খাবার না খেয়েও মিলের টাকা প্রদান
প্রশ্নঃ ৫২৬৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সাধারণত মেসে প্রতিজনের খাবার খরচে একটা ফিক্সড মিল থাকে। যেমন: ৫০ বা ৬০ টা মিল। যদি সেই ব্যক্তি ৫০ বা ৬০ মিল নাও খায়। তবুও তাকে ফিক্সড মিলের পূর্ণ টাকা দিতে হবে। খাবার না খেয়েও যে অতিরিক্ত মিলের টাকা দেওয়া হলো সেটার হুকুম কী হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
মেসের এই পদ্ধতির শরঈ বিধান সম্পর্কে জানার আগে মেসের মিল সম্পর্কে আরো একটি বিধান জানতে হবে। সেটা হলো, যদি মেসে এই নিয়ম চালু থাকে যে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে আগেই (সাধারণরত বাজার করার আগে) পরবর্তী মিলের ব্যাপারে জানাতে হয়। যাতে করে ওই ব্যক্তির বাজার এবং রান্না মুলতবি রাখা যায়। যদি এই নিয়ম পালনের পরও কারো টাকা কর্তন করে রাখে তাহলে এটা শরীয়ত সম্মত হবে না। বরং এতে অন্যের ওপর জুলুম করা হয়। যা কুরআন সুন্নাহে নিষিদ্ধ।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
- وقال تعالى في سورة النساء رقم الأية 29
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا
হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টিক্রমে কোন ব্যবসায় করা হলে (তা জায়েয)। এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই, আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ২৯)
তাবেয়ী আবু হুররাহ রাক্কাশী তাঁর চাচা সাহাবী হইতে বর্ণনা করেন যে,
: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «أَلا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ»
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, সাবধান! কেউ কারো প্রতি জুলুম করো না। সাবধান! কারো মাল তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নহে।
(মিশকাতুল মাসাবীহ- হাদিস নং ২৯৪৬—বায়হাকী শোআবুল ঈমানে; দারা কুতনী মুজতাবায়)
কিন্তু যদি কেউ নিদিষ্ট সময়ের আগে নিজের মিল বন্ধ না করে এবং তার করা বাজার এবং রান্না ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে শর্ত মোতাবেক তিনি ওই মিলের টাকা দিতে বাধ্য থাকবেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصُّلْحُ جَائِزٌ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ " . زَادَ أَحْمَدُ " إِلاَّ صُلْحًا أَحَلَّ حَرَامًا أَوْ حَرَّمَ حَلاَلاً " . وَزَادَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ " .
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের মধ্যে পরস্পর সন্ধি করা জায়েয।
ইমাম আহমদ এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কিন্তু এরূপ সন্ধি যা হালালকে হারাম করে এবং হারামকে হালাল করে--তা বৈধ নয়।
রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানদের উচিত দ্বীনের ব্যাপারে সন্ধির শর্তের উপর স্থির থাকা। (আবু দাউদ হাদিস নং 3555)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন