আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৭৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা এবং ক্রোধ সংবরণ বিষয়ক রিওয়ায়াতসমূহ
১৭৪। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবাদের সঙ্গে মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন জনৈক বেদুঈন সেখানে আসলো এবং মসজিদের ভিতরে পেশাব করতে শুরু করলো। সাহাবাগণ তাকে বারণ করে বলতে লাগলেন, থাম! থাম! একথা শুনে নবী (ﷺ) বললেন, (লোকটিকে পেশাব করতে) বাধা দিও না। তারপর তিনি লোকটিকে ডাকলেন এবং বললেন, দেখ এ মসজিদগুলো পেশাব-পায়খানা কিংবা এ জাতীয় কোন আবর্জনার জায়গা নয়। এগুলো হলো পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত, আল্লাহ্ পাকের যিকর ও সালাত পড়ার স্থান। তারপর তিনি এক বালতি পানি আনতে নির্দেশ দেন এবং পানিটি সেই জায়গায় প্রবাহিত করে দেন। ( যেন মসজিদের মাটি পবিত্র হয়ে যায়।)
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي كَظْمِهِ الْغَيْظَ وَحِلْمِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
174 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ، نَا أَبُو خَلِيفَةَ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ وَمَعَهُ أَصْحَابُهُ، إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيُّ، فَبَالَ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْ مَهْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تُزْرِمُوهُ، ثُمَّ دَعَاهُ، فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنَ الْقَذَرِ، وَالْبَوْلِ، وَالْخَلَاءِ، إِنَّمَا هِيَ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ، وَذِكْرِ اللَّهِ وَالصَّلَاةِ، ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِدَلْو مِنْ مَاءٍ، فَشَنَّهُ عَلَيْهِ "
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতখানি ধৈর্য ও সহিষ্ণু এবং ক্রোধ নিবারণকারী ছিলেন। তিনি বেদুঈনের প্রতি কোমল আচরণ ও সহানুভূতি প্রদর্শন করেন। অতিশয় মমত্ববোধ ও উদারতা নিয়ে তাকে তিনি উপদেশ দেন। তারপর নিজেই সেই অপবিত্র স্থানটি পানি দ্বারা পবিত্র করেন। এই একটি ঘটনা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকটি উন্নত চরিত্র মাধুরীর অনুমান করা যায়। যেমনঃ এক অজ্ঞ অসামাজিক লোকটির ক্রোধ উদ্দীপক ত্রুটির ব্যাপারে তিনি ধৈর্য-সহ্য ও সহিষ্ণুতার আচরণ করেন। তারপর আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ প্রকাশের মাধ্যমে অতিশয় কার্যকর পদ্ধতিতে তাকে শিক্ষা দেন এবং তার নৈতিক ত্রুটির সংশোধন করেন। উপরন্তু এক অসাধারণ বিনয় প্রকাশের মাধ্যমে নিজেই মসজিদের সে স্থানটি ধুয়ে পবিত্র করেন। এভাবে মৌখিক উপদেশ ও সতর্কীকরণের সাথে সাথে কার্যতভাবেও মানুষের মনে মসজিদের পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার বিষয়টি বদ্ধমূল করে দেন। আল্লাহ্ পাক তাঁর উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।