প্রবন্ধ
হজ্ব করতে কাবায় যাওয়া অনর্থক! বাউল মতবাদ! পর্ব—২০
১৯৪৬
০
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হলো ‘হজ্ব’। যা পালন করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে যাওয়া ফরজ।
বাউল ধর্মে কী বলে?
বাউল সাধক লালন ফকির বলেছে—
আদি মক্কা এই মানবদেহে, দেখ নারে মন ভেয়ে,
দেশ-দেশান্তর দৌড়ে, মরছোরে কেনে হাপিয়ে। —মহাত্মা লালন, পৃ. ১৯
দেহতে আদী গয়া কাবা, না খুঁজলে মন ধোঁকা খাবা।
তীর্থে তীর্থে বেড়ায়ে ঘুরে, অধরার দেখা নাই পাই। —মহাত্মা লালন, পৃ. ১৭৫
মহাত্মা ফকির লালনের কাছে মানবের এই সাড়ে তিন হাত দেহখানী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধনা ক্ষেত্র এবং তীর্থভূমির চাইতে অধিক পবিত্র। —মহাত্মা লালন, পৃ. ১৯
ফকির লালন শাহ বিশ্বাস করতেন যে, এই মানব দেহের ভেতরে বিধাতার বসবাস; এই দেল কাবাতেই খুঁজলে পরম আত্মার সন্ধান মেলে। —মহাত্মা লালন, পৃ. ১৯
অর্থাৎ, গুরুর দেহটাই কাবা এবং কাবার চেয়েও পবিত্র। এই কাবা ছেড়ে মক্কার কাবায় যাওয়া অনর্থক। নাউযুবিল্লাহ!
ইসলাম কী বলে?
পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত কাবায় যাওয়ার বিধান আমাদের বানানো নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ। কারণ, হজ্ব ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বতন্ত্র বিধান। শক্তি ও সামর্থের উপর এটা ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন—
وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ
“মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। কেউ (এটা) অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্ব জগতের সমস্ত মানুষ হতে অমুখাপেক্ষী।” –(সুরা আলে ইমরান : ৯৭)
সুতরাং, আল্লাহর নির্দেশকে অবান্তর বলে যারা ঠাট্টা করে, তারা নিঃসন্দেহে সুস্পষ্টভাবে বেঈমান।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
শিরক উচ্ছেদকারী সাধকের কবর শিরক-ওরসের কেন্দ্র কেন?
...
ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের বহুমুখী ষড়যন্ত্র মুসলিম উম্মাহর করণীয়
কুরআন-হাদীসে ইয়াহুদী-খ্রিস্টানের পরিচয় ইয়াহুদী জাতি পৃথিবীর প্রাচীনতম জাতি। আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ আ...
ইসলামই পৃথিবীর ভবিষ্যত
...
মূর্তি ও ভাস্কর্য : যুগে যুগে শিরকের সর্ববৃহৎ প্রণোদনা
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন