আখলাকুন্নবী (ﷺ)
أخلاق النبي وآدابه لأبي الشيخ الأصبهاني
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮৬৭ টি
হাদীস নং: ১৫১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫১। হযরত মুয়াবিয়া ইব্ন আবুল হাকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে জামায়াতে নামায আদায় করি। (নামাযের মধ্যেই) এক ব্যক্তির হাঁচি এল। রাবী বলেন, (আমি আলহামদুলিল্লাহ্’ -এর জবাবে) ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ্’ বলে ফেললাম। তখন নামাযরত লোকেরা আমাকে চোখ তুলে দেখতে লাগলো এবং উরুর উপর হাত মারতে শুরু করলো। আমি দেখলাম তারা আমাকে জোর করে চুপ করাতে যাচ্ছে (তখন আমার খুব খারাপ লাগলো)। কিন্তু আমি নিশ্চুপ রইলাম। (নামায শেষে) নবী (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। আমার মাতাপিতা তাঁর জন্য কুরবান হোন। আমি নবী (ﷺ) -এর চেয়ে কোন উত্তম শিক্ষক দেখি নাই। তিনি আমাকে না মারধর করলেন, না বকাঝকা করলেন। তারপর বললেনঃ নামাযে দুনিয়াবী কথাবার্তা বলা ঠিক নয়, নামায হলো আল্লাহ্র তাসবীহ্ (গুণগান) তাকবীর (মহানত্ব) তামহীদ (প্রশংসা)-এর নাম।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
151 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، نَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ، فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَرَمَانِي الْقَوْمُ بَأَبْصَارِهِمْ، وَضَرَبُوا بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصْمِتُونِي، لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ: فَدَعَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَبِي وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ، مَا ضَرَبَنِي وَلَا سَبَّنِي، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّحْمِيدُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫২। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে অবস্থান করছিলেন। সাহাবা কিরামও তাঁর সাথে বসেছিলেন। ইত্যবসরে এক বেদুঈন সেখানে আসল এবং মসজিদের মধ্যেই (এক পাশে) পেশাব করতে লাগলো। সাহাবা কিরাম হায়! হায়! বলে তাকে পেশাব করতে বিরত রাখতে চাইলেন। কিন্তু নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে পেশাব করতে বাধা দিও না। তারপর ঐ বেদুঈন যখন পেশাব করা শেষ করলো, তখন তাকে তিনি বললেন, দেখো, এই মসজিদগুলো আবর্জনা ছড়ানো ও পেশাব পায়খানা করার জন্য নয়। কিংবা এই ধরনেরই কোনো উক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) করেছেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
152 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ وَأَصْحَابُهُ مَعَهُ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيُّ، فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْ، مَهْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُزْرِمُوهُ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنَ الْقَذَرِ، وَالْبَوْلِ وَالْخَلَاءِ - أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৩। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় অবগত হতেন, তখন তিনি তাকে সম্বোধন করে একথা বলতেন না যে, তুমি এরূপ এরূপ বলেছো। বরং তিনি (অনির্দিষ্টভাবে) বলতেন, লোকদের কি হয়েছে যে, তারা এরূপ এরূপ কথা বলছে?
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
153 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، نَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ الْوَاسِطِيُّ، نا أَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، نَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ أَبُو الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا بَلَغَهُ عَنْ رَجُلٍ شَيْءٌ، لَمْ يَقُلْ لَهُ قُلْتَ: كَذَا وَكَذَا، بَلْ قَالَ: مَا بَالُ أَقُومٍ يَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا؟ "
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৪। হযরত ইমরান ইব্ন হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন কোনো বিষয় অপছন্দ করতেন, তা তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল থেকেই অনুমান করা যেতো।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
154 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ زَاطِيَا أَبُو هَمَّامِ بْنُ شُجَاعٍ، نَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، نَا الْخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي السَّوَّارِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عُرِفَ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৫। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আল যখন কোনো কঠিন সংকটে পতিত হতেন, তখন তিনি বারংবার (মুবারক) দাড়িতে হাত বুলাতেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
155 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَلَبِيُّ، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحَلَبِيُّ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَدَّ وَجْدُهُ أَكْثَرَ مَسَّ لِحْيَتِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৬। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উম্মাহাতুল মু’মিনীন-এর মধ্য থেকে কোনো একজনের নিকট অবস্থান করছিলেন। ইত্যবসরে তাঁর সহধর্মিণীদের মধ্য থেকে কোনো একজন (কিছু খাদ্যদ্রব্যসহ) একটি বাটি তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। যে উম্মুল মু’মিনীনের নিকট তিনি ঐ দিন অবস্থান করছিলেন, তিনি খাদ্য নিয়ে আগমনকারীর হাতে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে বাটি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেলো। নবী (ﷺ) তার উভয় টুক্রা তুলে নিলেন এবং তাকে একে অপরের সাথে মিলিয়ে নিলেন। এরপর ইতস্তত বিক্ষিপ্ত খাবারগুলো একত্রিত করে বললেন যে, তোমাদের মায়ের (উম্মুল মু’মিনীনের) আত্মমর্যাদাবোধে (আঘাত) লেগেছে, তোমরা খাবারগুলো খেয়ে ফেলো। সুতরাং সবাই তা খেয়ে ফেললো। খাবার নিয়ে আগমনকারী বাটি নেয়ার জন্য বসে রইল। ইতিমধ্যে বাটিটি যাঁর হাতে ভেঙেছিলো, তিনি তাঁর ঘর থেকে একটি নিখুঁত বাটি নিয়ে এলেন। নবী (ﷺ) খাবার নিয়ে আগমনকারীকে ঐ নিখুঁত বাটিটি দিয়ে দিলেন এবং ভাঙা বাটিটি যিনি ভেঙেছিলেন তাঁরই ঘরে রেখে দিলেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا الْعَبَّاسُ النَّرْسِيُّ، نَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدٍ الْخُزَاعِيُّ، نَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ. وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، نَا أَبِي، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى نِسَائِهِ بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَضَرَبَتْ يَدَ الرَّسُولِ فَسَقَطَتِ الْقَصْعَةُ، فَانْكَسَرَتْ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ إِحْدَاهُمَا إِلَى الْأُخْرَى، ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ، وَيَجْمَعُ الطَّعَامَ فَيَقُولُ: غَارَتْ أُمُّكُمْ، كُلُوا. فَأَكَلُوا فَجَلَسَ الرَّسُولُ حَتَّى جَاءَتِ الْكَاسِرَةُ بِقَصْعَتِهَا الَّتِي هِيَ فِي بَيْتِهَا فَدَفَعَ الصَّحْفَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الرَّسُولِ وَتَرَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْهَا "
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৭। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) -এর নিকট সফরের জন্য বাহন চাইলেন। নবী (ﷺ) তখন কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! এখন আমি তোমাকে কোনো বাহন দেবো না। কিন্তু আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন নবী (ﷺ) তাকে বাহন দেওয়ার জন্য ডাকলেন। তখন আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তো আমাকে বাহন না দেওয়ার কসম খেয়েছেন। নবী (ﷺ) তখন বললেন, এখন আমি কসম করে বলছি যে, তোমাকে অবশ্যই বাহন দেবো। সুতরাং তিনি তাঁকে বাহন দিয়ে দিলেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
157 - حَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، نَا أَبِي، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: اسْتَحْمَلَ أَبُو مُوسَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَافَقَ مِنْهُ شُغْلًا، فَقَالَ: «وَاللَّهِ لَا أَحْمِلُكَ» ، فَلَمَّا قَفَّى، دَعَاهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ حَلَفْتَ لَا تَحْمِلُنِي، قَالَ: «وَأَنَا أَحْلِفُ لَأَحْمِلَنَّكَ» ، فَحَمَلَهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৮। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) -এর দাঁত মুবারক ভেঙে গিয়েছিলো, শির মুবারক জখম হয়েছিল এবং রক্ত তাঁর চেহারা বেয়ে পড়ছিলো। তখন তিনি রক্ত মুছতে মুছতে বলছিলেন : সে জাতি কিরূপে কল্যাণ লাভ করতে পারে, যারা তাদের নবী (ﷺ)-এর চেহারাকে রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে। অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ্র দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন। তখন মহান আল্লাহ্ এই আয়াত I নাযিল করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ ব্যাপারে আপনার কোনো ইখতিয়ার নেই।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
158 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُسِرَتْ رَبَاعِيَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ وَشُجَّ فَجَعَلَ الدَّمُ يَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ، وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ، وَيَقُولُ: كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ خَضَبُوا وَجْهَ نَبِيِّهِمْ بِالدَّمِ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: 128]
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৯। হযরত শিফা বিন্ত আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, একবার আমি কিছু চাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট গেলাম। কিন্তু তিনি আমার কাছে অপারগতা প্রকাশ করলেন। (কেননা, তাঁর নিকট তখন দেয়ার মতো কোনো সম্পদ ছিলো না।)
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
159 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، نَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الشِّفَاءِ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَتْ: «أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا أَسْأَلُهُ شَيْئًا، فَجَعَلَ يَعْتَذِرُ إِلَيَّ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬০। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (উম্মুল মু’মিনীন হযরত) সাফিয়্যা (রাযিঃ)-এর কাছে (তাঁর পিতার হত্যা সম্পর্কে, যে খায়বারের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে নিহত হয়েছিল) ওজর পেশ করতে থাকেন এবং বললেনঃ হে সাফিয়্যা! তোমার পিতাই তো সারা আরবের লোকদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উস্কিয়ে ছিলো এবং তাদেরকে সমবেত করেছিলো। এরূপ ওজর পেশ করার দরুন তাঁর অন্তর থেকে এই দুঃখ অন্তর্হিত হয়ে যায়।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
160 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا الْحَسَنُ الزَّعْفَرَانِيُّ، نَا عَفَّانُ، نَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَذِرُ إِلَى صَفِيَّةَ، وَيَقُولُ: يَا صَفِيَّةُ إِنَّ أَبَاكِ أَلَّبَ عَلَيَّ الْعَرَبَ، وَفَعَلَ، حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ مِنْ نَفْسِهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬১। হযরত মুহাজির ইব্ন কুনফুয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একবার তিনি নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হন এবং সালাম করেন। নবী (ﷺ) ঐ সময় পেশাব করছিলেন। তাই তিনি সালামের জবাব দিলেন না। তারপর (পেশাব শেষ করে) তিনি ওযূ করে তার কাছে ওজর পেশ করলেন। বললেন, পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহ্ নাম নেয়া আমার কাছে ভাল মনে হয়নি।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
161 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا أَبُو مُوسَى، نَا عَبْدُ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حُضَيْنِ بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، ثُمَّ اعْتَذَرَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: إِنَّى كَرِهْتُ أَنْ أَذْكُرَ اللَّهَ إِلَّا عَلَى طُهْرٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬২। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাতরত অবস্থায় যখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতেন তখন (শিশুটির মায়ের মনে কোন অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে এ আশংকায় তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করে) ছোট একটি আয়াত কিংবা ছোট একটি সূরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে সালাত শেষ করে নিতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
162 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا بِشْرُ بْنُ هِلَالٍ الصَّوَّافُ، نَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ، فَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ الْقَصِيرَةِ، وَالسُّورَةِ الْخَفِيفَةِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৩। হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, একবার নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত পড়ছিলেন। সালাত পড়ানো কালে তাঁর কানে একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ পৌঁছল। নবী (ﷺ) তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আজ আপনি সালাতকে এতটুকু সংক্ষিপ্ত করলেন? উত্তরে তিনি ইরশাদ করেন, আমি সালাতরত অবস্থায় যখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনি তখন আমার আশংকাবোধ হয়, হয়ত শিশুটির মা সালাতরত অবস্থায় পেরেশানীতে পড়বে। (এ কারণে আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছি।)
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
163 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ الْجُنَيْدِ، نَا أَبِي، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبُو هَارُونَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَا: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْغَدَاةِ، وَسَمِعَ بُكَاءَ صَبِيٍّ فَخَفَّفَ الصَّلَاةَ فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، خَفَّفْتَ هَذِهِ الصَّلَاةَ الْيَوْمَ، فَقَالَ: إِنَّى سَمِعْتُ بُكَاءَ صَبِيٍّ، فَخَشِيتُ أَنْ يَفْتِنَ أُمَّهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৪। হযরত মালিক ইব্ন হুয়ায়রিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ছিলেন অতিশয় কোমল-প্রাণ, অতীব দয়ালু ও সহানুভূতিশীল। আমরা স্বগোত্রীয় একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বিশ দিন পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করেছিলাম। তখন তাঁর মনে হলো, হয়তো আমাদের মনে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়ে থাকবে। কাজেই তিনি আমাদেরকে ডাকলেন এবং বাড়িতে আমাদের কারা কারা আছে জিজ্ঞেস করলেন। আমরা তাঁকে বিস্তারিত জানালাম। তখন তিনি ইরশাদ করেনঃ এবার তোমরা নিজ নিজ পরিবার- পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং সেখানেই স্থায়িভাবে অবস্থান কর (এবং দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজ করে যাও)।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
164 - حَدَّثَنَا ابْنُ صَاعِدٍ، نَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ، وَالدَّوْرَقِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالُوا: نَا ابْنُ عُلَيَّةُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا، أَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا، فَسَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِنَا، فَأَخْبَرَنَاهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ارْجِعُوا إِلَى أَهَالِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهِمْ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৫। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যদি একাধারে তিনদিন কোন মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাৎ না পেতেন তা হলে তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। সে যদি সফরে আছে বলে জানতেন তাহলে তার জন্য দুআ করতেন । আর যদি সে (মদীনায়) উপস্থিত থাকতো (অথচ কোন অপারগতার কারণে হাজির হতে পারছে না) তা হলে তিনি নিজে তার সাক্ষাতের জন্য যেতেন। আর যদি লোকটি অসুস্থ বলে জানতেন তা হলে তিনি সেখানে গিয়ে তার সেবা-শুশ্রূষা করতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
165 - حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا الْأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، نَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَقَدَ الرَّجُلَ مِنْ إِخْوَانِهِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، سَأَلَ عَنْهُ، فَإِنْ كَانَ غَائِبًا دَعَا لَهُ، وَإِنْ كَانَ شَاهِدًا زَارَهُ، وَإِنْ كَانَ مَرِيضًا عَادَهُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৬। হযরত আলী ইব্ন হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) সালাত পড়ালেন এবং সালাত খুব দ্রুত শেষ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি সালাত ত্বরা করে শেষ করার কারণ হলো যে, সালাতে আমি যখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনি তখন আমার আশঙ্কা হয় যে, শিশুটির এ কান্নার দরুন তার মাতাপিতার মনে কোন কষ্টের উদ্রেক না হয়।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
166 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، نَا إِسْمَاعِيلُ الْقَاضِي، نَا الْحَوْضِيُّ، نَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْجُوَيْرِيَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى صَلَاةً فَعَجَّلَ فِيهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّمَا عَجَّلْتُ أَنَّى سَمِعْتُ صَبِيًّا يَبْكِي فَخَشِيتُ أَنْ يَشُقَّ ذَلِكَ عَلَى أَبَوَيْهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৭। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী (ﷺ) -এর দরবারে হাজির হয়ে কিছু প্রার্থনা করল। নবী (ﷺ) একটি চাদর পরিহিত ছিলেন। লোকটি প্রার্থনার আতিশয্যে তাঁর চাদর ধরে এত জোরে টান দিলো যে, চাদরটি ফেঁড়ে গিয়ে একপার্শ্ব নবী (ﷺ) -এর কাঁধের উপর ঝুলতে থাকে। নবী (ﷺ) লোকটির এই (অসৌজন্যমূলক) আচরণ সত্ত্বেও তাকে কিছু দান করতে নির্দেশ দেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْخُزَاعِيُّ، نَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نَا هَمَّامٌ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ، وَعَلَيْهِ بُرْدٌ فَجَذَبَهُ، فَشَقَّ الْبَرْدَ، حَتَّى بَقِيَتِ الْحَاشِيَةُ فِي عُنُقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَيْءٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৮। হযরত মুআয ইব্ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ইয়ামেনে (গভর্নর নিযুক্ত করে) পাঠালেন এবং বলেন, হে মুআয! শীতের মৌসুমে তুমি ফজরের সালাত শুরু ওয়াক্তে পড়াবে। আর সালাতে কিরাআত এতটুকু দীর্ঘ করবে যতটুকু লোকজনের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়। অতিশয় দীর্ঘ কিরাআতের কারণে মানুষের মনে যেন বিরক্তি না আসে। আর গরমের মৌসুমে তুমি ফজরের সালাত শেষ ওয়াক্তে পড়াবে। কেননা (গরম কালে) রাত ছোট হয়ে থাকে মানুষের ঘুম শেষ হয় না। কাজেই তাদেরকে এতটুকু সুযোগ দেবে যাতে তারাও সালাতে অংশগ্রহণে সক্ষম হয়।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
168 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَصْقَلَةَ، نَا أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ، نَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ يوسُفَ بْنِ أَسْبَاطِ، نَا الْمِنْهَالُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: يَا مُعَاذُ، «إِذَا كَانَ فِي الشِّتَاءِ فَغَلِّسْ بِالْفَجْرِ، وَأَطِلِ الْقِرَاءَةَ قَدْرَ مَا يُطِيقُ النَّاسُ، وَلَا تُمِلُّهُمْ، فَإِذَا كَانَ الصَّيْفُ، فَأَسْفِرْ بِالْفَجْرِ، فَإِنَّ اللَّيْلَ قَصِيرٌ، وَالنَّاسُ يَنَامُونَ، فَأَمْهِلْهُمْ حَتَّى يَتَدَارَكُوا»
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৯। হযরত জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একুশটি যুদ্ধে স্বয়ং অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উনিশটিতেই আমি শামিল থাকি। অবশিষ্ট দু’টির মধ্যে উপস্থিত ছিলাম না। একবার আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে যাত্রা করেছিলাম। এমন সময় রাত্রিকালে আমার উটটি হ্যাঁটতে অক্ষম হয়ে পড়ল। নবী (ﷺ) পেছনের লোকজনের সাথে আমাদের পেছনে আসছিলেন। পেছনের লোকজনের সাথে তাঁর আসার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তিনি পেছন থেকে দুর্বলদেরকে চলতে সাহায্য করতেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে তাদেরকে নিজের বাহনে আরোহণ করিয়ে নিতেন এবং দুর্বলদের জন্য দুআ করতে থাকতেন। (পথ চলতে চলতে আমিও পেছনে পড়ে গিয়েছিলাম) তিনি যখন আমার কাছে আসলেন আমি তখন নিজের দুর্বলতা ও অক্ষমতার দরুন নিজে নিজেকে তিরস্কার করছিলাম। হায়! আমার মায়ের বিনাশ! কেননা আমার উট অক্ষম হয়ে গিয়েছে। এ সময় নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার প্রতি আমার মাতাপিতা কুরবান হোক, আমি জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ্ । তিনি বললেন, তোমার কি হয়েছে ? আমি বললাম আমার উটটি (ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে বসে গেছে আর দাঁড়াচ্ছে না)। তিনি বললেন, তোমার হাতে (হাঁকিয়ে নেওয়ার কোন) লাঠি আছে কি? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ, আছে। তখন তিনি লাঠির সাহায্যে উটটিকে প্রহার করলেন, এটি দাঁড়াল। তারপর পুনরায় উটটিকে বসিয়ে সম্মুখের পা দু’টি সজোরে চিপে দিলেন। তারপর আমাকে বললেন, যাও, আরোহণ কর। আমি উটটির পিঠে আরোহণ করলাম এবং চালাতে থাকলাম। দেখলাম, নবী (ﷺ) -এর মুবারক হাতের স্পর্শের কারণে আমার উটটি তাঁর উট থেকেও আগে আগে চলতে শুরু করেছে । নবী (ﷺ) সে রাতে আমার পঁচিশবার মাগফিরাতের দুআ করেন। তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পিতা আব্দুল্লাহ মৃত্যুকালে কতজন সন্তান রেখে গিয়েছেন ? আমি বললাম, সাত কন্যা। তিনি বললেন, তার উপর কি কিছু ঋণও ছিল ? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এবার মদীনায় ফিরে গিয়ে ঋণদাতাদের সাথে একটা ফয়সালা করে নিও। তারা যদি তোমার ফয়সালা মানতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে খেজুর আহরণের মৌসুমে তুমি আমাকে সংবাদ দিবে। তারপর তিনি আমার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ ? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, কাকে বিবাহ করেছ ? আমি বললাম, অমূকের বিধবা কন্যা। তারা মদীনাতেই বসবাস করে। তিনি বললেন, কোনো কুমারীকে বিয়ে করলে না কেন ? তাহলে সে তোমার জন্য এবং তুমি তার জন্য অধিকতর মনস্তুষ্টি ও ভালবাসার কারণ হতে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমাদের ঘরে অনভিজ্ঞ কুমারীরা আছে। (অর্থাৎ আমার ছোট বোনেরা সকলে কুমারী) কাজেই আমি তাদের সমবয়সের আরেকজন কুমারীকে ঘরে আনা পছন্দ করিনি। আমি সিদ্ধান্ত করেছিলাম কোন একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মহিলাকে ঘরে আনা হলে আমার পারিবারিক কাজকর্মে অধিকতর কল্যাণজনক প্রমাণিত হবে। নবী (ﷺ) তুমি ঠিক কাজ করেছ এবং উত্তম পথ অবলম্বন করেছ। তারপর নবী (ﷺ) করলেন যে, এ উট তুমি কত মূল্যে খরিদ করেছিলে ? আমি বললাম, পাঁচ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে । তিনি বললেন, উটটি আমি তোমার কাছ থেকে খরিদ করে নিলাম। এরপর মদীনা শরীফ পৌছে আমি উটটি নবী (ﷺ) -এর খেদমতে পেশ করে দেই। তিনি হযরত বিলালকে ডেকে বললেন, বিলাল তুমি জাবিরকে পাঁচ উকিয়া স্বর্ণ পরিশোধ কর। সে (তার পিতা হযরত) আব্দুল্লাহ্ ঋণ শোধে এ অর্থ ব্যয় করবে। তাকে আমার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরো তিন উকিয়া স্বর্ণ দিয়ে দিবে এবং তাকে তার উটটিও ফিরিয়ে দিবে।
তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি তোমার পিতা আব্দুল্লাহ্ ঋণদাতাদের সঙ্গে কথাবার্তা ঠিক করেছ কি ? আমি বললাম, জী না। নবী (ﷺ) বললেন, আব্দুল্লাহ্ কি এতটুকু সম্পদ রেখে গেছে যা দিয়ে ঋণ শোধ করা সম্ভব ? আমি বললাম, জী না। তিনি বললেন, ঠিক আছে কোন অসুবিধা হবে না। তোমাদের বাগানে খেজুর আহরণের সময় ঘনিয়ে এলে আমাকে সংবাদ দিও। সে মতে আমি (সময়মত) নবী (ﷺ) -কে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি আগমন করলেন এবং আমাদের জন্য দুআ করলেন। (তাঁর সে দুআর বরকতে) খেজুর থেকে ঋণদাতা সকলের পাওনা পরিপূর্ণভাবে শোধ করে দেওয়া হলো। তারপর আমাদের হাতে সেই পরিমাণ খেজুর অবশিষ্ট রয়ে গেল যতটুকু আমরা অন্যান্য বছর আহরণ করতাম। এমনকি অবশিষ্ট অংশ অন্যান্য বছরের তুলনায় পরিমাণে কিছু বেশীও ছিল । তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, এ খেজুরগুলি ঘরে নিয়ে যাও। তবে দেখ এগুলিকে পরিমাপ করবে না। সে মতে আমার উক্ত খেজুর বহুদিন পর্যন্ত খেতে থাকি।
তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি তোমার পিতা আব্দুল্লাহ্ ঋণদাতাদের সঙ্গে কথাবার্তা ঠিক করেছ কি ? আমি বললাম, জী না। নবী (ﷺ) বললেন, আব্দুল্লাহ্ কি এতটুকু সম্পদ রেখে গেছে যা দিয়ে ঋণ শোধ করা সম্ভব ? আমি বললাম, জী না। তিনি বললেন, ঠিক আছে কোন অসুবিধা হবে না। তোমাদের বাগানে খেজুর আহরণের সময় ঘনিয়ে এলে আমাকে সংবাদ দিও। সে মতে আমি (সময়মত) নবী (ﷺ) -কে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি আগমন করলেন এবং আমাদের জন্য দুআ করলেন। (তাঁর সে দুআর বরকতে) খেজুর থেকে ঋণদাতা সকলের পাওনা পরিপূর্ণভাবে শোধ করে দেওয়া হলো। তারপর আমাদের হাতে সেই পরিমাণ খেজুর অবশিষ্ট রয়ে গেল যতটুকু আমরা অন্যান্য বছর আহরণ করতাম। এমনকি অবশিষ্ট অংশ অন্যান্য বছরের তুলনায় পরিমাণে কিছু বেশীও ছিল । তারপর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, এ খেজুরগুলি ঘরে নিয়ে যাও। তবে দেখ এগুলিকে পরিমাপ করবে না। সে মতে আমার উক্ত খেজুর বহুদিন পর্যন্ত খেতে থাকি।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
169 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ، نَا الْفَضْلُ بْنُ شَاذَانَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ أَبُو زُهَيْرٍ، نَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ الصَّوَّافُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: غَزَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ غَزْوَةً بِنَفْسِهِ، شَهِدْتُ تِسْعَ عَشْرَةَ، غِبْتُ عَنِ اثْنَتَيْنِ، فَبَيْنَا أَنَا مَعَهُ فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ، إِذْ أَعْيَى نَاضِحِي تَحْتَ اللَّيْلِ فَبَرَكَ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِنَا، فِي أُخْرَيَاتِ النَّاسِ، فَيُزْجِي الضَّعِيفَ، وَيُرْدِفُ، وَيَدْعُو لَهُمْ، فَانْتَهَى إِلَيَّ وَأَنَا أَقُولُ: يَالَهْفَ أُمَّتَاهُ وَمَا زَالَ لَنَا نَاضِحُ سَوْءٍ فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ قُلْتُ: أَنَا جَابِرٌ، بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: مَا شَأْنُكَ؟ قُلْتُ: أَعْيَى نَاضِحِي، فَقَالَ: أَمَعَكَ عَصًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ، فَضَرَبَهُ، ثُمَّ بَعَثَهُ، ثُمَّ أَنَاخَهُ، وَوَطِئَ عَلَى ذِرَاعِهِ، وَقَالَ: ارْكَبْ، فَرَكِبْتُ، فَسَايَرْتُهُ، فَجَعَلَ جَمَلِي يَسْبِقْهُ، فَاسْتَغْفَرَ لِي تِلْكَ اللَّيْلَةَ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً، فَقَالَ لِي: مَا تَرَكَ عَبْدُ اللَّهِ مِنَ الْوَلَدِ؟ يَعْنِي أَبَاهُ، قُلْتُ سَبْعَ نِسْوَةٍ، قَالَ: أَتْرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَإِذَا قَدِمْتَ الْمَدِينَةَ فَقَاطِعْهُمْ، فَإِنْ أَبَوْا فَإِذَا حَضَرَ جِدَادُ نَخْلِكُمْ فَآذِنِّي، وَقَالَ لِي: هَلْ تَزَوَّجْتَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: مِمَّنْ؟ قُلْتُ: بِفُلَانَةَ بِنْتِ فُلَانٍ، بِأَيِّمٍ كَانَتْ بِالْمَدِينَةِ، قَالَ: فَهَلَّا فَتَاةً تُلَاعِبُهَا وَتُلَاعِبُكَ؟ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنَّ عِنْدِي نِسْوَةٌ خُرْقٌ، يَعْنِي أَخَوَاتِهِ، فَكَرِهْتُ أَنْ آتِيَهُنَّ بِامْرَأَةٍ خَرْقَاءَ، فَقُلْتُ: هَذِهِ أَجْمَعُ لِأَمْرِي، قَالَ: فَقَدْ أَصَبْتَ وَرَشَدْتَ، فَقَالَ: بِكُمِ اشْتَرَيْتَ جَمَلَكَ؟ قُلْتُ: بِخَمْسِ أَوَاقٍ مِنْ ذَهَبٍ، قَالَ: قَدْ أَخَذْنَاهُ، فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ أَتَيْتُهُ بِالْجَمَلِ فَقَالَ يَا بِلَالُ أَعْطِهِ خَمْسَ أَوْرَاقٍ مِنْ ذَهَبٍ، يَسْتَعِينُ بِهَا فِي دَيْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَزِدْهُ ثَلَاثًا وَارْدُدْ عَلَيْهِ جَمَلَهُ، قَالَ: هَلْ قَاطَعْتَ غُرَمَاءَ عَبْدِ اللَّهِ؟ قُلْتُ: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: أَتَرَكَ وَفَاءً؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: لَا عَلَيْكَ، إِذَا حَضَرَ جِدَادُ نَخْلِكُمْ فَآذِنِّي، فَآذَنْتُهُ، فَجَاءَ [ص:455] فَدَعَا لَنَا فَاسْتَوْفَى كُلُّ غَرِيمٍ مَا كَانَ يَطْلُبُ تَمْرًا، وَفَاءً وَبَقِيَ لَنَا مَا كُنَّا نَجِدُ وَأَكْثَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ارْفَعُوا وَلَا تَكِيلُوا، فَرَفَعْنَا، فَأَكَلْنَا مِنْهُ زَمَانًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৭০। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই যে, আমি (অনেক সময়) ক্ষুধার তাড়নায় নিজের পেটের উপর পাথর বেঁধে রাখতাম। আর (কোন কোন সময়) এই ক্ষুধাজনিত কষ্টের কারণে নিজের দু’হাত দ্বারা মাটির উপর ভর দিয়ে বসে থাকতাম। আল্লাহ্ শপথ, একদিন এমন হয়ে গিয়েছিলো যে, (মসজিদে নববী থেকে) বেরিয়ে যাওয়ার পথের উপর বসে পড়ি। (যেন আমার ক্ষুধার্ত অবস্থা কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে) এ সময় হযরত আবু বক্র সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে শুধু এ উদ্দেশ্যে যে, তিনি আমাকে সঙ্গে করে (ঘরে) নিয়ে যাবেন এবং কিছু খেতে দিবেন—পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলাম । কিন্তু তিনি আমার প্রকৃত ইচ্ছা কিছুই উপলব্ধি করলেন না। (প্রশ্নটির জবাব দিয়ে) চলে গেলেন। আমাকে আর সঙ্গে করে নিলেন না। অতঃপর (এ পথ দিয়ে) হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (রাযিঃ)-এর আগমন ঘটল। আমি তাঁকেও এ উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআনে পাকের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। (এ আশায় যে) তিনি হয়ত আমাকে সঙ্গে করে ঘরে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি আমার প্রকৃত মনোভাবটি উপলব্ধি করলেন না। প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলে গেলেন। আমাকে আর সঙ্গে করে নিলেন না। এরপর রহমতে আলম আবুল কাসিম (ﷺ) এ পথে আগমন করলেন। তিনি আমার চেহারা দেখেই আমার অন্তরের ভাষা উপলব্ধি করে নেন। তিনি স্মিত হেসে বললেন, আবু হির, আস, আমার সঙ্গে চল । আমি নবী (ﷺ) -এর পিছু পিছু চললাম। তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের একজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে ভিতরে ডেকে নেন। এ সময় তিনি ঘরে এক পেয়ালা দুধ রক্ষিত আছে দেখলেন। জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ তোমার কাছে কোথা থেকে এসেছে? ঘরওয়ালারা বললেন, অমুক ব্যক্তি আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। নবী (ﷺ) তখন আমাকে বললেন, হে আবু হির! যাও সুফ্ফার সকলকে ডেকে আনো। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি বড় চিন্তায় পড়ে গেলাম। কেননা আহলে সুফ্ফার সকলেই ইসলাম ও মুসলমানদের মেহমান। তাদের কারোর না আছে কোন ঘরবাড়ি আর না কোন পরিবার-পরিজন। সাদাকার যে সকল জিনিস প্রিয় নবী (ﷺ)-এর কাছে আসতো তিনি তা তাদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন। তিনি নিজের জন্য এ থেকে কিছুই রাখতেন না। আর তাঁর কাছে যদি হাদিয়ার কোন কিছু আসতো তাহলে সকলকে ডেকে এনে নিজের সঙ্গে আহার করাতেন। তখন প্রিয় নবী (ﷺ) নিজেও আহার করতেন, সঙ্গে অন্যরাও আহার করতো । (মোট কথা আহলে সুফ্ফার লোকেরা প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় দু’জাহানের রহমত নবী (ﷺ)-এর অপেক্ষায় বসে থাকতেন।) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, কাজেই নবী (ﷺ)-এর আমাকে তাদের ডেকে আনতে পাঠানোর বিষয়টি আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিলো। আমি মনে মনে ভাবলাম, আশা তো করেছিলাম আমি এ দুধটুকু পান করে কিছুটা স্বস্তি লাভ করবো। কিন্তু আহলে সুফ্ফার সকলের সাথে এই এক পেয়ালা দুধের কতটুকু আমার ভাগ্যে আসবে। আবার যেহেতু আমিই তাঁদেরকে ডেকে আনছি, কাজেই তারা যখন আসবে নবী (ﷺ) তখন আমাকেই সকলের মাঝে দুধ বণ্টন করে দিতে নির্দেশ দিবেন। (আমি নিজে রয়ে যাবো সকলের শেষে। কাজেই আমার জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকবে কিনা বলা যায় না।) কিন্তু আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালন ব্যতিরেকে কোন গত্যন্তরও নেই। এসব ভেবে আমি সুফ্ফাবাসীদের কাছে গেলাম। তাদেরকে ডাকলে তারা সকলে আসলেন। তারপর নবী (ﷺ)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি অনুমতি দেন। সকলে নিজ নিজ আসনে বসার পর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবু হির! আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, দাঁড়াও সকলকে একের পর এক দুধের এই পেয়ালা থেকে পান করতে দাও। সে মতে আমি পেয়ালাটি একজন থেকে নিয়ে অন্যজনকে পৌঁছিয়ে দিতে থাকি । তারা প্রত্যেকে তৃপ্তি ভরে পান করার পর পেয়ালা আমাকে ফেরত দিতেন। এভাবে পালাক্রমে আহলে সুফ্ফার সকলেই পেট পূর্ণ করে পান করার পর আমি পেয়ালাটি নিয়ে প্রিয় নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হই। তিনি পেয়ালাটি নিজের সামনে রাখলেন। তারপর মাথা উপরে তুলে আমার দিকে তাকালেন এবং স্মিত হেসে বললেন, বসে পড়ো। আমি বসে গেলাম । তিনি বললেন, এবার তুমি পান করো। সে মতে আমি পেটভরে দুধ পান করলাম। তিনি পুনরায় আমাকে বললেন, পান করো। ফলে আমি আবার পান করি। (এভাবে তিনি বারবার আমাকে বলতে থাকেন আর আমি পান করতে থাকি।) অবশেষে আমি বললাম, কসম সেই সত্তার! যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, এক ঢোক পরিমাণ দুধ পান করার মতও কোন জায়গা খালি নেই। তিনি বললেন, ঠিক আছে পেয়ালাটি আমাকে দাও। আমি পেয়ালাটি প্রিয় নবী (ﷺ)-এর হাতে তুলে দিলে তিনি মহান আল্লাহ্ প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং নিজেও সেই পেয়ালা থেকে পান করলেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
170 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نَا سَعْدُ بْنُ الصَّلْتِ، وَابْنُ بَكَّارٍ، قَالَا: نَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِنْ كُنْتُ لَأَشُدُّ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الْجُوعِ، وَإِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِيَدَيَّ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ يَوْمًا عَلَى طَرِيقِهِمُ الَّذِي يَخْرُجُونَ فِيهِ، فَمَرَّ بِي أَبُو بَكْرٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، مَا أَسْأَلُهُ عَنْهَا إِلَّا لِيَسْتَتْبِعَنِي، فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ، ثُمَّ مَرَّ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَرَفَ مَا فِي نَفْسِي، وَمَا فِي وَجْهِي، فَتَبَسَّمَ وَقَالَ: أَبَا هِرٍّ الْحَقْ، فَاتَّبَعْتُهُ، فَدَخَلَ، فَاسْتَأْذَنَتُ، فَأَذِنَ لِي، فَوَجَدَ لَبَنًا فِي قَدَحٍ، فَقَالَ لِأَهْلِهِ: أَنَّى لَكُمْ هَذَا اللَّبَنُ؟ قَالُوا: أَهْدَاهُ لَكَ فُلَانٌ فَقَالَ: يَا أَبَا هِرٍّ، انْطَلِقْ إِلَى أَهْلِ الصُّفَّةِ، فَادْعُهُمْ لِي. قَالَ: فَأَحْزَنَنِي ذَلِكَ، وَأَهْلِ الصُّفَّةِ أَضْيَافُ الْإِسْلَامِ، لَا يَأْوُونَ إِلَى أَهْلٍ، وَلَا مَالٍ، إِذَا جَاءَتْهُ صَدَّقَةٌ أَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِمْ، وَلَمْ يَرْزَأْ مِنْهَا شَيْئًا، وَإِذَا جَاءَتْهُ هَدِيَّةٌ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ فَأَشْرَكَهُمْ فِيهَا، فَأَصَابَ مِنْهَا، قَالَ: فَأَحْزَنَنِي إِرْسَالُهُ إِيَّايَ، وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ أَشْرَبَ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَغَذَّى بِهَا، فَمَا يُغْنِي عَنِّي هَذَا اللَّبَنُ فِي أَهْلِ الصُّفَّةِ، وَأَنَا الرَّسُولُ فَإِذَا جَاءُوا أَمَرَنِي فَكُنْتُ أَنَا أُعَاطِيهِمْ وَلَمْ يَكُنْ فِي طَاعَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ بُدٌّ، فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهِمْ فَدَعَوْتُهُمْ فَأَقْبَلُوا، فَاسْتَأْذَنُوا، فَأُذِنَ لَهُمْ فَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ مِنَ الْبَيْتِ، وَقَالَ: أَبَا هِرٍّ، قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: قُمْ فَأَعْطِهِمْ، فَآخُذَ الْقَدَحَ فَأُعْطِي الرَّجُلَ حَتَّى يُرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّهُ إِلَيَّ حَتَّى رَوِيَ جَمِيعُ الْقَوْمِ فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخَذَ الْقَدَحَ، فَوَضَعَهُ عَلَى يَدَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيَّ فَتَبَسَّمَ، وَقَالَ: اقْعُدْ، فَقَعَدْتُ، فَشَرِبْتُ، وَقَالَ: اشْرَبْ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: اشْرَبْ، اشْرَبْ، حَتَّى قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَجِدُ لَهُ مَسْلَكًا قَالَ: فَأَرِنِي، فَرَدَدْتُ إِلَيْهِ الْإِنَاءَ، فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَشَرِبَ مِنْهُ
তাহকীক: