প্রবন্ধ
আর নয় ফজর কাযা
৮ এপ্রিল, ২০২৬
১১৮৩
০
অনেকে বলে, ‘হুজুর! আল্লাহর কসম, আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। একটার পর একটা অ্যালার্ম দিই। মন থেকে দৃঢ় ইচ্ছা করি। কিন্তু তবুও ঘুম ভাঙে তখন, যখন সূর্য উঠে গেছে!
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি—অ্যালার্ম শুনিইনি। মাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন—আমি দরজায় নক করেছি, কিন্তু তুমি সাড়া দাওনি। তাহলে এর সমাধান কী? কেন আমি ফজর নামাযে উঠতে পারি না?
এই প্রশ্নের উত্তরও শুনুন। যখন হাসান বসরী রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—আমরা তাহাজ্জুদে উঠতে চাই, কিন্তু পারি না, তখন তিনি কী উত্তর দিয়েছিলেন জানেন? তিনি বলেছিলেন
أَنْتَ رَجُلٌ قَدْ قَيَّدَتْكَ ذُنُوبُكَ
তোমার গুনাহই তোমাদেরকে বেঁধে রেখেছে।
আজ আমিও একই উত্তর দেব। যদি আপনি সব ধরনের চেষ্টা করেন—অ্যালার্ম দেন, মানুষকে ডাকতে বলেন—তারপরও যদি আল্লাহ আপনাকে ফজরের নামাযে উঠার তাওফিক না দেন, তাহলে জেনে রাখুন—আপনার জীবনে এমন কোনো গুনাহ আছে, যা এই তাওফিকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি নিজেই ভালো জানেন—সেটা কী?
হয়তো নারীদের দিকে অবৈধ দৃষ্টি, হয়তো গীবত ও পরনিন্দা, হয়তো সিনেমা-সিরিয়াল দেখা, হয়তো গান-বাজনা ও পাপাচারের প্রতি আসক্তি। আপনার অন্তরে এমন কোনো গুনাহ আছে, যা আপনাকে ফজরের নামায থেকে বঞ্চিত করছে।
আল্লাহর বান্দা! নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন সেই গুনাহ, যা আমাকে ফজরের নামায থেকে দূরে রেখেছে?
اَلْحَمْدُ لِلّهِ وَكَفَى وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِيْن َاصْطَفَى اَمَّا بَعْدُ! فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ. وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا
بَارَكَ اللهُ لِيْ وَلَكُمْ فِي الْقُرْآنِ الْعَظِيْمِ، وَنَفَعَنِيْ وَإِيَّاكُمْ بِمَا فِيْهِ مِنَ اْلآيَاتِ وَالذِّكْرِ الْحَكِيْمِ. وجَعَلَنِيْ إِيَّاكُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ
أَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَا أَسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِيْنَ. فَاسْتَغْفِرُوْهُ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ
কিয়ামতের দিন প্রথমেই দেখা হবে নামায
মুহতারাম হাজিরীন! একটি প্রসিদ্ধ হাদিস আমরা অনেকেই জানি—রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلاةُ
‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাযের হিসাব হবে।’
অর্থাৎ, সেদিন সর্বপ্রথম দেখা হবে না—
— সে বাবা-মায়ের সাথে কত ভালো ব্যবহার করেছে,
— কত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছে,
— কত দাওয়াত দিয়েছে,
— কত কুরআন তিলাওয়াত করেছে,
— কত হজ-উমরা করেছে,
— কত সাদকা দিয়েছে;
প্রথমেই দেখা হবে নামায।
কিন্তু এই হাদিসের পরবর্তী অংশ আমরা জানি না। পরবর্তী অংশে নবীজি ﷺ বলেছেন
فَإِنْ صَلَحَتْ صَلَحَ لَهُ سَائِرُ عَمَلِهِ ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عَمَلِهِ
যদি নামায ঠিক থাকে, তাহলে বাকি সব আমলও ঠিক হবে; আর যদি নামায নষ্ট হয়, তাহলে বাকি সব আমলও নষ্ট হয়ে যাবে। [তাবারানী : ১৯২৯]
নামায ছাড়া কোনো আমলই কবুল হবে না
এই হাদিস থেকে পরিস্কার বোঝা যায়—যে ব্যক্তি নামায পড়ে না, আল্লাহ তার কোনো আমলই কবুল করবেন না—না ফরজ, না নফল।
সে যদি সারা জীবন রোজা রাখে, সারা জীবন হজ করে, প্রতি মাসে উমরা করে, নিজের সমস্ত সম্পদ সাদকা করে দেয়, পুরো কুরআন মুখস্থ করে ফেলে—তবুও কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার কোনো কিছুই কবুল করবেন না।
এজন্যই উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেছেন
لَا حَظَّ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ تَرَك الصَّلَاةَ
যে নামায ছেড়ে দেয়, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। [মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ : ১০৪১০]
তাবেঈ আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক রহ. বলেন
كانَ أَصْحابُ مُحَمَّدٍ ﷺ لا يرونَ شَيْئًا مِنَ الأَعْمالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاةِ
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীগণ নামায অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফর মনে করতেন না। [তিরমিযী : ২৬২২]
কারণ, একজন কাফিরের কোনো ভালো কাজ কবুল হয় না, ঠিক তেমনি বে-নামাযির কোনো আমলও কবুল হয়না।
যারা তাদের নামায সমন্ধে উদাসীন
মদিনায় এক ব্যক্তির বোন ইন্তেকাল করে। সে তাকে দাফন করল। দাফনের সময় ভুলক্রমে তার একটি থলি—যাতে বেশ কিছু দিনার ছিল—কবরের মধ্যে পড়ে গেল। সে বিষয়টি ভুলে গিয়েছিল। পরে বাড়িতে গিয়ে মনে পড়ল।
পরে সে থলিটি আনতে কবর খুলল। যখন সে কবর খুঁড়ে লাশের কাছে পৌঁছাল, তখন দেখল—লাশটি আগুনে জ্বলছে!
ভয়ে-আতঙ্কে সে দ্রুত কবর আবার বন্ধ করে দিল এবং দৌড়ে বাড়ি এসে তার মায়ের কাছে গেল। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘মা! আমার বোন দুনিয়াতে কী করত, আমাকে বলো।’
মা বললেন, ‘কেন?’
সে বলল, ‘আমি দেখেছি—তার কবর আগুনে জ্বলছে!’
মা বললেন, ‘বাবা! আল্লাহর কসম, আমি তার কোনো বড় গুনাহ জানি না। শুধু একটি বিষয় ছিল—সে প্রায়ই নামাযকে তার সময় থেকে পিছিয়ে দিত।’ [তাফসির ইবনুল কাইয়্যিম, সূরা গাফির : ৪৫-৪৬]
আল্লাহ তাআলা বলেন
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ * الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
অতএব, দুর্ভোগ সেই নামায আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের নামায স¤^ন্ধে বে-খবর বা উদাসীন। [সূরা মাঊন : ৪-৫]
ফজরের নামাযের গুরুত্ব বেশি
মুহতারাম হাজিরীন! পাঁচ ওয়াক্ত নামায হলো ইসলামের স্তম্ভ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে ফজরের নামাযের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। হাদিসে এর এত বেশি গুরুত্ব এসেছে যে, যদি একজন মুমিন তন্মধ্য থেকে মাত্র একটিও মনে রাখে তাহলেও এক্ষেত্রে তার গাফিলতি অনায়াসে দূর হয়ে যাবে। তার হিম্মত বেড়ে যাবে। ঘুম ও অলসতা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হবে। নব প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে সে ফজরের জামাতে শরিক হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টায় ব্রতী হবে—ইনশা আল্লাহ।
আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন
উম্মতের প্রাচীন যুগে—সাহাবায়ে কেরাম ও প্রথম দিককার মুসলমানদের সময়ে আলোচনার বিষয় হতো তাহাজ্জুদ, রাতের ইবাদত, কিয়ামুল্লাইল—এসব নিয়ে। তখন এমন মানুষ পাওয়া যেত না, যে ফজরের নামায পড়ত না। এমন অবস্থা কেবল মুনাফিকদের মধ্যেই দেখা যেত। মুমিনদের সারিতে এমন কাউকে কল্পনাও করা যেত না, যে ফজরের নামায ছেড়ে দেয়।
ফজরের নামায তো তাদের কাছে এমন বিষয় ছিল, যা নিয়ে আলাদা করে বলারই প্রয়োজন হতো না। মানুষ তখন চিন্তা করত—কীভাবে রাতের ইবাদত বাড়ানো যায়, কীভাবে আল্লাহর সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা যায়।
কিন্তু আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ এমন অবস্থা হয়েছে যে, আমরা মানুষকে অনুরোধ করি—ভাই! ফজরের নামাযটা একটু পড়ুন...বরকতের এই সময়টিতে একটু ওঠুন।
তাউস রহ.
একজন সালাফ ছিলেন—তাঁর নাম তাউস রহ.। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি.-এর খাস শাগরিদ ছিলেন। একবার তিনি তাঁর এক বন্ধুর দরজায় গিয়ে কড়া নাড়লেন শেষ রাতের সময়ে। বন্ধুটি অবাক হয়ে দরজা খুলে বললেন, ‘এই সময়ে তুমি আমাকে দেখতে এলে?’
তাউস রহ. বললেন
مَا ظَنَنْتُ أَنَّ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَنَامُ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ آخِرَ اللَّيْلِ
কেন? আমি তো মনে করিনি যে মুসলমানদের কেউ এই শেষ রাতে ঘুমিয়ে থাকে! [ইন্টারনেট, আনীনুল ফজর]
আমাদের ঈমান দুর্বল হয়ে গিয়েছে
আজ যদি এমন অবস্থা হয় যে আমাদের ফজরের নামায নিয়েই বারবার কথা বলতে হয়—তাহলে বুঝে নিতে হবে, আমাদের ঈমানের মধ্যে বড় ধরনের দুর্বলতা এসে গেছে।
একবার এক ব্যক্তি নবীজি ﷺ-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক ব্যক্তি সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে। অর্থাৎ সে ফজরের নামায পড়ে, কিন্তু রাতের তাহাজ্জুদ পড়ে না।
তখন নবীজি ﷺ বললেন
ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ في أُذُنِهِ
সে এমন একজন মানুষ, যার কানে শয়তান প্রস্রাব করেছে। [সহীহ বুখারী : ৩২৭০]
খেয়াল করুন! এই কথা বলা হয়েছে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে শুধু তাহাজ্জুদ পড়েনি। তাহলে যারা ফজরের নামাযই পড়ে না—তাদের ঈমানের অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে!
দুনিয়ার জন্য জাগি, আখিরাতের জন্য ঘুমাই
আজ আমাদের দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ আখিরাতের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে। যে লোকটি ফজরের নামায পড়ে না, তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—তুমি ফজরের নামায পড়ো না কেন?
সে সহজেই বলে দেয়—আমি তো ঘুম থেকে উঠতে পারি না।
কিন্তু একটু চারদিকে তাকিয়ে দেখেন। যারা ব্যবসা করে, যারা চাকরি করে, কিংবা যারা কোটি কোটি টাকার মালিক—তাদের অবস্থা কী?
তাদের অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। কেউ ঘুমের ওষুধ খায়, কেউ সারা রাত অস্থিরতায় কাটায়। কারও কারও তো এক-দুই ঘণ্টার বেশি ঘুমই হয় না। তবু ভোর হলেই তারা উঠে পড়ে। ঠিকই কাজে চলে যায়। কেন? কারণ তারা টাকা উপার্জন করতে চায়।
তাহলে প্রশ্ন হলো—ফজরের নামাযের সময় তারা কোথায়?
বাস্তবতা হলো, যদি বলা হয়—ফজরের নামাযে উঠো, আমি তোমাকে কিছু টাকা দেব। অথবা প্রতিদিন ফজর পড়লে তোমার বেতন বাড়বে, পদোন্নতি হবে।
তাহলে কি সে উঠবে না? অবশ্যই উঠবে। তাহলে ফজরের নামাযের সময় উঠেনা কেন? কারণ দুনিয়া মানুষের হৃদয় ভরে ফেলেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদের সতর্ক করে বলেছেন
مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى وَلا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا
দুনিয়ার ভোগ তো সামান্য| আর আখিরাতই উত্তম তাদের জন্য, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও জুলুম করা হবেনা। [সূরা নিসা : ৭৭]
দুনিয়া খুব সামান্য—কিন্তু আখিরাত অনন্ত। তবু আমরা সামান্যটাকে আঁকড়ে ধরেছি, আর অনন্তটাকে ভুলে বসে আছি।
যখন নামাযের চেয়ে দুনিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়
অনেকে আমাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করে—যদি জোহরের আযান হয়ে যায়, আর আমি ফজরের নামায না পড়ে থাকি—তাহলে আগে ফজর পড়ব, না জোহর পড়ব?
আফসোসের বিষয়! জোহর হয়ে গেল, অথচ আপনি এখনো ফজর পড়েননি! এতক্ষণ কোথায় ছিলেন?
বলে—আমি যখন ঘুম থেকে উঠলাম, তখন অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছিল। তাই আগে অফিসে চলে গেছি।
এর অর্থ কী দাঁড়াল? অফিসকে ফজরের নামাযের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে! একবার ভাবুন—এই সময়ের মধ্যেই যদি এই লোকের মৃত্যু হয়ে যেত? যদি আল্লাহ তার রূহ কবজ করে নিতেন?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
لا تتركِ الصَّلاةَ مُتعمِّدًا ، فإنَّهُ مَن تركَ الصَّلاةَ مُتعمِّدًا فقد برِئتْ منهُ ذِمَّةُ اللهِ ورسولِهِ
কোনো ফরজ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিও না। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ছেড়ে দেয়, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা ও নিরাপত্তা সরে যায়। [মুসনাদ আহমাদ : ২৭৩৬৪]
ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া বলতে কী বোঝায়? যে ব্যক্তি জানে ফজরের নামায হবে পাঁচটায়, অথচ সে নিজের অ্যালার্ম দেয় সকাল সাতটায়—এটাই তো ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া।
আজ অনেকের অবস্থা কী? রাত বারোটা পর্যন্ত টেলিভিশনের সামনে বসে থাকে। তারপর সকালে বলে, আমি তো ফজরের নামাযে উঠতে পারিনি! অ্যালার্ম দিয়েছিলাম, কিন্তু উঠতে পারিনি।
প্রশ্ন হলো—তুমি এত রাত পর্যন্ত জেগে ছিলে কেন? তুমি কি জানো না—রাত জাগলে ফজরের নামাযে ওঠা কঠিন হয়ে যায়? তুমি আগে ঘুমালে না কেন, যাতে সহজেই ফজরের নামাযে উঠতে পারতে? এই কারণেই আল্লাহ তাআলা শেষ যুগের মানুষের একটি অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
তাদের পরে এলো অপদার্থ পরবর্তীরা; তারা নামায নষ্ট করল ও লালসা পরবশ হল; সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। [সূরা মারইয়াম : ৫৯]
গুনাহের প্রভাব : ফজরের নামায থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ
অনেকে বলে, ‘হুজুর! আল্লাহর কসম, আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। একটার পর একটা অ্যালার্ম দিই। মন থেকে দৃঢ় ইচ্ছা করি। কিন্তু তবুও ঘুম ভাঙে তখন, যখন সূর্য উঠে গেছে!
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি—অ্যালার্ম শুনিইনি। মাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন—আমি দরজায় নক করেছি, কিন্তু তুমি সাড়া দাওনি। তাহলে এর সমাধান কী? কেন আমি ফজরের নামাযে উঠতে পারি না?
এই প্রশ্নের উত্তরও শুনুন। যখন হাসান বসরী রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—আমরা তাহাজ্জুদে উঠতে চাই, কিন্তু পারি না, তখন তিনি কী উত্তর দিয়েছিলেন জানেন? তিনি বলেছিলেন
أَنْتَ رَجُلٌ قَدْ قَيَّدَتْكَ ذُنُوبُكَ
তোমার গুনাহই তোমাদেরকে বেঁধে রেখেছে। [সিফাতুস সাফওয়া : ৩/২৩৫]
আজ আমিও একই উত্তর দেব। যদি আপনি সব ধরনের চেষ্টা করেন—অ্যালার্ম দেন, মানুষকে ডাকতে বলেন—তারপরও যদি আল্লাহ আপনাকে ফজরের নামাযে উঠার তাওফিক না দেন, তাহলে জেনে রাখুন—আপনার জীবনে এমন কোনো গুনাহ আছে, যা এই তাওফিকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি নিজেই ভালো জানেন—সেটা কী?
হয়তো নারীদের দিকে অবৈধ দৃষ্টি, হয়তো গীবত ও পরনিন্দা, হয়তো সিনেমা-সিরিয়াল দেখা, হয়তো গান-বাজনা ও পাপাচারের প্রতি আসক্তি। আপনার অন্তরে এমন কোনো গুনাহ আছে, যা আপনাকে ফজরের নামায থেকে বঞ্চিত করছে।
আল্লাহর বান্দা! নিজেকে প্রশ্ন করুন—কোন সেই গুনাহ, যা আমাকে ফজরের নামায থেকে দূরে রেখেছে?
ফজরের নামায না পড়লে কী লাভ এবং না পড়লে কী ক্ষতি হয়?
এবার শুনুন—ফজরের নামায না পড়লে কী লাভ এবং না পড়লে কী ক্ষতি হয়?
কখনও এগুলো ভুলে যাবেন না। যখন অলসতা বা গাফিলতি আসে, তখন নিজেকে এগুলো মনে করিয়ে দেবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফজরের নামাযের বরকত দান করুন। আমীন।
১. ফজরের নামাযে প্রকাশ পায় ঈমানের সত্যতা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
لَيْسَ صَلَاةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا
মুনাফিকদের কাছে ফজর ও এশার নামাযের চেয়ে ভারী নামায আর নেই। যদি তারা এই দুই নামাযের ফজিলত জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা (মসজিদে) উপস্থিত হতো। [সহীহ বুখারী : ৬৫৭]
এই হাদিস আমাদের সামনে মানুষের ঈমানের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। কারণ ফজর ও এশার নামায এমন সময়ের নামায, যখন মানুষ সাধারণত ঘুমে থাকে বা বিশ্রামে থাকে। তখন আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মসজিদে যাওয়া সহজ নয়। তাই এই সময়েই বোঝা যায়—কার ঈমান শক্ত, আর কার অন্তরে গাফলত বেশি।
আপনি যদি একটু লক্ষ্য করেন, ফজরের এক-দুই ঘণ্টা পরে, ধরুন সকাল সাতটার দিকে—রাস্তা ভরে যায় মানুষের ভিড়ে। সড়কগুলো কোলাহলে ভরে ওঠে, যানজট শুরু হয়। চারদিকে ব্যস্ততা। হাজার হাজার মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে যায়। কেন? কারণ তারা তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছে, দুনিয়ার দায়িত্ব পালনের জন্য বের হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—এক-দুই ঘণ্টা আগে কি এই ঘরগুলো খালি ছিল? তখন কি মানুষ ছিল না? তখন কি মুসলমান ছিল না, যারা ফজরের নামায পড়তে পারত?
বাস্তবতা হলো—মানুষ ছিল, ঘরও ভরা ছিল, কিন্তু তখন অনেকেই ঘুমিয়ে ছিল। দুনিয়ার কাজের জন্য যখন সময় হয়, তখন তারা ঘর থেকে বের হতে দেরি করে না। কিন্তু ফজরের নামাযের সময় মসজিদে দেখা যায়—মাত্র অর্ধেক কাতার, কখনো তারও কম।
এই দৃশ্যই যেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সেই কথাকে সত্য প্রমাণ করে। তিনি বলেছেন, ‘মুনাফিকদের কাছে ফজর ও এশার নামাযই সবচেয়ে ভারী।’ কারণ এখানে মানুষের অন্তরের অবস্থা প্রকাশ পায়। যে মানুষ দুনিয়ার কাজের জন্য ঘুম ভেঙে দ্রুত বের হতে পারে, সে যদি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে অলসতা করে, তবে বুঝতে হবে তার অন্তরে মুনাফেকি আছে।
এজন্য হাসান বসরী বহ. বলতেন
لَوْلَا الْمُنَافِقُونَ لَاسْتَوْحَشْتُمْ فِي الطُّرُقِ
মুনাফিকরা না থাকলে রাস্তা-ঘাট জনশূন্য মনে হতো। [আল-ইবানাতুল কুবরা : ৯৩৪]
২. আল্লাহর দরবারে ফেরেশতাদের রিপোর্ট পেশ
আল্লাহর বান্দা! আপনি যখন ফজরের নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন কী ঘটে—জানেন? হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ وَصَلَاةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمُ اللَّهُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ
তোমাদের কাছে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে। তারা ফজর ও আসরের নামাযের সময় একত্রিত হয়। তারপর যারা রাতের দায়িত্বে ছিল তারা আসমানে উঠে যায়। আল্লাহ তাআলা সব জানেন, তবুও তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে?
ফেরেশতারা উত্তর দেয়, আমরা তাদেরকে নামাযরত রেখে এসেছি এবং যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাযরত ছিল। [সহীহ বুখারী : ৫৫৫]
এ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এমন একটি বাস্তব দৃশ্যের কথা জানিয়েছেন, যা প্রতিদিন আমাদের জীবনে ঘটে। দৃশ্যটি একটু ভাবুন—ফজরের সময়টি কেমন সময়। তখন রাতের ফেরেশতারা বিদায় নিচ্ছে এবং দিনের ফেরেশতারা দায়িত্ব গ্রহণ করছে। এই পরিবর্তনের মুহূর্তে তারা আমাদের আমল দেখছে। কেউ যদি তখন আল্লাহর সামনে নামাযে মগ্ন থাকে, তখন ফেরেশতারা তার সেই দৃশ্যই আল্লাহর দরবারে পেশ করে। তারা বলে, ‘হে রব! আমরা আপনার অমুক বান্দাকে নামাযরত রেখে এসেছি।’
কিন্তু যদি কেউ তখন ঘুমিয়ে থাকে, অথবা গাফেল হয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন তার অবস্থাও তো ফেরেশতারা দেখছে। ফেরেশতারা তখন বলতে পারে, ‘হে রব! আমরা তাকে রেখে এসেছি, সে তখন ঘুমাচ্ছিল বা গাফেল ছিল।’
সুতরাং আপনি নিজেই ঠিক করুন—আপনার নামটি নামাযিদের তালিকায় থাকবে, নাকি গাফেলদের তালিকায়?
একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে সৌভাগ্যের মুহূর্ত হলো সেই সময়, যখন ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে গিয়ে বলতে পারে, ‘হে রব! আমরা তাকে নামাযরত রেখে এসেছি।’ কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি তখনই, যখন এই সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা নিজেও বলেন
وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا
ফজরের কুরআন (ফজরের নামায)। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন উপস্থিতির সাক্ষী হয়। [সূরা ইসরা : ৭৮]
অর্থাৎ ফজরের নামাযে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকে। আফসোস! এমন বরকতময় সময়েও কত ঘর অন্ধকারে নিস্তব্ধ পড়ে থাকে।
৩. মনোবল ও নৈতিক শক্তির মূল
ফজরের নামায আদায় করলে মানুষ উদ্যমী, শান্ত, মনোবল সম্পন্ন এবং নৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়। না পড়লে ঘুম ও গাফলতির কারণে মানুষ ক্লান্ত, অলস, খারাপ মনোভাবী এবং শয়তানের প্রভাবের অধীনে থাকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন
يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ علَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إذَا هو نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ، فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فإنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فإنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فأصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وإلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
যখন কেউ ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথায় তিনটি গিঁট বেঁধে দেয়। প্রতিটি গিঁট রাতের দীর্ঘ সময় ধরে তার উপর প্রভাব ফেলে| যদি কেউ জেগে আল্লাহকে স্মরণ করে, অযু করে, এবং নামায পড়ে, তাহলে সেই তিনটি গিঁট খুলে যায়। ফলত মানুষ সকালে উদ্যমী, প্রাণবন্ত এবং মন ভালো থাকে। আর যদি তা না করে, তবে সে কোনও উদ্দীপনা ছাড়া অলস ও খারাপ মনোভাবের হয়ে ওঠে। [সহীহ বুখারী : ১১৪২]
দেখবেন, আল্লাহর কিছু নেক বান্দা-বান্দি আছে, যারা সকালে তাদের কর্মক্ষেত্রে খুব প্রফুল্ল থাকে। অন্যদের সাথে তাদের আচরণ সুন্দর। কেন এমন হয়? কারণ তারা ফজরের নামায পড়েছে।
ঘুম থেকে উঠে তারা আল্লাহকে স্মরণ করেছে, পুরুষ হলে মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করেছে। অনেক সময় নামাযের পর বসে কুরআন তিলাওয়াত করে সূর্য ওঠা পর্যন্ত। তারপর অল্প কিছু নাশতা করে তারা কাজে নেমে যায়—উদ্যম ও প্রশান্তি নিয়ে।
সুতরাং ফজরের নামায কেবল আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নয়; এটি আমাদের মনোভাব, উদ্যম এবং সারাদিনের কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি-ও।
৪. আল্লাহর হেফাজত ও নিরাপত্তা লাভ
যুনদব ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সুফইয়ান আলবাজালি রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلَا يُتْبِعَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِنْ ذِمَّتِهِ
যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় চলে গেল। অতএব আল্লাহ যেন তার জিম্মার বিষয়ে তোমাদেরকে কোনোরূপ অভিযুক্ত না করেন। [তিরমিযী : ২১৮৪]
এখানে ‘জিম্মা’ বলতে বোঝানো হয়েছে—আল্লাহর নিরাপত্তা, আশ্রয় ও গ্যারান্টি। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ে, সে আল্লাহর নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে থাকে। কেউ যদি তাকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয় বা ক্ষতি করে, তবে সে নিজেকে আল্লাহর শাস্তির মুখে ঠেলে দেয়।
ভাবুন—কোনো ব্যক্তি যদি তার শত্রুর ভয়ে পালিয়ে শক্তিশালী এক রাজার আশ্রয় নেয়, তাহলে কি কেউ সহজে তাকে আঘাত করার সাহস করবে? আর যদি করে, সে কি শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে?
তাহলে চিন্তা করুন—যখন আশ্রয়দাতা স্বয়ং সকল রাজাদের রাজা, মহান আল্লাহ, তখন তাঁর আশ্রয়ে থাকা মানুষের মর্যাদা কত বড়!
একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
একবার প্রসিদ্ধ জালিম শাসক হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ এক ব্যক্তিকে হত্যা করার আদেশ দেন এবং সেই দায়িত্ব দেন সালিম ইবন আব্দুল্লাহকে। সালিম সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি মুসলিম?’
লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ।’
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আজ ফজরের নামায পড়েছ?’
লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ।’
তখন সালিম ফিরে গিয়ে তলোয়ারটি ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘সে বলেছে সে মুসলিম এবং আজ ফজরের নামায পড়েছে। আর রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ফজরের নামায পড়ে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। সুতরাং আমি তাকে হত্যা করতে পারবো না।’
পরে এই ঘটনা আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাযি.-এর কাছে পৌঁছালে মন্তব্য করেছিলেন
مِكْيَسٌ مِكْيَسٌ
সালিম খুব বুদ্ধিমান। খু-উ-ব বুদ্ধিমান। [সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৪/৪৬৭]
একটি ছোট ছেলের ঘটনা
আরব বিশ্বের অন্যতম আলেম শায়খ নাবীল আল-আওয়াযি-র কিতাবে পড়েছিলাম—একটি ছোট ছেলের ঘটনা। একদিন সে এক মজলিসে বসেছিল। সেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই হাদিস শুনল—যে ব্যক্তি জামাতে ফজরের নামায পড়ে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে।
ছেলেটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আব্বা! আল্লাহর জিম্মায় থাকা মানে কী?’
বাবা বললেন, ‘অর্থাৎ আল্লাহর হিফাজত ও তত্ত্বাবধানে থাকা।’
ছেলেটি বলল, ‘শুধু ফজরের নামায পড়লেই?’
বাবা বললেন, ‘হ্যাঁ।’
তখন ছেলেটি বলল, ‘তাহলে আব্বা! আমাকে ফজরের নামাযে আপনার সঙ্গে জাগিয়ে দেবেন।’
বাবা বললেন, ‘আচ্ছা।’
ছেলেটি বলল, ‘যদি না জাগান, তাহলে আমি স্কুলে যাব না।’
বাবা ভেবেছিলেন—এটা হয়তো বাচ্চাদের সাময়িক উচ্ছ্বাস। তাই তিনি ফজরে তাকে জাগালেন না; বরং স্কুলের সময় জাগালেন।
ছেলেটি বলল, ‘আপনি আমাকে ফজরে জাগালেন না কেন?’
বাবা বললেন, ‘তুমি তো ছোট। বড় হলে জাগাব।’
ছেলেটি বলল, ‘আমি আজ স্কুলে যাব না।’
বাবা যতই বোঝান, সে স্কুলে যেতে অস্বীকার করল। পরের দিন বাবা তাকে ফজরে জাগালেন—ছেলের পড়াশোনার চিন্তায়। ছেলেটি বাবার সঙ্গে মসজিদে গিয়ে জামাতে ফজর পড়ল। নামায শেষে সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল, আব্বা! আজ কি আমি আল্লাহর জিম্মায়?”
বাবা বললেন, ‘ইনশাআল্লাহ।’
সে স্কুলে গেল। ক্লাসে শিক্ষক বললেন, ‘যারা বাড়ির কাজ আনোনি, দাঁড়াও।’
কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে সে-ও দাঁড়াল। শিক্ষক একজন একজন করে বেত্রাঘাত করতে লাগলেন। তার পালা এলে ছেলেটি বলল, ‘আপনি আমাকে মারতে পারবেন না!’
শিক্ষক বললেন, ‘কেন? এত সাহস কোথা থেকে এলো?’
ছেলেটি বলল, কারণ নবীজি ﷺ বলেছেন—যে জামাতে ফজরের নামায পড়ে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। আজ আমি ফজরের নামায জামাতে পড়েছি। আমি তো আল্লাহর হিফাজতে আছি। আপনি কীভাবে আমাকে মারবেন?’
শিক্ষক হেসে বললেন, ‘তুমি সত্য বলেছ। আজ আমি তোমাকে মারব না।’
ফজরের নামায : মুমিনের শক্তি ও বরকতের সূচনা
মুহতারাম হাজিরীন! ফজরের নামায শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়। এটি নেককার মানুষের পাথেয়, মুত্তাকিদের শক্তি, এবং আল্লাহর বান্দাদের হৃদয়ের শান্তি। যারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তাদের অন্তর ফজরের জন্য আকুল থাকে। তারা ঘুমের আলস্য ঝেড়ে উঠে দাঁড়ায়, কারণ জানে—এই নামাজে রয়েছে অসীম সওয়াব ও বরকত।
ফজরের নামায আদায়কারীরা সৌভাগ্যবান। তাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল, কপাল আলোকিত, সময়গুলো বরকতময়। আপনি যদি তাদের মধ্যে থাকেন, আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করুন। যদি না হন, দোয়া করুন—তিনি যেন আপনাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
৫. সারা রাত দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সমান
উসমান ইবন আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ ، وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ
যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামায আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামায পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামায পড়লো। [সহীহ মুসলিম : ৬৫৬]
আল্লাহর কত বড় দয়া! ফজরের ফরজ নামায—যা মাত্র কয়েক মিনিটের—তার বিনিময়ে আল্লাহ পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব লিখে দেন।
নবীজি ﷺ-কে যখন তাহাজ্জুদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল—রাতের কিছু অংশ ইবাদতে কাটাতে—পুরো রাত ইবাদত করতে বলা হয়নি, কারণ তা মানুষের জন্য কষ্টকর। কিন্তু আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ উপায় দিয়েছেন—জামাতে ফজরের নামায আদায় করলে রাতভর ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।
৬. আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি
হযরত উমারা ইবনে রুয়াইবা রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি
لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا، يَعْنِي الفَجْرَ وَالْعَصْرَ
যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার আগে এবং সূর্য ডোবার আগে নামায অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায আদায় করে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
বসরা শহরের এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলেন—আপনি কি সত্যিই এ কথা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছেন?
তিনি বললেন
سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ، وَوَعَاهُ قَلْبِي
হ্যাঁ, আমার দুই কান তা শুনেছে এবং আমার হৃদয় তা সংরক্ষণ করেছে। [সহীহ মুসলিম : ৬৩৪]
ওলামায়ে কেরাম বলেন, এই দুই নামাযে নিয়মিত থাকার তাওফিক কেবল সেই ব্যক্তিই পায়, যার জন্য আল্লাহ সৌভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।
ফজর ও আসরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণও গভীর। ফজর হলো ঘুমের সময়—যখন মানুষ বিছানা ছাড়তে চায় না। আর আসর হলো দুনিয়ার ব্যস্ততার সময়—যখন মানুষ কাজ, ব্যবসা ও নানা চিন্তায় ডুবে থাকে। তাই যে ব্যক্তি এই দুই কঠিন সময়েও নামায রক্ষা করে, তার অন্য নামাযগুলো রক্ষা করার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
আরেকটি রহস্যও আছে। এই দুই সময়ে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা একত্রিত হয় এবং বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই এই সময়ের নামায বান্দার জন্য গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম হতে পারে।
৭. কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূর লাভ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অন্ধকারে যারা মসজিদের দিকে যায়, তাদেরকে কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও। [আবু দাউদ : ৫৬১]
আমরা জানি, কিয়ামতের দিন ভয়াবহ অন্ধকার হবে। এই সূর্য—যাকে আমরা প্রতিদিন দেখি—সেদিন গুটিয়ে নেওয়া হবে। তারকারা ছিটকে পড়বে ও নিভে যাবে। চারদিকে থাকবে গভীর অন্ধকার।
সেই অন্ধকারে কারো নূর হবে চোখ যতদূর দেখে ততদূর পর্যন্ত। কারো নূর হবে শুধু পায়ের আঙুল পর্যন্ত—একবার জ্বলে উঠবে, আবার নিভে যাবে। আর কেউ কেউ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকারে—কিছুই দেখতে পাবে না। এমনকি কেউ কেউ কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উঠবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا
সে বলবে, হে আমার রব! তুমি আমাকে অন্ধ অবস্থায় কেন উঠালে, অথচ আমি তো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ছিলাম? [সূরা ত্বা-হা : ১২৫]
আল্লাহ তাআলা বলবেন
قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آَيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى
এভাবেই আমার নিদর্শনগুলো তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আজ তুমিও তেমনি ভুলে যাওয়া হবে। [সূরা ত্বা-হা : ১২৬]
কিয়ামতের দিন যদি আপনি মুমিনদের দলে থাকেন, তবে আপনাকে অবশ্যই সিরাতের সেতু পার হতে হবে।
সেই সেতু কেমন? চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম, তলোয়ারের চেয়েও ধারালো। আর সেই সেতুর নিচে কী আছে? জাহান্নামের আগুন। আল্লাহ তাআলা বলেন
كَلَّا ۖ إِنَّهَا لَظَىٰ- نَزَّاعَةً لِّلشَّوَىٰ
কখনো নয়! নিশ্চয়ই তা প্রজ্বলিত আগুন—যা চামড়া টেনে ছিঁড়ে নেয়। [সূরা মাআরিজ : ১৫-১৬]
সেই আগুন নিচ থেকে গর্জন করবে এবং বলবে—আর আছে কি?
একবার ভাবুন—আপনি যদি সেই ভয়াবহ অন্ধকারে সিরাতের সেতুর উপর দিয়ে চলতে থাকেন, তাহলে কি সহজে পার হতে পারবেন? আপনার কি তখন নূরের প্রয়োজন হবে না? অবশ্যই হবে।
কিন্তু সেই নূর কোথায় পাওয়া যায়? ফজরের নামাযে, এশার নামাযে—অন্ধকারে আল্লাহর ঘরের দিকে হাঁটার মধ্যেই সেই নূর লুকিয়ে আছে।
মুনাফিকদের নূর সেদিন নিভে যাবে। তখন তারা ভয় পেয়ে মুমিনদের বলবে
انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ
আমাদের দিকে একটু তাকাও, তোমাদের নূর থেকে কিছু নিতে দাও। [সূরা হাদীদ : ১৩]
কিন্তু তখন তাদেরকে বলা হবে
ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا
পিছনে ফিরে যাও! দুনিয়ায় ফিরে যাও, সেখানেই নূর খুঁজে নাও। [সূরা হাদীদ : ১৩]
কিন্তু তখন তো আর দুনিয়ায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। দুনিয়ায় যে নূর সংগ্রহ করা হয়নি, কিয়ামতের দিন তা আর পাওয়া যাবে না।
৮. জান্নাতে প্রবেশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
مَن صَلَّى البَرْدَيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ
যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা সময়ের নামায আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [সহীহ বুখারী : ৫৭৪]
এখানে ‘দুই ঠান্ডা সময়’ বলতে বোঝানো হয়েছে—ফজর ও আসরের নামায। এ দুই সময় দিনের শুরু ও শেষভাগে হয়, যখন আবহাওয়া তুলনামূলক শান্ত ও শীতল থাকে।
৯. দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হওয়া
আয়শা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
ফজরের দুই রাকাত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। [সহীহ মুসলিম : ১২৪০]
১০. আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য
এটি হচ্ছে সর্বোত্তম পুরস্কার। হযরত জারীর রাযি. বলেন, এক রাতে আমরা নবীজি ﷺ-এর সঙ্গে বসে ছিলাম। তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন
إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٍ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ، فَافْعَلُوا
তোমরা অবশ্যই তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখছ—দেখতে কোনো কষ্ট বা ভিড় হবে না। তাই যদি পারো, সূর্য ওঠার আগে ও সূর্য ডোবার আগে নামায আদায়ে পরাজিত হয়ো না। [সহীহ বুখারী : ৫২৭]
ওলামায়ে কেরাম বলেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজর ও আসরের নামায রক্ষা করে, সে আল্লাহকে দেখার মহান নিয়ামতের আশা করতে পারে। কারণ নামাযই সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর ফজর ও আসরের নামাযের বিশেষ মর্যাদা আছে—এ সময় ফেরেশতারা একত্র হয়, বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।
তাই যে ব্যক্তি এই দুই নামায সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তাকে সর্বোচ্চ পুরস্কার দিতে পারেন। আর তা-হলো—আল্লাহ তাআলার দর্শন।
শেষ কথা
পরিশেষে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—এমন একটি দিন আসুক, যখন কোনো ব্যক্তি ফজরের নামাযে অনুপস্থিত থাকলে প্রতিটি মসজিদ থেকেই তার খোঁজ নেওয়া হবে।
এই উদ্দেশ্যে যদি প্রতিটি মসজিদে একটি ছোট টীম গঠন করা যায়—যারা মুসল্লিদের খোঁজখবর নেবে, তাদের নামাযের প্রতি উৎসাহিত করবে—তাহলে সমাজের চিত্রই বদলে যেতে পারে।
একদিন উমর রাযি. একজনকে ফজরের নামাযে না দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘অমুক কোথায়?’
আজ আমরা প্রশ্ন করি—কেউ অফিসে না গেলে, কাজে না গেলে, বা কোনো দাওয়াতে না এলে। কিন্তু তারা প্রশ্ন করতেন—ফজরের নামাযে না এলে!
দিনের বেলায় উমর রাযি. বাজারে সেই লোকের মাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে অমুকের মা! তোমার ছেলে কোথায়? তাকে তো আজ ফজরের নামাযে দেখলাম না।’
তিনি বললেন, ‘সে সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়েছিল, তাই ঘুমে তার চোখ ভারী হয়ে গেছে।’
তখন উমর রাযি. বললেন, ‘আল্লাহর কসম! জামাতে ফজরের নামায পড়া আমার কাছে সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেয়েও বেশি প্রিয়।’ [মুয়াত্তা মালিক : ৩০১]
আজ আমরা কেন ফজরের নামাযে উঠতে পারি না?
—কখনো টিভির কারণে,
—কখনো অর্থহীন আড্ডার কারণে,
—কখনো গীবত ও পরনিন্দার কারণে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফজরের নামাযে ওঠার তাওফিক দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয়ে ফজরের নামাযের প্রতি ভালোবাসা দান করুন, ঘুম ও অলসতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন, আর আমাদের নামাযগুলোকে কবুল করে নিন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
কাবলাল জুমআ চার রাকাত ; একটি দালিলিক পর্যালোচনা
একজন সম্মানিত আলিমের একটি কথা, যিনি রিয়াদ থেকে পি.এইচ.ডি করেছেন এবং এখন এদেশের একটি ইসলামী বিশ্ববিদ...
হাদীস ও আছারের আলোকে বিতর নামায – ৩য় পর্ব
...
হাদীস ও আছারের আলোকে বিতর নামায – ২য় পর্ব
...
বিশ রাকাত তারাবী কি বিদআত!
প্রজন্ম পরম্পরায় চলে আসা হারামাইন শরীফাইনের আমল তারাবীর বিষয়ে প্রজন্ম পরম্পরায় চলে আসা মসজিদে হারাম ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন