প্রবন্ধ
মাকানাতুস সাহাবিয়্যাহ
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৩১৬
০
ইসলামের ইতিহাসে নারী সাহাবীদের সোনালি অধ্যায়: মর্যাদা ও অনুপম অবদান
ভূমিকা:
ইসলামের ইতিহাসের সূচনা লগ্ন থেকেই নারী সাহাবীগণ (সাহাবিয়াত) ঈমান, নৈতিকতা, জ্ঞান ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রাক-ইসলামী জাহিলিয়াতের যুগে যখন নারীদের অস্তিত্বকে অপমানজনক মনে করা হতো এবং কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, তখন ইসলাম এসে নারীকে প্রদান করে সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নবুয়তের সূচনালগ্নেই প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি ছিলেন এক মহীয়সী নারী—হযরত খাদিজা (রাযি.)। পরবর্তীতে দ্বীনের সংরক্ষণ, প্রচার, জিহাদ ও মেধা-মননের চর্চায় পুরুষদের পাশাপাশি নারী সাহাবীগণ সমানভাবে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। তাঁদের আলোকিত জীবনী কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ব মুসলিম নারীর জন্য দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার উৎস।
ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা:
* ইসলাম গ্রহণে নারী সাহাবীদের অসীম ত্যাগ ও শাহাদাত
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নারী সাহাবীগণ জাহেলী সমাজের কঠিন অত্যাচার, সামাজিক বয়কট ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও ঈমানের ওপর অবিচল থেকেছেন। ইসলামের প্রথম শহীদ হওয়ার পরম গৌরব অর্জন করেছিলেন হযরত সুমাইয়া (রাযি.)।
আবু জাহেলের নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনে শাহাদাত বরণ করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে ঈমানের শক্তি পার্থিব যেকোনো শক্তির চেয়ে প্রবল। মহান আল্লাহ সূরা আল-আনকাবুতে নির্দেশ করেন:
أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ
অর্থ: "মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?" (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত নং: ২)
সুমাইয়া (রাযি.) ও জুন্নাইরা (রাযি.)-এর ঐতিহাসিক অবিচলতা প্রমাণ করে যে, ইসলামের মূল ভিত্তি কেবল পুরুষদের নয়, বরং সাহাবী নারীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়েও রচিত হয়েছিল।
দুনিয়াতেই যাঁদের জন্য আসমান থেকে জিবরাইল (আ.) সালাম নিয়ে এসেছিলেন!
বহু নারী সাহাবীকে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এই দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দান করেছিলেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাযি.)-এর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.) সালাম পেশ করেছিলেন।
হাদীসে এসেছে,
জিবরাইল (আ.) রাসূল (ﷺ)-কে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! খাদিজা আসছে, তাকে তার রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছান এবং তাকে জান্নাতে মোতি নির্মিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন, যেখানে কোনো শোরগোল বা ক্লান্তি থাকবে না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৮২০)
এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর প্রিয় কন্যা হযরত ফাতিমা (রাযি.)-কে জান্নাতী নারীদের সর্দারিনী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ৩৪২৩৩) এই সুসংবাদসমূহ তাঁদের সর্বোচ্চ ঈমানী মর্যাদা ও ত্যাগের স্বীকৃতি।
জ্ঞানের মশাল: কুরআন, হাদীস ও ফতোয়া বর্ণনায় নারী সাহাবীদের অনন্য অবদান
ইসলামের ইতিহাসে নারী সাহাবীগণ কেবল পর্দার আড়ালেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং ইলম বা জ্ঞান চর্চায় তাঁরা ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। কুরআন, হাদীস এবং ইসলামী শরীয়ত-এর ফতোয়া প্রদানে তাঁদের অবদান মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য সম্পদ।
* কুরআন সংরক্ষণে নারী সাহাবীদের অনন্য ভূমিকা
কুরআন মাজীদে অগাধ দক্ষতা এবং তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে নারী সাহাবীগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে: উম্মুল মুমিনীন হাফসা রাযি. ছিলেন কুরআনের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপির বিশ্বস্ত সংরক্ষক।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে:
فَكَانَتِ الصُّحُفُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَيَاتَهُ، ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ "
প্রথম খলিফা আবু বকর রাযি.-এর কাছে মূল পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল তাঁর মৃত্যুর পর তা উমর রাযি.-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল, পরবর্তীতে তা হাফসা বিনতে উমরের কাছে সংরক্ষিত থাকে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৯৮৬)
তাছাড়াও তাফসীরে ইবনে কাসীর ও তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন-এর মতো বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে নারী সাহাবীদের বর্ণিত শানে নুযূল বা প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে।
* হাদীস বর্ণনায় অগাধ পাণ্ডিত্য
নবী কারীম ﷺ-এর পবিত্র সুন্নাহ ও হাদীস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী সাহাবীদের অবদান অতুলনীয়। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে: হযরত আয়িশা রাযি. একাই ২,২১০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা ইসলামী আইনের বিশাল এক ভিত্তি। (হযরত আয়িশা রাযি. এর জীবনী)
আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে:
"مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَدِيثٌ قَطُّ، فَسَأَلْنَا عَائِشَةَ، إِلَّا وَجَدْنَا عِنْدَهَا مِنْهُ عِلْمًا"
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবী হিসেবে আমাদের কাছে কোনো হাদীস অস্পষ্ট মনে হলে আমরা আয়িশার কাছে যেতাম এবং তাঁর কাছে এর সঠিক জ্ঞান পেতাম। (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৮৮৩)
* ফতোয়া ও মাসয়ালা সমাধানে অসামান্য প্রজ্ঞা
জটিল আইনি সমস্যা বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে বড় বড় সাহাবীরাও নারী সাহাবীদের দ্বারস্থ হতেন এবং আবার কখনো কখনো বক্তব্যের ওপর তাঁদের ফতোয়া গ্রহণ করতেন।
* খলিফা উমর (রাযি.)-এর সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া সেই বিদুষী নারী!
দৃষ্টান্ত: মোহরানা নির্ধারণের বিষয়ে হযরত উমর রাযি.-এর একটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক বিদুষী নারী সাহাবী ভরা মজলিসে কুরআন-এর আয়াত দিয়ে নির্ভীক প্রতিবাদ করেন।
ওই নারী সাহাবী সূরা নিসার ২০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন:
"وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا"
আর যদি তোমরা তাদের কাউকে প্রচুর সম্পদও মোহরানা হিসেবে দিয়ে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না।
এটি শুনে খলিফা উমর রাযি. নিজের ভুল স্বীকার করে বলেছিলেন:
"المرأة أصابت ورجل أخطأ"
নারীটি সঠিক বলেছে আর পুরুষটি ভুল করেছে। (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ৪৫৮১২)
রণাঙ্গনের অকুতোভয় বীরাঙ্গনা: জিহাদের ময়দানে নারীদের বীরত্ব ও সেবা
ইসলামের সুরক্ষায় নারী সাহাবীগণ কেবল ঘরেই বসে থাকেননি, বরং প্রয়োজনে জিহাদের ময়দানেও তাঁরা অসাধারণ বীরত্ব ও সেবার নজরকাড়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
* আহতদের সেবা ও লজিস্টিক সাপোর্ট:
যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদদের পানি পান করানো, আহতদের চিকিৎসা করা এবং শহীদদের মদীনায় ফিরিয়ে আনার মতো কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নারী সাহাবীগণ অত্যন্ত সুচারুভাবে পালন করতেন। যেমন রুবাইয়্যি বিনতে মুয়াওয়িয রাযি.: তিনি অন্যান্য নারী সাহাবীদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মুজাহিদদের সেবা প্রদান করতেন। সহীহ বুখারীতে (২৮৮২ নম্বর হাদীস) তাঁর নিজের বর্ণনায় এসেছে:
"كُنَّا نَغْزُو مَعَ النَّبِيِّ ﷺ، فَنَسْقِي القَوْمَ، وَنَخْدُمُهُمْ، وَنَرُدُّ الجَرْحَى وَالقَتْلَى إِلَى المَدِينَةِ"
আমরা নবী কারীম ﷺ-এর সাথে যুদ্ধে যেতাম। আমরা যোদ্ধাদের পানি পান করাতাম, তাঁদের সেবা করতাম এবং আহত ও নিহতদের মদীনায় ফিরিয়ে আনতাম।
* বুক পেতে দেওয়া বীরাঙ্গনা
উম্মে আম্মারা রাযি.: ওহুদের যুদ্ধে যখন কাফিররা চারপাশ থেকে আক্রমণ করছিল, তখন নুসাইবা বিনতে কা‘ব (যিনি উম্মে আম্মারা নামে পরিচিত) ঢাল ও তলোয়ার হাতে নবী কারীম ﷺ-কে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন। তাঁর বীরত্ব দেখে নবীজি বলেছিলেন:
"مَا الْتَفَتُّ يَمِينًا وَلَا شِمَالًا يَوْمَ أُحُدٍ إِلَّا وَأَنَا أَرَاهَا تُقَاتِلُ دُونِي"
ওহুদের দিন আমি ডানে-বামে যেদিকেই তাকিয়েছি, কেবল তাকেই দেখেছি সে আমাকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছে। (ফাতহুল বারী- ৬\৯২)
পর্দার আড়ালে থেকে পৃথিবী জয়: শালীনতা, পর্দা ও সাহসিকতার অপূর্ব সমন্বয়
শরীয়তের পর্দা ও শালীনতা নারী সাহাবীদের জন্য কখনোই দুর্বলতা বা বাধা ছিল না; বরং এটি ছিল তাঁদের আত্মমর্যাদা ও সাহসিকতার এক অনন্য শক্তি।
* পর্দা ও বীরত্বের মেলবন্ধন:
তাঁরা সম্পূর্ণ শালীনতা ও পর্দা বজায় রেখেও সংকটময় মুহূর্তে অকল্পনীয় সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। পর্দার আড়ালে থেকেও তাঁরা সমাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বিশাল অবদান রেখেছেন। যেমন সাফিয়্যা বিনতে আবদুল মুত্তালিব রাযি.: খন্দকের যুদ্ধের সময় নারী ও শিশুরা মদীনার একটি দুর্গে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। তখন বনু কুরাইজার এক ইহুদি গুপ্তচর নারী-শিশুদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে দুর্গের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। সাফিয়্যা রাযি. পর্দার আড়াল থেকে পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। দুর্গে তখন কোনো যুদ্ধক্ষম পুরুষ ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি নিজেই তাঁবুর একটি শক্ত খুঁটি তুলে নেন এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে নিচে নেমে সেই গুপ্তচরকে একাই হত্যা করে নারী ও শিশুদের নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। (সীরাতে ইবনে হিশাম- ২\২২৮)
নারী সাহাবীদের এই অতুলনীয় সেবা ও বীরত্ব প্রমাণ করে যে, প্রকৃত ঈমান ও শালীনতা মানুষকে কাপুরুষ নয়, বরং আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে তোলে।
রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অগাধ প্রেম: আত্মত্যাগের অনন্য উপাখ্যান
ঈমানের অন্যতম মূল শর্ত হলো নিজের জীবন, পরিবার ও সম্পদের চেয়ে নবী কারীম ﷺ-কে অধিক ভালোবাসা। নারী সাহাবীগণ তাঁদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই পবিত্র প্রেমের যে বাস্তব ও চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
* পিতা, স্বামী ও ভাইকে হারানোর পরও এক নারীর প্রশ্ন: 'রাসূল (ﷺ) কেমন আছেন?'
ইসলামের ইতিহাসে নবী কারীম ﷺ-এর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল ওহুদের প্রান্তরে। আপনজনদের হারানোর চরম শোকও যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসার কাছে হার মেনেছিল।
ওহুদের যুদ্ধ শেষে মদীনায় খবর পৌঁছাল যে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বনু দিনার গোত্রের এক নারী সাহাবীর কাছে একে একে তাঁর পিতা, স্বামী এবং ভাইয়ের শাহাদাতের খবর এসে পৌঁছাল। যেকোনো সাধারণ মানুষের জন্য একই দিনে পরিবারের সবচেয়ে কাছের মানুষদের হারানোর এই খবর ছিল পাহাড়সম শোকের। কিন্তু এই মহীয়সী নারী সাহাবীর প্রতিক্রিয়া ইতিহাসকে অবাক করে দিয়েছিল। আপনজনদের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি নিজের জন্য মাতম না করে ব্যাকুল চিত্তে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন:
"مَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ؟"
রাসূলুল্লাহ ﷺ কেমন আছেন? তাঁর কী অবস্থা?
সাহাবীগণ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানালেন যে, "আলহামদুলিল্লাহ, আপনি যেমনটি চান, তিনি সুস্থ ও নিরাপদে আছেন।" কিন্তু ভালোবাসায় সিক্ত তাঁর মন মানল না। তিনি বললেন,
"أَرُونِيهِ حَتَّى أَنْظُرَ إِلَيْهِ"
আমাকে দেখাও, আমি তাঁকে নিজের চোখে দেখতে চাই।
সাহাবীরা ইশারা করে নবীজিকে দেখিয়ে দিলেন। যখন তিনি নবীজিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় দেখলেন, তখন তাঁর সব শোক যেন নিমিষেই দূর হয়ে গেল এবং তাঁর মুখ থেকে ঈমানদীপ্ত সেই অমর বাক্যটি বেরিয়ে আসে:
"كُلُّ مُصِيبَةٍ بَعْدَكَ جَلَلٌ"
হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে নিরাপদে দেখার পর আমার জীবনের আর সব বিপদ ও শোকই অতি তুচ্ছ! (সীরাতে ইবনে হিশাম-(২\১০০)
নারী সাহাবীদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য নিজের জান-মাল ও পরিবার-পরিজনের চেয়ে নবী কারীম ﷺ-কে বেশি ভালোবাসতে হবে।
দানশীলতা ও সমাজসেবা: মানবকল্যাণে নারী সাহাবীদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
নারী সাহাবীগণ কেবল ইবাদতেই মগ্ন থাকতেন না, বরং সমাজসেবা ও দানশীলতায় তাঁরা ছিলেন অনন্য। নিজেদের উপার্জিত সম্পদ তাঁরা অকাতরে গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।
তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যয়নব বিনতে জাহশ রাযি.: উম্মুল মুমিনীন যয়নব রাযি. নিজের হাতে চামড়া ও সুতার কাজ করতেন এবং তা থেকে উপার্জিত সমস্ত অর্থ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিতেন। দানশীলতার কারণে তাঁকে 'উম্মুল মাসাকীন' বা দরিদ্রদের মাতা বলা হতো। (সিয়ারু আলামিন নুবালা- ২\২১১)
নবী কারীম ﷺ তাঁর স্ত্রীদের বলেছিলেন:
"أَسْرَعُكُنَّ لَحَاقًا بِي أَطْوَلُكُنَّ يَدًا"
তোমাদের মধ্যে সেই সবার আগে আমার সাথে [জান্নাতে] মিলিত হবে, যার হাত সবচেয়ে লম্বা অর্থাৎ যে বেশি দানশীল। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৪৫২)
পরবর্তীতে দেখা যায়, যয়নব রাযি.-ই নবীজির ইন্তেকালের পর সবার আগে ইন্তেকাল করেন।
পরিবার ও আদর্শ সমাজ গঠন: শ্রেষ্ঠ মা ও স্ত্রী হিসেবে তাঁদের ভূমিকা
ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে নারী সাহাবীগণ পরিবারকে একটি আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। স্বামী ও সন্তানের প্রতি তাঁদের দায়িত্ববোধ ছিল অতুলনীয়।
* শ্রেষ্ঠ স্ত্রীর ভূমিকা:
স্বামীর সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সন্তানদের ঈমানের দীক্ষায় বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত খাদিজা রাযি.: ওহী নাজিলের শুরুতে নবী কারীম ﷺ যখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন একজন আদর্শ স্ত্রীর মতো খাদিজা রাযি. তাঁকে যে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
* শ্রেষ্ঠ মায়ের ভূমিকা:
মা হিসেবে আসমা রাযি. তাঁর সন্তান আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.-কে ন্যায়ের ওপর অটল থাকার যে শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জালিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে সন্তান যখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মায়ের কাছে পরামর্শ চাইলেন, তখন এই মহীয়সী মা তাঁকে বীরত্বের চরম পাঠ দিয়েছিলেন।
শতবর্ষী ও দৃষ্টিহীন আসমা রাযি. তাঁর সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বলেছিলেন:
"أنت والله يا بني أعلم بنفسك، إن كنت تعلم أنك على حق ... وإن كنت إنما أردت الدنيا، فبئس العبد أنت"
হে আমার বৎস! তুমি যদি জানো যে তুমি হকের ওপর আছো, তবে বীরের মতো এগিয়ে যাও। আর তুমি যদি কেবল দুনিয়ার উদ্দেশ্যে লড়াই করে থাকো, তবে তুমি কতই না নিকৃষ্ট বান্দা! মায়ের এই অবিচল অনুপ্রেরণাতেই তিনি বীরদর্পে লড়াই করে হাসিমুখে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। (জামহারাতু খুত্বাবিল আরব- ২\১৭৮)
নারী সাহাবীদের এই অসামান্য মাতৃত্ববোধ প্রমাণ করে যে, একজন আদর্শ মা-ই পারেন একটি সমাজ ও জাতিকে হিদায়াতের আলোয় আলোকিত করতে।
আদর্শ স্ত্রীর দায়িত্ব সম্পর্কে সহীহ বুখারীর ৮৯৩ নাম্বার হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
"وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا"
নারী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক ও দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
ধৈর্য ও অবিচলতা: বিপদে-আপদে আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থার উপাখ্যান
রোগ-শোক, বিপদ-আপদ কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় নারী সাহাবীদের ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (আস্থা) ছিল পাহাড়ের মতো অটল।
* জান্নাতের বিনিময়ে রোগভোগের ধৈর্য:
বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ কীভাবে জান্নাত উপহার দেন, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী সাহাবী, যিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন।
উম্মে যুফার রাযি.: তিনি নবীজির কাছে এসে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে দু‘আ চাইলেন।
সহীহ বুখারীর ৫৬৫২ নাম্বার হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি তাঁকে দুটি প্রস্তাব দিলেন:
"إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ"
তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, এর বিনিময়ে তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। আর তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করতে পারি, যেন তিনি তোমাকে সুস্থ করে দেন।
* অবিচল সিদ্ধান্ত:
তিনি দুনিয়ার সুস্থতার চেয়ে আখেরাতের জান্নাতকে বড় মনে করলেন এবং দৃঢ়তার সাথে জবাব দিলেন, "أَصْبِرُ" (আমি ধৈর্যই ধারণ করব)। তবে তিনি পর্দা রক্ষার জন্য শুধু এইটুকু দু‘আ চাইলেন যেন অসুস্থতার সময় তাঁর শরীর থেকে কাপড় সরে না যায়।
এই শিক্ষণীয় ঘটনাটি সত্যিই আমাদের ঈমানকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং নিরুপায় অবস্থাতেও শালীনতা রক্ষার যে অভাবনীয় দৃষ্টান্ত উম্মে যুফার (রাযি.) স্থাপন করেছেন, তা বর্তমান সমাজের জন্য এক বিশাল আলোকবর্তিকা।
দ্বীনের দাওয়াত ও প্রসার: ইসলাম প্রচারে নারীদের নীরব বিপ্লব
ইসলামের দাওয়াত ও প্রসারে নারী সাহাবীগণ কেবল ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং নিজেদের প্রজ্ঞা, কৌশল ও অবিচলতার মাধ্যমে সমাজে তাঁরা এক নীরব কিন্তু যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেছিলেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের নারীদের মাঝে দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁদের ভূমিকা ছিল অনন্য।
* মক্কায় গোপন দাওয়াতের বীরাঙ্গনা (উম্মে শারীক রাযি.):
মক্কায় যখন মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন চলছিল, তখন উম্মে শারীক রাযি. নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোপনে কুরাইশ নারীদের বাড়িতে বাড়িতে যেতেন এবং তাঁদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতেন। তাঁর এই নিরলস দাওয়াতের কারণে মক্কার অনেক নারী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ধরা পড়ার পর কাফিররা তাঁকে তপ্ত রোদের মধ্যে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করলেও তিনি ঈমান ও দাওয়াতের পথ থেকে একচুলও সরে আসেননি।
দ্বীনের দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারের এই মহান দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা নারী-পুরুষ উভয়কেই সমানভাবে দিয়েছেন। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে:
"وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ"
আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে। (সূরা আত-তাওবাহ: ৭১)
নারী সাহাবীদের এই ত্যাগ ও প্রজ্ঞা প্রমাণ করে যে, সুযোগ ও পরিবেশ অনুযায়ী নারীরাও ইসলাম প্রচারে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে নারী সাহাবীদের ফজিলত ও মর্যাদা
* সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ যাঁর কথা শুনেছিলেন
নারী সাহাবীদের মর্যাদা কতটা ঊর্ধ্বে ছিল, তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলো হযরত খাওলা বিনতে ছালাবা (রাযি.)-এর ঘটনা। স্বামী কর্তৃক 'যিহার' (স্ত্রীকে মায়ের পিঠের সাথে তুলনা করে নিষিদ্ধ করা) হওয়ার পর তিনি চরম অসহায় অবস্থায় নবী কারীম ﷺ-এর কাছে এসে নিজের অধিকারের জন্য ফরিয়াদ করছিলেন। তাঁর এই আর্তনাদ আল্লাহ তা‘আলা সাত আসমানের ওপর থেকে শুনেছিলেন এবং তাঁর পক্ষে কুরআনের আয়াত নাযিল করে যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি অন্যায় প্রথার অবসান ঘটিয়েছিলেন।
ইরশাদ হয়েছে,
"قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا"
নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আর আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথোপকথন শুনছিলেন। (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১)
হাদীসের মর্যাদা:
নারী সাহাবীদের ত্যাগ ও ঈমানের কারণে নবী কারীম ﷺ তাঁদেরকে যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ নারীদের মর্যাদা দিয়েছেন এবং তাঁদের অনেকের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন।
উম্মুল মুমিনীনগণের বিশেষ মর্যাদা
নবী কারীম ﷺ-এর পবিত্র স্ত্রীগণ বা উম্মুল মুমিনীনগণ হলেন গোটা মুসলিম উম্মাহর মাতা। নারী সাহাবীদের মধ্যে তাঁদের মর্যাদা সবচেয়ে ঊর্ধ্বে।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে সমগ্র ঈমানদারদের মা হিসেবে ঘোষণা করে বলেন,
"النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ"
নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষাও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা। (সূরা আল-আহযাব: ৬)
* তাঁদের পবিত্রতার বিশেষ ঘোষণা:
তাঁদের পবিত্রতা রক্ষার্থে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ আয়াত নাযিল করেছেন:
"إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا"
(হে নবী পরিবার!) আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সূরা আল-আহযাব: ৩৩)
আগামী প্রজন্মের কারিগর: সোনালি যুগের বীর সেনানিদের মাতা
ইসলামের ইতিহাসে নারী সাহাবীগণ কেবল নিজেদের আমল ও ইবাদতেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না, বরং মা হিসেবে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁরা ছিলেন অনন্য। ইসলামের সোনালি যুগে যে অসংখ্য জ্ঞানী, মুহাদ্দিস ও অকুতোভয় বীর সেনানি গড়ে উঠেছেন, তাঁদের পেছনে ছিল এই মহীয়সী মায়েদের নিখুঁত 'তরবিয়াত' বা সুশিক্ষা। তাঁদের কোলই ছিল ইসলামের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ।
নারী সাহাবীগণ তাঁদের সন্তানদের কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষায় এমনভাবে বড় করেছেন যে, তাবেয়ীদের যুগে তাঁরাই সমাজ সংস্কারক ও বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতের মশাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
ইসলামের সোনালি যুগে অসংখ্য তাবেয়ী, আলেম ও বীর সেনানি গড়ে ওঠার পেছনে নারী সাহাবীদের নিখুঁত তরবিয়ত বা সন্তান পালনের অসামান্য অবদান ছিল।
উপসংহার:
* নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন থেকে বর্তমান সমাজের শিক্ষা (সংক্ষিপ্ত রূপ)
নারী সাহাবীদের এই আলোকিত ইতিহাস বর্তমান সমাজের জন্য এক অনন্য আলোকবর্তিকা। তাঁদের জীবন থেকে আমরা মূলত এই শিক্ষাগুলো পাই:
- পর্দা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়: তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, ইসলামী পর্দা ও শালীনতা নারীর মেধা বিকাশ বা সমাজসেবার অন্তরায় নয়; বরং আত্মমর্যাদার প্রতীক।
আদর্শ মাতৃত্ব ও স্ত্রী: খাদিজা ও আসমা (রাযি.)-এর মতো মায়েদের সুশিক্ষা ও অটল সমর্থন প্রমাণ করে যে, একটি আদর্শ ও বীর জাতি গঠনে সুদৃঢ় মাতৃত্ব এবং স্ত্রীর ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই।
আখেরাতমুখিতা ও ধৈর্য: উম্মে যুফার (রাযি.)-এর মতো নারীরা দুনিয়ার চেয়ে জান্নাতকে এবং চরম বিপদেও শালীনতা ও ধৈর্যকে প্রাধান্য দেওয়ার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা আমাদের ভোগবাদী সমাজকে আত্মত্যাগের দীক্ষা দেয়।
বিপদ-আপদে সবর এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার যে দৃষ্টান্ত তাঁরা রেখে গেছেন, তা বর্তমান বস্তুবাদী সমাজকে আত্মত্যাগের দীক্ষা দেয়।
পরিশেষে ধীরতার সাথে বলবো,
নারী সাহাবীদের এই আদর্শকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ধারণ করতে পারলে আমাদের মাঝেও আবারও এক সোনালি যুগের অভ্যুদয় ঘটবে।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
টুপি পরিধান করার কোন প্রমাণ কি হাদীস বা আছারে সাহাবায় নেই?
টুপি মুসলিম উম্মাহর ‘ শিআর ’ জাতীয় নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে ...
প্রসঙ্গ মুয়াবিয়া রাজিআল্লাহু আনহুঃ সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কিত ইতিহাস পাঠের মূলনীতি
...
তাঁরা নবীজীকে ভালবাসতেন প্রাণের চেয়েও বেশি
সৃষ্টির ওপর সবচেয়ে বেশি দয়া ও অনুগ্রহ আল্লাহ তাআলার। তাঁর রহমত ও ইহসানের অন্ত নেই। তাঁর পরে মানুষের ...
সাহাবায়ে কেরামগণ সত্যের মাপকাঠি
সত্যের মাপকাঠি বলতে বুঝানো হয় যে, সাহাবায়ে কেরামগণ হক ও হক্কানিয়্যাত, দ্বীন ও ঈমানের ক্ষেত্রে যে মান...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন