার সন্তান হিসেবে স্বীকৃত হবে; এবং আপনার উত্তরাধিকারী হিসাবেও স্বীকৃতি পাবে।
الأدلة الشرعية
(فتاوی شامی : کتاب الطلاق،باب العدۃ،ج:3،ص:516،سعید)
"(وعدة المنكوحة نكاحا فاسدا) فلا عدة في باطل وكذا موقوف قبل الإجازة اختيار، لكن الصواب ثبوت العدة والنسب بحر
(قوله: وعدة المنكوحة إلخ) مبتدأ خبره قوله: الآتي الحيض، وهذه الجملة بتمامها مستغنى عنها بقوله سابقا كذا أم ولد مات عنها مولاها، أو أعتقها وموطوءة بشبهة أو نكاح فاسد في الموت والفرقة ط. على أن كلامه هنا يوهم وجوب العدة في النكاح الفاسد ولو قبل الوطء وليس كذلك، فإنها لا تجب فيه بالخلوة بل بالوطء في القبل كما مر في باب المهر (قوله: نكاحا فاسدا) هي المنكوحة بغير شهود، ونكاح امرأة الغير بلا علم بأنها متزوجة، ونكاح المحارم مع العلم بعدم الحل فاسد عنده خلافا لهما فتح. مطلب في النكاح الفاسد والباطل.
(قوله: فلا عدة في باطل) فيه أنه لا فرق بين الفاسد والباطل في النكاح، بخلاف البيع كما في نكاح الفتح والمنظومة المحبية، لكن في البحر عن المجتبى: كل نكاح اختلف العلماء في جوازه كالنكاح بلا شهود فالدخول فيه موجب للعدة، أما نكاح منكوحة الغير ومعتدته فالدخول فيه لا يوجب العدة إن علم أنها للغير لأنه لم يقل أحد بجوازه فلم ينعقد أصلا، فعلى هذا يفرق بين فاسده وباطله في العدة، ولهذا يجب الحد مع العلم بالحرمة لكونها زنا كما في القنية وغيرها. اهـ.
قلت: ويشكل عليه أن نكاح المحارم مع العلم بعدم الحل فاسد كما علمت مع أنه لم يقل أحد من المسلمين بجوازه وتقدم في باب المهر أن الدخول في النكاح الفاسد موجب للعدة وثبوت النسب، ومثل له في البحر هناك بالتزوج بلا شهود وتزوج الأختين معا، أو الأخت في عدة الأخت، ونكاح المعتدة والخامسة في عدة الرابعة والأمة على الحرة. اهـ".
(وفيه أيضاّ: كتاب الطلاق،باب الحضانة،ج:3،ص:555،سعید)
"(قوله: لأنه نكاح باطل) أي فالوطء فيه زنا لا يثبت به النسب، بخلاف الفاسد فإنه وطء بشبهة فيثبت به النسب ولذا تكون بالفاسد فراشا لا بالباطل رحمتي، والله سبحانه أعلم".
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন