আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৮০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮০। হযরত উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন মুগীরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন হারিস (রাযিঃ) থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি না রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপেক্ষা অধিক কাউকে কৌতুক করতে দেখেছি, আর না তাঁর চেয়ে অধিক কাউকে মুচকি হাসি হাসতে দেখেছি। আর বাচ্চাদের অভিভাবকরা তো তাঁর এ কৌতুক করাকে নিজেদের গর্ব বলে বোধ করতো এবং খুবই আনন্দিত হতো। এর কারণ ছিলো নবী (ﷺ)-এর বাচ্চাদের সাথে খুবই কৌতুক করতেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
180 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي الْعَبَّاسِ السَّقَانِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ، قَالَ: أَخْبَرَنا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ الْأَصْفَهَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، نَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ، يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ مُزَاحًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْهُ، وَإِنْ كَانَ لَيَسْنُو أَهْلَ الصَّبِيِّ إِلَى مُزَاحِهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে কৌতুক করা প্রমাণিত আছে তদ্রূপ কৌতুক করার উপর নিষিদ্ধতাও বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে এ নিষেধ বিদ্যমান। কাজেই বিষয়টির ব্যাখ্যা আবশ্যক, যাতে বোঝা যায় যে, কোন ধরনের কৌতুক জায়িয ও পছন্দনীয়, আর কোন ধরনের কৌতুক নিষিদ্ধ। বস্তুত কৌতুকের দু’টি রূপ আছে। একটি হলো, কৌতুক যা ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ্‌ স্মরণ ও তাঁর যিকর ফিকর থেকে উদাসীন বানিয়ে দেয়। যা ব্যক্তির কঠোর চিন্তার কারণ হয়ে থাকে। এ ধরনের কৌতুক করা সাধারণত হাটে-বাজারের লোকদের নীতি। তারা কথায় কথায় হাসি-ঠাট্টা করে। নানা গল্প-গুজবে মত্ত থাকে। এ সব কৌতুকের সঙ্গে সত্যতা ও বাস্তবতার লেশমাত্র সম্পর্ক থাকে না। কাজেই এ প্রকৃতির কৌতুক একজন মুসলিমের মান-সম্মান ও গাম্ভীর্যকে খুইয়ে দেয়। অধিকন্তু এ ধরনের কৌতুক কখনো কখনো অন্যজনের সম্মান হানি কিংবা উপহাস এমনকি মনকষ্টের কারণ হয়ে থাকে । কাজেই এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয। কিন্তু যে কৌতুক মানব মনের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি করে সেখানে সে সব জিনিস থাকে না। বরং এ কৌতুক দ্বারা অন্যজনের মন সন্তুষ্টি, প্রসন্নতা, আনন্দ ও চিত্তসুখ বৃদ্ধি পায়। যেগুলি সত্যনির্ভর হয়ে থাকে অর্থাৎ কৌতুক বটে তবে সত্য ও বাস্তবসম্মত। এমন কৌতুক করতে দোষ নেই বরং মুস্তাহাব ও মসনূন বলা চলে। যেমন একটি হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাদের সঙ্গে কখনো কখনো কৌতুকও করে থাকেন । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তাতে আপত্তির কি আছে ? কিন্তু এ কৌতুকে আমি অসত্য কথা বলি না। (শামায়েলে তিরমিযী)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান