আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৭৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৯। হিশাম ইব্‌ন ওরওয়া তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন একটি উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে নবী (ﷺ)-এর সাক্ষাতে আসল। লোকটি মসজিদে নববীর দরজায় উট্‌নীটিকে বসিয়ে নবী (ﷺ)-এর সাক্ষাতের জন্য ভিতরে প্রবেশ করে। সেখানে হযরত হামযা ইব্‌ন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) কতিপয় মুহাজির ও আনসার সাহাবীসহ বসা ছিলেন। তন্মধ্যে হযরত নুআইমানও উপস্থিত ছিলেন। সাথীরা হযরত নুআইমান (রাযিঃ)-কে বললেন, আরে তুমি কি বেদুঈন লোকটির উট্‌নীটি দেখতে পাচ্ছ না ? কী মোটা-তাজা! এটি যদি যবেহ্ করতে পারতে! কেননা আজ আমাদের গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে। তুমি এমনটি ঘটিয়ে ফেললে নবী (ﷺ) উট্‌নীর মালিককে জরিমানা আদায় করে দেবেন। এদিকে গোশ্‌ত আমরা বিনামূল্যে পেয়ে যাবো। নুআইমান (রাযিঃ) বললেন, আমি এমনটা করে ফেললে তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর কাছে আমার কথা বলে দেবে। আর তখন তিনি আমার প্রতি রাগ করবেন। সাথীগণ বললেন, না, আমরা তা কিছুতেই করবো না। সে মতে হযরত নুআইমান (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং উট্‌নীটিকে নাহর করে দিলেন। তারপর সে স্থান ত্যাগ করে চলে গেলেন। পথিমধ্যে হযরত মিক্‌দাদ ইব্‌ন আমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। হযরত নুআইমান (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, হে মিকদাদ! তুমি আমাকে এ গর্তে লুকিয়ে থাকতে দাও। আমার মাথার উপর কোন কিছু দিয়ে ঢেকে ফেলো। আর আমার কথা কাউকে জানাবে না । কেননা আমি একটি নতুন দুষ্টমী করে আসছি। হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) তাই করলেন।
এদিকে বেদুঈন লোকটি মসজিদ থেকে বের হয়ে যখন নিজের উট্‌নী মাটিতে পড়া অবস্থায় দেখল তখন সে চিৎকার দিতে লাগল। এ কাজ করেছে কে ? লোকজন বললো, নুআইমান। নবী (ﷺ) বললেন, সে কোন্ দিকে গিয়েছে ? তারপর তিনি তাঁকে খুঁজতে লাগলেন। হযরত হামযা ও তাঁর সাথীগণও নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সঙ্গে চললেন। অবশেষে তাঁরা হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) পর্যন্ত পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে বললেন, হে মিকদাদ! তুমি কি নুআইমানকে দেখেছো ? হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) নিরুত্তর। নবী (ﷺ) বললেন, তোমাকে বলতে হবে সে কোথায় ? হযরত মিকদাদ (রাযিঃ) মুখে আমি জানি না বলে হাতের ইশারায় সে স্থানটি দেখিয়ে দেন। সে মতে নবী (ﷺ) গর্তের ঢাকনা সরালেন এবং বললেন, আরে নিজ প্রাণের দুশমন। এমনটা করলে কেন ? নুআইমান বললেন, কসম আমাকে তো হযরত হামযা ও তাঁর সাথীরা এমনটা করতে বলেছে। তাঁরা আমাকে এ সব কথাও বলেছিল। নবী (ﷺ) তখন বেদুঈন লোকটিকে তার উট্‌নীর বিনিময়ে কিছু মালামাল দিয়ে সম্মত করান। তারপর বললেন, যাও উট্‌নীটি নিয়ে যাও। সেমতে সাথীগণ উট্‌নীটি নিয়ে গোশ্‌ত আহার করে। পরবর্তীকালে যখনই নবী (ﷺ) তাদের এই দুষ্টুমির কথা মনে করতেন তখন তাঁর হাসি রোধ করতে পারতেন না। তিনি খিলখিল করে হেসে ফেলতেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা যেত।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
179 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَزْهَرِ، نَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، نَا أَبِي، سَمِعْتُ ابْنَ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَقْبَلَ أَعْرَابِيُّ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ حَتَّى أَنَاخَ بِبَابِ الْمَسْجِدِ، فَدَخَلَ عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ، وَحَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ جَالِسٌ فِي نَفَرٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، فِيهِمُ النُّعَيْمَانُ، فَقَالُوا لِلنُّعَيْمَانِ: وَيْحَكَ إِنَّ نَاقَتَهُ نَاوِيَةٌ، يَعْنِي سَمِينَةً، فَلَوْ نَحَرْتَهَا فَإِنَّا قَدْ قَرِمْنَا إِلَى اللَّحْمِ، وَلَوْ قَدْ فَعَلْتَ غَرِمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَكَلْنَا لَحْمًا، فَقَالَ إِنَّى إِنْ فَعَلْتُ ذَلِكَ وَأَخْبَرْتُمُوهُ بِمَا صَنَعْتُ، وَجَدَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: لَا تَفْعَلْ، فَقَامَ فَضَرَبَ فِي لَبَّتِهَا، ثُمَّ انْطَلَقَ، فَمَرَّ بِالْمِقْدَادِ بْنِ عَمْرٍو وَقَدْ حَفَرَ حُفْرَةً، وَقَدِ اسْتُخْرَجَ مِنْهَا طِينًا، فَقَالَ: يَا مِقْدَادُ غَيِّبْنِي فِي هَذِهِ الْحُفْرَةِ، وَأَطْبِقْ عَلَيَّ شَيْئًا، وَلَا تَدُلَّ عَلَيَّ أَحَدًا، فَإِنِّي قَدْ أَحْدَثْتُ حَدَثًا، فَفَعَلَ، فَلَمَّا خَرَجَ الْأَعْرَابِيُّ رَأَى نَاقَتَهُ فَصَرَخَ، فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَنْ فَعَلَ هَذَا؟ قَالُوا: نُعَيْمَانُ، قَالَ: وَأَيْنَ تَوَجَّهَ؟ فَتَبِعَهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَعَهُ حَمْزَةُ وَأَصْحَابُهُ، حَتَّى أَتَى عَلَى الْمِقْدَادِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمِقْدَادِ: هَلْ رَأَيْتَ لِيَ نُعَيْمَانَ؟ فَصَمَتَ، فَقَالَ: لِتُخْبِرَنِي أَيْنَ هُوَ؟ فَقَالَ: مَالِي بِهِ عِلْمٌ؟ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى مَكَانِهِ، فَكَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَيْ عَدُوَّ نَفْسِهِ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟ قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَأَمَرَنِي بِهِ حَمْزَةُ وَأَصْحَابُهُ، وَقَالُوا: كَيْتَ وَكَيْتَ، فَأَرْضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَعْرَابِيَّ مِنْ نَاقَتِهِ، وَقَالَ: شَأْنُكُمْ بِهَا، فُأْكُلُوهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَكَرَ صَنِيعَهُ ضَحِكَ حَتَّى تَبْدُوَ نَوَاجِذُهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উল্লিখিত হাদীস থেকেও এ কথা বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সীমাহীন ক্ষমাশীল ও দয়ালু ছিলেন। কোন কাজে তিনি রাগ করতেন না। তবে হ্যাঁ, যদি দীনী কোন কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হতো তখন তিনি অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান