ওসওয়াসার কারণে তালাকের সন্দেহ
প্রশ্নঃ ১৭২৯৪৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কেমন আছেন মুফতী সাহেব হুজুর। আমি এক জন আলেম মানুষ কিন্তু আমি সকল ক্ষেত্রেই ওসওয়াসায় আক্রান্ত। এই কারনে আমার প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে । গত ছয় বছর পূর্বে আমি দ্বীতিয় বিবাহ করি। আমাদের সংসার ভালোই চলতে ছিলো একটা ছেলেও আছে । ইদানিং কালে আমার মনে বারবার তালাকের চিন্তা ভাবনা তৈরি হয় আর তখন আমি মুখ আটকিয়ে রাখি। আমার মনে আসে (আমি যতবার বাড়ি যাবো তাল,,) বুঝে নিবেন বিশেষত নামাজের মধ্যে এমন টা বেশি হয় তাসবিহ পড়া অবস্থায় রুকুতে সিজদায়, শব্দ গুলো মনে আসে পরবর্তীতে মনে হয় উচ্চারণ করেছি । একবার ভেবেছিলাম এটা যদি বাস্তবে হয় তাহলে তো বাড়িতেই যাওয়া যাবে না।তারপর আবার ভাবি আমার মাকে এ বিষয়ে বলবো যে আমার তো এই বিষয়ে ওসোওসা আসছে,, আবার পরবর্তী সময়ে মনে আসছে (যতবার বাড়ি যাবো তাল) এই শব্দ উচ্চারণ যদি হয়ে থাকে তাহলে তো বাড়িতে গেলেই সমস্যা হবে,, আবার ভাবতে ছিলাম এ শব্দ ভাবার সময়ে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য ছিলো না তার কথা মনে ও আসেনি । আসল কথা হলো প্রত্যেক বার পূর্বের বিষয়ে ভাবছিলাম উচ্চারণ হয়েছিল কিনা।আবার মনে আসে বিষয়টা তখন নিজেকে নিজে শুধু শব্দটা ভেবেছি উচ্চারণ নিয়ে সন্দেহ, এটাতে তো স্ত্রীর দিকে নিসবত করিনি আমি আমার বউকে তালীক করার জন্য ও বলিনি আমি কসম করে বলছি আমার স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে অথবা আমার নিজের জন্যে বলেনি ভাবি নাই এমনে বারবার মনে আসছিল। আর কোনো বিষয়েই নিশ্চিত হতে পারি না মুখ আটকানো থাকলে ও মনে আওয়াজ করে বলেছি । সব ভাবনা গুলো ও কিছুক্ষণ পর মনে উচ্চারণ হয়েছিল। চিন্তা আসে উচ্চারণ হয়ে থাকে। হযরত অনেক কষ্টে সময় যাচ্ছে বলে বুঝাতে পারবো না। মাঝে মাঝে (আল্লাহর মাফ করুন) সুইসাইড করার মন চায়। ১, এহেন পরিস্থিতিতে যদি শব্দটা মাসালা নিয়ে ভাবার সময় উচ্চারণ ও হয়ে থাকে তাতে কি তালীকে তালাকের হুকুম হবে?? ২, উদ্দেশ্যহীন ভাবে এই রকম চিন্তা ভাবনা আসার কারনে কিংবা উদ্দেশ্যহীন ভাবে উচ্চারণ হয়ে গেলে যে ক্ষেত্রে আমার তালীক করার কোনো নিয়ত না থাকে স্ত্রীর দিকে নিসবত ও না থাকে কি হুকুম ৩ , অনেক আমল করি ওসোওসা দূর করতে কিছুতেই কাজ হচ্ছেনা শুধু একের পর এক বিভিন্ন ওসোওসা আসতে থাকে। এমন কিছু আমল বলে দিন যাতে উপকৃত হবো মুফতী সাহেব সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন জাজাকাল্লাহু
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনি তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছেন।
১. মনে মনে তালাকের চিন্তা আসা
মনে মনে তালাকের চিন্তা আসা, কোনো বাক্য কল্পনা করা কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তালাকের শব্দ মনে ভেসে ওঠার কারণে তালাক কার্যকর হয় না।
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যদি প্রশ্নকারী নিশ্চিত না হন যে তিনি বাস্তবে মুখ দিয়ে তালাকের বাক্য উচ্চারণ করেছেন কি না, বরং শুধু সন্দেহ ও ওসওয়াসায় ভুগতে থাকেন, তাহলে এ সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁর বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না।
ফিকহের একটি স্বীকৃত মূলনীতি হলো,
অর্থাৎ, বিবাহ বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত। আর তালাক উচ্চারণের বিষয়টি কেবল সন্দেহের পর্যায়ে থাকলে শুধু সেই সন্দেহের কারণে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হবে না।
প্রশ্নে উল্লেখিত ‘আমি যতবার বাড়ি যাবো, তালাক…’ বাক্যটি শুধু বাক্যটি মনে আসা কিংবা উচ্চারণের ব্যাপারে সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক সাব্যস্ত হবে না।
৩. একজন আলেম হিসেবে আপনার জন্য নিচের কাজগুলো মেনে চলা জরুরি।
১. আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করুন যে এই বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ বন্ধ। কারণ, ওসওয়াসার একমাত্র চিকিৎসা হলো তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা। যখনই মনে হবে, আমি কি তালাক বলে ফেললাম? সাথে সাথে মনকে বলবেন, বললে বলেছি, তাতে তালাক হয় না। আমার মুফতি ফতোয়া দিয়েছেন আমার কোনো তালাক হয়নি। কখনো নিজেকে যাচাই করতে যাবেন না। কোনো ঘটনা মনে পড়ার চেষ্টা করবেন না। শয়তান আপনাকে আদালতে জেরা করতে চাইলে আপনি এজলাস ছেড়ে উঠে চলে যাবেন।
২. যখনই অন্তরে এমন আজেবাজে সন্দেহ আসবে, বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলার মতো ভঙ্গি করে পাঠ করবেন,
৬. নফল নামাজের সিজদায় আল্লাহর কাছে কাঁদবেন যেন আল্লাহ আপনাকে এই শয়তানি আজাব থেকে মুক্তি দেন।
وأما الموسوس فضبطه في الظهيرية في فصل التعزير بكسر الواو وفي المغرب رجل موسوس بالكسر ولا يقال بالفتح ولكن موسوس له أو إليه أي ملقى إليه الوسوسة وقال الليث: حديث النفس وإنما قيل موسوس؛ لأنه يحدث بما في ضميره وعن أبي الليث لايجوز طلاق الموسوس يعني المغلوب في عقله عن الحاكم هو المصاب في عقله إذا تكلم تكلم بغير نظام.
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (4/224)
(وشرائط صحتها العقل) والصحو (والطوع) فلا تصح ردة مجنون، ومعتوه وموسوس، وصبي لا يعقل وسكران ومكره عليها.
قال ابن عابدين: (قوله وموسوس) بالكسر ولا يقال بالفتح ولكن موسوس له أو إليه أي تلقى إليه الوسوسة، وقال الليث: الوسوسة حديث النفس، وإنما قيل موسوس لأنه يحدث بما في ضميره وعن الليث لا يجوز طلاق الموسوس قال: يعني المغلوب في عقله، وعن الحاكم هو المصاب في عقله إذا تكلم يتكلم بغير نظام كذا في المغرب.
لو أجرى الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف.
طلاق الموسوس:
نقل ابن عابدين عن الليث: في مسألة طلاق الموسوس أنه لا يجوز طلاق الموسوس، قال: يعني المغلوب في عقله ونقل ابن القيم: إن المطلق إن كان زائل العقل بجنون أو إغماء أو وسوسة لا يقع طلاقه، قال: وهذا المخلص مجمع عليه بين علماء الأمة.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন