আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৬৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৬৮। হযরত মুআয ইব্ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ইয়ামেনে (গভর্নর নিযুক্ত করে) পাঠালেন এবং বলেন, হে মুআয! শীতের মৌসুমে তুমি ফজরের সালাত শুরু ওয়াক্তে পড়াবে। আর সালাতে কিরাআত এতটুকু দীর্ঘ করবে যতটুকু লোকজনের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়। অতিশয় দীর্ঘ কিরাআতের কারণে মানুষের মনে যেন বিরক্তি না আসে। আর গরমের মৌসুমে তুমি ফজরের সালাত শেষ ওয়াক্তে পড়াবে। কেননা (গরম কালে) রাত ছোট হয়ে থাকে মানুষের ঘুম শেষ হয় না। কাজেই তাদেরকে এতটুকু সুযোগ দেবে যাতে তারাও সালাতে অংশগ্রহণে সক্ষম হয়।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
168 - حَدَّثَنَا ابْنُ مَصْقَلَةَ، نَا أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ، نَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ يوسُفَ بْنِ أَسْبَاطِ، نَا الْمِنْهَالُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: يَا مُعَاذُ، «إِذَا كَانَ فِي الشِّتَاءِ فَغَلِّسْ بِالْفَجْرِ، وَأَطِلِ الْقِرَاءَةَ قَدْرَ مَا يُطِيقُ النَّاسُ، وَلَا تُمِلُّهُمْ، فَإِذَا كَانَ الصَّيْفُ، فَأَسْفِرْ بِالْفَجْرِ، فَإِنَّ اللَّيْلَ قَصِيرٌ، وَالنَّاسُ يَنَامُونَ، فَأَمْهِلْهُمْ حَتَّى يَتَدَارَكُوا»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে জাগতিক সকল কাজে উম্মতের প্রতি দয়া ও কোমলতার আচরণ করতেন অনুরূপ ইবাদত বন্দেগী ইত্যাদি আদায়ের ক্ষেত্রেও তিনি তাদের জন্য সহজসাধ্য পদ্ধতি অবলম্বনের প্রতি দৃষ্টি রাখতেন। সহ্য করা যায় না এমন কোন কঠোরতার দরুন ইবাদত করতে তাদের মনে যেন বিরক্তি না আসে সে জন্য তিনি সচেতন থাকতেন। এমন কি তিনি সালাতের মত উচ্চমানের ইবাদত, যার ব্যাপারে নিজেই ইরশাদ করেছেন যে, “আমার নয়নের প্রশান্তি হলো সালাত,” ব্যাপারেও তিনি সহজলভ্যতা ও সহজসাধ্যতার নীতি পালনের নির্দেশ দিতেন। শীত ও গরমের মৌসুম এবং রাত দিন ছোট বড় হওয়ার প্রতি দৃষ্টি রাখার পেছনে এটিই হলো মূল রহস্য—যেন কঠোরতা দেখে শংকিত হয়ে কেউ দীনাদারী ও ইবাদত বন্দেগী ছেড়ে না বসে। আল্লাহ্ তা’আলা এই দীনের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে ইরশাদ করেনঃ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ এই দীনের মাঝে সংকীর্ণতার কোন কিছু নেই, এটি তোমাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষ ইব্রাহীমের দীন” (সূরা হাজ্জ : ৭৮)