আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৫২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫২। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে অবস্থান করছিলেন। সাহাবা কিরামও তাঁর সাথে বসেছিলেন। ইত্যবসরে এক বেদুঈন সেখানে আসল এবং মসজিদের মধ্যেই (এক পাশে) পেশাব করতে লাগলো। সাহাবা কিরাম হায়! হায়! বলে তাকে পেশাব করতে বিরত রাখতে চাইলেন। কিন্তু নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে পেশাব করতে বাধা দিও না। তারপর ঐ বেদুঈন যখন পেশাব করা শেষ করলো, তখন তাকে তিনি বললেন, দেখো, এই মসজিদগুলো আবর্জনা ছড়ানো ও পেশাব পায়খানা করার জন্য নয়। কিংবা এই ধরনেরই কোনো উক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) করেছেন।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
152 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ وَأَصْحَابُهُ مَعَهُ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيُّ، فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْ، مَهْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُزْرِمُوهُ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنَ الْقَذَرِ، وَالْبَوْلِ وَالْخَلَاءِ - أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপরিসীম দয়া ও মমত্ববোধের অনুমান করা যায়। কোনো কোনো রিওয়ায়াতে আছে, ঐ বেদুঈন যখন পেশাব করা শেষ করলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনিয়ে স্বয়ং এ স্থানটি ধৌত ও পবিত্র করান। পেশাব করার মাঝখানে ঐ বেদুঈনকে বাধা দিতে তাঁর নিষেধ করার কারণ হচ্ছে, পেশাব করার মাঝখানে বাধা দিলে তাতে তার কষ্ট হতে পারতো এবং মূত্রনালিতে পেশাব আটকে যেতে পারতো। এক রিওয়ায়াতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে ডেকে বললেনঃ এই মসজিদসমূহ পেশাব ও ময়লা ছড়ানোর জন্য নয়। এগুলো আল্লাহ্ তা’আলার যিক্র, নামায ও কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য বানানো হয়েছে। এ হাদীসগুলো উম্মতের সাধারণ মানুষের জন্য উপদেশ ও তালীম-তারবিয়াতের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে এক বিরাট শিক্ষা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের মূর্খসুলভ কাজকর্মে ধৈর্যধারণ করে তাদেরকে স্নেহ ও ভালবাসার সাথে দীনী বিষয়সমূহ শিক্ষা দেয়া উচিত।