জাল সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর দেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২৫৬৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার এক কলিগ লোন নেয়৷ তার জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য বেতন বাড়িয়ে একটি সার্টিফিকেট বানিয়ে আমার সাক্ষর নিয়ে ব্যাংকে জমা দেয়। আমি পরে বুঝতে পারি আমি তো অনেক বড় গুনাহর কাজে সাহায্য করেছি। এখন আমি কি করলে এ গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
জাল স্যালারি সার্টিফিকেটে মিথ্যা তথ্য জেনেও স্বাক্ষর করা একটি গুরুতর অন্যায় এবং এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে মিথ্যাচার, মিথ্যা সাক্ষ্য এবং পাপের কাজে সহযোগিতার শামিল। একই সাথে প্রচলিত সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে থাকলে তা আরও বড় গুনাহের রূপ নেয়। প্রথমত, আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে খাঁটি দিলে তাওবা করতে হবে। অতীতে কৃত এই ভুলের জন্য মনে তীব্র অনুশোচনা ও অনুতপ্ত হওয়া। ভবিষ্যতে কখনো এমন মিথ্যার আশ্রয় বা অন্যায় কাজে সাহায্য না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
যদি এই মিথ্যা সার্টিফিকেটের কারণে ব্যাংক বা কোনো পক্ষের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয় এবং ব্যাংক প্রতারিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তবে সেই ক্ষতি যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া। আর যদি কলিগ নিয়মিত লোনের মূল টাকা পরিশোধ করে দেয় এবং কারো হক নষ্ট না হয়, তবে আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ তাওবাই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।
قال الله تعالى: فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ
قال الله تعالى: وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
قال الله تعالى: وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
الموسوعة الفقهية الكويتية
ذَهَبَ الْحَنَفِيَّةُ وَالشَّافِعِيَّةُ وَالْحَنَابِلَةُ وَأَبُو ثَوْرٍ: إِلَى أَنَّهُ إِذَا تَابَ شَاهِدُ الزُّورِ وَأَتَتْ عَلَى ذَلِكَ مُدَّةٌ تَظْهَرُ فِيهَا تَوْبَتُهُ، وَتَبَيَّنَ صِدْقُهُ فِيهَا وَعَدَالَتُهُ، قُبِلَتْ شَهَادَتُهُ. لِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿إِلاَّ الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا﴾ . (١) وَلأَِنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَال: التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لاَ ذَنْبَ لَهُ. (٢) وَلأَِنَّهُ تَائِبٌ مِنْ ذَنْبِهِ؛ فَقُبِلَتْ تَوْبَتُهُ كَسَائِرِ التَّائِبِينَ. وَمُدَّةُ ظُهُورِ التَّوْبَةِ عِنْدَهُمْ سَنَةٌ؛ لأَِنَّهُ لاَ تَظْهَرُ صِحَّةُ التَّوْبَةِ فِي مُدَّةٍ قَرِيبَةٍ، فَكَانَتْ أَوْلَى الْمُدَدِ بِالتَّقْدِيرِ سَنَةً؛ لأَِنَّهُ تَمُرُّ فِيهَا الْفُصُول الأَْرْبَعَةُ الَّتِي تَهِيجُ فِيهَا الطَّبَائِعُ وَتَتَغَيَّرُ فِيهَا الأَْحْوَال. (٣) وَقَال الْبَابَرْتِيُّ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ: مُدَّةُ ظُهُورِ التَّوْبَةِ عِنْدَ بَعْضِ الْحَنَفِيَّةِ سِتَّةُ أَشْهُرٍ، ثُمَّ قَال: وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ مُفَوَّضٌ إِلَى رَأْيِ الْقَاضِي.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন