আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৭৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৮। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ যখন যায়িদ ইব্ন সা’না (রাযিঃ)-কে হেদায়েতের ইচ্ছা করলেন তখন যায়িদ ইব্ন সা’না বলল, আমি মুহাম্মাদ মুস্তফা -এর চেহারা মুবারক দর্শন করেই তাঁর নবূওয়াতের নিদর্শনসমূহের দু’টি ব্যতীত অবশিষ্ট সবগুলি অনুধাবন করে নিয়েছি। যে দু’টি আমি অনুধাবন করতে পারিনি সেগুলি হলো, (এক) তাঁর এ পরিমাণ ধৈর্যশীলতা যে, তাঁর ক্রোধের উপর সহিষ্ণুতা প্রবল থাকবে। (দুই) তাঁর সহিত যত বেশী মূর্খতার আচরণ করা হবে ততই তাঁর ধৈর্যশীলতা বৃদ্ধি পাবে। যায়িদ ইব্ন সা’না বলেন, আমি এ দুটি নিদর্শনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য চেষ্টা করি। আমি তাঁর দরবারে বারবার আসা-যাওয়া করি এবং তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত থেকে ধৈর্যশীলতার গুণ পর্যবেক্ষণ করি, একদা তিনি হুজরাগুলোর কোন একটি থেকে বেরিয়ে আসলেন। হযরত আলী ইব্ন আবু তালিব (রাযিঃ)-ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি একটি বাহনে আরোহণ করে আসল। তাকে দেখতে বেদুঈন মনে হচ্ছিল। লোকটি নবী (ﷺ) -কে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক গোত্রের লোকেরা ইসলাম কবুল করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম যে, তারা যদি ইসলাম কবুল করে তাহলে তাদের রুজি- রোজগারে সমৃদ্ধি আসবে। অথচ বর্তমানে তারা অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষে জীবন যাপন করছে। কাজেই আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা যে ভাবে লোভ নিয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছে তদ্রূপ অন্য কোন লালসায় পড়ে ইসলাম থেকে বেরিয়ে না যায়। অতএব আপনি যদি ভাল মনে করেন, সাহায্য হিসেবে তাদের জন্য কিছু পাঠিয়ে দিন। (এ কথা শুনে) যায়িদ ইব্ন সা’না নবী (ﷺ) কে বললেন, আপনি আমার সাথে একটি (অগ্রিম) কেনাবেচা করুন। আমি আপনার নিকট থেকে টাকার বিনিময়ে এক ওয়াসাক জিনিস খরিদ করলাম। এ কথা বলে আমি আমার থলি খুললাম এবং আশিটি স্বর্ণমুদ্রা বের করে নবী (ﷺ) -কে দিলাম। নবী (ﷺ) সেই টাকা লোকটির হাতে দিয়ে বললেন, এ টাকা নিয়ে তুমি তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাও এবং তাদের সাহায্য কর। যায়িদ ইব্ন সা’না (রাযিঃ) বলেন, তারপর যখন মাল পরিশোধ করার সময় ঘনিয়ে আসল, কেবল দু’-একদিন বাকি। এ সময় তিনি মদীনাবাসীদের গোরস্থান জান্নাতুল বাকীতে এক জানাযায় অংশগ্রহণের জন্য বাইরে আসলেন। হযরত আবু বকর ও হযরত উমর (রাযিঃ) সহ কতিপয় সাহাবীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। নবী (ﷺ) যখন সালাত শেষ করে দেওয়ালের কাছে আসলেন তখন আমি তাঁকে তাঁর চাদরের উভয় পার্শ্ব ধরে সজোরে টান দিলাম যে, গ্রীবাদেশ থেকে চাদরটি নীচে পড়ে গেল। আমি খুবই রূঢ়ভাবে চেহারা বিকৃত করে তাঁর দিকে তাকালাম এবং বললাম, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি আমার পাওনা পরিশোধ করবেন না ? আল্লাহ্ শপথ! আব্দুল মুত্তালিবের গোষ্ঠীর মধ্যে আমি আপনাকে চিনি। আপনি অত্যন্ত টালবাহানাকারী। আপনাদের সাথে চলাফেরা করে আমার এ কথা বুঝতে আর বাকি নেই। (যায়িদ ইব্ন সা’না) বলেন, (একথা) শুনে হযরত উমর (রাযিঃ)-এর ঘাড় ও বুক (ঢেউয়ের মাঝে) গোলাকার নৌযানের ন্যায় কাঁপতে শুরু করলো। তিনি চোখ পাকিয়ে আমার দিকে তাকাতে লাগলেন। তারপর বললেন, ওহে আল্লাহ্র দুশমন! তুমি এমন কথা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলছো ? প্রিয় নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে তুমি কি আচরণ করছো? আমি তা দেখে যাচ্ছি আর কী সব কথা বলছো তাও শুনে যাচ্ছি। সেই সত্তার শপথ! যিনি তাঁকে সত্য নবী (ﷺ) বানিয়ে পাঠিয়েছেন, যদি আমি আমার ইচ্ছার সেই জিনিসটি নষ্ট হওয়ার আশংকা না করতাম তা হলে আমি তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। নবী (ﷺ) তখন অতিশয় ধীরসুস্থ ও শান্ত প্রকৃতিতে হযরত উমরের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, হে উমর, আমার ও এ ব্যক্তির ব্যাপারে এ কথা বলার বদলে অন্য একটি কর্মপদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন ছিলো। প্রয়োজনের সে কাজটি হলো তুমি আমাকে তার পাওনা সুন্দরভাবে আদায় করতে বলবে এবং তাকে নরম ভাষায় চাওয়ার নির্দেশ দিবে। আবু আসিম (রাযিঃ) হাদীসটির এ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হযরত আবু যুরআহ (রাযিঃ) পরবর্তী অংশ সম্পর্কে বলেন, তারপর নবী (ﷺ) বললেন, হে উমর! লোকটিকে সঙ্গে নিয়ে যাও এবং তার পাওনা শোধ করে দাও। অধিকন্তু তুমি যেহেতু তাকে ভীতি প্রদর্শন করেছো তাই তাকে বিশ সা’ অতিরিক্ত প্রদান করবে। যায়িদ ইব্ন সা’না (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর হযরত উমর (রাযিঃ) আমাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান এবং আমার পাওনা শোধ করে অতিরিক্ত সা’ খেজুরও প্রদান করেন। আমি তাকে বললাম, অতিরিক্তটি কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি যেহেতু তোমাকে ভীতি প্রদর্শন করেছি, এ কারণে তোমাকে কিছু বেশী প্রদান করতে। আমি তাকে বললাম, হে উমর! আপনি আমাকে চেনেন? তিনি বললেন, না, চিনি না। তুমি কে? তখন আমি বললাম, আমি যায়িদ ইব্ন সা’না। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়াহূদীদের পণ্ডিত সা’না? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। হযরত উমর (রাযিঃ) বললেন, তা হলে তুমি প্রিয় নবী (ﷺ) -এর সাথে এহেন আচরণ ও এহেন অভদ্র কথাবার্তা বলেছ কেন ? আমি বললাম, হে উমর! কথা হলো আমি যখন রাসূলুল্লাহ -এর চেহারার দিকে তাকালাম তখন তাঁর চেহারায় দু’টি ব্যতীত নবুওয়াতের সব চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। অবশিষ্ট সেই দু’টি হলো তাঁর ধৈর্যশীলতা ও সহিষ্ণুতা এমন থাকবে যে, তাঁর ধৈর্য তাঁর ক্রোধের উপর প্রবল থাকবে। অপরটি হলো তাঁর সাথে যতই রূঢ় আচরণ করা হবে ততই তাঁর মধ্যে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাবে। কাজেই হে উমর! এখন আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি, আমি মহান আল্লাহ্কে প্রভু হিসাবে, দীন ইসলামকে সত্য দীন হিসাবে এবং হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (ﷺ) -কে সত্য নবী (ﷺ) হিসেবে মেনে নিতে সম্মত। (অর্থাৎ আমি ঈমান আনয়ন করলাম।) আমি তোমাকে আরো সাক্ষী বানাচ্ছি যে, আমার অর্ধেক সম্পদ নবী (ﷺ) -এর উম্মতের জন্য ওয়াক্ফ করে দিচ্ছি। কেননা আমার কাছে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। হযরত উমর (রাযিঃ) বললেন, না কিছু সংখ্যক উম্মতের জন্য? কেননা উম্মতের সকলের জন্য এ সম্পদ যথেষ্ট হবে না । আমি বললাম, ঠিক আছে, উম্মতের কিছু সংখ্যকের জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যায়িদ ইব্ন সা’না ও হযরত উমর (রাযিঃ) উভয়ে নবী (ﷺ) -এর দরবারে উপস্থিত হন। এবং যায়িদ ইব্ন সানা (রাযিঃ) কালেমা পড়ে বলেনঃ أَشْهَدُ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই । আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (ﷺ) আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল । এভাবে যায়িদ ইব্ন সানা (রাযিঃ) আল্লাহ্ উপর ঈমান আনয়ন করলেন এবং প্রিয় নবী (ﷺ) -এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করলেন। তারপর প্রিয় নবী (ﷺ) -এর সাথে বহু সংখ্যক যুদ্ধেও তিনি অংশ গ্রহণ করেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
178 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلُ، نَا الْحَوْطِيُّ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ. وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نَا أَبُو زُرْعَةَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمَّا أَرَادَ هُدَى زَيْدِ بْنِ سَعْنَةَ، قَالَ زَيْدٌ: مَا مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا وَقَدْ عَرَفْتُهَا فِي وَجْهِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَانِ لَمْ أَخْبُرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ إِلَّا حِلْمًا، فَكُنْتُ أَنْطَلِقُ إِلَيْهِ لِأُخَالِطَهُ فَأَعْرِفَ حِلْمَهُ مِنْ جَهْلِهِ، فَخَرَجَ يَوْمًا مِنَ الْحُجُرَاتِ يُرِيدُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَجَاءَ رَجُلٌ يَسِيرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ كَالْبَدَوِيِّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ قَرْيَةَ بَنِي فُلَانٍ أَسْلَمُوا، وَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ، وَحَدَّثْتُهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ أَسْلَمُوا أَتَتْهُمْ أَرْزَاقُهُمْ رَغَدًا، وَقَدْ أَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ وَشِدَّةٌ، وَقُحُوطٌ مِنَ الْعَيْشِ، وِإِنِّي مُشْفِقٌ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ الْإِسْلَامِ طَمَعًا، كَمَا دَخَلُوا فِيهِ طَمَعًا، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُرْسِلُ إِلَيْهِمْ بشَيْءٍ تُعِينُهُمْ بِهِ فَعَلْتَ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ: فَقُلْتُ: أَنَا أَبْتَاعُ مِنْكَ بِكَذَا وَكَذَا وَسْقًا فَبَايَعَنِي، وَأُطْلِقَتْ هِمْيَانِي وَأَعْطَيْتُهُ ثَمَانِينَ دِينَارًا، فَدَفَعَهَا إِلَى الرَّجُلِ وَقَالَ: أَعْجِلْ عَلَيْهِمْ بِهَا وَأَغِثْهُمْ، فَلَمَّا كَانَ قَبْلَ الْمَحِلِّ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جَنَازَةٍ بِالْبَقِيعِ، وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَلَمَّا صَلَّى عَلَى الْجَنَازَةِ وَدَنَا مِنَ الْجِدَارِ جَذَبْتُ بُرْدَيْهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً حَتَّى سَقَطَ عَنْ عَاتِقِهِ، ثُمَّ أَقْبَلْتُ بِوَجْهٍ جَهْمٍ غَلِيظٍ فَقُلْتُ: أَلَا تَقْضِيَنِي يَا مُحَمَّدُ، فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكُمْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَمُطْلٌ، وَقَدْ كَانَ لِي بِمُخَالَطَتِكُمْ عِلْمٌ. قَالَ زَيْدٌ: فَارْتَعَدَتْ فَرَائِصُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، كَالْفَلَكِ الْمُسْتَدِيرِ، ثُمَّ رَمَى بِبَصَرِهِ، ثُمَّ قَالَ: أَيْ عَدُوَّ اللَّهِ أَتَقُولُ هَذَا لِرَسُولِ اللَّهِ؟ [ص:476] وَتَصْنَعُ بِهِ مَا أَرَى؟ وَتَقُولُ مَا أَسْمَعُ؟ فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ لَوْلَا مَا أَخَافُ فَوْتَهُ لَسَبَقَنِي رَأْسُكَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْظُرُ إِلَى عُمَرَ فِي تُؤَدَةٍ وَسُكُونٍ، ثُمَّ تَبَسَّمَ، ثُمَّ قَالَ: لَأَنَا وَهُوَ أَحْوَجُ إِلَى غَيْرِ هَذَا، أَنْ تَأْمُرُنِي بِحُسْنِ الْأَدَاءِ، وَتَأْمُرَهُ بِحُسْنِ اتِّبَاعِهِ. إِلَى هَهُنَا عَنِ ابْنِ أَبِي عَاصِمٍ، وَزَادَ أَبُو زُرْعَةَ فِي حَدِيثِهِ: اذْهَبْ بِهِ يَا عُمَرُ فَاقْضِ حَقَّهُ وَزِدْهُ عِشْرِينَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، مَكَانَ مَا رُعْتَهُ. قَالَ زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ: فَذَهَبَ بِي عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَضَانِي حَقِّي، وَزَادَنِي صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَزِيدَكَ مَكَانَ مَا رُعْتَكَ، فَقُلْتُ: أَتَعْرِفُنِي يَا عُمَرُ؟ قَالَ: لَا، فَمَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا زَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ، قَالَ: الْحَبْرُ؟ قُلْتُ: الْحَبْرُ، قَالَ: فَمَا دَعَاكَ إِلَى أَنْ تَفْعَلَ بِرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا فَعَلْتَ؟ وَتَقُولَ لَهُ مَا قُلْتَ؟ قُلْتُ: يَا عُمَرُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ شَيْءٌ إِلَّا وَقَدْ عَرَفْتُهَا فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ نَظَرْتُ إِلَيْهِ، إِلَّا اثْنَتَانِ لَمْ أَخْبُرْهُمَا مِنْهُ، يَسْبِقُ حِلْمُهُ جَهْلَهُ، وَلَا يَزِيدُهُ شِدَّةُ الْجَهْلِ عَلَيْهِ إِلَّا حُلْمًا، فَقَدِ اخْتَبَرْتُهُ مِنْهُ، فَأُشْهِدُكَ يَا عُمَرُ أَنَّنِي قَدْ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دَيْنًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا، وَأُشْهِدُكَ أَنَّ شَطْرَ مَالِي فَإِنَّ أَكْثَرُهَا مَالًا صَدَقَةٌ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَوْ عَلَى بَعْضِهِمْ، فَإِنَّكَ لَا تَسَعُهُمْ كُلَّهُمْ، قُلْتُ: أَوْ عَلَى بَعْضِهِمْ قَالَ: فَرَجَعَ عُمَرُ وَزَيْدُ بْنُ سَعْنَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ زَيْدٌ: أَشْهَدُ أَلَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ. فَآمَنَ بِهِ وَصَدَّقَهُ وَبَايَعَهُ وَشَهِدَ مَعَهُ مَشَاهِدَ كَثِيرَةً
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই বিস্তারিত ঘটনাটি থেকে অনুমান করা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতখানি ধৈর্য- গুণসম্পন্ন, সহিষ্ণুতাপরায়ণ ও ক্রোধ দমনকারী ছিলেন। একজন অমুসলিমের এতটুকু ধৃষ্টতা প্রদর্শন সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছুই বললেন না। অধিকন্তু হযরত উমর (রা) তাকে ভয় দেখানোর কারণে তিনি তার ন্যায্য পাওনার অতিরিক্ত আরো কিছু প্রদান পূর্বক লোকটিকে ভীতিমুক্ত এবং সন্তুষ্ট করার নির্দেশ দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই পরম ধৈর্যশীলতার ফল দাঁড়াল যে, যায়িদ ইব্ন সা’না (রা) সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। বস্তুত জগত জুড়ে ইসলামের ব্যাপকভাবে প্রসারতা লাভের পেছনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উন্নত চরিত্র মাধুরী ও মহৎ আচরণই ছিল সবচেয়ে বড় উপকরণ। তাঁর উন্নত আদর্শের আকর্ষণে লোকজন তাঁর নিকটবর্তী হতে থাকে, তাঁকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ পাক এই উন্নত চরিত্র মাধুরীকে নিম্নোক্ত ভাষায় উপস্থাপন করেছেনঃ فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ
আল্লাহ্ দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (সূরা আল ইমরান : ১৫৯) I
মানুষের প্রতি কোমল আচরণ করা ও ক্ষমাশীল হওয়া উন্নত চারিত্রিক গুণের পরিচায়ক মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে উন্নত চরিত্র অবলম্বনের পূর্ণ তাওফীক প্রদান করুন। আমীন!
আল্লাহ্ দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (সূরা আল ইমরান : ১৫৯) I
মানুষের প্রতি কোমল আচরণ করা ও ক্ষমাশীল হওয়া উন্নত চারিত্রিক গুণের পরিচায়ক মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে উন্নত চরিত্র অবলম্বনের পূর্ণ তাওফীক প্রদান করুন। আমীন!