সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ফুরকান (الفرقان) | সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রম্থ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৭৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

تَبٰرَکَ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡفُرۡقَانَ عَلٰی عَبۡدِہٖ لِیَکُوۡنَ لِلۡعٰلَمِیۡنَ نَذِیۡرَا ۙ ١

তাবা-রাকাল্লাযী নাঝঝালাল ফুরকা-না ‘আলা-‘আবদিহী লিইয়াকূনা লিল‘আ-লামীনা নাযীরা-।

মহিমময় সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দার প্রতি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে মীমাংসাকারী কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য হয় সতর্ককারী।

ۣالَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ شَرِیۡکٌ فِی الۡمُلۡکِ وَخَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ فَقَدَّرَہٗ تَقۡدِیۡرًا ٢

আল্লাযীলাহুমুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ালাম ইয়াত্তাখিয ওয়ালাদাওঁ ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহূশারীকুন ফিল মুলকি ওয়া খালাকা কুল্লা শাইয়িন ফাকাদ্দারাহূতাকদীরা-।

সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক। যিনি কোন পুত্র গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে নেই তাঁর কোন অংশীদার। আর যিনি প্রতিটি বস্তুকে সৃষ্টি করে তাকে দান করেছেন এক সুনির্দিষ্ট পরিমিতি।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ প্রত্যেকটি জিনিসকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তার আকার-আকৃতি, গুণাবলী, যোগ্যতা-ক্ষমতা, আয়ু, খাদ্য, অবস্থা ও প্রাসঙ্গিক সবকিছুর একটা পরিমাণ স্থির করে দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ীই তা সংঘটিত হয়। স্থিরীকৃত সে পরিমাণ-পরিধির মধ্যেই প্রতিটি সৃষ্টি বিরাজ-বিচরণ করে, তা অতিক্রম করার সাধ্য নেই কারও। -অনুবাদক

وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً لَّا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ وَلَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا وَّلَا یَمۡلِکُوۡنَ مَوۡتًا وَّلَا حَیٰوۃً وَّلَا نُشُوۡرًا ٣

ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিহীআ-লিহাতাল লা-ইয়াখলুকূ না শাইআওঁ ওয়াহুম ইউখলাকূ না ওয়ালা-ইয়ামলিকূনা লিআনফুছিহিম দাররাওঁ ওয়ালা-নাফ‘আওঁ ওয়ালা-ইয়ামলিকূনা মাওতাওঁ ওয়ালা-হায়া-তাওঁ ওয়ালা-নুশূরা-।

আর মানুষ তাকে ছেড়ে এমন সব মাবুদ গ্রহণ করে নিয়েছে, যারা কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না; বরং খোদ তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়। তাদের নেই খোদ নিজেদেরও কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা। আর না আছে কারও মৃত্যু ও জীবন দান কিংবা কাউকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা।

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡکُۨ افۡتَرٰىہُ وَاَعَانَہٗ عَلَیۡہِ قَوۡمٌ اٰخَرُوۡنَ ۚۛ  فَقَدۡ جَآءُوۡ ظُلۡمًا وَّزُوۡرًا ۚۛ ٤

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূইন হা-যাইল্লাইফকুনিফতারা-হু ওয়াআ‘আ-নাহূ ‘আলাইহি কাওমুন আ-খারূনা ফাকাদ জাঊ জুলমাওঁ ওয়াঝূরা-।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক মনগড়া জিনিস ছাড়া কিছুই নয়, যা সে নিজে রচনা করেছে এবং অপর এক গোষ্ঠী তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে। এভাবে (এ মন্তব্য করে) তারা ঘোর জুলুম ও প্রকাশ্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।

তাফসীরঃ

২. মক্কা মুকাররমার কতিপয় কাফের অপবাদ দিয়েছিল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদের কাছ থেকে বিগত কালের নবী-রাসূলের ঘটনাবলী শিখে নিয়েছেন আর সেসব ঘটনা কারও দ্বারা লিপিবদ্ধ করিয়ে এই কুরআন বানিয়ে নিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ), অথচ তারা যে সকল ইয়াহুদীর কথা বলত, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তিনি যদি তাদের কাছ থেকে শিখে নেওয়া বিষয়কে আল্লাহর কালাম বলে চালানোর চেষ্টা করতেন, তবে সবার আগে সেই ইয়াহুদীদের কাছেই সে গোমর ফাঁস হয়ে যেত। আর এহেন অবস্থায় তারা তাকে সত্য নবী বলে স্বীকার করে তাঁর প্রতি ঈমান আনে কী করে?

وَقَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ اکۡتَتَبَہَا فَہِیَ تُمۡلٰی عَلَیۡہِ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا ٥

ওয়া কা-লূআছা-তীরুল আওওয়ালীনাক তাতাবাহা-ফাহিয়া তুমলা-আলাইহি বুকরাতাওঁ ওয়াআসীলা-।

এবং তারা বলে, এটা তো পূর্ববর্তী লোকদের লেখা আখ্যান, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় সেটাই তার সামনে পড়ে শোনানো হয়।

قُلۡ اَنۡزَلَہُ الَّذِیۡ یَعۡلَمُ السِّرَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٦

কুল আনঝা-লাহুল্লাযী ইয়া‘লামুছছিররা ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাহূকা-না গাফূরার রাহীমা-।

বলে দাও, এটা (এই বাণী) তো নাযিল করেছেন সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় গুপ্ত রহস্য জানেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

وَقَالُوۡا مَالِ ہٰذَا الرَّسُوۡلِ یَاۡکُلُ الطَّعَامَ وَیَمۡشِیۡ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ  لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مَلَکٌ فَیَکُوۡنَ مَعَہٗ نَذِیۡرًا ۙ ٧

ওয়া কা-লূমা-লি হা-যার রাছূলি ইয়া’কুলুততা‘আমা ওয়া ইয়ামশী ফিল আছওয়া-কি লাওলাউনঝিলা ইলাইহি মালাকুন ফাইয়াকূনা মা‘আহূনাযীরা-।

এবং তারা বলে, এ কেমন রাসূল, যে খাবার খায় এবং হাটে-বাজারেও চলাফেরা করে? তার কাছে কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন, যে তার সঙ্গে থাকত একজন সতর্ককারীরূপে?

اَوۡ یُلۡقٰۤی اِلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ تَکُوۡنُ لَہٗ جَنَّۃٌ یَّاۡکُلُ مِنۡہَا ؕ وَقَالَ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا ٨

আও ইউলকাইলাইহি কানঝুন আও তাকূনুলাহূজান্নাতুইঁ ইয়া’কুলুমিনহা- ওয়া কালাজ্জা-লিমূনা ইন তাত্তাবি‘ঊনা ইল্লা-রাজুলাম মাছহূরা-।

অথবা তাকে কোন ধনভাণ্ডারই দেওয়া হত কিংবা তার থাকত কোন বাগান, যা থেকে সে খেতে পারত? জালেমগণ (মুসলিমদেরকে) আরও বলে, তোমরা তো একজন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ ضَرَبُوۡا لَکَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ سَبِیۡلًا ٪ ٩

উনজু র কাইফা দারাবূলাকাল আমছা-লা ফাদাললূফালা-ইয়াছতাতী‘ঊনা ছাবীলা-।

(হে নবী!) দেখ, তারা তোমার সম্পর্কে কেমন সব উপমা পেশ করছে! ফলে তারা এমনই বিভ্রান্ত হয়েছে যে, সঠিক পথে আসা তাদের পক্ষে সম্ভবই নয়।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ কেমন আজব-আজব কথা তৈরি করছে। কখনও বলছে অন্যরা এ কুরআন রচনা করে দিয়েছে। কখনও বলছে, এটা পুরাকালের আখ্যান, কখনও বলছে রাসূল পানাহার করবে কেন, কেনই বা হাটেবাজারে যাবে, কখনও বলছে, সে একজন বড় ধনী হল না কেন, আবার বলছে, সে যাদুগ্রস্ত। কুরআন ও রাসূলের শানে এসব কথা এমনই আজব, যা অবান্তর উপমারই নামান্তর। -অনুবাদক
১০

تَبٰرَکَ الَّذِیۡۤ اِنۡ شَآءَ جَعَلَ لَکَ خَیۡرًا مِّنۡ ذٰلِکَ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ وَیَجۡعَلۡ لَّکَ قُصُوۡرًا ١۰

তাবা-রাকাল্লাযীইন শাআ জা‘আলা লাকা খাইরাম মিন যা-লিকা জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া ইয়াজ‘আল লাকা কুসূরা-।

মহিমময় সেই সত্তা, যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট জিনিস দিতে পারেন। (কেবল একটি নয়) দিতে পারেন এমন বহু বাগান, যার নিচে বহমান থাকবে নদ-নদী এবং তোমাকে বানাতে পারেন বহু অট্টালিকার মালিক।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ কাফেরদের ফরমায়েশ মত আল্লাহ তাআলা চাইলে আপনাকে বহুমূল্য উদ্যান-অট্টালিকার মালিক বানিয়ে দিতে পারেন। ভূ-পৃষ্ঠের সমুদয় সম্পদও আপনাকে দিয়ে দিতে পারেন। তাঁর ভাণ্ডারে তো কোন কিছুর অভাব নেই, কিন্তু তা দিচ্ছেন না এ কারণে যে, আপনার রিসালাত প্রমাণের জন্য যে নিদর্শন দরকার ছিল তা দেওয়া হয়ে গেছে। ঈমান আনার ইচ্ছা থাকলে নিদর্শন হিসাবে তাই যথেষ্ট। ইচ্ছা নেই বলেই তা দেখা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনছে না। কাজেই তাদের চাহিদামত নিদর্শন দিলেও তারা ঈমান আনবে না। কোনও না কোনও বাহানা দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর তখন তাদের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে যাবে, কিন্তু তাদেরকে এখনই ধ্বংস করা যেহেতু আল্লাহর ইচ্ছা নয় তাই তিনি তাদের চাহিদামত নিদর্শন দেখাচ্ছেন না। -অনুবাদক
১১

بَلۡ کَذَّبُوۡا بِالسَّاعَۃِ ۟  وَاَعۡتَدۡنَا لِمَنۡ کَذَّبَ بِالسَّاعَۃِ سَعِیۡرًا ۚ ١١

বাল কাযযাবূবিছছা-‘আতি ওয়া আ‘তাদনা-লিমান কাযযাবা বিছছা-‘আতি ছা‘ঈরা-।

প্রকৃত ব্যাপার হল, তারা কিয়ামতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, আর যে-কেউ কিয়ামতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে আমি তার জন্য প্রজ্বলিত আগুন তৈরি করে রেখেছি।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ, তারা যেসব কথা বানাচ্ছে তার প্রকৃত কারণ সত্যসন্ধানী মনোভাব নয় যে, সত্য তালাশ করতে গিয়ে তাদের মনে এসব খটকা জেগেছে এবং খটকাগুলো দূর হলেই তারা ঈমান আনবে। আসল কারণ তাদের অবহেলা, চিন্তাশক্তিকে কাজে না লাগানো। যেহেতু কিয়ামত ও আখেরাতের উপর তাদের ঈমান নেই, তাই এসব বেহুদা কথা তারা নির্ভয়ে বলতে পারছে। কেননা আখেরাতের উপর ঈমান না থাকার কারণে সেখানে যে এসব কথার কারণে শাস্তিভোগ করতে হতে পারে, সেই চিন্তাই তারা করে না।
১২

اِذَا رَاَتۡہُمۡ مِّنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ سَمِعُوۡا لَہَا تَغَیُّظًا وَّزَفِیۡرًا ١٢

ইযা-রাআতহুম মিম মাকা-নিম বা‘ঈদিন ছামি‘ঊ লাহা-তাগাইয়ুজাওঁ ওয়া ঝাফীরা-।

তা যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার ফোঁস-ফোঁসানি ও গর্জনধ্বনি।
১৩

وَاِذَاۤ اُلۡقُوۡا مِنۡہَا مَکَانًا ضَیِّقًا مُّقَرَّنِیۡنَ دَعَوۡا ہُنَالِکَ ثُبُوۡرًا ؕ ١٣

ওয়া ইযাউলকূ মিনহা-মাকা-নান দাইয়িকাম মুকাররানীনা দা‘আও হুনা-লিকা ছুবূরা-।

যখন তাদেরকে ভালোভাবে বেঁধে তার কোন এক সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা মৃত্যুকে ডাকবে।
১৪

لَا تَدۡعُوا الۡیَوۡمَ ثُبُوۡرًا وَّاحِدًا وَّادۡعُوۡا ثُبُوۡرًا کَثِیۡرًا ١٤

লা-তাদ‘ঊল ইয়াওমা ছুবূরাওঁ ওয়া-হিদাওঁ ওয়াদ‘ঊ ছুবূরান কাছীরা-।

(তখন তাদেরকে বলা হবে,) আজ তোমরা মৃত্যুকে কেবল একবার ডেক না; বরং মৃত্যুকে ডাকতে থাক বারবার।

তাফসীরঃ

৬. আয়াতের এ তরজমা করা হয়েছে প্রখ্যাত মুফাসসির আবুস সুয়ূদ (রহ.)-এর তাফসীরের ভিত্তিতে যা আল্লামা আলুসী (রহ.)ও নিজ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। এ হিসেবে আয়াতের মর্ম হল, তোমরা কঠিন শাস্তির কারণে ঘাবড়ে গিয়ে যে মৃত্যুকে ডাকছ, তা তো আর কখনও আসার নয়। বরং তোমাদেরকে নিত্য নতুন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে এবং প্রত্যেকবারই যন্ত্রণার তীব্রতায় তোমাদের মৃত্যু কামনা করতে হবে।
১৫

قُلۡ اَذٰلِکَ خَیۡرٌ اَمۡ جَنَّۃُ الۡخُلۡدِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ کَانَتۡ لَہُمۡ جَزَآءً وَّمَصِیۡرًا ١٥

কুল আযা-লিকা খাইরুন আম জান্নাতুল খুলদিল্লাতী উ‘ইদাল মুত্তাকূনা কা-নাত লাহুম জাঝাআওঁ ওয়া মাসীরা-।

বল, এই পরিণাম শ্রেয়, না স্থায়ীভাবে থাকার জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি মুত্তাকীদেরকে দেওয়া হয়েছে? তা হবে তাদের পুরস্কার ও তাদের শেষ পরিণাম।
১৬

لَہُمۡ فِیۡہَا مَا یَشَآءُوۡنَ خٰلِدِیۡنَ ؕ کَانَ عَلٰی رَبِّکَ وَعۡدًا مَّسۡـُٔوۡلًا ١٦

লাহুম ফীহা-মা-ইয়াশাঊনা খা-লিদীনা কা-না ‘আলা-রাব্বিকা ওয়া‘দাম মাছঊলা-।

তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত থেকে যা চাবে তাই পাবে। এটা এমন এক দায়িত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, যা তোমার প্রতিপালক নিজের প্রতি অবধারিত করেছেন।
১৭

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ وَمَا یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَیَقُوۡلُ ءَاَنۡتُمۡ اَضۡلَلۡتُمۡ عِبَادِیۡ ہٰۤؤُلَآءِ اَمۡ ہُمۡ ضَلُّوا السَّبِیۡلَ ؕ ١٧

ওয়া ইয়াওমা ইয়াহশুরুহুম ওয়ামা- ইয়া‘বুদূনা মিন দূনিল্লা-হি ফাইয়াকূলুআআনতুম আদলালতুম ‘ইবা-দী হাউলাই আম হুম দাল্লুছছাবীল।

এবং (তাদেরকে সেই দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দাও) যে দিন আল্লাহ (হাশরের ময়দানে) একত্র করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদেরকেও। তারপর তিনি তাদের (সেই মাবুদদেরকে) বলবেন, তোমরাই কি আমার ওই বান্দাদেরকে বিপথগামী করেছিলে, না তারা নিজেরাই বিপথগামী হয়েছিল?
১৮

قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ مَا کَانَ یَنۡۢبَغِیۡ لَنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ مِنۡ دُوۡنِکَ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ وَلٰکِنۡ مَّتَّعۡتَہُمۡ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی نَسُوا الذِّکۡرَ ۚ وَکَانُوۡا قَوۡمًۢا بُوۡرًا ١٨

কা-লূছুবহা-নাকা মা-কা-না ইয়ামবাগী লানাআন নাত্তাখিযা মিন দূ নিকা মিন আওলিয়াআ ওয়ালা-কিম মাত্তা‘তাহুম ওয়া আ-বাআহুম হাত্তা-নাছুযযিকরা- ওয়া কা-নূকাওমাম বূরা-।

তারা বলবে, আপনার সত্তা সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র! আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যান্য অভিভাবক গ্রহণ করতে পারি না। কিন্তু ব্যাপার হল, আপনি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে দুনিয়ার ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন, পরিণামে তারা উপদেশ ভুলে গিয়েছিল। আর (এভাবে) তারা হয়ে গিয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।

তাফসীরঃ

৭. তারা তাদের যে উপাস্যদেরকে প্রভুত্বের মর্যাদা দান করেছিল তারা ছিল বিভিন্ন প্রকার ক.কতক ফেরেশতা, যাদেরকে তারা আল্লাহ তাআলার কন্যা বলে বিশ্বাস করত; খ.কোন কোন নবী ও বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গ। অনেকে তাদেরকে প্রভুত্বের আসনে বসিয়েছিল এবং তাদের পূজা-অর্চনায় লিপ্ত থাকত। এ দুই শ্রেণীর পক্ষ হতে তো এ উত্তর বোধগম্য যে, ‘আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে অভিভাবক বানানোর সাধ্য আমাদের ছিল না,’ অর্থাৎ আমরা কি প্রভু হব, আপনিই তো আমাদেরসহ সকল সৃষ্টির প্রভু। ইবাদত তো কেবল আপনারই করা যায় এবং তাতে অন্য কাউকে শরীক করার কোন অবকাশ নেই। গ.তাদের তৃতীয় প্রকারের উপাস্য হল প্রতিমা, যাদেরকে তারা নিজ হাতে মাটি বা পাথর দ্বারা তৈরি করত। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে, পাথরের প্রতিমার কি বাকশক্তি আছে যে, তারা এ রকম জবাব দেবে? এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) এখানে কেবল সেই সকল মুশরিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা বিশেষ মানুষ বা ফেরেশতাকে প্রভুত্বের আসনে বসিয়ে তাদের প্রতীকরূপে প্রতিমাদের পূজা করত। (খ) এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তখন মূর্তিদেরকে কথা বলার শক্তি দান করবেন। ফলে তাদের পক্ষে একথা বলা সম্ভব হবে।
১৯

فَقَدۡ کَذَّبُوۡکُمۡ بِمَا تَقُوۡلُوۡنَ ۙ فَمَا تَسۡتَطِیۡعُوۡنَ صَرۡفًا وَّلَا نَصۡرًا ۚ وَمَنۡ یَّظۡلِمۡ مِّنۡکُمۡ نُذِقۡہُ عَذَابًا کَبِیۡرًا ١٩

ফাকাদ কাযযাবূকুম বিমা-তাকূলূনা ফামা-তাছতী‘ঊনা সারফাওঁ ওয়ালা-নাসরাওঁ ওয়া মাইঁ ইয়াজলিম মিনকুম নুযিকহু ‘আযা-বান কাবীরা-।

দেখ, (হে কাফেরগণ!) তোমরা যা বলছ, সে ব্যাপারে তো তারা তোমাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করল। সুতরাং (শাস্তি) টলানোর বা সাহায্য লাভের সাধ্য তোমাদের নেই। তোমাদের মধ্যে যে-কেউ জুলুমের কাজে জড়িত, তাকে আমি কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।
২০

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا قَبۡلَکَ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّاۤ اِنَّہُمۡ لَیَاۡکُلُوۡنَ الطَّعَامَ وَیَمۡشُوۡنَ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ  وَجَعَلۡنَا بَعۡضَکُمۡ لِبَعۡضٍ فِتۡنَۃً ؕ  اَتَصۡبِرُوۡنَ ۚ  وَکَانَ رَبُّکَ بَصِیۡرًا ٪ ٢۰

ওয়ামাআরছালনা-কাবলাকা মিনাল মুরছালীনা ইল্লাইন্নাহুম লাইয়া’কুলূনাততা‘আ-মা ওয়া ইয়ামশূনা ফিল আছওয়া-কি ওয়াজা‘আলনা-বা‘দাকুম লিবা‘দিন ফিতনাতান আতাসবিরূনা ওয়া কা-না রাব্বুকা বাসীরা।

(হে নবী!) তোমার পূর্বে যত রাসূলই পাঠিয়েছি, তারা সকলে খাবার খেত ও বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। বল, তোমরা কি সবর করবে? তোমার প্রতিপালক সবকিছুই দেখছেন।

তাফসীরঃ

৮. কাফেরদের বিভিন্ন আপত্তির উত্তর দেওয়ার পর এবার মুমিনদেরকে লক্ষ করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন, তোমাদের বিরুদ্ধবাদীরা নানা রকমের আপত্তি তুলে তোমাদেরকে যে উত্যক্ত করছে, এর কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদের মাধ্যমে তাদেরকে এবং তাদের মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন। তাদেরকে পরীক্ষা করছেন তো এভাবে যে, আল্লাহ তাআলা দেখছেন, সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা তা স্বীকার করে নিচ্ছে কি না। আর তোমাদেরকে পরীক্ষা করে দেখছেন, তাদের দেওয়া কষ্ট-ক্লেশে তোমরা সবর করছ কি না। তোমাদের সবর দ্বারাই প্রমাণ হবে সত্য গ্রহণে তোমরা কতটুকু আন্তরিক।
২১

وَقَالَ الَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ لِقَآءَنَا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ نَرٰی رَبَّنَا ؕ لَقَدِ اسۡتَکۡبَرُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوًّا کَبِیۡرًا ٢١

ওয়া কালাল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা লিকাআনা-লাওলাউনঝিলা ‘আলাইনাল মালাইকাতু আও নারা-রাব্বানা- লাকাদিছতাকবারূফীআনফুছিহিম ওয়া‘আতাওঁ‘উতুওয়ান কাবীরা-।

যারা আমার সঙ্গে সাক্ষাতের আশাই করে না, তারা বলে, আমাদের প্রতি ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? কিংবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাই না কেন? বস্তুত তারা আপন মনে নিজেদেরকে অনেক বড় গণ্য করে এবং তারা গুরুতর অবাধ্যতায় লিপ্ত রয়েছে।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ, তারা অহমিকার বশবর্তী হয়েই এসব কথা বলছে। তারা নিজেদেরকে এতটাই বড় মনে করে যে, নিজেদের হেদায়াতের জন্য কোন নবী-রাসূলের কথা মেনে চলাকে আত্মসম্মানের পরিপন্থী মনে করে। তাদের দাবি হল, আল্লাহ তাআলা নিজে এসে তাদেরকে তাঁর দীন বুঝিয়ে দিন কিংবা এ কাজের জন্য অন্ততপক্ষে কোন ফিরিশতাকেই পাঠিয়ে দিন।
২২

یَوۡمَ یَرَوۡنَ الۡمَلٰٓئِکَۃَ لَا بُشۡرٰی یَوۡمَئِذٍ لِّلۡمُجۡرِمِیۡنَ وَیَقُوۡلُوۡنَ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا ٢٢

ইয়াওমা ইয়ারাওনাল মালাইকাতা লা-বুশরা-ইয়াওমাইযিল লিলমুজরিমীনা ওয়া ইয়াকূ লূনা হিজরাম মাহজূরা-।

যে দিন তারা ফিরিশতাদের দেখতে পাবে, সে দিন অপরাধীদের আনন্দ করার কোন সুযোগ থাকবে না। বরং তারা বলতে থাকবে, (হে আল্লাহ!) আমাদেরকে দাও, ‘এক অলঙ্ঘনীয় অন্তরায়’। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ, ফিরিশতাদের দেখতে পারার ক্ষমতাই তাদের নেই। কাফেরগণ ফিরিশতাদেরকে দেখতে পাবে এমন এক সময়, যখন তাদেরকে দেখাটা তাদের পক্ষে প্রীতিকর হবে না। ফিরিশতাগণ তখন তাদের সামনে আসবে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্য। তাদেরকে দেখামাত্র তারা এমন আশ্রয়স্থল কামনা করবে, যেখানে প্রবেশ করলে তারা ফিরিশতাদের দেখা থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হওয়ার নয়। [অলঙ্ঘনীয় অন্তরায় অর্থাৎ আমাদের ও ফিরিশতাদের মাঝখানে এমন এক প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে দাও, যাতে তারা তা পার হয়ে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে]
২৩

وَقَدِمۡنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوۡا مِنۡ عَمَلٍ فَجَعَلۡنٰہُ ہَبَآءً مَّنۡثُوۡرًا ٢٣

ওয়া কাদিমনাইলা-মা-‘আমিলূমিন ‘আমালিন ফাজা‘আলনা-হু হাবাআম মানছূরা-।

তারা (দুনিয়ায়) যা-কিছু আমল করেছে, আমি তার ফায়সালা করতে আসব এবং সেগুলোকে শূন্যে বিক্ষিপ্ত ধুলোবালি (-এর মত মূল্যহীন) করে দেব। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ, তারা যে সকল কাজকে পুণ্য মনে করত, আখেরাতে তা ধুলোবালির মত মিথ্যা মনে হবে। আর তাদের যেসব কাজ বাস্তবিকই ভালো ছিল তার ফল তো তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আখেরাতে তার বিনিময়ে কিছু পাবে না। কেননা আখেরাতে কোন কাজ গৃহীত হওয়ার জন্য ঈমান শর্ত। তা তো তাদের ছিল না। তাই সেখানে এসব কোন কাজে আসবে না।
২৪

اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ یَوۡمَئِذٍ خَیۡرٌ مُّسۡتَقَرًّا وَّاَحۡسَنُ مَقِیۡلًا ٢٤

আসহা-বুল জান্নাতি ইয়াওমাইযিন খাইরুম মুছতাকাররাওঁ ওয়া আহছানুমাকীলা-।

সে দিন জান্নাতবাসীদের বাসস্থান হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম।
২৫

وَیَوۡمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالۡغَمَامِ وَنُزِّلَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ تَنۡزِیۡلًا ٢٥

ওয়া ইয়াওমা তাশাক্কাকুছছামাউ বিলগামা-মি ওয়ানুঝঝিলাল মালাইকাতুতানঝীলা-।

যে দিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে এক মেঘকে পথ করে দেবে ১২ এবং ফিরিশতাদেরকে অবতীর্ণ করা হবে লাগাতার।

তাফসীরঃ

১২. কিয়ামতের দিন আকাশ বিদীর্ণ হওয়ার পর উপর থেকে মেঘের মত একটা জিনিস নামতে দেখা যাবে। তাতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ তাজাল্লী থাকবে। আমরা তাকে রাজছত্র শব্দে ব্যক্ত করতে পারি। এর সাথে থাকবে অসংখ্য ফিরিশতা। তারা লাগাতার আসমান থেকে হাশরের মাঠে নামতে থাকবে তাফসীরে উসমানী, সংক্ষেপিত -অনুবাদক
২৬

اَلۡمُلۡکُ یَوۡمَئِذِۣ الۡحَقُّ لِلرَّحۡمٰنِ ؕ وَکَانَ یَوۡمًا عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ عَسِیۡرًا ٢٦

আলমুলকুইয়াওমাইযিনিল হাক্কুলিররাহমা-নি ওয়া কা-না ইয়াওমান ‘আলাল কাফিরীনা ‘আছীরা-।

সে দিন সত্যিকারের রাজত্ব হবে দয়াময় (আল্লাহ)-এর আর সে দিনটি কাফেরদের জন্য হবে অতি কঠিন।
২৭

وَیَوۡمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیۡہِ یَقُوۡلُ یٰلَیۡتَنِی اتَّخَذۡتُ مَعَ الرَّسُوۡلِ سَبِیۡلًا ٢٧

ওয়া ইয়াওমা ইয়া‘আদ্দুজ্জা-লিমু‘আলা-ইয়াদাইহি ইয়াকূ লুইয়া-লাইতানিততাখাযতু মা‘আর রাছূলি ছাবীলা-।

এবং যে দিন জালেম ব্যক্তি (মনস্তাপে) নিজের হাত কামড়াবে এবং বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে পথ ধরতাম ১৩!

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ যদি রাসূলের অনুসরণ করতাম এবং তাঁর শিক্ষা মোতাবেক সরল সঠিক পথে চলতাম, তবে আজ এই আযাব থেকে আমি মুক্তি পেতাম! -অনুবাদক
২৮

یٰوَیۡلَتٰی لَیۡتَنِیۡ لَمۡ اَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِیۡلًا ٢٨

ইয়া-ওয়াইলাতা-লাইতানী লাম আত্তাখিযফুলা-নান খালীলা-।

হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!
২৯

لَقَدۡ اَضَلَّنِیۡ عَنِ الذِّکۡرِ بَعۡدَ اِذۡ جَآءَنِیۡ ؕ وَکَانَ الشَّیۡطٰنُ لِلۡاِنۡسَانِ خَذُوۡلًا ٢٩

লাকাদ আদাল্লানী ‘আনিযযিকরি বা‘দা ইযজাআনী ওয়া কা-নাশশাইতা-নু লিলইনছা-নি খাযূলা-।

আমার কাছে তো উপদেশ এসে গিয়েছিল, কিন্তু সে (ওই বন্ধু) আমাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। ১৪ আর শয়তান তো (এমনই চরিত্রের যে, সময়কালে সে) মানুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যায়। ১৫

তাফসীরঃ

১৪. অসৎ সঙ্গের পরিণতি যে কি ভয়ঙ্কর এ আয়াত সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। দুনিয়ায় অনেকেরই অবস্থা এমন, যাদের কাছে দীনের দাওয়াত পৌঁছে এবং তার মন-মস্তিষ্ক তা কবুলও করে, কিন্তু সঙ্গী-সাথী ভালো ও দীনদার না হওয়ার কারণে সে বাস্তব জীবনে তা প্রতিফলিত করতে পারে না। ফলে তার জীবন ও মরণ হয় তাদেরই একজন হিসেবে। চৈতন্য হবে কিয়ামতে। কিন্তু সেই চৈতন্য তো কোন কাজে আসবে না। তখন আক্ষেপে আঙ্গুল কামড়াবে আর বলবে আহা! আমি যদি ওদেরকে বন্ধু না বানাতাম! ওদের সাথে চলাফেরা করেই তো আমি বিপথগামী হয়েছি। আজকের এ করুণ পরিণতি তো সে কারণেই! বস্তুত সঙ্গদোষকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাই কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে সৎসঙ্গ গ্রহণের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাদীসেও সৎ ও অসৎ সঙ্গের লাভ-ক্ষতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। -অনুবাদক
৩০

وَقَالَ الرَّسُوۡلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوۡمِی اتَّخَذُوۡا ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ مَہۡجُوۡرًا ٣۰

ওয়া কা-লাররাছূলুইয়া-রাব্বি ইন্না কাওমিততাখাযূহা-যাল কুরআ-না মাহজূরা-।

আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় এ কুরআনকে বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. আলোচনার ধারাবাহিকতার প্রতি লক্ষ করলে যদিও বোঝা যায়, এখানে ‘সম্প্রদায়’ বলে কাফেরদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে বক্তব্য আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিমদের জন্যও তা ভয়ের কারণ। কেননা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও যদি কুরআন মাজীদকে অবহেলা করা হয় এবং জীবনের পথ চলায় তার হেদায়াত ও নির্দেশনাকে আমলে নেওয়া না হয়, তবে এ কঠিন বাক্যটির আওতায় তাদেরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এমনও হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ না করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েই দাঁড়িয়ে যাবেন। (আল্লাহ তাআলা তা থেকে রক্ষা করুন)।
৩১

وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ؕ وَکَفٰی بِرَبِّکَ ہَادِیًا وَّنَصِیۡرًا ٣١

ওয়া কাযা-লিকা জা‘আলনা-লিকুল্লি নাবিইয়িন ‘আদুওওয়াম মিনাল মুজরিমীনা ওয়া কাফা-বিরাব্বিকা হা-দিয়াওঁ ওয়া নাসীরা-।

এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর শত্রু বানিয়েছিলাম অপরাধীদেরকে। ১৭ তোমার প্রতিপালকই হেদায়াতকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।

তাফসীরঃ

১৭. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, আপনার সঙ্গে মক্কার কাফেরগণ যে শত্রুতা করছে, এটা নতুন কোন বিষয় নয়। যত নবী-রাসূল আমি পাঠিয়েছি, প্রত্যেকের সাথেই এ রকম আচরণ করা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা যাদের ভাগ্যে হেদায়েত রেখেছেন, তাদেরকে হেদায়েত গ্রহণের তাওফীক দেন এবং নবীদের সাহায্য করেন।
৩২

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ جُمۡلَۃً وَّاحِدَۃً ۚۛ کَذٰلِکَ ۚۛ لِنُثَبِّتَ بِہٖ فُؤَادَکَ وَرَتَّلۡنٰہُ تَرۡتِیۡلًا ٣٢

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূলাওলা-নুঝঝিলা ‘আলাইহিল কুরআ-নুজুম লাতাওঁ ওয়াহিদাতান কাযা-লিকা লিনুছাব্বিতা বিহী ফুআ-দাকা ওয়া রাত্তালনা-হু তারতীলা-।

কাফেরগণ বলে, তার প্রতি সম্পূর্ণ কুরআন একবারেই নাযিল করা হল না কেন? (হে নবী!) আমি এরূপ করেছি এর মাধ্যমে তোমার অন্তর মজবুত রাখার জন্য। ১৮ আর আমি তো এটা পাঠ করিয়েছি থেমে থেমে।

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ, সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদকে একসঙ্গে নাযিল না করে অল্প-অল্প নাযিল করার ফায়দা বহুবিধ। একটা উল্লেখযোগ্য ফায়দা হল, বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ হতে আপনাকে যে নিত্য-নতুন কষ্ট দেওয়া হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন-নতুন আয়াত নাযিল করে আপনাকে সান্তনা দিয়ে থাকি।
৩৩

وَلَا یَاۡتُوۡنَکَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئۡنٰکَ بِالۡحَقِّ وَاَحۡسَنَ تَفۡسِیۡرًا ؕ ٣٣

ওয়ালা ইয়া’তূনাকা বিমাছালিন ইল্লা-জি’না-কা বিল হাক্কিওয়া আহছানা তাফছীরা-।

যখনই তারা তোমার কাছে কোন সমস্যা নিয়ে হাজির হয়, আমি তোমাকে দান করি (তার) যথাযথ সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. এটা কুরআন মাজীদকে অল্প-অল্প করে নাযিল করার দ্বিতীয় উপকারিতা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত ও ইসলাম সম্পর্কে কাফেরগণ নিত্য-নতুন আপত্তি উত্থাপন করত। তো তারা যখন যে আপত্তি তুলত আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে আয়াত নাযিল করে তার সুস্পষ্ট সমাধান জানিয়ে দিতেন। ফলে একদিকে তাদের আপত্তির অসারতা প্রমাণ হয়ে যেত, অন্য দিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা হয়ে উঠত পরিস্ফুট।
৩৪

اَلَّذِیۡنَ یُحۡشَرُوۡنَ عَلٰی وُجُوۡہِہِمۡ اِلٰی جَہَنَّمَ ۙ  اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضَلُّ سَبِیۡلًا ٪ ٣٤

আল্লাযীনা ইউহশারূনা ‘আলা-উজূহিহিম ইলা-জাহান্নামা উলাইকা শাররুম মাকানাওঁ ওয়া আদাল্লুছাবীলা-।

যাদেরকে একত্র করে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তাদেরই স্থান অতি নিকৃষ্ট এবং পথ সর্বাপেক্ষা ভ্রান্ত।
৩৫

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ وَجَعَلۡنَا مَعَہٗۤ اَخَاہُ ہٰرُوۡنَ وَزِیۡرًا ۚۖ ٣٥

ওয়ালাকাদ আ-তাইনা- মূছাল কিতা-বা ওয়া জা‘আলনা- মা‘আহূআখা-হুহা-রূনা ওয়াঝীরা-।

নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তার সাথে তার ভাই হারূনকে সহযোগী বানিয়েছিলাম।
৩৬

فَقُلۡنَا اذۡہَبَاۤ اِلَی الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ؕ  فَدَمَّرۡنٰہُمۡ تَدۡمِیۡرًا ؕ ٣٦

ফাকুলনাযহাবাইলাল কাওমিল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ফাদাম্মারনা-হুম তাদমীরা-।

আমি বলেছিলাম, যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করেছে, তোমরা তাদের কাছে যাও। পরিশেষে আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেললাম।
৩৭

وَقَوۡمَ نُوۡحٍ لَّمَّا کَذَّبُوا الرُّسُلَ اَغۡرَقۡنٰہُمۡ وَجَعَلۡنٰہُمۡ لِلنَّاسِ اٰیَۃً ؕ  وَاَعۡتَدۡنَا لِلظّٰلِمِیۡنَ عَذَابًا اَلِیۡمًا ۚۖ ٣٧

ওয়া কাওমা নূহিল লাম্মা-কাযযাবুর রুছুলা আগরাকনা-হুম ওয়া জা‘আলনা-হুম লিন্না-ছি আ-য়াতাওঁ ওয়া আ‘তাদনা-লিজ্জা-লিমীনা ‘আযা-বান আলীমা-

এবং নূহের সম্প্রদায় যখন রাসূলগণকে অস্বীকার করল, তখন আমি তাদেরকে নিমজ্জিত করলাম এবং তাদেরকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানিয়ে দিলাম। আমি সে জালেমদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
৩৮

وَّعَادًا وَّثَمُوۡدَا۠ وَاَصۡحٰبَ الرَّسِّ وَقُرُوۡنًۢا بَیۡنَ ذٰلِکَ کَثِیۡرًا ٣٨

ওয়া-‘আদাওঁ ওয়া ছামূদা ওয়া আসহা-বার রাছছি ওয়া কুরূনাম বাইনা যা-লিকা কাছীরা-।

এভাবেই আমি আদ, ছামুদ ও আসহাবুর রাসস্ ২০ এবং তাদের মাঝখানে বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি।

তাফসীরঃ

২০. সূরা আরাফে (৭ : ৬৫-৮৪) আদ ও ছামুদ জাতির বৃত্তান্ত চলে গেছে। ‘আসহাবুর রাস্স’-এর শাব্দিক অর্থ ‘কুয়াওয়ালাগণ’। অনুমান করা যায়, তারা কোন কুয়ার আশেপাশে বাস করত। কুরআন মাজীদে তাদের সম্পর্কে কেবল এতটুকুই বলা হয়েছে যে, নাফরমানীর কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। এর বেশি তাদের বিস্তারিত বৃত্তান্ত না কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে, না সহীহ হাদীসে। ইতিহাসের বর্ণনায় তাদের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু তা এতটা নির্ভরযোগ্য নয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। তবে এতটুকু বিষয় স্পষ্ট যে, তাদের কাছে কোন একজন নবীকে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা সে নবীর কথায় কর্ণপাত করেনি; বরং উপর্যুপরি তাঁর অবাধ্যতা ও তাঁর সঙ্গে শত্রুতা করেছে। পরিণামে তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তারা তাদের নবীকে একটি কুয়ার ভেতর ঝুলিয়ে ফাঁসি দিয়েছিল আর সে কারণেই তাদের নাম পড়ে গেছে আসহাবুর রাস্স বা কুয়াওয়ালা।
৩৯

وَکُلًّا ضَرَبۡنَا لَہُ الۡاَمۡثَالَ ۫ وَکُلًّا تَبَّرۡنَا تَتۡبِیۡرًا ٣٩

ওয়া কুল্লান দারাবনা-লাহুল আমছা-লা ওয়া কুল্লান তাব্বারনা-তাতবীরা-।

তাদের প্রত্যেককে বোঝানোর জন্য আমি দৃষ্টান্ত দিয়েছিলাম। আর (তারা যখন মানেনি তখন) প্রত্যেককেই আমি পিষ্ট করে ফেলি।
৪০

وَلَقَدۡ اَتَوۡا عَلَی الۡقَرۡیَۃِ الَّتِیۡۤ اُمۡطِرَتۡ مَطَرَ السَّوۡءِ ؕ اَفَلَمۡ یَکُوۡنُوۡا یَرَوۡنَہَا ۚ بَلۡ کَانُوۡا لَا یَرۡجُوۡنَ نُشُوۡرًا ٤۰

ওয়া লাকাদ আতাও ‘আলাল কারয়াতিল্লাতীউমতিরাত মাতারাছছাওই আফালাম ইয়াকূনূইয়ারাওনাহা- বাল কা-নূলা-ইয়ারজূনা নুশূরা-।

তারা (অর্থাৎ মক্কার কাফেরগণ) সেই জনপদের উপর দিয়ে যাতায়াত করেছে, যার উপর বর্ষণ করা হয়েছিল মন্দ (পাথরের) বৃষ্টি। ২১ তারা কি সে জনপদটিকে দেখতে পেত না? (তা সত্ত্বেও তাদের শিক্ষালাভ হয়নি); বরং পুনরুত্থিত হওয়ার আশঙ্কাই তারা করত না।

তাফসীরঃ

২১. ইশারা হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের প্রতি। সূরা হুদে (১১ : ৭৭-৮৩) তাদের ঘটনা চলে গেছে।
৪১

وَاِذَا رَاَوۡکَ اِنۡ یَّتَّخِذُوۡنَکَ اِلَّا ہُزُوًا ؕ اَہٰذَا الَّذِیۡ بَعَثَ اللّٰہُ رَسُوۡلًا ٤١

ওয়া ইযা-রাআওকা ইয়ঁইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা-হুঝুওয়ান আহা-যাল্লাযী বা‘আছাল্লাহু রাছূলা-।

(হে রাসূল!) তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা কেবল তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপেরই পাত্র বানায়। তারা বলে, এই বুঝি সেই, যাকে আল্লাহ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
৪২

اِنۡ کَادَ لَیُضِلُّنَا عَنۡ اٰلِہَتِنَا لَوۡلَاۤ اَنۡ صَبَرۡنَا عَلَیۡہَا ؕ وَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ حِیۡنَ یَرَوۡنَ الۡعَذَابَ مَنۡ اَضَلُّ سَبِیۡلًا ٤٢

ইন কা-দা লাইউদিল্লুনা-‘আন আ-লিহাতিনা- লাওলাআন সাবারনা-‘আলাইহা- ওয়া ছাওফা ইয়া‘লামূনা হীনা ইয়ারাওনাল ‘আযা-বা মান আদাল্লুছাবীলা-।

আমরা নিজ দেবতাদের প্রতি (ভক্তি-বিশ্বাসে) অবিচলিত না থাকলে সে তো আমাদেরকে প্রায় বিভ্রান্ত করে ফেলছিলই। (যারা এসব কথা বলে,) তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা জানতে পারবে কে সঠিক পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত ছিল।
৪৩

اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ ؕ  اَفَاَنۡتَ تَکُوۡنُ عَلَیۡہِ وَکِیۡلًا ۙ ٤٣

আরাআইতা মানিততাখাযা ইলা-হাহূহাওয়া-হু আফাআনতা তাকূনু‘আলাইহি ওয়াকীলা-।

আচ্ছা বল তো যে ব্যক্তি নিজের কুপ্রবৃত্তিকে আপন মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, (হে নবী!) তুমি কি তার দায়-দায়িত্ব নিতে পারবে। ২২

তাফসীরঃ

২২. নিজ উম্মতের প্রতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল প্রচণ্ড। তার সতত কামনা ও চেষ্টা ছিল যারা কুফর ও শিরকের উপর জিদ ধরে বসে আছে, যেকোন প্রকারে তারাও ঈমান আনুক। তাদের কেউ ঈমান আনলে তিনি বড় খুশী হতেন। আর কেউ যদি ঈমান না আনত তবে তাঁর মনোবেদনার সীমা থাকত না। তাই কুরআন মাজীদ তাঁকে মাঝে মধ্যেই সান্তনা দিয়েছে যে, আপনার দায়িত্ব তো সত্য কথা পৌঁছানো পর্যন্তই সীমিত। যারা নিজেদের মনের ইচ্ছাকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে, যে কারণে আপনার কথা মানছে না, তাদের দায়-দায়িত্ব আপনার উপর অর্পিত হয়নি।
৪৪

اَمۡ تَحۡسَبُ اَنَّ اَکۡثَرَہُمۡ یَسۡمَعُوۡنَ اَوۡ یَعۡقِلُوۡنَ ؕ  اِنۡ ہُمۡ اِلَّا کَالۡاَنۡعَامِ بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ سَبِیۡلًا ٪ ٤٤

আম তাহছাবুআন্না আকছারাহুম ইয়াছমা‘ঊনা আও ইয়া‘কিলূনা ইন হুম ইল্লা-কাল আন‘আ-মি বাল হুম আদাল্লুছাবীলা-।

নাকি তুমি মনে কর তাদের অধিকাংশে শোনে অথবা বোঝে? না, তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারা তার চেয়েও বেশি বিপথগামী।
৪৫

اَلَمۡ تَرَ اِلٰی رَبِّکَ کَیۡفَ مَدَّ الظِّلَّ ۚ  وَلَوۡ شَآءَ لَجَعَلَہٗ سَاکِنًا ۚ  ثُمَّ جَعَلۡنَا الشَّمۡسَ عَلَیۡہِ دَلِیۡلًا ۙ ٤٥

আলাম তারা ইলা-রাব্বিকা কাইফা মাদ্দাজজিল্লা ওয়ালাও শাআ লাজা‘আলাহূছাকিনান ছু ম্মা জা‘আলনাশশামছা ‘আলাইহি দালীলা-।

তুমি কি নিজ প্রতিপালকের (কুদরতের) প্রতি লক্ষ করনি যে, তিনি কিভাবে ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে তা স্থির রাখতে পারতেন। অতঃপর আমি সূর্যকে তার পথনির্দেশক বানিয়ে দিয়েছি।
৪৬

ثُمَّ قَبَضۡنٰہُ اِلَیۡنَا قَبۡضًا یَّسِیۡرًا ٤٦

ছু ম্মা কাবাদনা-হু ইলাইনা-কাবদাইঁ ইয়াছীরা-।

অতঃপর আমি অল্প-অল্প করে তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে আনি। ২৩

তাফসীরঃ

২৩. এখান থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের কয়েকটি নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর প্রত্যেকটি নিদর্শনই আল্লাহ তাআলার তাওহীদের প্রমাণ বহন করে। চিন্তাশীল মাত্রই চিন্তা করলে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবে। সর্বপ্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে রোদ ও ছায়ার পরিবর্তনের দিকে। এ পরিবর্তন মানব জীবনের জন্য অতীব জরুরী। পৃথিবীতে সর্বক্ষণ রোদ থাকলে যেমন মানব জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, তেমনি সর্বদা ছায়া থাকলেও জীবনের সব ক্ষেত্রে দেখা দেবে মহা বিপর্যয়। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণার্থে উভয়টিকে এক চমৎকার নিয়ম-নিগড়ে বেঁধে দিয়েছেন। প্রতিদিন মানুষ ক্রমবৃদ্ধি ও ক্রমহ্রাস প্রক্রিয়ায় উভয়টিই পেয়ে থাকে। ভোরবেলা ছায়া থাকে সম্প্রসারিত। তারপর রোদের ক্রমবৃদ্ধির সাথে সাথে ছায়া ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে থাকে। সূর্যকে ছায়ার পথনির্দেশক বানানোর অর্থ এটাই যে, সূর্য যত উপরে ওঠে ছায়া তত কমতে থাকে। এভাবে কমতে কমতে দুপুর সময়ে তা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। যে বিষয়টাকে আল্লাহ পাক “নিজের দিকে গুটিয়ে আনি” বলে ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর সূর্য যতই পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে ছায়া ততই ধীরে ধীরে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি সূর্যাস্তকালে তা পুরো দিগন্ত ঘিরে ফেলে। এভাবে রোদ ও ছায়ার এ পরিবর্তন মানুষ ধীরে ধীরে লাভ করে। ফলে অকস্মাৎ পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে সে রক্ষা পায়।
৪৭

وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِبَاسًا وَّالنَّوۡمَ سُبَاتًا وَّجَعَلَ النَّہَارَ نُشُوۡرًا ٤٧

ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল্লাইলা লিবা-ছাওঁ ওয়ান নাওমা ছুবা-তাওঁ ওয়া জা‘আলান্নাহা-রা নুশূরা-।

তিনিই রাতকে তোমাদের জন্য করেছেন পোশাক-স্বরূপ এবং ঘুমকে শান্তিময়। আর দিনকে ফের উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যম বানিয়েছেন।
৪৮

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ الرِّیٰحَ بُشۡرًۢا بَیۡنَ یَدَیۡ رَحۡمَتِہٖ ۚ  وَاَنۡزَلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَہُوۡرًا ۙ ٤٨

ওয়া হুওয়াল্লাযীআরছালাররিয়া-হা বুশরাম বাইনা ইয়াদাই রাহমাতিহী ওয়া আনঝালনা-মিনাছছামাই মাআন তাহূরা-।

তিনিই নিজ রহমত (অর্থাৎ বৃষ্টি)-এর আগে বায়ু পাঠান (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে এবং আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি পবিত্র পানি
৪৯

لِّنُحۡیِۦَ بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا وَّنُسۡقِیَہٗ مِمَّا خَلَقۡنَاۤ اَنۡعَامًا وَّاَنَاسِیَّ کَثِیۡرًا ٤٩

লিনুহইইয়া বিহী বালদাতাম মাইতাওঁ ওয়া নুছকিয়াহূমিম্মা- খালাকনাআন‘আ-মাওঁ ওয়াআনা-ছিইইয়া কাছীরা-।

তা দ্বারা মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করা এবং আমার সৃষ্ট বহু জীবজন্তু ও মানুষকে তা পান করানোর জন্য।
৫০

وَلَقَدۡ صَرَّفۡنٰہُ بَیۡنَہُمۡ لِیَذَّکَّرُوۡا ۫ۖ فَاَبٰۤی اَکۡثَرُ النَّاسِ اِلَّا کُفُوۡرًا ٥۰

ওয়া লাকাদ সাররাফনা-হু বাইনাহুম লিয়াযযাক্কারূ ফাআবা আকছারুন্না-ছি ইল্লাকুফূরা-।

আমি মানুষের কল্যাণার্থে তাকে (অর্থাৎ পানিকে) আবর্তমান করে রেখেছি, ২৪ যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে, কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কোন কিছুতে সম্মত নয়।

তাফসীরঃ

২৪. ‘পানিকে আবর্তমান করে রাখা’এর এক অর্থ, আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে নিজ হেকমত অনুযায়ী এক বিশেষ অনুপাত ও সঙ্গতির সাথে পানি বণ্টন করে থাকেন। সেই সঙ্গে এ অর্থও হতে পারে যে, পানির মূল উৎস হল সাগর। সেখান থেকে আল্লাহ তাআলা মেঘের মাধ্যমে তা উপরে তুলে আনেন এবং বরফ আকারে পাহাড়-পর্বতে জমা করেন। তারপর সে পানি গলে গলে নদ-নদীতে পরিণত হয়। নদীর প্রবাহিত জলধারা দ্বারা মানুষ তাদের প্রয়োজন সমাধা করে। ফলে স্বচ্ছ ও পবিত্র পানি নষ্ট ও দূষিত হয়ে যায়। তারপর আবার তাদের ব্যবহৃত পানি নদী-নালা হয়ে সাগরে পতিত হয় এবং সাগরের পবিত্র জলরাশির সাথে মিশে তার সমস্ত ক্লেদ খতম হয়ে যায়। ফের সেই পানি মেঘের মাধ্যমে উপরে তুলে আনা হয়।
৫১

وَلَوۡ شِئۡنَا لَبَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ قَرۡیَۃٍ نَّذِیۡرًا ۫ۖ ٥١

ওয়ালাও শি’না-লাবা‘আছনা-ফী কুল্লি কারইয়াতিন নাযীরা-।

আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি জনপদে এক স্বতন্ত্র সতর্ককারী (নবী) পাঠাতে পারতাম।
৫২

فَلَا تُطِعِ الۡکٰفِرِیۡنَ وَجَاہِدۡہُمۡ بِہٖ جِہَادًا کَبِیۡرًا ٥٢

ফালা-তুতি‘ইল কা-ফিরীনা ওয়া জা-হিদহুম বিহী জিহা-দান কাবীরা-।

সুতরাং (হে নবী!) তুমি কাফেরদের কথা শুনো না; বরং এ কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাও। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ নবীর আগমন আশ্চর্যের কোন ব্যাপার নয়। আল্লাহ চাইলে এখনও নবীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে প্রত্যেক এলাকায় পৃথক-পৃথক নবী পাঠাতে পারতেন, কিন্তু এই আখেরি যমানার জন্য আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্ত সে রকম নয়। এখন সারা জাহানের সমস্ত মানুষের কল্যাণ একই নবীর অনুসরণে। তাই আপনাকে বিশ্বনবী করে পাঠানো হয়েছে। কাজেই আপনি অবিশ্বাসীদের অজ্ঞতাসুলভ অভিযোগ-আপত্তি ও তাদের হঠকারিতাপূর্ণ কূটকচালিতে কান না দিয়ে পূর্ণোদ্যমে আপন কাজ চালিয়ে যান এবং কুরআন হাতে তাদের মুকাবিলা করতে থাকুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকেই কৃতকার্য করবেন (-অনুবাদক তাফসীরে উসমানী থেকে)।
৫৩

وَہُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَجَعَلَ بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخًا وَّحِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا ٥٣

ওয়া হুওয়াল্লাযী মারাজাল বাহরাইনি হা-যা-‘আযবুন ফুরা-তুওঁ ওয়া হা-যা-মিলহুন উজা-জুওঁ ওয়া জা‘আলা বাইনাহুমা-বারঝাখাওঁ ওয়া হিজরাম মাহজূরা-।

তিনিই দুই নদীকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, যার একটি মিষ্টি, তৃপ্তিকর এবং একটি লোনা, অত্যন্ত কটু। উভয়ের মাঝখানে রেখে দিয়েছেন এক আড়াল ও অলংঘনীয় প্রতিবন্ধক। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. নদ-নদী ও সাগরের সঙ্গমস্থলে এ রকম দৃশ্য সকলেরই চোখে পড়ে। দুই রকম পানির স্রোতধারা পাশাপাশি ছুটে চলে, অথচ একটি আরেকটির সাথে মিশ্রিত হয় না। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত তাদের বৈশিষ্ট্য আলাদাভাবে চোখে পড়ে। এটাই সেই বিস্ময়কর প্রতিবন্ধ, যা উভয়ের কোনটিকে অন্যটির সীমানা ভেদ করতে দেয় না।
৫৪

وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ مِنَ الۡمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَہٗ نَسَبًا وَّصِہۡرًا ؕ وَکَانَ رَبُّکَ قَدِیۡرًا ٥٤

ওয়া হুওয়াল্লাযী খালাকা মিনাল মাই বাশরান ফাজা‘আলাহূনাছাবাওঁ ওয়া সিহরাও ওয়া কা-না রাব্বুকা কাদীরা-।

তিনিই পানি দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তা দান করেছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।
৫৫

وَیَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُہُمۡ وَلَا یَضُرُّہُمۡ ؕ وَکَانَ الۡکَافِرُ عَلٰی رَبِّہٖ ظَہِیۡرًا ٥٥

ওয়া ইয়া‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়ানফা‘উহুম ওয়ালা-ইয়াদুররুহুম ওয়া কা-নাল কা-ফিরু ‘আলা-রাব্বিহী জাহীরা-।

তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন সব বস্তুর ইবাদত করছে, যা তাদের কোন উপকার করতে পারে না এবং অপকারও নয়। বস্তুত কাফের ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের ঘোর বিরোধি।
৫৬

وَمَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّنَذِیۡرًا ٥٦

ওয়ামাআরছালনা-কা ইল্লা-মুবাশশিরাওঁ ওয়া নাযীরা-।

(হে নবী!) আমি তো তোমাকে কেবল একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি।
৫৭

قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ اَجۡرٍ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اَنۡ یَّتَّخِذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا ٥٧

কুলমাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইল্লা-মান শাআ আইঁ ইয়াত্তাখিযাইলারাব্বিহী ছাবীলা-।

বলে দাও, আমি এ কাজের জন্য তোমাদের থেকে কোন পারিশ্রমিক চাই না। তবে যে ইচ্ছা করে, সে তার প্রতিপালকের কাছে পৌঁছার পথ অবলম্বন করুক (সেটাই হবে আমার প্রতিদান)।
৫৮

وَتَوَکَّلۡ عَلَی الۡحَیِّ الَّذِیۡ لَا یَمُوۡتُ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِہٖ ؕ  وَکَفٰی بِہٖ بِذُنُوۡبِ عِبَادِہٖ خَبِیۡرَا ۚۛۙ ٥٨

ওয়া তাওয়াক্কাল ‘আলাল হাইয়িল্লাযী লা-ইয়ামূতুওয়া ছাব্বিহবিহামদিহী ওয়া কাফাবিহী বিযুনূবি ‘ইবা-দিহী খাবীরা ।

তুমি নির্ভর কর সেই সত্তার উপর, যিনি চিরঞ্জীব যার মৃত্যু নেই এবং তাঁরই প্রশংসার সাথে তাসবীহ আদায় করতে থাক। নিজ বান্দাদের গুনাহের খবর রাখার জন্য তিনিই যথেষ্ট।
৫৯

ۣالَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ۚۛ اَلرَّحۡمٰنُ فَسۡـَٔلۡ بِہٖ خَبِیۡرًا ٥٩

আল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়ালা আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-ফী ছিত্তাতি আইয়া-মিন ছু ম্মাছতাওয়া-‘আলাল ‘আরশি আররাহমা-নূফাছআল বিহী খাবীরা-

যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি আরশে ‘ইসতিওয়া’ ২৭ গ্রহণ করেছেন। তিনি ‘রহমান’। তাঁর (মহিমা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর কোন জ্ঞাতজনকে।

তাফসীরঃ

২৭. ‘ইসতিওয়া’-এর আভিধানিক অর্থ সোজা হওয়া, দৃঢ়ভাবে আসীন হওয়া। আরশে আল্লাহ তাআলার ‘ইসতিওয়া গ্রহণ’-এর ব্যাখ্যা কি এবং তা কিভাবে হয়ে থাকে, আমাদের সীমিত জ্ঞানবুদ্ধির দ্বারা তা বোঝা সম্ভব নয়। তা আমাদের জ্ঞানবুদ্ধির অতীত। সূরা আলে-ইমরানের শুরুতে যে ‘মুতাশাবিহাত’-এর কথা বলা হয়েছে, এটা তার অন্যতম। সুতরাং আয়াতে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুর প্রতি ঈমান রাখাই যথেষ্ট। এর স্বরূপ উদ্ঘাটনের চেষ্টা বৃথা। বৃথা চেষ্টায় রত না হওয়াই ভালো।
৬০

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمُ اسۡجُدُوۡا لِلرَّحۡمٰنِ قَالُوۡا وَمَا الرَّحۡمٰنُ ٭  اَنَسۡجُدُ لِمَا تَاۡمُرُنَا وَزَادَہُمۡ نُفُوۡرًا ٪ٛ ٦۰

ওয়া ইযা-কীলা লাহুমুছজু দূ লিররাহমা-নি কা-লূ ওয়ামার রাহমা-নু আনাছজুদু লিমা-তা’মুরুনা-ওয়া ঝা-দাহুম নুফূরা (ছিজদাহ-৭) ।

তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘রহমান’কে সিজদা কর, তারা বলে রহমান কী? তুমি যে-কাউকে সিজদা করতে বললেই কি আমরা তাকে সিজদা করব? ২৮ এতে তারা আরও বেশি বিমুখ হয়ে পড়ে।

তাফসীরঃ

২৮. মক্কার মুশরিকগণ আল্লাহ তাআলার সত্তায় বিশ্বাসী ছিল বটে, কিন্তু তাঁর ‘রহমান’ নামকে স্বীকার করত‘ না। তাই যখন এ নামে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করা হত, তারা চরম ধৃষ্টতার সাথে এ পবিত্র নামকে প্রত্যাখ্যান করত।
৬১

تَبٰرَکَ الَّذِیۡ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّجَعَلَ فِیۡہَا سِرٰجًا وَّقَمَرًا مُّنِیۡرًا ٦١

তাবা-রাকাল্লাযী জা‘আলা ফিছছামাইবুরূজাওঁ ওয়া জা‘আলা ফীহা- ছিরা-জাওঁ ওয়া কামারাম মুনীরা-।

মহিমময় সেই সত্তা, যিনি আকাশে ‘বুরূজ’ ২৯ বানিয়েছেন এবং তাতে এক উজ্জ্বল প্রদীপ ও আলো বিস্তারকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরঃ

২৯. বুরূজ শব্দটি র্বুজ (بُرْجْ) এর বহুবচন। আয়াতে এর বিভিন্ন অর্থ করার অবকাশ আছে, যেমন (ক) তারকারাজি; (খ) মহাকাশের বিভিন্ন এলাকা, যাকে জ্যোতির্বিদগণ বুরূজ বা কক্ষপথ নামে অভিহিত করে থাকে; (গ) এটাও সম্ভব যে, বুরূজ বলতে নভোম-লীয় এমন কিছু সৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত যা মানুষের নজরে আসেনি।
৬২

وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ الَّیۡلَ وَالنَّہَارَ خِلۡفَۃً لِّمَنۡ اَرَادَ اَنۡ یَّذَّکَّرَ اَوۡ اَرَادَ شُکُوۡرًا ٦٢

ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলাল লাইলা ওয়ান্নাহা-রা খিলফাতাল লিমান আরা-দা আইঁ ইয়াযযাক্কারা আও আরা-দা শুকূরা-।

এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়।
৬৩

وَعِبَادُ الرَّحۡمٰنِ الَّذِیۡنَ یَمۡشُوۡنَ عَلَی الۡاَرۡضِ ہَوۡنًا وَّاِذَا خَاطَبَہُمُ الۡجٰہِلُوۡنَ قَالُوۡا سَلٰمًا ٦٣

ওয়া ‘ইবা-দুররাহমা-নিল্লাযীনা ইয়ামশূনা ‘আলাল আরদি হাওনাওঁ ওয়া ইযা তাবাহুমুল জা-হিলূনা কা-লূছালা-মা-।

রহমানের বান্দা তারা, যারা ভূমিতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞলোক যখন তাদেরকে লক্ষ্য করে (অজ্ঞতাসুলভ) কথা বলে, তখন তারা শান্তিপূর্ণ কথা ৩০ বলে।

তাফসীরঃ

৩০. অর্থাৎ, তারা অজ্ঞজনদের কটু কথা ও গালিগালাজের জবাব মন্দ কথা দ্বারা দেয় না; বরং ভদ্রোচিত ভাষায় দিয়ে থাকে।
৬৪

وَالَّذِیۡنَ یَبِیۡتُوۡنَ لِرَبِّہِمۡ سُجَّدًا وَّقِیَامًا ٦٤

ওয়াল্লাযীনা ইয়াবীতূনা লিরাব্বিহিম ছুজ্জাদাওঁ ওয়া কিয়া-মা-।

এবং যারা রাত অতিবাহিত করে নিজ প্রতিপালকের সামনে (কখনও) সিজদারত অবস্থায় এবং (কখনও) দণ্ডায়মান অবস্থায়।
৬৫

وَالَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَہَنَّمَ ٭ۖ  اِنَّ عَذَابَہَا کَانَ غَرَامًا ٭ۖ ٦٥

ওয়াল্লাযীনা ইয়াকূলূনা রাব্বানাসরিফ ‘আন্না-‘আযা-বা জাহান্নামা ইন্না ‘আযা-বাহাকা-না গারা-মা-।

এবং যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! জাহান্নামের আযাব আমাদের থেকে দূরে রাখুন। নিশ্চয়ই তার আযাব সদা সংলগ্ন হয়ে থাকে।
৬৬

اِنَّہَا سَآءَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا ٦٦

ইন্নাহা-ছাআত মুছতাকাররাওঁ ওয়া মুকা-মা-।

নিশ্চয়ই অবস্থানস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা অতি নিকৃষ্ট।
৬৭

وَالَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَنۡفَقُوۡا لَمۡ یُسۡرِفُوۡا وَلَمۡ یَقۡتُرُوۡا وَکَانَ بَیۡنَ ذٰلِکَ قَوَامًا ٦٧

ওয়াল্লাযীনা ইযা-আনফাকূলাম ইউছরিফূওয়া লাম ইয়াকতুরূওয়া কা-না বাইনা যা-লিকা কাওয়া-মা-।

এবং যারা ব্যয় করার সময় না করে অপব্যয় এবং না করে কার্পণ্য; বরং তা হয় উভয়ের মাঝখানে ভারসাম্যমান।
৬৮

وَالَّذِیۡنَ لَا یَدۡعُوۡنَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ وَلَا یَقۡتُلُوۡنَ النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَلَا یَزۡنُوۡنَ ۚ  وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ یَلۡقَ اَثَامًا ۙ ٦٨

ওয়াল্লাযীনা লা-ইয়াদ‘ঊনা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ওয়ালা-ইয়াকতুলূনান নাফছাল্লাতী হাররামাল্লা-হু ইল্লা-বিলহাক্কিওয়ালা-ইয়াঝনূনা ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ইয়ালকা আছা-মা-।

এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন মাবুদের ইবাদত করে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে বধ করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তিই এরূপ করবে তাকে তার গুনাহের (শাস্তির) সম্মুখীন হতে হবে।
৬৯

یُّضٰعَفۡ لَہُ الۡعَذَابُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَیَخۡلُدۡ فِیۡہٖ مُہَانًا ٭ۖ ٦٩

ইউদা-‘আফ লাহুল ‘আযা-বুইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়া ইয়াখলুদ ফীহি মুহা-না-।

কিয়ামতের দিন তার শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং সে লাঞ্ছিত অবস্থায় তাতে সদা-সর্বদা থাকবে। ৩১

তাফসীরঃ

৩১. এর দ্বারা কাফের ও মুশরিকদেরকে বোঝানো হয়েছে। কেননা মুমিনগণ জাহান্নামের স্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে না। তাদেরকে যদি তাদের গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়, তবে সে শাস্তি ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।
৭০

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یُبَدِّلُ اللّٰہُ سَیِّاٰتِہِمۡ حَسَنٰتٍ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ٧۰

ইল্লা-মান তা-বা ওয়া আ-মানা ওয়া ‘আমিলা ‘আমালান সা-লিহান ফাউলাইকা ইউবাদ্দিলুল্লা-হু ছাইয়িআ-তিহিম হাছানা-তিও ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরাররাহীমা-।

তবে কেউ তাওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। ৩২ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৩২. অর্থাৎ, কাফের অবস্থায় তারা যেসব পাপ কাজ করেছে তাদের আমলনামা থেকে তা মুছে ফেলা হবে এবং ইসলাম গ্রহণোত্তর নেক কাজসমূহ তদস্থলে ঠাঁই পাবে।
৭১

وَمَنۡ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاِنَّہٗ یَتُوۡبُ اِلَی اللّٰہِ مَتَابًا ٧١

ওয়া মান তা-বা ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফাইন্নাহূইয়াতূবুইলাল্লা-হি মাতা-বা-।

এবং যে ব্যক্তি তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে মূলত আল্লাহর দিকে যথাযথভাবে ফিরে আসে।
৭২

وَالَّذِیۡنَ لَا یَشۡہَدُوۡنَ الزُّوۡرَ ۙ وَاِذَا مَرُّوۡا بِاللَّغۡوِ مَرُّوۡا کِرَامًا ٧٢

ওয়াল্লাযীনা লা-ইয়াশহাদূ নাঝঝূরা ওয়া ইযা-মাররূবিল্লাগবিমাররূকিরা-মা-।

এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না ৩৩ এবং যখন কোন বেহুদা কার্যকলাপের নিকট দিয়ে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৩. কুরআন মাজীদে এস্থলে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে زور (যূর), যার আভিধানিক অর্থ মিথ্যা। তাছাড়া যে-কোন ভ্রান্ত ও অন্যায় কাজকেও ‘যূর’ বলে। এ হিসেবে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, সেখানে কোন অন্যায় ও অবৈধ কাজ হয়, আল্লাহর নেক বান্দাগণ তাতে জড়িত হয় না। আবার এ অর্থও করা যেতে পারে যে, তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।
৭৩

وَالَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِّرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ لَمۡ یَخِرُّوۡا عَلَیۡہَا صُمًّا وَّعُمۡیَانًا ٧٣

ওয়াল্লাযীনা ইযা-যুক্কিরূবিআ-য়া-তি রাব্বিহিম লাম ইয়াখিররূ‘আলাইহা-সুম্মাওঁ ওয়া ‘উমইয়া-না-।

এবং যখন তাদের প্রতিপালকের আয়াত দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা বধির ও অন্ধরূপে তার উপর পতিত হয় না। ৩৫

তাফসীরঃ

৩৫. এর দ্বারা মুনাফিকদেরকে কটাক্ষ করা হয়েছে। তারা আল্লাহ তাআলার আয়াত শুনে বাহ্যত তার প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করত এবং তার সামনে এমন বিনীত ভাব দেখাত, মনে হত যেন উপুড় হয়ে পড়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্য কথা শুনতে তারা মোটেই আগ্রহী ছিল না। সে দিক থেকে তারা চোখণ্ডকান বন্ধ করে অন্ধ ও বধির সদৃশ হয়ে যেত। ফলে কুরআনের আয়াত দ্বারা তারা উপকৃত হতে পারত না। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাগণ কুরআনের আয়াতসমূহকে আন্তরিক আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে নেয়। তার বিষয়বস্তু মন দিয়ে শোনে এবং তা যে সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চোখণ্ডকান খোলা রেখে তা বোঝার ও হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করে।
৭৪

وَالَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا ہَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا ٧٤

ওয়াল্লাযীনা ইয়াকূ লূনা রাব্বানা-হাবলানা-মিন আঝওয়া-জিনা-ওয়া যুররিইইয়া-তিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা-লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা-।

এবং যারা (এই) বলে (দোয়া করে যে), হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ হতে দান কর নয়নপ্রীতি এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও। ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. সাধারণত পিতা তার পরিবারবর্গের নেতা হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদ তাকে এ দোয়া শিক্ষা দিচ্ছে। এর সারমর্ম হল, হে আল্লাহ! পিতা ও স্বামী হিসেবে আমি যখন স্ত্রী ও সন্তানদের নেতা, তখন আপনি আমার স্ত্রী-সন্তানদেরকে মুত্তাকী বানিয়ে দিন, যাতে আমি নেতা হই মুত্তাকীদের এবং তারা হয় আমার জন্য নয়নপ্রীতিকর। এর বিপরীতে আমি না হই ফাসেক ও পাপীদের নেতা, যারা আমার জন্য আযাব না হয়ে দাঁড়ায়। যারা নিজ পরিবারবর্গের আচার-আচরণে অতিষ্ঠ, তাদের নিয়মিতভাবে এ দোয়াটি করা উচিত।
৭৫

اُولٰٓئِکَ یُجۡزَوۡنَ الۡغُرۡفَۃَ بِمَا صَبَرُوۡا وَیُلَقَّوۡنَ فِیۡہَا تَحِیَّۃً وَّسَلٰمًا ۙ ٧٥

উলাইকা ইউজঝাওনাল গুরফাতা বিমা-সাবারূওয়া ইউলাক্কাওনা ফীহা-তাহিইইয়াতাওঁ ওয়া ছালা-মা-।

এরাই তারা, যাদেরকে তাদের সবরের প্রতিদানে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ দেওয়া হবে এবং সেখানে শুভেচ্ছা ও সালামের সাথে তাদের অভ্যর্থনা করা হবে।
৭৬

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ حَسُنَتۡ مُسۡتَقَرًّا وَّمُقَامًا ٧٦

খা-লিদীনা ফীহা-; হাছুনাত মুছতাকাররাওঁ ওয়া মুকা-মা-।

তারা তাতে স্থায়ী জীবন লাভ করবে। অবস্থানস্থল ও বাসস্থান হিসেবে তা অতি উত্তম।
৭৭

قُلۡ مَا یَعۡبَؤُا بِکُمۡ رَبِّیۡ لَوۡلَا دُعَآؤُکُمۡ ۚ  فَقَدۡ کَذَّبۡتُمۡ فَسَوۡفَ یَکُوۡنُ لِزَامًا ٪ ٧٧

কুল মা-ইয়া‘বাউ বিকুম রাববী লাওলা-দু‘আউকুম ফাকাদ কাযযাবতুম ফাছাওফা ইয়াকূনুলিঝা-মা-।

(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছুই আসে যায় না। ৩৭ আর (হে কাফেরগণ!) তোমরা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছ। অচিরেই এ প্রত্যাখ্যান তোমাদের গললগ্ন হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৩৭. এটা বলা হচ্ছে যারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করে তাদেরকে লক্ষ করে। বলা হচ্ছে যে, তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার অভিমুখী না হতে এবং তাঁর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, তবে আল্লাহ তাআলারও তাতে কিছু আসত যেত না, তিনি এর কোন পরওয়া করতেন না। কিন্তু দয়াময় আল্লাহর প্রকৃত বান্দাগণ, যারা তাঁর ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে এবং যারা উপরে বর্ণিত সৎকর্মসমূহ আঞ্জাম দেয়, তারা হবে উৎকৃষ্ট পরিণামের অধিকারী, যার যিম্মাদার আল্লাহ তাআলা নিজেই। তারপর কাফেরদেরকে লক্ষ করে বলা হয়েছে, তোমরা যখন এ মূলনীতি জানতে পারলে এবং তারপরও সত্য প্রত্যাখ্যানের নীতিতেই অটল থাকলে, তখন জেনে রেখ, আল্লাহ তাআলার অনুগত বান্দাদের মত পরিণাম তোমাদের হতে পারে না। তোমাদের এ কর্মকাণ্ড তোমাদের গলার কাঁটা হয়ে যাবে এবং পরিশেষে আখেরাতের আযাবরূপে তোমাদেরকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরবে যে, তার থেকে মুক্তিলাভ কখনও সম্ভব হবে না।
সূরা আল ফুরকান | মুসলিম বাংলা