আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৬৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৩। হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, একবার নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত পড়ছিলেন। সালাত পড়ানো কালে তাঁর কানে একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ পৌঁছল। নবী (ﷺ) তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করে দেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আজ আপনি সালাতকে এতটুকু সংক্ষিপ্ত করলেন? উত্তরে তিনি ইরশাদ করেন, আমি সালাতরত অবস্থায় যখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনি তখন আমার আশংকাবোধ হয়, হয়ত শিশুটির মা সালাতরত অবস্থায় পেরেশানীতে পড়বে। (এ কারণে আমি সালাত সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছি।)
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
163 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ الْجُنَيْدِ، نَا أَبِي، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبُو هَارُونَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَا: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْغَدَاةِ، وَسَمِعَ بُكَاءَ صَبِيٍّ فَخَفَّفَ الصَّلَاةَ فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، خَفَّفْتَ هَذِهِ الصَّلَاةَ الْيَوْمَ، فَقَالَ: إِنَّى سَمِعْتُ بُكَاءَ صَبِيٍّ، فَخَشِيتُ أَنْ يَفْتِنَ أُمَّهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উল্লিখিত হাদীসদ্বয়ের অর্থ সুস্পষ্ট। গ্রন্থকার এখানে উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে কতটুকু মায়া ও ভালবাসা ছিল এবং তাদের প্রতি তিনি কতটুকু দরদ ও সহানুভূতি পোষণ করতেন তার বর্ণনা পেশ করেছেন। এ ধরনের হাদীসগুলি থেকে বোঝা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য কতখানি মায়া ও ভালবাসা এবং কতখানি দরদ ও সহানুভূতি রাখতেন । ফজরের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করা মুস্তাহাব। এটিই ছিল ফজরের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিয়ম। কিন্তু তিনি একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে কেবল এ কারণে যে, এই শিশু ও শিশুটির সালাতরত মায়ের মনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে সে জন্য নিজের নিয়ম ভঙ্গ করে সালাত সংক্ষিপ্ত করে নিতেন। যেন সালাত দীর্ঘ হওয়ার কারণে শিশু ও শিশুর মাকে অস্থির হতে না হয়।
বস্তুত মানবীয় গুণাবলির মধ্যে মায়া-মমতা একটি মহৎ গুণ এবং আল্লাহ্ তা’আলার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি অভ্যাস। এর পরিধি অনেক ব্যাপক। মায়া-মমতা ও ভালবাসার সম্পর্ক কেবল নিজের পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মচারী, শিষ্য ও গুরু নির্বিশেষে সকল সৃষ্ট জগতের সঙ্গে জড়িত। স্বজনদের সঙ্গে হোক আর পরজনদের সঙ্গে হোক মানুষ যখন এ মায়া-মমতাকে নিজের আদর্শ ও অভ্যাসে পরিণত করে এবং সৃষ্ট জীবের সহিত সর্বদা কোমল আচরণ করেন তখন তিনি নিজেও যেমন শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন তেমনি অন্যদের জন্যও শান্তি ও আনন্দপূর্ণ জীবন যাপনের কারণ হিসাবে পরিগণিত হন। এ ধরনের সদাচার দ্বারা গোটা সমাজের মধ্যে পারস্পরিক মায়া-মমতা, ভ্রাতৃত্ব, মান-সম্মান রক্ষা ও কল্যাণ কামনার এমন একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠে যা আল্লাহ্ পাকের নিকট খুবই পছন্দনীয়। আর যে ব্যক্তির কারণে এ পরিবেশ গড়ে উঠে তিনি আল্লাহ্ পাকের বাণী سبقت رحمتى على غضبى (আমার দয়া ও অনুগ্রহ আমার ক্রোধ ও গযবের উপর প্রবল হয়ে থাকে)-এর প্রকাশস্থল হিসাবে হন। আমাদের পরম অনুগ্রহকারী সারা বিশ্বের রহমত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিম্নোক্ত বাণীতে আমাদেরকে এদিকে পথনির্দেশ করেছেন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ নিকট থেকে নম্রতা ও কোমল আচরণ নীতির পরিপূর্ণতা লাভে সক্ষম হয়েছে সে ইহকাল ও পরকাল উভয় জাহানের সকল কল্যাণের পূর্ণতা লাভ করেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মায়া-মমতা ও কোমল আচরণ গুণ থেকে বঞ্চিত সে ইহকাল ও পরকাল উভয় জাহানের যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।” (ইমাম বাগাভী (র) সংকলিত শারহুস্ সুন্নাহ্)।
বস্তুত মানবীয় গুণাবলির মধ্যে মায়া-মমতা একটি মহৎ গুণ এবং আল্লাহ্ তা’আলার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি অভ্যাস। এর পরিধি অনেক ব্যাপক। মায়া-মমতা ও ভালবাসার সম্পর্ক কেবল নিজের পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধস্তন কর্মচারী, শিষ্য ও গুরু নির্বিশেষে সকল সৃষ্ট জগতের সঙ্গে জড়িত। স্বজনদের সঙ্গে হোক আর পরজনদের সঙ্গে হোক মানুষ যখন এ মায়া-মমতাকে নিজের আদর্শ ও অভ্যাসে পরিণত করে এবং সৃষ্ট জীবের সহিত সর্বদা কোমল আচরণ করেন তখন তিনি নিজেও যেমন শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন তেমনি অন্যদের জন্যও শান্তি ও আনন্দপূর্ণ জীবন যাপনের কারণ হিসাবে পরিগণিত হন। এ ধরনের সদাচার দ্বারা গোটা সমাজের মধ্যে পারস্পরিক মায়া-মমতা, ভ্রাতৃত্ব, মান-সম্মান রক্ষা ও কল্যাণ কামনার এমন একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠে যা আল্লাহ্ পাকের নিকট খুবই পছন্দনীয়। আর যে ব্যক্তির কারণে এ পরিবেশ গড়ে উঠে তিনি আল্লাহ্ পাকের বাণী سبقت رحمتى على غضبى (আমার দয়া ও অনুগ্রহ আমার ক্রোধ ও গযবের উপর প্রবল হয়ে থাকে)-এর প্রকাশস্থল হিসাবে হন। আমাদের পরম অনুগ্রহকারী সারা বিশ্বের রহমত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিম্নোক্ত বাণীতে আমাদেরকে এদিকে পথনির্দেশ করেছেন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ নিকট থেকে নম্রতা ও কোমল আচরণ নীতির পরিপূর্ণতা লাভে সক্ষম হয়েছে সে ইহকাল ও পরকাল উভয় জাহানের সকল কল্যাণের পূর্ণতা লাভ করেছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মায়া-মমতা ও কোমল আচরণ গুণ থেকে বঞ্চিত সে ইহকাল ও পরকাল উভয় জাহানের যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।” (ইমাম বাগাভী (র) সংকলিত শারহুস্ সুন্নাহ্)।