মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৯
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: সম্পদশালী হওয়ার লালসা থেকে ভীতি প্রদর্শন
১২৯. 'উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যখন তুমি দেখবে দুনিয়াতে আল্লাহ্ কোন বান্দাহকে তার পছন্দ অনুযায়ী সম্পদশালী করেছে, অথচ সে গুনাহের কাজে লিপ্ত তখন বুঝে নিও যে আল্লাহ্ তাকে অবকাশ দিচ্ছেন (তারপর হঠাৎ তাকে পাঁকড়াও করবেন)। এরপর রাসূল (ﷺ) এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ.
"আর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা বিস্মৃত হলো, তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা দেয়া হলো, যখন তারা তাতে উল্লসিত হলো, তখন অকস্মাৎ আমি তাদের পাকড়াও করলাম। ফলে তখন তারা নিরব হয়ে গেলো।”
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الغنى مع الحرص
عن عقبة بن عامر (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا رأيت الله يعطي العبد من الدنيا على معاصيه ما يحب فإنما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم (فلما نسوا ماذكروا به فتحنا عليهم أبواب كل شيء حتى إذا فرحوا بما أوتوا أخدناهم بغتة فإذا هم مبلسون)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পাপী ব্যক্তি ও কওমকে অনেক সময় অঢেল ধন-দৌলত দান করা হয়। এজন্যে অনেকে অনেক ধরনের চিন্তা করেন। কেউ মনে করেন তারা যোগ্য, তাই তাদের উপর রহমতের বারি বর্ষিত হয়েছে। আবার কেউ মনে করেন তারা যা করছে তা দূষণীয় নয়। আবার কেউ কেউ দারুণ শঙ্কা ও দ্বন্দ্বে ভোগেন এবং প্রশ্ন করেন, আল্লাহ কেন পাপী ও যালিম ব্যক্তি বা কওমকে ধন-দৌলত, প্রাচুর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দান করেন?

অনেক ক্ষেত্রে পাপী ও আল্লাহদ্রোহীদেরকে ধ্বংস করার জন্য ধন-দৌলত দান করা হয়। ধন-দৌলত লাভের পর তারা আরও বেশি আল্লাহদ্রোহিতা শুরু করে। তাদের পাপের খাতা সম্পূর্ণ ভরে যায়। ধন-দৌলত ও প্রাচুর্য লাভ করার পর তারা আরাম-আয়েশের মধ্যে নিজেদেরকে নিমজ্জিত রাখে ও অর্থের দ্বারা মানুষ সমাজের ধ্বংস করে। এভাবে আর্থিক দিক দিয়ে অগ্রসর করে দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা। শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্মুখে অগ্রসর করাকে আলোচ্য হাদীসে 'ইস্তেদরাজ' বলা হয়েছে।

স্তরে স্তরে বা পর্যায়ক্রমে কোন কাজ করাকে ইস্তেদরাজ বলা হয়। দীনের পরিভাষায় পাপী ব্যক্তি বা কওমকে কঠিন শাস্তি প্রদানের জন্য যে অবকাশ দেয়া হয়, বা আরো পাপ করার যে সুযোগ দেয়া হয়, তাকে ইস্তেদরাজ বলে। কুরআন শরীফে উল্লিখিত مَهِّلْهُمْ قَلِيلًا “তাদেরকে সামান্য অবকাশ দান কর” একই পটভূমিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান