সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আর রহমান (الـرحـمـن) | পরম করুণাময়

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৭৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلرَّحۡمٰنُ ۙ ١

আররাহমা-নু।

তিনি তো রহমানই,

তাফসীরঃ

১. মক্কার মুশরিকগণ আল্লাহ তাআলার ‘রহমান’ নামকে স্বীকার করত না। তারা বলত, রহমান কী তা আমরা জানি না, যেমন সূরা ফুরকানে (২৫ : ৬০) বর্ণিত হয়েছে। ‘রহমান’ নামটি তাদের এত অসহ্য হওয়ার কারণ সম্ভবত এই যে, ‘সর্বপ্রকার রহমত আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট’ একথা বিশ্বাস করলে তাদের মনগড়া উপাস্যদের হাতে এমন কিছু থাকে না, যার ভিত্তিতে তারা তাদের কাছে ধরনা দেবে এবং মনষ্কাম পূরণের জন্য তাদের পূজা-অর্চনা করবে। আর এভাবে রহমানকে মেনে নিলে আপনা-আপনিই তাদের শিরকের মূলোৎপাটন হয়ে যায়। এ সূরায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, রহমান সেই আল্লাহরই নাম, যার রহমত বিশ্ব-জগত জুড়ে ব্যাপ্ত। তিনি ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তোমাদেরকে রিযক, সন্তান বা অন্য কোন নি‘আমত দিতে পারে। তাই ইবাদতের হকদার কেবল তিনিই, অন্য কেউ নয়।

عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ ٢

‘আল্লামাল কুরআ-ন।

যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ ۙ ٣

খালাকাল ইনছা-ন।

মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

عَلَّمَہُ الۡبَیَانَ ٤

‘আল্লামাহুল বায়া-ন।

তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন।

اَلشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٍ ۪ ٥

আশশামছুওয়ালকামারু বিহুছবা-ন।

সূর্য ও চন্দ্র একটি হিসাবের সাথে আবদ্ধ আছে।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ উভয়ের উদয়, অস্ত, হ্রাস-বৃদ্ধি বা একই অবস্থায় থাকা, অতঃপর তার মাধ্যমে ঋতু-মওসুমের পরিবর্তন ঘটা ও জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলা এসব কিছুই বিশেষ এক হিসাব ও পরিপক্ব নিয়ম-শৃঙ্খলার অধীনে নিষ্পন্ন হয়। সেই হিসাব ও নিয়ম-বৃত্তের বাইরে যাওয়ার কোন ক্ষমতা এদের নেই (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে সংক্ষেপিত)।

وَّالنَّجۡمُ وَالشَّجَرُ یَسۡجُدٰنِ ٦

ওয়ান্নাজমুওয়াশশাজারু ইয়াছজূদা-ন।

তৃণলতা ও বৃক্ষ তাঁর সম্মুখে সিজদা করে।

তাফসীরঃ

৩. তৃণলতা ও গাছপালার এ সিজদা প্রকৃত অর্থেও হতে পারে। কুরআন মাজীদে কয়েক জায়গায় ইরশাদ হয়েছে, সমস্ত সৃষ্টির মধ্যেই কিছু না কিছু অনুভূতি আছে (দেখুন সূরা বনী ইসরাঈল ১৭ : ৪৪)। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, এরা সব আল্লাহ তাআলার হুকুম মেনে চলে।

وَالسَّمَآءَ رَفَعَہَا وَوَضَعَ الۡمِیۡزَانَ ۙ ٧

ওয়াছ ছামাআ রাফা‘আহা-ওয়া ওয়াদা‘আল মীঝা-ন।

এবং তিনিই আকাশকে উঁচু করেছেন এবং তুলাদণ্ড স্থাপন করেছেন,

اَلَّا تَطۡغَوۡا فِی الۡمِیۡزَانِ ٨

আল্লা-তাতাগাও ফিল মীঝা-ন।

যাতে তোমরা পরিমাপে জুলুম না কর।

وَاَقِیۡمُوا الۡوَزۡنَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تُخۡسِرُوا الۡمِیۡزَانَ ٩

ওয়া আকীমুল ওয়াঝনা বিলকিছতিওয়ালা-তুখছিরুল মীঝা-ন।

এবং ইনসাফের সাথে ওজন ঠিক রাখ এবং পরিমাপে কম না দাও।
১০

وَالۡاَرۡضَ وَضَعَہَا لِلۡاَنَامِ ۙ ١۰

ওয়াল আরদা ওয়া দা‘আহা-লিলআনা-ম।

এবং পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টজীবের জন্য।
১১

فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ ۪ۙ  وَّالنَّخۡلُ ذَاتُ الۡاَکۡمَامِ ۖ ١١

ফীহা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়ান্নাখলুযা-তুল আকমা-ম।

তাতে আছে ফলমূল এবং চুমরিযুক্ত খেজুর গাছ।
১২

وَالۡحَبُّ ذُو الۡعَصۡفِ وَالرَّیۡحَانُ ۚ ١٢

ওয়াল হাব্বুযুল‘আসফি ওয়াররাইহা-ন।

এবং খোসা বিশিষ্ট শস্যদানা ও সুগন্ধযুক্ত ফুল।
১৩

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٣

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা-তুকাযযিবা-ন।

সুতরাং (হে মানুষ ও জিন্ন!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?

তাফসীরঃ

৪. এ আয়াত শুনে বলা উচিত لَا بِشَىْءٍ مِنْ نِعَمِكَ رَبَّنَا نُكَذِّبُ فَلَكَ الْحَمْدُ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার কোনও নি‘আমতকেই অস্বীকার করি না সকল প্রশংসা তোমারই (তিরমিযী, হাকিম)। -অনুবাদক
১৪

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ کَالۡفَخَّارِ ۙ ١٤

খালাকাল ইনছা-না মিন সালসা-লিন কাল ফাখখা-র।

তিনিই মানুষকে পোড়া মাটির মত ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
১৫

وَخَلَقَ الۡجَآنَّ مِنۡ مَّارِجٍ مِّنۡ نَّارٍ ۚ ١٥

ওয়া খালাকাল জান্না মিম্মা-রিজিমমিন্না-র।

আর জিন্নদেরকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের শিখা দ্বারা।
১৬

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٦

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
১৭

رَبُّ الۡمَشۡرِقَیۡنِ وَرَبُّ الۡمَغۡرِبَیۡنِ ۚ ١٧

রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইন।

তিনিই দুই মাশরিক (উদয়াচল) ও দুই মাগরিব (অস্তাচল)-এর প্রতিপালক।

তাফসীরঃ

৫. ‘মাশরিক’ মূলত আকাশের যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেই দিগন্তকে বলে। এমনিভাবে মাগরিবও বলে সেই দিগন্তকে যেখানে গিয়ে সূর্য অস্ত যায়। যেহেতু শীত ও গ্রীষ্মকালে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার স্থান বদল হয়ে যায়, তাই সে স্থানসমূহকে দুই মাশরিক ও দুই মাগরিব নামে অভিহিত করা হয়েছে।
১৮

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ١٨

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
১৯

مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ ۙ ١٩

মারাজাল বাহরাইনি ইয়ালতাকিয়া-ন।

তিনিই দুই সাগরকে এভাবে প্রবাহিত করেন যে, তারা পরস্পর মিলিত হয়,
২০

بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ ۚ ٢۰

বাইনাহুমা-বারঝাখুল লা-ইয়াবগিয়া-ন।

কিন্তু (তা সত্ত্বেও) তাদের মধ্যে থাকে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।

তাফসীরঃ

৬. দুই নদী বা দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে যে-কেউ আল্লাহ তাআলার কুদরতের এ মাহাত্ম্য দেখতে পাবে যে, উভয়টির পানি পাশাপাশি বয়ে চলে অথচ একটির পানি অন্যটির ভেতর ঢোকে না। উভয়ের মাঝখানে এক সূক্ষ্ম রেখার মত থেকে যায়, যা দ্বারা বোঝা যায়, সেখানে দু’টো নদী বা সাগর পাশাপাশি বহমান।
২১

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢١

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
২২

یَخۡرُجُ مِنۡہُمَا اللُّؤۡلُؤُ وَالۡمَرۡجَانُ ۚ ٢٢

ইয়াখরুজূমিনহুমাল লু’লূউ ওয়াল মার জা-ন।

উভয় সাগর থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও পলা।
২৩

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢٣

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
২৪

وَلَہُ الۡجَوَارِ الۡمُنۡشَئٰتُ فِی الۡبَحۡرِ کَالۡاَعۡلَامِ ۚ ٢٤

ওয়ালাহুল জাওয়া-রিল মুনশাআ-তুফিল বাহরি কালআ‘লা-ম।

সাগরে উঁচু পাহাড়ের মত চলমান জাহাজসমূহ তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন।
২৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٪ ٢٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
২৬

کُلُّ مَنۡ عَلَیۡہَا فَانٍ ۚۖ ٢٦

কুল্লুমান ‘আলাইহা-ফা-নিওঁ।

ভূ-পৃষ্ঠে যা-কিছু আছে, সবই ধ্বংস হবে।
২৭

وَّیَبۡقٰی وَجۡہُ رَبِّکَ ذُو الۡجَلٰلِ وَالۡاِکۡرَامِ ۚ ٢٧

ওয়া ইয়াবকা-ওয়াজহু রাব্বিকা যুল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

বাকি থাকবে কেবল তোমার প্রতিপালকের গৌরবময়, মহানুভব সত্তা।
২৮

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٢٨

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
২৯

یَسۡـَٔلُہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  کُلَّ یَوۡمٍ ہُوَ فِیۡ شَاۡنٍ ۚ ٢٩

ইয়াছআলুহূমান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লা ইয়াওমিন হুওয়া ফী শা’ন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, সকলে তাঁরই কাছে (আপন-আপন প্রয়োজন) যাচনা করে। তিনি প্রত্যহ একেকটি শানে থাকেন।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ তিনি সৃষ্টি জগতের নিয়ন্ত্রণ ও সৃষ্টি নিচয়ের প্রয়োজন সমাধার্থে নিজের কোন না কোন শান ও গুণ প্রকাশ করছেন।
৩০

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣۰

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৩১

سَنَفۡرُغُ لَکُمۡ اَیُّہَ الثَّقَلٰنِ ۚ ٣١

ছানাফরুগু লাকুম আইয়ুহাছছাকালা-ন।

ওহে দুই ওজনদার সৃষ্টি! আমি শীঘ্রই তোমাদের (হিসাব নেওয়ার) জন্য মুক্ত হয়ে যাব।

তাফসীরঃ

৮. এখানে ‘মুক্ত হওয়া’ কথাটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে, এখন তো আল্লাহ তাআলা জগতের অন্যান্য কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। এখন তিনি হিসাব গ্রহণের দিকে মনোযোগ দেননি। তবে সেই সময় আসন্ন, যখন তিনি হিসাব গ্রহণের দিকে মনোযোগী হবেন। প্রকাশ থাকে যে, ৪৪ নং আয়াত পর্যন্ত জাহান্নামীদের আযাব সম্পর্কে আলোচনা। অথচ তার সাথেও প্রতিটি স্থানে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমত অস্বীকার করবে?’ প্রশ্ন হয় এক্ষেত্রে নি‘আমত কী? উত্তর এই যে, আল্লাহ তাআলা যে সেই বিভীষিকাময় শাস্তি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, এটাই তার এক বিরাট নি‘আমত। তোমরা এ নি‘আমত অস্বীকার করো না। তাছাড়া এই যে শাস্তির কথা বলা হচ্ছে, এটা আল্লাহ তাআলার নি‘আমতকে অস্বীকার করার পরিণাম। এ পরিণাম জানা সত্ত্বেও কি তোমরা তার নি‘আমতসমূহ অস্বীকার করে যাবে?
৩২

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٢

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৩৩

یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ فَانۡفُذُوۡا ؕ  لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ ۚ ٣٣

ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ইনিছতাতা‘তুম আন তানফুযূমিন আকতা-রিছ ছামাওয়া-তি ওয়াল আরদিফানফুযূ লা-তানফুযূনা ইল্লা-বিছুলতা-ন।

হে মানুষ ও জিন্ন সম্প্রদায়! তোমাদের যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করার সামর্থ্য থাকে, তবে তা অতিক্রম কর। তোমরা প্রচণ্ড শক্তি ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ তোমাদের সেই সামর্থ্য নেই, যা দ্বারা তোমরা আল্লাহ তাআলার জিজ্ঞাসাবাদ ও আযাব থেকে পালিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবে।
৩৪

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٤

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৩৫

یُرۡسَلُ عَلَیۡکُمَا شُوَاظٌ مِّنۡ نَّارٍ ۬ۙ  وَّنُحَاسٌ فَلَا تَنۡتَصِرٰنِ ۚ ٣٥

ইউরছালু‘আলাইকুমা-শুওয়া-জু ম মিন্না-রিওঁ ওয়া নুহা-ছুন ফালা-তানতাসিরা-ন।

তোমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে আগুনের শিখা এবং তাম্রবর্ণের ধোঁয়া। তখন তোমরা পারবে না আত্মরক্ষা করতে।
৩৬

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٦

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৩৭

فَاِذَا انۡشَقَّتِ السَّمَآءُ فَکَانَتۡ وَرۡدَۃً کَالدِّہَانِ ۚ ٣٧

ফাইযান শাককাতিছ ছামাউ ফাকা-নাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহা-ন।

(সেই সময় অবশ্যম্ভাবী) যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং তা লাল চামড়ার মত লাল-গোলাপী হয়ে যাবে।
৩৮

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٣٨

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৩৯

فَیَوۡمَئِذٍ لَّا یُسۡـَٔلُ عَنۡ ذَنۡۢبِہٖۤ اِنۡسٌ وَّلَا جَآنٌّ ۚ ٣٩

ফাইয়াওমা ইযিল্লা-ইউছআলু‘আন যামবিহী ইনছুওঁ ওয়ালা-জান।

সেই দিন না কোন মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, না কোন জিন্নকে। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ প্রশ্ন-উত্তর ও হিসাব-নিকাশের বিষয়টা তো আগেই শেষ হয়ে গেছে, যখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত করার জন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। এখন তো তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের সময়। কাজেই এখন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপের জন্য তারা কি কি গুনাহ করেছিল তা জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার হবে না। কেননা তিনি নিজেই সব জানেন। আর ফেরেশতাদেরও জিজ্ঞাসার প্রয়োজন হবে না। কারণ পরের আয়াতে আসছে যে, অপরাধীদেরকে তাদের চেহারার আলামত দেখেই চেনা যাবে।
৪০

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤۰

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৪১

یُعۡرَفُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ بِسِیۡمٰہُمۡ فَیُؤۡخَذُ بِالنَّوَاصِیۡ وَالۡاَقۡدَامِ ۚ ٤١

ইউ‘রাফুল মুজরিমূনা বিছীমা-হুম ফাইউ’খাযুবিন্নাওয়া-ছী ওয়াল আকদা-ম।

অপরাধীদেরকে তাদের আলামত দ্বারা চেনা যাবে। ১২ তারপর তাদেরকে পাকড়াও করা হবে তাদের পা ও মাথার অগ্রভাগের চুল ধরে।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ তাদের চেহারায় থাকবে বিষণ্ণতার ছাপ, চেহারার রং হবে কালো, চোখ হবে নীল। এ আলামত দেখেই বোঝা যাবে তারা অপরাধী। এর বিপরীতে মুমিনদের ওযুর অংগগুলো থাকবে উজ্জ্বল এবং চেহারায় থাকবে সিজদার চি‎হ্ন। -অনুবাদক
৪২

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤٢

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৪৩

ہٰذِہٖ جَہَنَّمُ الَّتِیۡ یُکَذِّبُ بِہَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ۘ ٤٣

হা-যিহী জাহান্নামুল্লাতী ইউকাযযি বুবিহাল মুজরিমূন।

এই সেই জাহান্নাম, অপরাধীরা যা অবিশ্বাস করত।
৪৪

یَطُوۡفُوۡنَ بَیۡنَہَا وَبَیۡنَ حَمِیۡمٍ اٰنٍ ۚ ٤٤

ইয়াতূ ফূনা বাইনাহা-ওয়া বাইনা হামীমিন আ-ন।

তারা এর আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছোটাছুটি করবে।
৪৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٪ ٤٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৪৬

وَلِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ جَنَّتٰنِ ۚ ٤٦

ওয়া লিমান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহী জান্নাতা-ন।

(দুনিয়ায়) যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখত, তার জন্য থাকবে দু’টি উদ্যান।
৪৭

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۙ ٤٧

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৪৮

ذَوَاتَاۤ اَفۡنَانٍ ۚ ٤٨

যাওয়া-তা আফনা-ন।

উভয় উদ্যান শাখা-প্রশাখায় পরিপূর্ণ।
৪৯

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٤٩

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৫০

فِیۡہِمَا عَیۡنٰنِ تَجۡرِیٰنِ ۚ ٥۰

ফীহিমা-‘আইনা-নি তাজরিয়া-ন।

উভয় উদ্যানে দু’টি প্রস্রবণ প্রবাহিত থাকবে।
৫১

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥١

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৫২

فِیۡہِمَا مِنۡ کُلِّ فَاکِہَۃٍ زَوۡجٰنِ ۚ ٥٢

ফীহিমা-মিন কুল্লি ফা-কিহাতিন ঝাওজা-ন।

তাতে প্রত্যেক ফল থাকবে দু’ দু’প্রকার। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ এক প্রকার দুনিয়ার পরিচিত ফল এবং আরেক প্রকার এমন যা দুনিয়ায় দেখেনি। এভাবে দুনিয়ায় যত প্রকারের ফল আছে, তার প্রত্যেকটিরই এক অপরিচিত প্রকারও জান্নাতে থাকবে। -অনুবাদক
৫৩

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٣

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৫৪

مُتَّکِـِٕیۡنَ عَلٰی فُرُشٍۭ بَطَآئِنُہَا مِنۡ اِسۡتَبۡرَقٍ ؕ  وَجَنَا الۡجَنَّتَیۡنِ دَانٍ ۚ ٥٤

মুত্তাকিঈনা ‘আলা-ফুরুশিম বাতাইনুহা-মিন ইছতাবরাকিও ওয়া জানাল জান্নাতাইনি দা-ন।

তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) সেখানে এমন বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে, যাতে থাকবে পুরু রেশমের আস্তর এবং উভয় উদ্যানের ফল তাদের কাছে ঝোঁকা থাকবে।
৫৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৫৬

فِیۡہِنَّ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ ۙ  لَمۡ یَطۡمِثۡہُنَّ اِنۡسٌ قَبۡلَہُمۡ وَلَا جَآنٌّ ۚ ٥٦

ফীহিন্না কা-সিরা-তুত্তারফি লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনছুন কাবলাহুম ওয়ালা-জান।

সেই উদ্যানসমূহের মধ্যে থাকবে এমন আনত নয়না (নারী) যাদেরকে জান্নাতবাসীদের আগে না কোন মানুষ স্পর্শ করেছে, না কোন জিন্ন।
৫৭

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٥٧

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৫৮

کَاَنَّہُنَّ الۡیَاقُوۡتُ وَالۡمَرۡجَانُ ۚ ٥٨

কাআন্নাহুন্নাল ইয়া‘কূতুওয়াল মারজান-ন।

তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।
৫৯

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٥٩

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৬০

ہَلۡ جَزَآءُ الۡاِحۡسَانِ اِلَّا الۡاِحۡسَانُ ۚ ٦۰

হাল জাঝাউল ইহছা-নি ইল্লাল ইহছা-ন।

উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে?
৬১

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٦١

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৬২

وَمِنۡ دُوۡنِہِمَا جَنَّتٰنِ ۚ ٦٢

ওয়া মিন দূনিহিমা-জান্নাতা-ন।

এবং সেই উদ্যান দু’টি অপেক্ষা কিছুটা নিম্নস্তরের আরও দু’টি উদ্যান থাকবে। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. অধিকাংশ মুফাসসিরগণের মতে পূর্বে ৪৬ নং আয়াতে যে দু’টি উদ্যানের কথা বলা হয়েছিল, সে দু’টি হবে উচ্চ স্তরের মুমিন বান্দাদের জন্য, যেমন সামনে সূরা ওয়াকি‘আয় এর বিস্তারিত বিবরণ আসছে। এখন ৬২ নং আয়াত থেকে যে দু’টি জান্নাত সম্পর্কে বলা হচ্ছে তা সাধারণ মুমিনদের জন্য।
৬৩

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۙ ٦٣

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৬৪

مُدۡہَآمَّتٰنِ ۚ ٦٤

মুদ হূমমাতা-ন।

উদ্যান দু’টি (অত্যধিক সবুজ হওয়ার কারণে) কৃষ্ণাভ দেখা যাবে। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. সবুজ রং বেশি গাঢ় ও গভীর হলে দূর থেকে তা ঈষৎ কালো মনে হয়। জান্নাতের এ উদ্যান দু’টি সে রকমই হবে।
৬৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৬৬

فِیۡہِمَا عَیۡنٰنِ نَضَّاخَتٰنِ ۚ ٦٦

ফীহিমা-‘আইনা-নি নাদ্দাখাতা-ন।

উভয় উদ্যানে থাকবে দু’টি উচ্ছলিত প্রস্রবণ।
৬৭

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٧

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৬৮

فِیۡہِمَا فَاکِہَۃٌ وَّنَخۡلٌ وَّرُمَّانٌ ۚ ٦٨

ফীহিমা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়া নাখলুওঁ ওয়ারুম্মা-ন।

তাতে থাকবে ফলমূল, খেজুর ও আনার।
৬৯

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٦٩

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৭০

فِیۡہِنَّ خَیۡرٰتٌ حِسَانٌ ۚ ٧۰

ফীহিন্না খাইরা-তুন হিছা-ন।

তাতে থাকবে সচ্চরিত্রা, সুন্দরী নারী।
৭১

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧١

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৭২

حُوۡرٌ مَّقۡصُوۡرٰتٌ فِی الۡخِیَامِ ۚ ٧٢

হূরুমমাকসূরা-তুন ফিল খিয়া-ম।

এমন হুর, যাদেরকে তাঁবুতে হেফাজতে ১৬ রাখা হয়েছে।

তাফসীরঃ

১৬. সে সব তাঁবু কেমন হবে? বুখারী শরীফের এক হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, তা হবে বিশাল লম্বা-চওড়া মুক্তার তৈরি।
৭৩

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧٣

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৭৪

لَمۡ یَطۡمِثۡہُنَّ اِنۡسٌ قَبۡلَہُمۡ وَلَا جَآنٌّ ۚ ٧٤

লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনছুন কাবলাহুম ওয়ালা-জান।

তাদেরকে তাদের (অর্থাৎ জান্নাতবাসীদের) পূর্বে না কোন মানুষ স্পর্শ করেছে, না কোন জিন।
৭৫

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ۚ ٧٥

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৭৬

مُتَّکِـِٕیۡنَ عَلٰی رَفۡرَفٍ خُضۡرٍ وَّعَبۡقَرِیٍّ حِسَانٍ ۚ ٧٦

মুত্তাকিঈনা ‘আলা-রাফরাফিন খুদরিওঁ ওয়া ‘আবকারিইয়িন হিছা-ন।

তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) সবুজ রফরফ ১৭ ও অদ্ভুত সুন্দর গালিচায় হেলান দিয়ে বসা থাকবে।

তাফসীরঃ

১৭. ‘রফরফ’ কারুকার্য খচিত কার্পেট। প্রকাশ থাকে যে, এখানে জান্নাতের নি‘আমতরাজির মধ্যে যেগুলোর কথা উল্লেখ করা হল, যদিও দুনিয়ায়ও এই একই নামের দ্রব্য-সামগ্রী রয়েছে, কিন্তু আকৃতি-প্রকৃতি ও স্বাদে-আনন্দে উভয়ের মধ্যে কোন তুলনা চলে না। এ নামে দুনিয়ায় যা-কিছু আছে, তার চেয়ে জান্নাতেরগুলো অতুলনীয়ভাবে উৎকৃষ্ট হবে। সহীহ হাদীছে আছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দাদের জন্য এমন সব নি‘আমত তৈরি করে রেখেছেন, যা আজ পর্যন্ত কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কারও অন্তর তা কল্পনাও করেনি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তা লাভ করার সৌভাগ্য দান করুন আমীন।
৭৭

فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ ٧٧

ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
৭৮

تَبٰرَکَ اسۡمُ رَبِّکَ ذِی الۡجَلٰلِ وَالۡاِکۡرَامِ ٪ ٧٨

তাবা-রাকাছমুরাব্বিকা যিল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।

বড় মহিয়ান তোমার প্রতিপালকের নাম, যিনি গৌরবময়, মহানুভব!
সূরা আর রহমান | মুসলিম বাংলা