আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৫৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৬। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) উম্মাহাতুল মু’মিনীন-এর মধ্য থেকে কোনো একজনের নিকট অবস্থান করছিলেন। ইত্যবসরে তাঁর সহধর্মিণীদের মধ্য থেকে কোনো একজন (কিছু খাদ্যদ্রব্যসহ) একটি বাটি তাঁর কাছে প্রেরণ করেন। যে উম্মুল মু’মিনীনের নিকট তিনি ঐ দিন অবস্থান করছিলেন, তিনি খাদ্য নিয়ে আগমনকারীর হাতে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে বাটি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেলো। নবী (ﷺ) তার উভয় টুক্‌রা তুলে নিলেন এবং তাকে একে অপরের সাথে মিলিয়ে নিলেন। এরপর ইতস্তত বিক্ষিপ্ত খাবারগুলো একত্রিত করে বললেন যে, তোমাদের মায়ের (উম্মুল মু’মিনীনের) আত্মমর্যাদাবোধে (আঘাত) লেগেছে, তোমরা খাবারগুলো খেয়ে ফেলো। সুতরাং সবাই তা খেয়ে ফেললো। খাবার নিয়ে আগমনকারী বাটি নেয়ার জন্য বসে রইল। ইতিমধ্যে বাটিটি যাঁর হাতে ভেঙেছিলো, তিনি তাঁর ঘর থেকে একটি নিখুঁত বাটি নিয়ে এলেন। নবী (ﷺ) খাবার নিয়ে আগমনকারীকে ঐ নিখুঁত বাটিটি দিয়ে দিলেন এবং ভাঙা বাটিটি যিনি ভেঙেছিলেন তাঁরই ঘরে রেখে দিলেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا الْعَبَّاسُ النَّرْسِيُّ، نَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدٍ الْخُزَاعِيُّ، نَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ. وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُسْتَةَ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، نَا أَبِي، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى نِسَائِهِ بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَضَرَبَتْ يَدَ الرَّسُولِ فَسَقَطَتِ الْقَصْعَةُ، فَانْكَسَرَتْ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكِسْرَتَيْنِ فَضَمَّ إِحْدَاهُمَا إِلَى الْأُخْرَى، ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ، وَيَجْمَعُ الطَّعَامَ فَيَقُولُ: غَارَتْ أُمُّكُمْ، كُلُوا. فَأَكَلُوا فَجَلَسَ الرَّسُولُ حَتَّى جَاءَتِ الْكَاسِرَةُ بِقَصْعَتِهَا الَّتِي هِيَ فِي بَيْتِهَا فَدَفَعَ الصَّحْفَةَ الصَّحِيحَةَ إِلَى الرَّسُولِ وَتَرَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْهَا "

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ ঘটনাটিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মহৎ ক্ষমা গুণের জ্বলন্ত প্রমাণ। ঘটনাটি ছিলো এরূপঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর গৃহে অবস্থান করছিলেন। এই সময় তাঁর অন্য এক সহধর্মিণী কারো মাধ্যমে একটি বাটিতে করে কিছু খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পাঠালেন। একজন নারী হিসাবে হযরত আয়েশা (রা)-এর আত্মমর্যাদায় বাধলো যে, তাঁর গৃহে তাঁর কোনো সতীনের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামীর জন্য খাবার আসবে। তাই তিনি ঐ কাজটি করলেন। একটু চিন্তা করুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিবেচনায় এ কাজটি কতখানি অপছন্দনীয় হতে পারে। কিন্তু তিনি তাঁর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে হযরত আয়েশা (রা)-এর এহেন কাজের কোনো কৈফিয়ত তলব করলেন না কিংবা তাঁকে ভর্ৎসনাও করলেন না। বরং হযরত আয়েশা (রা)-এর পক্ষ থেকে নারী জাতির স্বভাবগত আত্মমর্যাদাবোধের (ঈর্ষা) ওজর পেশ করে অন্যদেরকেও নারীর এই স্বভাবগত দুর্বলতা সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং বিক্ষিপ্ত খাবারগুলো একত্রিত করে নিজেও খেলেন ও অন্যদেরকেও খাওয়ালেন। বস্তুত এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরই মহান চরিত্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ যে, অপছন্দনীয় বিষয়ের অপছন্দনীয় অংশটুকু উপেক্ষা করে শুধু তার কৈফিয়ত তলব করা ও ভর্ৎসনা করা থেকেই বিরত থাকেননি, বরং তার সপক্ষে প্রকৃতিগত দাবির ওজরও বর্ণনা করেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান