মানুষের চুল দিয়ে টুপি বানানোর বিধান
প্রশ্নঃ ১৪০১৬১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একটা মাসয়ালা জানতে চাই চুলের কাজ করা যেমন চুল দিয়ে টুপি বানানো ইত্যাদি এই কাজ করা কি জায়েজ আছে?
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
নান্দাইল
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মানুষের চুল দিয়ে কোনো জিনিস বা টুপি তৈরি করা এবং এর ক্রয়-বিক্রয় বা ব্যবসা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।
মানুষ সম্মানিত প্রাণী, কোনো ব্যবহারিক পণ্য নয়। তাই মানুষের চুল বা নখের মতো কর্তিত অংশকে পণ্য হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম। তাছাড়া, একজনের চুল অন্যজনের ব্যবহার করাও শরিয়তে জায়েজ নেই। আর যে জিনিসের ব্যবহার নাজায়েজ, তার ব্যবসাও নাজায়েজ। সুতরাং, মানুষের চুল সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করার ব্যবসায় যুক্ত থাকা বা এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।
قَطَعَتْ شَعْرَ رَأْسِهَا أَثِمَتْ وَلُعِنَتْ زَادَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ وَإِنْ بِإِذْنِ الزَّوْجِ لِأَنَّهُ لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
অর্থ: কোনো নারী তার মাথার চুল কাটলে সে গুনাহগার ও অভিশপ্ত হবে। আল-বাযযাজিয়া গ্রন্থে যুক্ত করা হয়েছে—এমনকি তা স্বামীর অনুমতিতে হলেও (তা হারাম); কেননা স্রষ্টার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।
(রদ্দুল মুহতার- ৬/৪০৭)
وَكَذَا بَيْعُ كُلِّ مَا انْفَصَلَ عَنْ الْآدَمِيِّ كَشَعْرٍ وَظُفْرٍ لِأَنَّهُ جُزْءُ الْآدَمِيِّ، وَلِذَا وَجَبَ دَفْنُهُ كَمَا فِي التُّمُرْتَاشِيِّ وَغَيْرِهِ
অর্থ: অনুরূপভাবে মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যেকোনো অংশ—যেমন চুল ও নখ বিক্রি করা হারাম। কারণ এটি মানুষেরই অংশ। আর এ কারণেই তা দাফন করা (মাটিতে পুঁতে রাখা) ওয়াজিব, যেমনটি তুমুরতাশি ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
(রদ্দুল মুহতার,- ৯/৫৫২)
وَشَعْرِ الْإِنْسَانِ وَالِانْتِفَاعِ بِهِ أَيْ لَمْ يَجُزْ بَيْعُهُ وَالِانْتِفَاعُ بِهِ لِأَنَّ الْآدَمِيَّ مُكَرَّمٌ غَيْرُ مُبْتَذَلٍ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ شَيْءٌ مِنْ أَجْزَائِهِ مُهَانًا مُبْتَذَلًا
অর্থ: মানুষের চুল বিক্রি করা ও তা দ্বারা উপকৃত হওয়া জায়েজ নয়। কারণ মানুষ সম্মানিত, তাকে বা তার কোনো অংশকে তুচ্ছ ও অবমূল্যায়ন করা যায় না। তাই তার শরীরের কোনো অংশকে অসম্মানজনক বা ব্যবহার্য বস্তুতে পরিণত করা বৈধ নয়।
(আল-বাহরুর রায়িক- ৬/৮, আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া- ৩/১১৪)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১