আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৮১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৮১। উবায়দ ইব্‌ন উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। আমরা মদীনার প্রসিদ্ধ জ্বর ও জ্বরটির মাহ্‌যাআ অঞ্চলের দিকে প্রত্যাগমন ইত্যাদি নিয়ে কথাবার্তা ও হাসাহাসি করছিলাম। তারপর আমাদের আলোচনা চলে গেল হযরত বারীরা ও তার ঘর সম্পর্কীয় প্রসিদ্ধ ঘটনার দিকে। ইত্যবসরে আমাদের সম্মুখ দিক দিয়ে আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। আমরা তাকে দেখে হাসি-তামাশার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিলাম। তখন তিনি বললেন, আপনারা আমার সামনে এ সব অর্থহীন কথা বলা বন্ধ করুন। এর উপর হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে শুনেননি যে, তিনি বলতেন, আমি কখনো কখনো কৌতুকও করি। কিন্তু কৌতুকের জন্যও আমি যে কথা বলি সেটিও ন্যায়ানুগ ও সত্য হয়ে থাকে।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
181 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، نَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ طُفَيْلِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، وَنَحْنُ نَذْكُرُ حُمَّى الْمَدِينَةِ وَانْتِقَالِهَا إِلَى مَهْيَعَةَ، وَنَضْحَكُ، ثُمَّ صِرْنَا إِلَى حَدِيثِ بَرِيرَةَ وَمَسْكَنِهَا، إِذِ افْتَتَحَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، فَلَمَّا رَأَيْنَاهُ أَكْثَرْنَا، وَقَالَ: دَعْنَا مِنْ بَاطِلِكُمَا، قَالَتْ عَائِشَةُ: سُبْحَانَ اللَّهِ أَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّى لَأَمْزَحُ وَلَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

প্রাথমিক যুগে মদীনা তাইয়্যেবা ছিল আরবের অন্যান্য শহরের তুলনায় অধিকতর অস্বাস্থ্যকর শহর। এখানকার আবহাওয়া ছিল স্বাস্থ্যহানিকর। লোকজন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতো। বিশেষত সর্দি জ্বরের মত কষ্টদায়ক রোগটি এখানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল। সাহাবীগণ যখন মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফ হিজরত করেন তখন অন্যদেরসহ হযরত আবূ বকর ও হযরত বিলাল (রা)-ও জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। মদীনায় অবস্থানের উপর সাহাবীদের অসন্তুষ্টি দেখা দিতে শুরু করে। এ পরিস্থিতি দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ্‌ দরবারে দু’আ করেন; হে আল্লাহ্! মদীনাকে তুমি আমাদের জন্য মক্কার চেয়েও অধিক প্রিয় শহর বানিয়ে দাও। এ শহরের জ্বর রোগকে তুমি মাহয়া অর্থাৎ জুফ্ফার দিকে ফিরিয়ে দাও।
আল্লাহ্ পাক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ দু’আ কবুল করেন। তারপর থেকে সেই মদীনা শহর জগতের অন্যান্য শহরের তুলনায় অধিকতর সুন্দর ও অধিকতর স্বাস্থ্যকর শহরে পরিণত হয়। এ ঘটনা বস্তুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এমন একটি স্পষ্ট মুজিযা, যা সকল ভূগোলবিদকেও স্তম্ভিত করে দেয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি হযরত বারীরা (রা) সম্পর্কীয়। তিনি ছিলেন হযরত আয়েশা (রা)-এর ক্রীতদাসী। মুগীস্ নামক জনৈক ক্রীতদাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। হযরত আয়েশা (রা) যখন তাকে আযাদ করে দেন তখন শরীয়তের আইন অনুসারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পূর্ব স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা কিংবা বিচ্ছিন্ন করার ইতিয়ার প্রদান করেন। কেননা, তার স্বামী ছিলেন তখনও ক্রীতদাস অথচ তিনি আযাদী পেয়ে গিয়েছিলেন। ইতিয়ার পেয়ে হযরত বারীরা (রা) সম্পর্ক বিচ্ছেদের পক্ষ অবলম্বনপূর্বক স্বামীর ঘর থেকে চলে যান। তার এ বিরহে স্বামীর খুবই মন কষ্ট হয়। মুগীস বিরহ যাতনায় ‘অশ্রুপাত করা অবস্থায় মদীনার অলিগলি ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু বারীরার মন কিছুতেই ফিরেনি। শেষ পর্যন্তও সে পূর্ব বিবাহের সম্পর্ক অবশিষ্ট রাখলো না। বৃদ্ধ মুগীস ও বারীরার এ ঘটনা লোকজনের মুখরোচক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। লোকজন আনন্দ উল্লাসের সময় এ ঘটনা বলাবলি করতো। হযরত উবায়দ ইব্‌ন উমায়র ও হযরত আয়েশা (রা) উপরোক্ত ঘটনাদ্বয় নিয়ে হাসি কৌতুক করছিলেন। ইত্যবসরে হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উমর (রা) প্রবেশ করেন। তিনি এ ধরনের গল্প বলার উপর আপত্তি উত্থাপন করলে হযরত আয়েশা (রা) তাঁর আপত্তি খণ্ডন করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসের উদ্ধৃতি শুনিয়ে বলেন, এটি এক ধরনের মিথ্যাযুক্ত প্রফুল্লতা প্রদানকারী কৌতুক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এ ধরনের কৌতুক করতেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান