আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৫১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫১। হযরত মুয়াবিয়া ইব্‌ন আবুল হাকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে জামায়াতে নামায আদায় করি। (নামাযের মধ্যেই) এক ব্যক্তির হাঁচি এল। রাবী বলেন, (আমি আলহামদুলিল্লাহ্’ -এর জবাবে) ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ্’ বলে ফেললাম। তখন নামাযরত লোকেরা আমাকে চোখ তুলে দেখতে লাগলো এবং উরুর উপর হাত মারতে শুরু করলো। আমি দেখলাম তারা আমাকে জোর করে চুপ করাতে যাচ্ছে (তখন আমার খুব খারাপ লাগলো)। কিন্তু আমি নিশ্চুপ রইলাম। (নামায শেষে) নবী (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। আমার মাতাপিতা তাঁর জন্য কুরবান হোন। আমি নবী (ﷺ) -এর চেয়ে কোন উত্তম শিক্ষক দেখি নাই। তিনি আমাকে না মারধর করলেন, না বকাঝকা করলেন। তারপর বললেনঃ নামাযে দুনিয়াবী কথাবার্তা বলা ঠিক নয়, নামায হলো আল্লাহ্‌র তাসবীহ্ (গুণগান) তাকবীর (মহানত্ব) তামহীদ (প্রশংসা)-এর নাম।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
151 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، نَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ، فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَرَمَانِي الْقَوْمُ بَأَبْصَارِهِمْ، وَضَرَبُوا بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصْمِتُونِي، لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ: فَدَعَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَبِي وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ، مَا ضَرَبَنِي وَلَا سَبَّنِي، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّحْمِيدُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ ঘটনা হলো তখনকার যখন হযরত মুয়াবিয়া ইব্‌ন আবুল হাকাম (রা) ছিলেন নও মুসলিম । তখনও তিনি নামাযের সকল বিধি-বিধান শিখতে পারেন নি। তাই এ ঘটনা ঘটে গেল। হযরত মুয়াবিয়া (রা) নিজেই বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর আমাকে ইসলামের কিছু কিছু বিধি-বিধান শেখানো হয়েছিলো। তন্মধ্যে আমাকে এও শেখানো হয়েছিলো যে, তোমার হাঁচি এলে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে। আর যদি অপর কারো হাঁচি আসে এবং সে ‘আলহামদুল্লিাহ্’ বলে তবে এর জবাবে তুমি ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ্’ বলবে। হযরত মুয়াবিয়া (রা) বলেন, একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে নামায পড়ছিলাম। এক ব্যক্তির হাঁচি এল । আর সে ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বললো। আমি তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ্’ বললাম । লোকেরা আমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে লাগলো। বিষয়টি আমার ভীষণ খারাপ লাগলো। আমি নামাযের মধ্যেই তাদেরকে বলে ফেললাম তোমরা আমার দিকে চোখ তুলে কেনো দেখছো ? আমার এ অবস্থা দেখে তারা সুবহানাল্লাহ্ বললো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শেষ করলেন তখন জিজ্ঞেস করলেন, নামাযে কে কথা বললো ? তারপর তিনি নিজেই বললেনঃ এ বেদুঈন। তারপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, নামায তো কুরআন পড়া, এবং আল্লাহ্‌র যিকরের জন্য। সুতরাং তুমি যখন নামাযে থাকবে তখন এসবই পড়বে। (দুনিয়াবী কথাবার্তা বলবে না।) এ ঘটনা বর্ণনার পর বর্ণনাকারী বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে স্নেহপরায়ণ ও মেহেরবান শিক্ষক জীবনেও দেখিনি।
গ্রন্থকারের এ হাদীসটি এ অনুচ্ছেদে সংকলনের উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সাহাবায়ে কিরামের বিভিন্ন ছোট-খাটো ত্রুটিবিচ্যুতি এড়িয়ে যাওয়ার অবস্থা বর্ণনা করা এবং তিনি কিভাবে ভালবাসা ও স্নেহ-মমতা দিয়ে তালীম দিতেন তা তুলে ধরা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই অনুপম আদর্শ আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের অনুসরণ করা একান্ত কর্তব্য।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান