মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৮২ টি

হাদীস নং: ১২০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কোন মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, তার ক্ষতিসাধন ও তাকে ভীতি প্রদর্শন করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১২০. ওক্কাস ইবন রাবী'য়া (রা) থেকে বর্ণিত। মুস্তাওরিদ (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের ক্ষতি সাধনের বিনিময় খায় (অর্থাৎ কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির শত্রুর নিকট গিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাকে উৎসাহিত করে) আল্লাহ্ জাহান্নাম থেকে তাকে সে ধরনের খাদ্য খাওয়াবেন, আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে পরিধেয় বস্ত্র গ্রহণ করে আল্লাহ্ তাকে সে পরিমাণ কাপড় জাহান্নাম থেকে পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ব্যক্তিকে অপদস্থ করে নিজে সম্মানের স্থান দখল করে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে অপদস্থকর স্থানে দাঁড় করাবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من هجر المسلم وترويعه والاضرار به
عن وقاص بن ربيعة أن المستورد (1) حدثهم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اكل برجل مسلم أكلة وقال مرة أكلة (2) فإن الله عز وجل يطعمه مثلها من جهنم ومن اكتسى برجل مسلم ثوبا فإن الله عز وجل يكسوه مثله من جهنم ومن قام برجل مسلم مقام سمعة (3) فإن الله عز وجل يقوم به مقام سمعة يوم القيامة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২১
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কোন মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, তার ক্ষতিসাধন ও তাকে ভীতি প্রদর্শন করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১২১. আবূ সিরমা (রা) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুসলমানের ক্ষতি করবে, আল্লাহ্ তার ক্ষতি করবেন, আর যে ব্যক্তি কাউকে কষ্ট দেবে, আল্লাহ্ তাকে কষ্টে ফেলবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من هجر المسلم وترويعه والاضرار به
عن أبي صرمة (4) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال من ضار (5) اضر الله به ومن شاق (6) شق الله عليه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২২
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কোন মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, তার ক্ষতিসাধন ও তাকে ভীতি প্রদর্শন করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১২২. আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সম্প্রদায়ের নিকট আসলেন, যারা উন্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে অনুশীলন করছিল, তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এভাবে অনুশীলন করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত দেন, অথবা তিনি বলেন, আমি কি এ কাজ করতে নিষেধ করিনি? তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যখন তার তলোয়ার কোষমুক্ত করে, সে যেন এর প্রতি লক্ষ্য রাখে। আর যদি সে তা তার ভাইকে হস্তান্তর করে, তবে সে যেন তা কোষবদ্ধ করে তাকে হস্তান্তর করে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من هجر المسلم وترويعه والاضرار به
عن أبي بكرة (7) قال اني رسول الله صلى الله عليه وسلم على قوم يتعاطون سيفا مسلولا فقال لعن الله من فعل هذا أو ليس قد نهيت عن هذا؟ ثم قال اذا سل احدكم سيفه فنظر اليه فأراد ان يناوله اخاه فليغمده ثم يناوله اياه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৩
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কোন মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, তার ক্ষতিসাধন ও তাকে ভীতি প্রদর্শন করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১২৩. 'আবদুর রহমান ইবন আবু লায়লা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলের (ﷺ) সাহাবীগণ বলেছেন, তারা রাসূলের সাথে কোন এক সফরে যাত্রা করেন, তাদের মধ্যে একজন নিদ্রা গেল। তখন তাদের কেউ, যার সাথে তীর ছিল, সে তার নিকট গেল এবং তীরটি গ্রহণ করলো। এরপর লোকটি যখন জাগ্রত হলো, তখন সে শঙ্কিত হলো। এ অবস্থা দেখে লোকেরা হাসতে লাগলো, সে বললো, তোমরা কেন হাসছো? তারা বললো, আমরা তো কেবল তীরটি হাতে নিয়েছিলাম, তাতে তুমি ঘাবড়ে গেলে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন মুসলমানের জন্য অন্য কোন মুসলমানকে ভয়ভীতি দেখানো বৈধ নয়।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من هجر المسلم وترويعه والاضرار به
عن عبد الرحمن بن أبي ليلى (8) قال حدثنا اصحب رسول الله صلى الله عليه وسلم انهم كانوا يسيرون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مسير فنام رجل منهم فانطلق بعضهم إلى كبل معه فأخذها فلما استيقظ الرجل فزع فضحك القوم فقال ما يضحككم؟ فقالوا لا الا انا اخذنا نبل هذا ففزع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحل لمسلم ان يروع (9) مسلما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৪
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কু-ধারণা ও গুপ্তচরবৃত্তি না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
১২৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম ছাওবান (রা) নবী করিম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, তোমরা আল্লাহর বান্দাহদেরকে কষ্ট দেবে না, তিরস্কার করবে না, তাদের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াবে না, আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ভাইয়ের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ্ তা'আলা তার দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াবেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তা তার পরিবারের কাছে প্রকাশ করে দেবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من التجسس وسوء الظن
عن ثوبان (10) مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تؤذوا عباد الله ولا تعيروهم ولا تطلبوا عوراتهم فإنه من طلب عورة أخيه المسلم طلب الله عورته حتى يفضحه في بيته
হাদীস নং: ১২৫
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কু-ধারণা ও গুপ্তচরবৃত্তি না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
১২৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি বা পুরুষ তোমার অনুমতি ছাড়া ঘরে উকি মারে, আর তুমি তার প্রতি কংকর নিক্ষেপ করে তার চোখ ফুঁড়ে দিলে, এতে তোমার কোন অপরাধ হবে না।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من التجسس وسوء الظن
عن أبي هريرة (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو أن رجلا (وفي رواية أمرآ) اطلع بغير اذنك فحذفته بحصاة ففقأت عينه ما كان عليك جناح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৬
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কু-ধারণা ও গুপ্তচরবৃত্তি না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
১২৬. তার দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের অনুমতি ছাড়া তাদের ঘরে 'উকি মারে, তখন তারা তার চোখ ফুঁড়ে দিলে তার জন্য কোন দিয়াত বা কিসাস দিতে হবে না।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من التجسس وسوء الظن
وعنه من طريق ثان (2) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من اطلع في بيت قوم بغير اذنهم ففقئوا عينه فلا دية له ولا قصاص
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কু-ধারণা ও গুপ্তচরবৃত্তি না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
১২৭. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) তাঁর ঘরে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি সেদিকে উকি মারলো। তখন নবী করিম (ﷺ) তীর ফলক হাতে নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লে লোকটি পিছনে হটে যায়।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من التجسس وسوء الظن
عن أنس (3) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيته فاطلع اليه رجل فأهوى إليه بممشقص (4) معه فتأخر الرجل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কু-ধারণা ও গুপ্তচরবৃত্তি না করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
১২৮. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা কু-ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা, কু-ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা। আর তোমরা গোয়েন্দাগিরী করবে না, কারো গোপন জিনিস তালাশ করবে না। ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে না, পরস্পর অন্যায়ভাবে প্রতিযোগিতা করবে না, বরং তোমরা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাক।
তাঁর থেকে আরো বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ভাল ধারণা উত্তম ইবাদতেরই অংশ।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من التجسس وسوء الظن
عن أبي هريرة (5) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اياكم والظن فإن الظن اكذبت الحديث (6) ولا تجسسوا (7) ولا تحسسوا ولا تباغضوا ولا تدابروا (7) ولا تنافسوا وكونوا عباد الله اخوانا (وعنه أيضا) (9) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن حسن الظن من حسن العبادة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৯
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১২৯. 'উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যখন তুমি দেখবে দুনিয়াতে আল্লাহ্ কোন বান্দাহকে তার পছন্দ অনুযায়ী সম্পদশালী করেছে, অথচ সে গুনাহের কাজে লিপ্ত তখন বুঝে নিও যে আল্লাহ্ তাকে অবকাশ দিচ্ছেন (তারপর হঠাৎ তাকে পাঁকড়াও করবেন)। এরপর রাসূল (ﷺ) এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ.
"আর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা বিস্মৃত হলো, তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা দেয়া হলো, যখন তারা তাতে উল্লসিত হলো, তখন অকস্মাৎ আমি তাদের পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা নিরব হয়ে গেলো।”
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن عقبة بن عامر (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا رأيت الله يعطي العبد من الدنيا على معاصيه ما يحب فإنما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم (فلما نسوا ماذكروا به فتحنا عليهم أبواب كل شيء حتى إذا فرحوا بما أوتوا أخدناهم بغتة فإذا هم مبلسون)
হাদীস নং: ১৩০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩০. আবু হাসবা (রা) অথবা ইবন হাসবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেছেন ওই ব্যক্তি থেকে যে ব্যক্তি রাসূলের (ﷺ) খুতবা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি জান, ফকীর কে? তারা বললো, ফকীর হলো যার কোন সম্পদ নেই। রাসূল (ﷺ) বললেন, আসল ফকীর হলো- ঐ ব্যক্তি, যার সম্পদ আছে, এরপর সে মৃত্যুবরণ করলো, কিন্তু তার সম্পদ থেকে সে অগ্রিম কিছুই পাঠায়নি, অর্থাৎ সে তার মাল আখিরাতের উপকারে ব্যবহার করেনি।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن أبي حصبة أو أبي حصبة (2) عن رجل شهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب فقال أتدرون ما الصعلوك؟ قالوا الذي ليس له مال قال النبي صلى الله عليه وسلم الصعلوك كل الصعلوك الصعلوك كل الصعلوك الذي له مال فمات ولم يقدم منه شيئا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩১
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩১. হারিছা ইবন নু'মান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কারও কিছু ছেড়ে দেয়া উট থাকে, তারপরও সে নামাযের জামা'য়াতে উপস্থিত হয়। তারপর তার ছেড়ে দেয়া উঠের সংখ্যা এত অধিক হয় যে, তার জন্য এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সে বলতে থাকে: আমি যদি আমার এ উটগুলোর জন্য এ ঘাসের এলাকা থেকে অধিক ঘাস পূর্ণ এলাকা বেছে নিতাম, তাহলে ভাল হতো। এভাবে সে দূরে যেতে যেতে সে শুধু জুমার নামাযে উপস্থিত হতে থাকে। তারপর তার উটের সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার কারণে সে বলতে থাকে: যদি আমি আমার উটের জন্য আরো অধিক ঘাষের এলাকায় যেতে পারতাম। তাহলে ভাল হতো! এভাবে সে ঘাসের পিছনে পড়ে অনেক দূর চলে যায়। তারপর সে জুমা ও জামায়াতে কোনটাতেই উপস্থিত হতে পারে না। তখন আল্লাহ্ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن حارثة بن النعمان (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخذ أحدكم السائمة (4) فيشهد الصلاة في جماعة فتتعذر عليه سائمته (5) فيقول لو طلبت لسائمتي مكانا هو أكلا من هذا فيتحول ولا يشهد إلا الجمعة فتتعذر عليه سائمته فيقول لو طلبب لسائمتي مكانا هو أكلا من هذا فيتحول (1) فلا يشهد الجمعة ولا الجماعة فيطبع على قلبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩২
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩২. আব্দুল মালিক ইব্‌ন আবূ বকর ইবন আব্দুর রহমান ইবন হারিছ ইব্‌ন হিশাম (র) সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, অচিরেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, যখন নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা দুনিয়ার সম্পদের মালিক হয়ে যাবে। আর তখন উত্তম ব্যক্তি হবে ঐ মুমিন ব্যক্তি, যে তার দুটি ঘোড়া অথবা উট নিয়ে থাকা যথেষ্ট মনে করবে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عبد الملك بن أبي بكر (3) بن عبد الرحمن ابن الحارث بن هشام عن أبيه عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم (4) قال يوشك أن يغلب على الدنيا (5) لكع بن لكع وأفضل الناس مؤمن بين كريمتين (6) لم يرفعه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৩
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৩. আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা মূসা (আ) বলেন, হে আমার রব! আপনি আপনার কাফির বান্দাকে এত প্রচুর সম্পদ দিলেন (এর কারণ কি?) তখন তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে বলা হল, হে মূসা! এটা আমি তার জন্য তৈরি করে রেখেছি। তখন মূসা (আ) বললেন, হে আমার রব! আপনার 'ইজ্জত ও সম্মানের শপথ করে বলছি, দুনিয়ার যা কিছু আছে, তা যদি সবই তাকে দেয়া হয়, তারপরও যদি তার এ পরিণতি হয়, তাহলে আমি বলবো, সে কোনদিন কোন কল্যাণ লাভ করেনি।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن أبي سعيد الخدري (7) عن النبي صلى الله عليه وسلم ان موسى قال أي رب عبدك الكافر توسع عليه في الدنيا قال فيفتح له باب من النار فيقال يا موسى هذا ماأعددت له فقال موسى أي رب وعزتك وجلالك لو كانت له الدنيا منذ خلقته الى يوم القيامة وكان هذا مصيره كان لم ير خيرا قط
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৪
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৪. আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রাচুর্যের মালিকদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য। তখন তারা বললো, তবে কারা মুক্তি পাবে? তিনি আবার বললেন, প্রাচুর্যের মালিকের জন্য ধ্বংস। তারা বললো, তবে কারা মুক্তি পাবে? তিনি পুনরায় বললেন, প্রাচুর্যের মালিকের জন্য ধ্বংস অনিবার্য! তারা বললো, তবে কারা মুক্তি পাবে? বর্ণনাকারী বলেন, এতে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম যে, প্রাচুর্যের মালিকদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য হয়ে গেছে। এরপর তিনি বললেন, তবে যারা এ দিকে এদিকে সম্পদ বিলিয়ে দেয়, তারা ব্যতীত। কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই কম।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
وعنه أيضا (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هلك المثرون (9) قالوا الا من؟ قال هلك المثرون قالوا الا من؟ قال هلك المثرون قالوا الا من؟ قال حتى خفنا ان يكون قد وجبت (10) فقال الا من قال هكذا وهكذا وهكذا وقليل ما هم
হাদীস নং: ১৩৫
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বিপুল প্রাচুর্যের মালিক হলো- নীচু স্তরের লোক, (অন্য শব্দে পরকালে তারা হবে গরীব), তবে তারা ব্যতীত, যারা নিজের মাল এদিক সেদিক আল্লাহর পথে ব্যয় করে। (অন্য বর্ণনায় তাদের সংখ্যা খুবই কম।) একজন বর্ণনাকারী (কামিল ইব্‌ন আলা) বলেন, এরপর তিনি হাতে ইশারা করে বলেন, তবে যারা ডানে, বামে ও সামনে আল্লাহর পথে নিজের সম্পদ ব্যয় করে, তারা ব্যতীত।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن أبي هريرة (11) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان المكثرين (12) هم الارذلون (وفي لفظ هم الأقلون) (13) إلا من قال هكذا وهكذا وهكذا (زاد في رواية وقليل ما هم) قال كامل بيده (1) عن يمينه وعن شماله وبين يديه
হাদীস নং: ১৩৬
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৬. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করি না, তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে সম্পদের প্রতিযোগিতার ভয় করি। আমি তোমাদের ভুলত্রুটি হওয়া ভয় করি না, তবে আমি তোমাদের ইচ্ছাকৃত গুনাহকে ভয় করি।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
وعنه أيضا (2) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أخشى عليكم الفقر ولكن اخشى عليكم التكاثر (3) وما أخشى الخطأ ولكن أخشى عليكم العمد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৭
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৭. ইবন সা'দ ইবন আখরাম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা 'আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা (অযাচিত) পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করো না। কেননা, এর দ্বারা তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে, বর্ণনাকারী বলেন, তারপর 'আবদুল্লাহ (রা) কুফা ও মদীনার প্রতি ইংগিত করেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن سعد بن الأخرم (5) عن أبيه عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تتخذوا الضيعة (6) فترغبوا في الدنيا قال ثم قال عبد الله وبراذان (7) ما براذان وبالمدينة ما بالمدينة
হাদীস নং: ১৩৮
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৮. 'আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পদ ও পরিবারের অধিক প্রাচুর্য থেকে নিষেধ করেছেন, তখন আবূ জামরা বলেন আর তিনি সেখানে আগে থেকেই বসা ছিলেন। হাঁ, আখরাম তায়ী তার পিতা থেকে আর 'আবদুল্লাহ (রা) রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। (ওই হাদিসের শেষে আছে) 'আবদুল্লাহ (রা) বললেন, কুফা ও মদীনার প্রাচুর্যের কি অবস্থা?
শো'বা (রা) বলেন, তখন আমি আবূ তাইয়াহ (র) কে বললাম, আত-তাবাক্কুর কি? তিনি বললেন, অধিক প্রাচুর্য।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن عبد الله قال نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلمعن التبقر (9) في الأهل والمال فقال أبو جمرة وكان جالسا عنده نعم حدثني أحرم الطائي عن أبيه عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فقال عبد الله فكيف بأهل براذان وأهل بالمدينة وأهل بكذا قال شعبة فقلت لأبي التياح ما التبقر قال الكثرة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৯
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১৩৯. 'উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত যে, মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রা) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, 'আমর ইবন 'আওফ বনি 'আমির ইব্‌ন লুয়াই এর মিত্র ছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আবু 'উবায়দা ইবন জাররাহ (রা) কে বাহরায়নে জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠান। তিনি বাহরায়ন বাসীদের সাথে সন্ধিচুক্তি করেছিলেন এবং আলা ইব্‌ন হাদরামী (রা) কে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। আবু 'উবায়দা (রা) বাহরায়ন থেকে ধন সম্পদ নিয়ে মদীনায় ফিরে আসলে আনসারগণ তাঁর আগমনের কথা শুনতে পান। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ফযরের নামায পড়লেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযান্তে ঘুরে বসলে তারা তাঁর সামনে হাযির হলে তিনি তাদেরকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আমার মনে হয়, তোমরা শুনতে পেয়েছ যে আবূ 'উবায়দা বাহরায়ন থেকে কিছু নিয়ে ফিরে এসেছে। তারা বললো, হাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং তা তোমাদেরকে আনন্দিত করবে, এ আশা রাখ, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্র্যের ভয় করি না, তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে আশংকা করি যে, তোমাদের পূর্বকালের লোকদের জন্য পৃথিবী যেমনিভাবে প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল, তদ্রূপ তা তোমাদের জন্যও প্রশস্ত হবে। এরপর তোমরাও তাদের মত সম্পদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়বে। অবশেষে তা তোমাদেরকে তাদের মত আখিরাত থেকে গাফেল করে দেবে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن عروة بن الزبير (1) أن المسور بن محزمة أخبره أن عمرو بن عوف وهو حليف بني عامر بن لؤى وكان شهد بدرا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث ابا عبيدة بن الجراح إلى البحرين يأتي بجزيتها وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو صالح أهل البحرين وامر عليهم العلاء بن الحضرمي فقدم أبو عبيدة بمال من البحرين فسمعت الأنصاربقدومه فوافت صلاة الفجر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الفجر انصرف فتعرضوا له فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رآهم فقال أظنكم قد سمعتم أن أبا عبيدة قد جاء وجاء بشيء؟ قالوا أجل يا رسول الله قال فأبشروا وأملوا ما يسركم فوالله الفقر ما أخشى عليكم ولكن أخشى أن تبسط الدنيا عليكم كما بسطت على من كان قبلكم فتنافسوها (2) كما تنافسوها وتلهيكم كما الهتهم