যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার শরয়ি বিধান
প্রশ্নঃ ১৭৩০১২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ১৩বছর যৌথ পরিবারে ছিলাম এখন এককপরিবার।পারিবারিক কলহের কারণে আমি আলাদা হয়েছি এখন আমার শাশুড়ী আমার স্বামী আর আমাকে বদদোয়া দিচ্ছেন।টাকা দিলে ফেরত দিচ্ছেন কাপড় বা খাওয়া জিনিস দিলেও ফেরত দিয়েছেন।আর না দিলেও ঝগড়া করছে।এখন আমার করণীয় কি???????
২৮ অক্টোবর, ২০২৬
JWW৩+F৯G
০ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী! স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা একটি ভিন্ন বিষয়, আর পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ ও তাঁদের খেদমত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি বিষয়। একটির কারণে অপরটি নষ্ট হতে পারে না। স্ত্রীকে আলাদা রাখা মানেই মা-বাবাকে পরিত্যাগ করা নয়।
মানুষ যেভাবে রুজি-রোজগার ও ব্যবসার জন্য সারা দিন ঘরের বাইরে থাকে, ঠিক তেমনি একজন ছেলে চাইলে প্রতিদিন বা সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে মায়ের খেদমত ও খোঁজখবর নেওয়ার সুব্যবস্থা করতে পারে।
মা যদি মন থেকে খুশি হতে না চান বা রাগ করে থাকেন, কিন্তু ছেলে যদি নিজের সাধ্যমতো সেবা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যায়, তবে আল্লাহর আদালতে ছেলের ওপর কোনো দায় থাকবে না।
উভয় সম্পর্ককে একসাথে রক্ষা করে চলা একটু মানসিক চাপ ও হিম্মতের দাবি রাখে বটে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই কঠিন বা অসম্ভব কোনো কাজ নয়। প্রজ্ঞা দিয়ে চললে দুটি সম্পর্কই একসাথে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
মানুষ যেভাবে রুজি-রোজগার ও ব্যবসার জন্য সারা দিন ঘরের বাইরে থাকে, ঠিক তেমনি একজন ছেলে চাইলে প্রতিদিন বা সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে মায়ের খেদমত ও খোঁজখবর নেওয়ার সুব্যবস্থা করতে পারে।
মা যদি মন থেকে খুশি হতে না চান বা রাগ করে থাকেন, কিন্তু ছেলে যদি নিজের সাধ্যমতো সেবা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যায়, তবে আল্লাহর আদালতে ছেলের ওপর কোনো দায় থাকবে না।
উভয় সম্পর্ককে একসাথে রক্ষা করে চলা একটু মানসিক চাপ ও হিম্মতের দাবি রাখে বটে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই কঠিন বা অসম্ভব কোনো কাজ নয়। প্রজ্ঞা দিয়ে চললে দুটি সম্পর্কই একসাথে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
শাশুড়ির এই বদদোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আপনারা এ নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। ইসলামে পিতা-মাতার বদদোয়ার বিষয়ে যেমন সতর্কবার্তা এসেছে, তেমনি শরিয়তের অকাট্য মূলনীতি হলো, পিতা-মাতার অন্যায় বা অযৌক্তিক বদদোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَا يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ، مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ
বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো পাপের কাজের জন্য দোয়া করে কিংবা কোনো অন্যায় সম্পর্কচ্ছেদের জন্য দোয়া (বদদোয়া) করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৭৩৫)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/13734
স্ত্রীকে যৌথ পরিবার থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন বাসস্থান দেওয়া স্বামীর ওপর শরিয়তের নির্ধারিত দায়িত্ব। আপনার স্বামী কোনো পাপ কাজ করেননি। কলহ থেকে বাঁচতে স্ত্রীর অধিকার আদায় করেছেন। শরিয়তের কোনো বৈধ কাজ করার কারণে মা যদি আবেগের বশে বা ক্ষোভে বদদোয়া দেন, তবে সেই বদদোয়া উল্টো মায়ের আমলনামায় গণ্য হবে, আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না।
আর আপনি যদি আন্তরিকভাবে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য কিছু দিতে চান, কিন্তু তিনি বারবার তা ফেরত দিয়ে ঝগড়া করেন, তাহলে আপাতত জোর করে টাকা বা জিনিস দেওয়া বন্ধ রাখতে পারেন। তবে প্রয়োজনের সময় খোঁজ নেওয়া, সালাম দেওয়া এবং সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
সম্ভব হলে পরিবারের কোনো বিচক্ষণ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে শান্তভাবে কথা বলুন। এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। আর যদি অপমান বা ঝগড়া নিয়মিত হয়, তাহলে নিজের সংসারের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত সীমারেখা বজায় রাখুন।
সম্ভব হলে পরিবারের কোনো বিচক্ষণ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে শান্তভাবে কথা বলুন। এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। আর যদি অপমান বা ঝগড়া নিয়মিত হয়, তাহলে নিজের সংসারের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত সীমারেখা বজায় রাখুন।
তিনি যদি কোনো কারণে ঝগড়া করেন বা কটু কথা বলেন, তবে মুখে কোনো জবাব দেবেন না। চুপচাপ শুনে এড়িয়ে যাবেন। শয়তান চায় আপনার মুখের একটি কথার সুযোগ নিয়ে পুরো সংসারকে বিষিয়ে তুলতে। নীরবতাই এমন মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শান্তির অস্ত্র।
الفتاوي الهندية:
تجب السكنى لها عليه في بيت خال عن أهله وأهلها إلا أن تختار ذلك كذا في العيني شرح الكنز.
(كتاب الطلاق، الباب السابع عشر في النفقات، الفصل الثاني في السكني، ج:1، ص:556)
الموسوعة الفقهية الكويتية:
السكنى للزوجة على زوجها واجبة، وهذا الحكم متفق عليه بين الفقهاء؛ لأن الله تعالى جعل للمطلقة الرجعية السكنى على زوجها. قال تعالى: {أسكنوهن من حيث سكنتم من وجدكم} (1) فوجوب السكنى للتي هي في صلب النكاح أولى. ولأن الله تعالى أوجب المعاشرة بين الأزواج بالمعروف، قال تعالى: {وعاشروهن بالمعروف} (2) ومن المعروف المأمور به أن يسكنها في مسكن تأمن فيه على نفسها ومالها، كما أن الزوجة لا تستغني عن المسكن؛ للاستتار عن العيون والاستمتاع وحفظ المتاع. فلذلك كانت السكنى حقا لها على زوجها، وهو حق ثابت بإجماع أهل العلم (3)...
... فالجمع بين الأبوين والزوجة في مسكن واحد لا يجوز (وكذا غيرهما من الأقارب) ولذلك يكون للزوجة الامتناع عن السكنى مع واحد منهما؛ لأن الانفراد بمسكن تأمن فيه على نفسها ومالها حقها، وليس لأحد جبرها على ذلك. وهذا مذهب جمهور الفقهاء من الحنفية والشافعية والحنابلة.
('السکنی'، الأحكام المتعلقة بالسكني، ج:25، ص:108-109)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন