আখলাকুন্নবী (ﷺ)

أخلاق النبي وآدابه لأبي الشيخ الأصبهاني

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৮৬৭ টি

হাদীস নং: ১৭৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৩। হযরত মুআয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ইয়ামেনে (গভর্নর নিযুক্ত করে) প্রেরণ করেন। তারপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
173 [ص:466] حَدَّثَنَا ابْنُ مَصْقَلَةَ، نَا أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ، نَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ يوسُفَ بْنِ أَسْبَاطِ، نَا الْمِنْهَالُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ - وَذَكَرَ الْحَدِيثَ -
হাদীস নং: ১৭৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৪। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবাদের সঙ্গে মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন জনৈক বেদুঈন সেখানে আসলো এবং মসজিদের ভিতরে পেশাব করতে শুরু করলো। সাহাবাগণ তাকে বারণ করে বলতে লাগলেন, থাম! থাম! একথা শুনে নবী (ﷺ) বললেন, (লোকটিকে পেশাব করতে) বাধা দিও না। তারপর তিনি লোকটিকে ডাকলেন এবং বললেন, দেখ এ মসজিদগুলো পেশাব-পায়খানা কিংবা এ জাতীয় কোন আবর্জনার জায়গা নয়। এগুলো হলো পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত, আল্লাহ্ পাকের যিকর ও সালাত পড়ার স্থান। তারপর তিনি এক বালতি পানি আনতে নির্দেশ দেন এবং পানিটি সেই জায়গায় প্রবাহিত করে দেন। ( যেন মসজিদের মাটি পবিত্র হয়ে যায়।)
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
174 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ، نَا أَبُو خَلِيفَةَ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ أَصْحَابُهُ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيُّ، فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْ مَهْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُزْرِمُوهُ، ثُمَّ دَعَاهُ، فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنَ الْقَذَرِ، وَالْبَوْلِ، وَالْخَلَاءِ، إِنَّمَا هِيَ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ، وَذِكْرِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ، ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدَلْو مِنْ مَاءٍ، فَشَنَّهُ عَلَيْهِ "
হাদীস নং: ১৭৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৫। হযরত আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সহিষ্ণুতাপরায়ণ, সর্বাধিক ধৈর্যশীল ও সর্বাধিক ক্রোধ সংবরণকারী।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
175 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ حَكِيمٍ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَحْلَمِ النَّاسِ وَأَصْبَرِهِمْ وَأَكْظَمِهِمْ لِلْغَيْظِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৬। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা বসা ছিলাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দরজা দিয়ে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করলেন। নবী (ﷺ) নাজরানে তৈরী একটি চাদর পরিহিত ছিলেন। এ সময় জনৈক বেদুঈন তাঁর পেছনে এসে দাঁড়ায়। সে নবী (ﷺ) -এর চাদরের এক পার্শ্ব ধরে তাকে নিজের দিকে সজোরে টান দিয়েছিলো। ফলে নবী (ﷺ) বেদুঈন লোকটির দিকে ঘুরে গেলেন এবং তাঁর গ্রীবাদেশে চাদর টানার দাগ পড়ে গেল। (লোকটির এই ত্রুটি ও অমার্জিত আচরণ সত্ত্বেও) তিনি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন এবং বললেন, তোমার ব্যাপার কি ? বেদুঈন লোকটি তাঁকে উত্তর দিল, হে মুহাম্মাদ! আপনার কাছে যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দিন। নবী (ﷺ) তাকে কিছু দান করতে নির্দেশ দিলেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
176 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ الْمُقَدَّمِيُّ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سِنَانٍ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ إِذْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ مُرْتَدِيًا بِبُرْدٍ مِنَ النَّجْرَانِيَّةِ إِذْ تَبِعَهُ أَعْرَابِيُّ، فَأَخَذَ بِمَجَامِعِ الْبُرْدِ إِلَيْهِ، ثُمَّ جَبَذَهُ إِلَيْهِ جَبْذَةً، فَرَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَحْرِ الْأَعْرَابِيِّ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ، وَإِذَا أَثَرُ حَاشِيَةِ الْبُرْدِ فِي نَحَرِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَحِكَ، وَقَالَ: مَا شَأْنُكَ؟ فَقَالَ لَهُ: يَا مُحَمَّدُ، جُدْ لِي مِنَ الْمَالِ الَّذِي عِنْدَكَ، قَالَ: مُرُوا لَهُ
হাদীস নং: ১৭৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৭। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে জনৈক বেদুঈন নবী (ﷺ) -এর নিকট কিছু সাহায্য প্রার্থনার জন্য আসলো। নবী (ﷺ) তাকে কিছু দান করলেন। তারপর বললেন, আমি কি তোমার প্রয়োজন পূরণ করিনি ? তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিনি ? বেদুঈন উত্তর দিলো না, (আপনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেন নি এবং) আমার প্রতি সদাচার করেন নি। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটির উত্তর শুনে উপস্থিত মুসলিমগণ ক্ষেপে গেলেন এবং তারা লোকটির দিকে উঠে আসলেন। কিন্তু নবী (ﷺ) তাদের হাতের ইশারায় থামিয়ে দেন। উঠে দাঁড়ালেন এবং হযরত ইকরিমা (রাযিঃ) বলেন, যে বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বাড়ির দিকে চলে গেলেন। তারপর বেদুঈন লোকটিকে বাড়ি আসার জন্য ডেকে পাঠালেন। (লোকটি, আসলে) তিনি তাকে বললেন যে, তুমি আমাদের কাছে এসে কিছু প্রার্থনা করেছো। আমরা তোমাকে (যতটুকু সম্ভব) দান করেছি। অথচ তুমি এর উপর যা বলার বলে দিয়েছো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে আরো কিছু মালামাল দান করে জিজ্ঞেস করলেন, এবার কি আমি তোমার সাথে সুন্দর আচরণ করলাম ? লোকটি উত্তর দিল, জ্বী, হ্যাঁ! আল্লাহ্ আপনাকে এবং পরিবার-পরিজনকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকটিকে বললেন, দেখ, তুমি আমাদের কাছে এসে কিছু প্রার্থনা করেছো। আমরা তোমাকে কিছু দান করলাম। তাতে তুমি যা বলার বলেছো। কিন্তু এর কারণে আমরা সাহাবীদের মনে (তোমার উপর) অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই তুমি যদি ভাল মনে করো তাহলে তাদের সামনে গিয়েও তুমি এ কথাটি বলো যা এখন আমার সাথে বলেছো। তা হলে তোমার ব্যাপারে তাদের মনে যে অসন্তুষ্টি বিদ্যমান তা দূরীভূত হয়ে যাবে। বেদুঈন লোকটি বললো, খুব ভাল কথা । হাদীসের বর্ণনাকারী ইকরিমা (রাহঃ) বলেন যে, হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর যখন প্রভাত হলো (কিংবা তিনি বলেছেন) যখন সন্ধ্যা হলো তখন লোকটি (সাহাবীদের কাছে) আসলো। এ সময় নবী (ﷺ) সাহাবীদেরকে লক্ষ করে বললেন, তোমাদের এই সাথী আমার কাছে এসে কিছু প্রার্থনা করেছিল। আমি তাকে কিছু দান করলাম । তাতে সে যা বলার বলেছে। এরপর আমি তাকে বাড়ি ডেকে নেই এবং আরো কিছু প্রদান করি। ফলে সে সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। (তারপর তিনি বেদুঈন লোকটির দিকে তাকিয়ে) বললেন, ঘটনা কি এরূপ নয় ? সে উত্তর দিল, জ্বী, হ্যাঁ। আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে এবং আপনার পরিবার-পরিজনকে উত্তম বিনিময় দান করুন। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, দেখো এ বেদুঈন লোকটির সাথে আমার উদাহরণ হলো এমন যেমন কোন ব্যক্তির, যার একটি উট্‌নী ছিলো। উট্‌নী সেই লোকের কাছ থেকে ভয় পেয়ে পালাতে লাগলো। এ সময় লোকজন তাকে ধরার জন্য পেছনে পেছনে ছুটলো। ফলে তার ভয় আরো বেড়ে গেলো । উট্‌নীর মালিক তখন লোকজনকে বললো, তোমরা আমাকে আমার উট্‌নীর পেছনে ছুটতে দাও। কেননা আমি এ উট্‌নীর প্রতি তোমাদের চেয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ এবং তার প্রকৃতি সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তারপর মালিক নিজে তার দিকে অগ্রসর হলো এবং তাকে একটি উঁচুস্থানে গিয়ে ধরে ফেললো। তারপর ধীরে ধীরে তাকে ফিরিয়ে আনলো। উট্‌নী ফিরে আসার পর মালিক তাকে বসাতে চাইলে সে বসে গেলে এবং তার পিঠের উপর বোঝা বেঁধে নিলো। কাজেই আমি যদি তোমাদেরকে বেদুঈন লোকটির কথা বলার সময় ছেড়ে দিতাম তাহলে তখন তোমরা তাকে হত্যা করে ফেলতে। আর তাকেও জাহান্নামে চলে যেতে হতো।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
177 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ الضَّيْفِ، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَعِينُهُ فِي شَيْءٍ، فَأَعْطَاهُ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: أَحْسَنْتُ إِلَيْكَ؟ فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: لَا، وَلَا أَجْمَلْتَ قَالَ: فَغَضِبَ الْمُسْلِمُونَ، وَقَامُوا إِلَيْهِ، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنْ كُفُّوا. قَالَ عِكْرِمَةُ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ مَنْزِلَهُ، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى الْأَعْرَابِيِّ، فَدَعَاهُ إِلَى الْبَيْتِ، فَقَالَ: إِنَّكَ جِئْتَنَا فَسَأَلْتَنَا، فَأَعْطَيْنَاكَ، فَقُلْتَ: مَا قُلْتَهُ، فَزَادَهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: أَحْسَنْتُ إِلَيْكَ؟ قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: نَعَمْ، فَجَزَاكَ اللَّهُ مِنْ أَهْلٍ وَعَشِيرَةٍ خَيْرًا، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ كُنْتَ جِئْتَنَا فَسَأَلْتَنَا، فَأَعْطَيْنَاكَ، وَقُلْتَ مَا قُلْتَ، وَفَى أَنْفُسِ أَصْحَابِي شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنْ أَحْبَبْتَ فَقُلْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ مَا قُلْتَ بَيْنَ يَدَيَّ، حَتَّى تُذْهِبَ مِنْ صُدُورِهِمْ مَا فِيهَا عَلَيْكَ. قَالَ: نَعَمْ. قَالَ عِكْرِمَةُ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَوْ الْعَشِيُّ، جَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا كَانَ جَاءَ فَسَأَلَنَا، فَأَعْطَيْنَاهُ، وَقَالَ مَا قَالَ، وَإِنَّا دَعَوْنَاهُ إِلَى الْبَيْتِ فَأَعْطَيْنَاهُ فَزَعَمَ أَنَّهُ قَدْ رَضِيَ، أَكَذَلِكَ؟ قَالَ الْأَعْرَابِيُّ: نَعَمْ، فَجَزَاكَ اللَّهُ مِنْ أَهْلٍ وَعَشِيرَةٍ خَيْرًا. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَا إِنَّ مَثَلِي وَمَثَلَ هَذَا الْأَعْرَابِيِّ كَمَثَلِ رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ نَاقَةٌ فَشَرَدَتْ عَلَيْهِ، فَاتَّبَعَهَا النَّاسُ، فَلَمْ يَزِيدُوهَا إِلَّا نُفُورًا، فَنَادَاهُمْ صَاحِبُ النَّاقَةِ: خَلُّوا بَيْنِي وَبَيْنَ نَاقَتِي، فَأَنَا أَرْفَقُ بِهَا وَأَعْلَمُ، فَتَوَجَّهَ لَهَا صَاحِبُ النَّاقَةِ بَيْنَ يَدَيْهَا وَأَخَذَ لَهَا مِنْ قُمَامِ الْأَرْضِ، فَرَدَّهَا هَوْنًا هَوْنًا هَوْنًا حَتَّى جَاءَتْ وَاسْتَنَاخَتْ وَشَدَّ عَلَيْهَا، وَإِنِّي لَوْ تَرَكْتُكُمْ حَيْثُ قَالَ الرَّجُلُ مَا قَالَ، فَقَتَلْتُمُوهُ، دَخَلَ النَّارَ
হাদীস নং: ১৭৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৮। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন সালাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ যখন যায়িদ ইব্‌ন সা’না (রাযিঃ)-কে হেদায়েতের ইচ্ছা করলেন তখন যায়িদ ইব্‌ন সা’না বলল, আমি মুহাম্মাদ মুস্তফা -এর চেহারা মুবারক দর্শন করেই তাঁর নবূওয়াতের নিদর্শনসমূহের দু’টি ব্যতীত অবশিষ্ট সবগুলি অনুধাবন করে নিয়েছি। যে দু’টি আমি অনুধাবন করতে পারিনি সেগুলি হলো, (এক) তাঁর এ পরিমাণ ধৈর্যশীলতা যে, তাঁর ক্রোধের উপর সহিষ্ণুতা প্রবল থাকবে। (দুই) তাঁর সহিত যত বেশী মূর্খতার আচরণ করা হবে ততই তাঁর ধৈর্যশীলতা বৃদ্ধি পাবে। যায়িদ ইব্‌ন সা’না বলেন, আমি এ দুটি নিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য চেষ্টা করি। আমি তাঁর দরবারে বারবার আসা-যাওয়া করি এবং তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত থেকে ধৈর্যশীলতার গুণ পর্যবেক্ষণ করি, একদা তিনি হুজরাগুলোর কোন একটি থেকে বেরিয়ে আসলেন। হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রাযিঃ)-ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি একটি বাহনে আরোহণ করে আসল। তাকে দেখতে বেদুঈন মনে হচ্ছিল। লোকটি নবী (ﷺ) -কে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক গোত্রের লোকেরা ইসলাম কবুল করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম যে, তারা যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে তাদের রুজি- রোজগারে সমৃদ্ধি আসবে। অথচ বর্তমানে তারা অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষে জীবন যাপন করছে। কাজেই আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা যে ভাবে লোভ নিয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছে তদ্রূপ অন্য কোন লালসায় পড়ে ইসলাম থেকে বেরিয়ে না যায়। অতএব আপনি যদি ভাল মনে করেন, সাহায্য হিসেবে তাদের জন্য কিছু পাঠিয়ে দিন। (এ কথা শুনে) যায়িদ ইব্‌ন সা’না নবী (ﷺ) কে বললেন, আপনি আমার সাথে একটি (অগ্রিম) কেনাবেচা করুন। আমি আপনার নিকট থেকে টাকার বিনিময়ে এক ওয়াসাক জিনিস খরিদ করলাম। এ কথা বলে আমি আমার থলি খুললাম এবং আশিটি স্বর্ণমুদ্রা বের করে নবী (ﷺ) -কে দিলাম। নবী (ﷺ) সেই টাকা লোকটির হাতে দিয়ে বললেন, এ টাকা নিয়ে তুমি তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাও এবং তাদের সাহায্য কর। যায়িদ ইব্‌ন সা’না (রাযিঃ) বলেন, তারপর যখন মাল পরিশোধ করার সময় ঘনিয়ে আসল, কেবল দু’-একদিন বাকি। এ সময় তিনি মদীনাবাসীদের গোরস্থান জান্নাতুল বাকীতে এক জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য বাইরে আসলেন। হযরত আবু বকর ও হযরত উমর (রাযিঃ) সহ কতিপয় সাহাবীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। নবী (ﷺ) যখন সালাত শেষ করে দেওয়ালের কাছে আসলেন তখন আমি তাঁকে তাঁর চাদরের উভয় পার্শ্ব ধরে সজোরে টান দিলাম যে, গ্রীবাদেশ থেকে চাদরটি নীচে পড়ে গেল। আমি খুবই রূঢ়ভাবে চেহারা বিকৃত করে তাঁর দিকে তাকালাম এবং বললাম, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি আমার পাওনা পরিশোধ করবেন না ? আল্লাহ্‌ শপথ! আব্দুল মুত্তালিবের গোষ্ঠীর মধ্যে আমি আপনাকে চিনি। আপনি অত্যন্ত টালবাহানাকারী। আপনাদের সাথে চলাফেরা করে আমার এ কথা বুঝতে আর বাকি নেই। (যায়িদ ইব্‌ন সা’না) বলেন, (একথা) শুনে হযরত উমর (রাযিঃ)-এর ঘাড় ও বুক (ঢেউয়ের মাঝে) গোলাকার নৌযানের ন্যায় কাঁপতে শুরু করলো। তিনি চোখ পাকিয়ে আমার দিকে তাকাতে লাগলেন। তারপর বললেন, ওহে আল্লাহ্‌র দুশমন! তুমি এমন কথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলছো ? প্রিয় নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে তুমি কি আচরণ করছো? আমি তা দেখে যাচ্ছি আর কী সব কথা বলছো তাও শুনে যাচ্ছি। সেই সত্তার শপথ! যিনি তাঁকে সত্য নবী (ﷺ) বানিয়ে পাঠিয়েছেন, যদি আমি আমার ইচ্ছার সেই জিনিসটি নষ্ট হওয়ার আশংকা না করতাম তা হলে আমি তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। নবী (ﷺ) তখন অতিশয় ধীরসুস্থ ও শান্ত প্রকৃতিতে হযরত উমরের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, হে উমর, আমার ও এ ব্যক্তির ব্যাপারে এ কথা বলার বদলে অন্য একটি কর্মপদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন ছিলো। প্রয়োজনের সে কাজটি হলো তুমি আমাকে তার পাওনা সুন্দরভাবে আদায় করতে বলবে এবং তাকে নরম ভাষায় চাওয়ার নির্দেশ দিবে। আবু আসিম (রাযিঃ) হাদীসটির এ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হযরত আবু যুরআহ (রাযিঃ) পরবর্তী অংশ সম্পর্কে বলেন, তারপর নবী (ﷺ) বললেন, হে উমর! লোকটিকে সঙ্গে নিয়ে যাও এবং তার পাওনা শোধ করে দাও। অধিকন্তু তুমি যেহেতু তাকে ভীতি প্রদর্শন করেছো তাই তাকে বিশ সা’ অতিরিক্ত প্রদান করবে। যায়িদ ইব্‌ন সা’না (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর হযরত উমর (রাযিঃ) আমাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান এবং আমার পাওনা শোধ করে অতিরিক্ত সা’ খেজুরও প্রদান করেন। আমি তাকে বললাম, অতিরিক্তটি কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি যেহেতু তোমাকে ভীতি প্রদর্শন করেছি, এ কারণে তোমাকে কিছু বেশী প্রদান করতে। আমি তাকে বললাম, হে উমর! আপনি আমাকে চেনেন? তিনি বললেন, না, চিনি না। তুমি কে? তখন আমি বললাম, আমি যায়িদ ইব্‌ন সা’না। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়াহূদীদের পণ্ডিত সা’না? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। হযরত উমর (রাযিঃ) বললেন, তা হলে তুমি প্রিয় নবী (ﷺ) -এর সাথে এহেন আচরণ ও এহেন অভদ্র কথাবার্তা বলেছ কেন ? আমি বললাম, হে উমর! কথা হলো আমি যখন রাসূলুল্লাহ -এর চেহারার দিকে তাকালাম তখন তাঁর চেহারায় দু’টি ব্যতীত নবুওয়াতের সব চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। অবশিষ্ট সেই দু’টি হলো তাঁর ধৈর্যশীলতা ও সহিষ্ণুতা এমন থাকবে যে, তাঁর ধৈর্য তাঁর ক্রোধের উপর প্রবল থাকবে। অপরটি হলো তাঁর সাথে যতই রূঢ় আচরণ করা হবে ততই তাঁর মধ্যে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাবে। কাজেই হে উমর! এখন আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি, আমি মহান আল্লাহ্‌কে প্রভু হিসাবে, দীন ইসলামকে সত্য দীন হিসাবে এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (ﷺ) -কে সত্য নবী (ﷺ) হিসেবে মেনে নিতে সম্মত। (অর্থাৎ আমি ঈমান আনয়ন করলাম।) আমি তোমাকে আরো সাক্ষী বানাচ্ছি যে, আমার অর্ধেক সম্পদ নবী (ﷺ) -এর উম্মতের জন্য ওয়াক্ফ করে দিচ্ছি। কেননা আমার কাছে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। হযরত উমর (রাযিঃ) বললেন, না কিছু সংখ্যক উম্মতের জন্য? কেননা উম্মতের সকলের জন্য এ সম্পদ যথেষ্ট হবে না । আমি বললাম, ঠিক আছে, উম্মতের কিছু সংখ্যকের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যায়িদ ইব্‌ন সা’না ও হযরত উমর (রাযিঃ) উভয়ে নবী (ﷺ) -এর দরবারে উপস্থিত হন। এবং যায়িদ ইব্‌ন সানা (রাযিঃ) কালেমা পড়ে বলেনঃ أَشْهَدُ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই । আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (ﷺ) আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাঁর রাসূল । এভাবে যায়িদ ইব্‌ন সানা (রাযিঃ) আল্লাহ্‌ উপর ঈমান আনয়ন করলেন এবং প্রিয় নবী (ﷺ) -এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করলেন। তারপর প্রিয় নবী (ﷺ) -এর সাথে বহু সংখ্যক যুদ্ধেও তিনি অংশ গ্রহণ করেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
178 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلُ، نَا الْحَوْطِيُّ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ. وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا أَبُو زُرْعَةَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمَّا أَرَادَ هُدَى زَيْدِ بْنِ سَعْنَةَ، قَالَ زَيْدٌ: مَا مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا وَقَدْ عَرَفْتُهَا فِي وَجْهِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَانِ لَمْ أَخْبُرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ إِلَّا حِلْمًا، فَكُنْتُ أَنْطَلِقُ إِلَيْهِ لِأُخَالِطَهُ فَأَعْرِفَ حِلْمَهُ مِنْ جَهْلِهِ، فَخَرَجَ يَوْمًا مِنَ الْحُجُرَاتِ يُرِيدُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَجَاءَ رَجُلٌ يَسِيرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ كَالْبَدَوِيِّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ قَرْيَةَ بَنِي فُلَانٍ أَسْلَمُوا، وَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ، وَحَدَّثْتُهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ أَسْلَمُوا أَتَتْهُمْ أَرْزَاقُهُمْ رَغَدًا، وَقَدْ أَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ وَشِدَّةٌ، وَقُحُوطٌ مِنَ الْعَيْشِ، وِإِنِّي مُشْفِقٌ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ الْإِسْلَامِ طَمَعًا، كَمَا دَخَلُوا فِيهِ طَمَعًا، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُرْسِلُ إِلَيْهِمْ بشَيْءٍ تُعِينُهُمْ بِهِ فَعَلْتَ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ: فَقُلْتُ: أَنَا أَبْتَاعُ مِنْكَ بِكَذَا وَكَذَا وَسْقًا فَبَايَعَنِي، وَأُطْلِقَتْ هِمْيَانِي وَأَعْطَيْتُهُ ثَمَانِينَ دِينَارًا، فَدَفَعَهَا إِلَى الرَّجُلِ وَقَالَ: أَعْجِلْ عَلَيْهِمْ بِهَا وَأَغِثْهُمْ، فَلَمَّا كَانَ قَبْلَ الْمَحِلِّ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جَنَازَةٍ بِالْبَقِيعِ، وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَلَمَّا صَلَّى عَلَى الْجَنَازَةِ وَدَنَا مِنَ الْجِدَارِ جَذَبْتُ بُرْدَيْهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً حَتَّى سَقَطَ عَنْ عَاتِقِهِ، ثُمَّ أَقْبَلْتُ بِوَجْهٍ جَهْمٍ غَلِيظٍ فَقُلْتُ: أَلَا تَقْضِيَنِي يَا مُحَمَّدُ، فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكُمْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَمُطْلٌ، وَقَدْ كَانَ لِي بِمُخَالَطَتِكُمْ عِلْمٌ. قَالَ زَيْدٌ: فَارْتَعَدَتْ فَرَائِصُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، كَالْفَلَكِ الْمُسْتَدِيرِ، ثُمَّ رَمَى بِبَصَرِهِ، ثُمَّ قَالَ: أَيْ عَدُوَّ اللَّهِ أَتَقُولُ هَذَا لِرَسُولِ اللَّهِ؟ [ص:476] وَتَصْنَعُ بِهِ مَا أَرَى؟ وَتَقُولُ مَا أَسْمَعُ؟ فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ لَوْلَا مَا أَخَافُ فَوْتَهُ لَسَبَقَنِي رَأْسُكَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ إِلَى عُمَرَ فِي تُؤَدَةٍ وَسُكُونٍ، ثُمَّ تَبَسَّمَ، ثُمَّ قَالَ: لَأَنَا وَهُوَ أَحْوَجُ إِلَى غَيْرِ هَذَا، أَنْ تَأْمُرُنِي بِحُسْنِ الْأَدَاءِ، وَتَأْمُرَهُ بِحُسْنِ اتِّبَاعِهِ. إِلَى هَهُنَا عَنِ ابْنِ أَبِي عَاصِمٍ، وَزَادَ أَبُو زُرْعَةَ فِي حَدِيثِهِ: اذْهَبْ بِهِ يَا عُمَرُ فَاقْضِ حَقَّهُ وَزِدْهُ عِشْرِينَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، مَكَانَ مَا رُعْتَهُ. قَالَ زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ: فَذَهَبَ بِي عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَضَانِي حَقِّي، وَزَادَنِي صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَزِيدَكَ مَكَانَ مَا رُعْتَكَ، فَقُلْتُ: أَتَعْرِفُنِي يَا عُمَرُ؟ قَالَ: لَا، فَمَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ، قَالَ: الْحَبْرُ؟ قُلْتُ: الْحَبْرُ، قَالَ: فَمَا دَعَاكَ إِلَى أَنْ تَفْعَلَ بِرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا فَعَلْتَ؟ وَتَقُولَ لَهُ مَا قُلْتَ؟ قُلْتُ: يَا عُمَرُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا وَقَدْ عَرَفْتُهَا فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَانِ لَمْ أَخْبُرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ عَلَيْهِ إِلَّا حُلْمًا، فَقَدِ اخْتَبَرْتُهُ مِنْهُ، فَأُشْهِدُكَ يَا عُمَرُ أَنَّنِي قَدْ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دَيْنًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا، وَأُشْهِدُكَ أَنَّ شَطْرَ مَالِي فَإِنَّ أَكْثَرُهَا مَالًا صَدَقَةٌ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَوْ عَلَى بَعْضِهِمْ، فَإِنَّكَ لَا تَسَعُهُمْ كُلَّهُمْ، قُلْتُ: أَوْ عَلَى بَعْضِهِمْ قَالَ: فَرَجَعَ عُمَرُ وَزَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ زَيْدٌ: أَشْهَدُ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. فَآمَنَ بِهِ وَصَدَّقَهُ وَبَايَعَهُ وَشَهِدَ مَعَهُ مَشَاهِدَ كَثِيرَةً
হাদীস নং: ১৭৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৯। হিশাম ইব্‌ন ওরওয়া তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন একটি উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে নবী (ﷺ)-এর সাক্ষাতে আসল। লোকটি মসজিদে নববীর দরজায় উট্‌নীটিকে বসিয়ে নবী (ﷺ)-এর সাক্ষাতের জন্য ভিতরে প্রবেশ করে। সেখানে হযরত হামযা ইব্‌ন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) কতিপয় মুহাজির ও আনসার সাহাবীসহ বসা ছিলেন। তন্মধ্যে হযরত নুআইমানও উপস্থিত ছিলেন। সাথীরা হযরত নুআইমান (রাযিঃ)-কে বললেন, আরে তুমি কি বেদুঈন লোকটির উট্‌নীটি দেখতে পাচ্ছ না ? কী মোটা-তাজা! এটি যদি যবেহ্ করতে পারতে! কেননা আজ আমাদের গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে। তুমি এমনটি ঘটিয়ে ফেললে নবী (ﷺ) উট্‌নীর মালিককে জরিমানা আদায় করে দেবেন। এদিকে গোশ্‌ত আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাবো। নুআইমান (রাযিঃ) বললেন, আমি এমনটা করে ফেললে তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে আমার কথা বলে দেবে। আর তখন তিনি আমার প্রতি রাগ করবেন। সাথীগণ বললেন, না, আমরা তা কিছুতেই করবো না। সে মতে হযরত নুআইমান (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং উট্‌নীটিকে নাহর করে দিলেন। তারপর সে স্থান ত্যাগ করে চলে গেলেন। পথিমধ্যে হযরত মিক্‌দাদ ইব্‌ন আমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। হযরত নুআইমান (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, হে মিকদাদ! তুমি আমাকে এ গর্তে লুকিয়ে থাকতে দাও। আমার মাথার উপর কোন কিছু দিয়ে ঢেকে ফেলো। আর আমার কথা কাউকে জানাবে না । কেননা আমি একটি নতুন দুষ্টমী করে আসছি। হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) তাই করলেন।
এদিকে বেদুঈন লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে যখন নিজের উট্‌নী মাটিতে পড়া অবস্থায় দেখল তখন সে চিৎকার দিতে লাগল। এ কাজ করেছে কে ? লোকজন বললো, নুআইমান। নবী (ﷺ) বললেন, সে কোন্ দিকে গিয়েছে ? তারপর তিনি তাঁকে খুঁজতে লাগলেন। হযরত হামযা ও তাঁর সাথীগণও নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সঙ্গে চললেন। অবশেষে তাঁরা হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) পর্যন্ত পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, হে মিকদাদ! তুমি কি নুআইমানকে দেখেছো ? হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) নিরুত্তর। নবী (ﷺ) বললেন, তোমাকে বলতে হবে সে কোথায় ? হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) মুখে আমি জানি না বলে হাতের ইশারায় সে স্থানটি দেখিয়ে দেন। সে মতে নবী (ﷺ) গর্তের ঢাকনা সরালেন এবং বললেন, আরে নিজ প্রাণের দুশমন। এমনটা করলে কেন ? নুআইমান বললেন, কসম আমাকে তো হযরত হামযা ও তাঁর সাথীরা এমনটা করতে বলেছে। তাঁরা আমাকে এ সব কথাও বলেছিল। নবী (ﷺ) তখন বেদুঈন লোকটিকে তার উট্‌নীর বিনিময়ে কিছু মালামাল দিয়ে সম্মত করান। তারপর বললেন, যাও উট্‌নীটি নিয়ে যাও। সেমতে সাথীগণ উট্‌নীটি নিয়ে গোশ্‌ত আহার করে। পরবর্তীকালে যখনই নবী (ﷺ) তাদের এই দুষ্টুমির কথা মনে করতেন তখন তাঁর হাসি রোধ করতে পারতেন না। তিনি খিলখিল করে হেসে ফেলতেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা যেত।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
179 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَزْهَرِ، نَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، نَا أَبِي، سَمِعْتُ ابْنَ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَقْبَلَ أَعْرَابِيُّ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ حَتَّى أَنَاخَ بِبَابِ الْمَسْجِدِ، فَدَخَلَ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ، وَحَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ جَالِسٌ فِي نَفَرٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، فِيهِمُ النُّعَيْمَانُ، فَقَالُوا لِلنُّعَيْمَانِ: وَيْحَكَ إِنَّ نَاقَتَهُ نَاوِيَةٌ، يَعْنِي سَمِينَةً، فَلَوْ نَحَرْتَهَا فَإِنَّا قَدْ قَرِمْنَا إِلَى اللَّحْمِ، وَلَوْ قَدْ فَعَلْتَ غَرِمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَكَلْنَا لَحْمًا، فَقَالَ إِنَّى إِنْ فَعَلْتُ ذَلِكَ وَأَخْبَرْتُمُوهُ بِمَا صَنَعْتُ، وَجَدَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: لَا تَفْعَلْ، فَقَامَ فَضَرَبَ فِي لَبَّتِهَا، ثُمَّ انْطَلَقَ، فَمَرَّ بِالْمِقْدَادِ بْنِ عَمْرٍو وَقَدْ حَفَرَ حُفْرَةً، وَقَدِ اسْتُخْرَجَ مِنْهَا طِينًا، فَقَالَ: يَا مِقْدَادُ غَيِّبْنِي فِي هَذِهِ الْحُفْرَةِ، وَأَطْبِقْ عَلَيَّ شَيْئًا، وَلَا تَدُلَّ عَلَيَّ أَحَدًا، فَإِنِّي قَدْ أَحْدَثْتُ حَدَثًا، فَفَعَلَ، فَلَمَّا خَرَجَ الْأَعْرَابِيُّ رَأَى نَاقَتَهُ فَصَرَخَ، فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَنْ فَعَلَ هَذَا؟ قَالُوا: نُعَيْمَانُ، قَالَ: وَأَيْنَ تَوَجَّهَ؟ فَتَبِعَهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَعَهُ حَمْزَةُ وَأَصْحَابُهُ، حَتَّى أَتَى عَلَى الْمِقْدَادِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمِقْدَادِ: هَلْ رَأَيْتَ لِيَ نُعَيْمَانَ؟ فَصَمَتَ، فَقَالَ: لِتُخْبِرَنِي أَيْنَ هُوَ؟ فَقَالَ: مَالِي بِهِ عِلْمٌ؟ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى مَكَانِهِ، فَكَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَيْ عَدُوَّ نَفْسِهِ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَأَمَرَنِي بِهِ حَمْزَةُ وَأَصْحَابُهُ، وَقَالُوا: كَيْتَ وَكَيْتَ، فَأَرْضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَعْرَابِيَّ مِنْ نَاقَتِهِ، وَقَالَ: شَأْنُكُمْ بِهَا، فُأْكُلُوهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَكَرَ صَنِيعَهُ ضَحِكَ حَتَّى تَبْدُوَ نَوَاجِذُهُ
হাদীস নং: ১৮০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮০। হযরত উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন মুগীরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস (রাযিঃ) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি না রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপেক্ষা অধিক কাউকে কৌতুক করতে দেখেছি, আর না তাঁর চেয়ে অধিক কাউকে মুচকি হাসি হাসতে দেখেছি। আর বাচ্চাদের অভিভাবকরা তো তাঁর এ কৌতুক করাকে নিজেদের গর্ব বলে বোধ করতো এবং খুবই আনন্দিত হতো। এর কারণ ছিলো নবী (ﷺ)-এর বাচ্চাদের সাথে খুবই কৌতুক করতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
180 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ السَّقَانِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ، قَالَ: أَخْبَرَنا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ الْأَصْفَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، نَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ مُزَاحًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْهُ، وَإِنْ كَانَ لَيَسْنُو أَهْلَ الصَّبِيِّ إِلَى مُزَاحِهِ
হাদীস নং: ১৮১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮১। উবায়দ ইব্‌ন উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। আমরা মদীনার প্রসিদ্ধ জ্বর ও জ্বরটির মাহ্‌যাআ অঞ্চলের দিকে প্রত্যাগমন ইত্যাদি নিয়ে কথাবার্তা ও হাসাহাসি করছিলাম। তারপর আমাদের আলোচনা চলে গেল হযরত বারীরা ও তার ঘর সম্পর্কীয় প্রসিদ্ধ ঘটনার দিকে। ইত্যবসরে আমাদের সম্মুখ দিক দিয়ে আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। আমরা তাকে দেখে হাসি-তামাশার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিলাম। তখন তিনি বললেন, আপনারা আমার সামনে এ সব অর্থহীন কথা বলা বন্ধ করুন। এর উপর হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শুনেননি যে, তিনি বলতেন, আমি কখনো কখনো কৌতুকও করি। কিন্তু কৌতুকের জন্যও আমি যে কথা বলি সেটিও ন্যায়ানুগ ও সত্য হয়ে থাকে।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
181 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، نَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ طُفَيْلِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، وَنَحْنُ نَذْكُرُ حُمَّى الْمَدِينَةِ وَانْتِقَالِهَا إِلَى مَهْيَعَةَ، وَنَضْحَكُ، ثُمَّ صِرْنَا إِلَى حَدِيثِ بَرِيرَةَ وَمَسْكَنِهَا، إِذِ افْتَتَحَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، فَلَمَّا رَأَيْنَاهُ أَكْثَرْنَا، وَقَالَ: دَعْنَا مِنْ بَاطِلِكُمَا، قَالَتْ عَائِشَةُ: سُبْحَانَ اللَّهِ أَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّى لَأَمْزَحُ وَلَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا
হাদীস নং: ১৮২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮২। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি (অবাক হয়ে) জিজ্ঞেস করেছিল, নবী (ﷺ) কখনো কি কৌতুক করেছেন ? তখন ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ, নবী (ﷺ) কৌতুকও করতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
182 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا الْحُلْوَانِيُّ، نَا ابْنُ عُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي حَرِيزٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ: أَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْزَحُ؟ فَقَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْزَحُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৩। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে আরোহণ করার জন্য একটি বাহন দান করুন। নবী (ﷺ) বললেন, ঠিক আছে। তোমাকে আমি আরোহণের জন্য একটি উট্‌নীর বাচ্চা দিব। প্রার্থনাকারী বৃদ্ধ লোকটি বললো, উট্‌নীর বাচ্চা দিয়ে আমি কি করবো ? (আমার তো আরোহণের উপযুক্ত বয়স্ক কোন উট কিংবা উট্‌নীর প্রয়োজন) নবী (ﷺ) বললেনঃ প্রতিটি উট্‌ই কোন না কোন উট্‌নীর বাচ্চা। অনুরূপভাবে নবী (ﷺ) একদা কৌতুকচ্ছলে বলেছিলেন, (মনে রাখবে) বেহেশ্‌তে কোন বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না ।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
183 أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، نَا خَالِدٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: احْمِلْنِي، فَقَالَ: إِنَا حَامِلُوكَ عَلَى وَلَدِ النَّاقَةِ. قَالَ الشَّيخُ: وَمَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ. فَقَالَ: وَهَلْ تَلِدُ الْإِبِلُ إِلَّا النُّوقَ؟ وَقَالَ: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَجُوزٌ
হাদীস নং: ১৮৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৪। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (কৌতুক করে) হযরত হাসান ইব্‌ন আলী (রাযিঃ)-এর সামনে মুখ থেকে জিহ্বা বের করে দেখাতেন। তখন সে বাচ্চা [হাসান ইব্‌ন আলী (রাযিঃ)] নবী (ﷺ)-এর জিহ্বার লাল রং দেখে (খেজুর কিংবা আহারের কোন জিনিস মনে করে) তা ধরার জন্য হাত ঝাপটাতে থাকতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
184 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، وَابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، نَا خَالِدٌ، قَالَ: نَا أَبُو بَكْرِ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُدْلِعُ لِسَانَهُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، فَيَرَى الصَّبِيُّ حُمْرَةَ لِسَانِهِ فَيَبْهَشُ إِلَيْهِ
হাদীস নং: ১৮৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৫। হযরত মুজাহিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করে দেখলেন তার কাছে জনৈকা বৃদ্ধা বসে রয়েছেন । নবী (ﷺ) বললেন, এ বৃদ্ধা মহিলাটি কে ? হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বললেন, আমার মাতুলালয়ের একজন । নবী (ﷺ) কৌতুক করে বলেছিলেন, বৃদ্ধা মহিলা কখনোই বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে না । নবী (ﷺ)-এর এ কথাটি বৃদ্ধার কাছে ভারী বোধ হলো। (সে অস্থির হয়ে উঠল) কিছুক্ষণ পর নবী (ﷺ) ঘরে ফিরে আসলে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তখন তিনি বললেন, (আরে) আল্লাহ্ তাআলা এ বৃদ্ধাদেরকে (কিয়ামতের দিন) তাদের দৈহিক আকৃতি পরিবর্তন পূর্বক যৌবনের আকৃতিতে পুনরুত্থিত করবেন। (যুবতীর বেশেই সকল বৃদ্ধা বেহেশ্‌তে প্রবেশ করবে)।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
185 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ حُسَيْنٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَعِنْدَهَا عَجُوزٌ، فَقَالَ: مَنْ هَذِهِ؟ قَالَتْ: هِيَ مِنْ أَخْوَالِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْعُجُزَ لَا تَدْخُلُ الْجَنَّةَ، فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمَرْأَةِ، فَلَمَّا دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ، فَقَالَ: اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُنْشِئُهُنَّ خَلْقًا غَيْرَ خَلْقِهِنَّ
হাদীস নং: ১৮৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৬। হযরত ইকরিমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর পবিত্র সত্তায় হাসি-খুশির স্বভাব বিদ্যমান ছিল।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
186 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَعْدَانَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَدِينِيُّ، نَا خَالِدُ بْنُ زِيَادٍ الزَّيَّاتُ، نَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: كَانَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دُعَابَةٌ، يَعْنِي مِزَاحًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৭। হযরত ইব্‌ন আবুল ওয়ারদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) আমাকে দেখতে পেলেন। তিনি আমার শরীরের লালচে শুভ্র বর্ণ দেখে বললেন, তুমি তো রীতিমত গোলাপ ফুল। হযরত জুবারা (ইব্‌ন মুফলিস) বলেন, নবী (ﷺ) এ কথাটি কৌতুক করে বলেছিলেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
187 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، وَجَعْفَرُ النَّهَاوَنْدِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا جُبَارَةُ، نَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ ابْنِ أَبِي الْوَرْدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَآنِي رَجُلًا أَحْمَرَ، فَقَالَ: أَنْتَ الْوَرْدُ. قَالَ جُبَارَةُ: مَازَحَهُ
হাদীস নং: ১৮৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৮। হযরত ইব্‌ন কা’ব ইব্‌ন মালিক তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী (ﷺ) যখন কোন কাজে আনন্দিত হতেন তখন তাঁর চেহারা মুবারক পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠত।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
188 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ ثَابِتٍ فَرْخُوَيْهِ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، نَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سُرَّ بِالْأَمْرِ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ كَاسْتِنَارَةِ الْقَمَرِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮৯। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন কা’ব তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কোন কাজ যখন নবী (ﷺ)-কে আনন্দিত করত তখন তাঁর চেহারা মুবারক আলোময় চন্দ্রের ন্যায় আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠত।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
189 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا يَحْيَى، وَخَلَفٌ، نَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، نَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَرَّهُ الْأَمْرُ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ اسْتِنَارَةَ الْقَمَرِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৯০। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদা ঘরে প্রবেশ করলেন আনন্দচিত্ত অবস্থায়। তখন আনন্দের আতিশয্যে তাঁর চেহারা মুবারকের সৌন্দর্য যেন জ্বলজ্বল করছিল।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
190 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَسْرُورًا تَبْرُقُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ.
হাদীস নং: ১৯১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৯১। ইবনে আবী আসেম,এবং লাইস তার অনুরূপ বর্ণনা করেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
191 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا كَامِلٌ، نَا اللَّيْثُ، مِثْلَهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৯২। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে কখনো এভাবে হো হো করে হাসতে দেখিনি যে, তাঁর মুখ গহবরের পূর্ণ অংশ আমার নজরে এসেছে, বরং তিনি (আনন্দ ও প্রসন্নতার মুহূর্তে) মুচকি হাসি হাসতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
192 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، نَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ حَدَّثَهُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا حَتَّى أَرَى لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ
tahqiq

তাহকীক: