ছবির ফ্রেম তৈরি করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩১৭৯৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ছবির ফ্রেম বানানো কি জায়েয? আমরা জানি ছবি তোলা বা অঙ্কন করা হারাম। প্রশ্ন হলো, ছবির ফ্রেম তৈরি করা করে ক্রয় বিক্রয় করা কি ঠিক হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমত কথা হচ্ছে, যদি প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা হারাম,
এ বিষয়ে আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা উত্তর দিয়েছেন,
تصوير ذوات الأرواح حرام والكسب حرام
‘প্রাণীর ছবি আঁকা হারাম এবং এর উপার্জনও হারাম।’ (ফাতাওয়াল লাজনাদ দায়িমা লিল বুহুসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা, ফাতওয়া নং ৬৪০২)
সহিহ হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَيُعَذِِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ
‘প্রত্যেক ছবিনির্মাতা জাহান্নামে যাবে, তার নির্মিত প্রতিটি ছবি পরিবর্তে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।’ (বুখারী ২২২৫, ৫৯৬৩, মুসলিম ৫৬৬২)
সুতরাং যিনি এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছেন তিনি কেবল এমন জিনিসগুলির ছবি নিয়ে কাজ করতে পারেন যা হারাম নয় বা তিনি অন্য কোনও ব্যবসার চেষ্টা করতে পারেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন জিনিস ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে আরও ভাল কিছু দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেবেন।
সুতরাং যারা সরাসরি প্রাণীর ছবি অঙ্কনের সাথে সম্পৃক্ত তারা স্পষ্ট হারাম কাজে লিপ্ত।
দ্বিতীয়ত ফ্রেম বানানো হালাল না হারাম তা মূলত নির্ভর করে ফ্রেমে রাখা ছবিটির উপর; যদি ছবিতে কোনো জীবন্ত প্রাণীর (মানুষ বা পশুর) ছবি থাকে, তাহলে এমন ছবির জন্য ফ্রেম তৈরি করাও বৈধ হবে না। তবে, প্রাকৃতিক দৃশ্য, ফুল ইত্যাদি প্রাণহীন ছবি ফ্রেমে রাখা এবং সংরক্ষণ করা জায়েজ, যদি তা শরিয়তসম্মত হয়। সুতরাং এমন বৈধ ছবির ফ্রেম তেরি করাও বৈধ হবে।
তবে সর্বাবস্থায় যেখানে হারামের সামান্য আশঙ্কাও আছে সেখান থেকে একজন মুমিনের জন্য দূরে থাকা জরুরি, যাতে করে হারাম লিপ্ত না হয়ে পড়ে।
রাসূল সা. এক হাদিসে বলেন,
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَأَهْوَى النُّعْمَانُ بِإِصْبَعَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ " إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلاَ وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلاَ وَهِيَ الْقَلْبُ " .
৩৯৪৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর হামদানী (রাহঃ) ......... নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছিঃ (অর্থাৎ তিনি বলেন) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, রাবী বলেনঃ এ সময় নু’মান তাঁর দুই আঙ্গুল দ্বারা কানের দিকে ইঙ্গিত করেন, (নিশ্চয়ই) হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এ সব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দুরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশপাশে পশু চরায়, আশঙ্কা রয়েছে সে পশু তার অভ্যন্তরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে, সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো, তা হল ’ক্বলব’ (হৃদয়)।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ৩৯৪৯
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বাবস্থায় হারাম থেকে বেঁচে চলার তাওফিক দান করুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন