অমুসলিমকে হত্যা করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩৮২৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোনো মুসলিম অন্য মুসলিম কে যদি বিনা কারনে হত্যা করে, তাহলে হত্যাকারী ব্যাক্তি কি মুসলিম থাকে তার কি ইমান থাকে? একটু দয়া করে জানাবেন
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া যে প্রাণ হত্যা করাকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করা অন্যতম বড় কবিরা গুনাহ এবং জঘন্যতম অপরাধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ
অর্থ: আর তোমরা সেই প্রাণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন। (সূরা আল-ইসরা: ৩৩)
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন:
مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا
অর্থ: যে ব্যক্তি হত্যার বদলা বা পৃথিবীতে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টির কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারও প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল। (সূরা আল-মায়েদাহ: ৩২)
ইসলামে শান্তিপ্রিয় অমুসলিমের রক্ত ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা রয়েছে। তাই সে যদি চুক্তিবদ্ধ (মুয়াহিদ), নিরাপত্তা প্রাপ্ত (মুস্তামিন) অথবা জিম্মি নাগরিক হয়, তবে কোনো অবস্থাতেই তার ওপর আক্রমণ করা বা জুলুম করা জায়েজ নয়। কারণ নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন:
مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا يُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا
অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (মুয়াহিদ) হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্বের পথ থেকেও পাওয়া যায়। (সহিহ বুখারি)
ইসলাম বিনা কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অবুঝ প্রাণীর ওপরও আক্রমণ করা বা তাকে কষ্ট দেওয়া হারাম করেছে। এ প্রসঙ্গে নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ إِنْسَانٍ قَتَلَ عُصْفُورًا فَمَا فَوْقَهَا بِغَيْرِ حَقِّهَا إِلَّا سَأَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهَا
অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়া একটি চড়ুই পাখি বা তার চেয়ে বড় কোনো প্রাণীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। (সুনানে নাসায়ি ও মুস্তাদরাকে হাকিম)
সুতরাং, যেখানে সাধারণ প্রাণীর অধিকার এমন, সেখানে বনী আদম বা মানুষের জীবনের মর্যাদা কতই না বেশি হবে! যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ সম্মান দান করে ইরশাদ করেছেন:
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
অর্থ: আর আমি বনী আদমকে সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদেরকে পবিত্র ও উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমার অসংখ্য সৃষ্টির ওপর তাদেরকে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (সূরা আল-ইসরা: ৭০)
আর তার ইমান থাকা না থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে, সে কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ করা বিষয়টি নিষিদ্ধ জানা সত্ত্বেও বৈধ মনে করছে কি না। যদি বিষয়টি এমন হয়, তাহলে তার ইমান থাকবে না। কেননা সে আল্লাহপ্রদত্ত দ্বীনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকার করছে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১