নারীদের নাক কানে একাধিক ছিদ্র করার শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬০১৬৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মেয়েদের কানের একাধিক জায়গায় কি ফোটানো যাবে?
৬ জুলাই, ২০২৬
বটিয়াঘাটা উপজেলা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলাম ধর্মে নারীদের জন্য সাজগোজ ও সৌন্দর্য প্রদর্শন করা সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ নয়, বরং শরীয়তের সীমারেখা বজায় রেখে তা জায়েজ ও বৈধ। সে হিসেবে মেয়েদের জন্য কানে ছিদ্র করে অলঙ্কার পরাও জায়েজ। কারণ এটি নারীদের বৈধ সৌন্দর্যচর্চার অন্তর্ভুক্ত। হাদীস থেকে বুঝে আসে, নবী ﷺ-এর যুগেও এর প্রচলন ছিল।
হাদীসে এসেছে,
فَوَعَظَهُنَّ، وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْقُرْطَ وَالْخَاتَمَ، وَبِلاَلٌ يَأْخُذُ فِي طَرَفِ ثَوْبِهِ.
অর্থ : রাসূল ﷺ মহিলাদের ওয়াজ করলেন এবং দান-খয়রাত করার উপদেশ দিলেন। তখন মহিলারা কানের দুল ও হাতের আংটি দিয়ে দিতে লাগলেন। আর বিলাল (রা.) সেগুলি তাঁর কাপড়ের আঁচলে নিতে লাগলেন।
পূর্ণ হাদীসের লিংক : https://muslimbangla.com/hadith/98
এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, সাহাবিয়াদের কানে দুল পরা প্রচলিত ছিল এবং রাসূল ﷺ তা নিষেধ করেননি।
পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ
অর্থ : আপনি বলুন! আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র রিজিকসমূহকে (কে হারাম করেছে)? (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩২)
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব আল বাহরুর রায়েক গ্রন্থে আছে,
"وكذا يجوز ثقب أذن البنات الأطفال؛ لأن فيه منفعة للزينة وكان يفعل ذلك من وقته - صلى الله عليه وسلم - إلى يومنا هذا من غير نكير.
অর্থ: একইভাবে ছোট কন্যাসন্তানদের কান ছিদ্র করা জায়েজ, কারণ এতে সৌন্দর্য অর্জনের উপকারিতা রয়েছে। আর এই আমল নবীজির ﷺ যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই জারি রয়েছে। [আল বাহরুর রায়েক, ৮/৫৫৪]
ফাতাওয়া কাজী খান:
ولا بأس بثقب أذن الطفل لأنهم كانوا يفعلون ذلك في الجاهلية و لم ينكر عليهم رسول الله صلى الله عليه و سلم
অর্থ: কন্যাসন্তানের কান ছিদ্র করায় কোনো অসুবিধা নেই, কারণ জাহেলিয়াতের যুগেও মানুষ এই কাজ করত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের এটি করতে নিষেধ করেননি। [ফাতাওয়া কাজী খান, ৩/২৫১]
কুরআন হাদীস ও ফিকহের এ সমস্ত দলিলের আলোকে বুঝে আসে, নারীদের জন্য সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কান ছিদ্র করা এবং অলঙ্কার ঝুলানো জায়েজ। এখন যদি কোনো অঞ্চলে সম্মানিত মুসলিম নারীরা সৌন্দর্যের জন্য তাদের একটি কানে একাধিক ছিদ্র করে তাতে অলঙ্কার ঝুলায়। তবে এতেও কোনো অসুবিধা নেই। কারণ একটি ছিদ্র দ্বারা যে উদ্দেশ্য (সৌন্দর্য অর্জন) সাধিত হয়, একের অধিক ছিদ্র দ্বারাও সেই একই উদ্দেশ্য অন্বেষণ করা হয়। আর সৌন্দর্য প্রকাশের ধরন একেক অঞ্চলের মানুষের একেক রকম হয়ে থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলের নারীরা কানে একটি ছিদ্র করে তাতে দুল পরেন, আবার কোথাও একের অধিক ছিদ্র করে বেশি অলঙ্কার ঝুলিয়ে থাকেন।
তবে যদি কোন অঞ্চলের সম্মানিত মুসলিম নারীরা এটিকে অভদ্র বা অসভ্য পদ্ধতি মনে করেন তবে সে অঞ্চলে তা পরিহার করাই শ্রেয়।
আর যদি এমনভাবে ছিদ্র করা যা কাফের, পাপাচারী, ফাসেক নারীদের পদ্ধতি বা ফ্যাশন তাহলে তাদের অনুকরণে তাদের মতো করে কান ছিদ্র করা জায়েয হবে না।
হাদীসে এসেছে,
باب فِي لُبْسِ الشُّهْرَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي مُنِيبٍ الْجُرَشِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ " .
অর্থ : পরিচ্ছেদ; প্রচারের জন্য অহংকারী পোশাক পরা।
ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কওমের (সম্প্রদায়ের) অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।*
*অর্থাৎ এমন অনুসরণ ও অনুকরণ করা, যাতে কাফির ও মুসলমানের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি তাদের দলভুক্ত হিসাবে পরিগণিত হবে যাদের সে অনুসরণ করবে। যেমন বর্তমানে অনেক ফ্যাশন-পূজারীদের দেখা যায়, যারা দাঁড়ি লম্বা-লম্বা গোঁফ রাখে; যার ফলে তারা কাফির, মুশরিকদের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। অনেকে হিন্দু, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মত কাপড়ও পরিধান করে, যা তাদের অনুকরণের ফলশ্রুতি। নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন - (অনুবাদক)
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪০৩১
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/18336
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১