ক্রেডিট কার্ড ও কিস্তির মাধ্যমে কেনার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৩০৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম!(Credit Card)ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে EMI বা কিস্তিতে পণ্য কেনা কি জায়েজ? সেক্ষেত্রে দেখলাম ইসলামী ব্যাংকের নামও তালিকাধীন আছে EMI ক্রয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে!
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামি শরিয়তে কিস্তিতে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ। যদি চুক্তির মজলিসেই পণ্যের মোট মূল্য এবং কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়, তাহলে নগদ মূল্যের তুলনায় কিস্তিতে পণ্যের মূল্য কিছু বৃদ্ধি করে বিক্রি করাও জায়েজ আছে।
প্রচলিত কনভেনশনাল ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিস্তিতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মূল জটিলতা হলো সুদের চুক্তি। কনভেনশনাল ব্যাংকগুলো সাধারণত পণ্য ক্রয় করে দেয় না, বরং ক্রেতাকে ঋণ প্রদান করে এবং নির্দিষ্ট সময় পার হলে বা কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ও জরিমানা আদায় করে। ঋণের ওপর যেকোনো অতিরিক্ত অর্থই রিবা বা সুদ। তাই প্রচলিত সুদি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে সুদের শর্তযুক্ত EMI গ্রহণ করা নাজায়েজ।
যদি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চুক্তিপত্রে কোনো সুদি শর্ত না থাকে এবং কিস্তির অতিরিক্ত কোনো সুদ আরোপিত না হয়, তবে সেই কার্ড ব্যবহার করে EMI-তে পণ্য কেনা বৈধ।
في الهداية في شرح بداية المبتدي
ﻭﻳﺠﻮﺯ اﻟﺒﻴﻊ ﺑﺜﻤﻦ ﺣﺎﻝ ﻭﻣﺆﺟﻞ ﺇﺫا ﻛﺎﻥ اﻷﺟﻞ ﻣﻌﻠﻮﻣﺎ" ﻹﻃﻼﻕ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ: {ﻭﺃﺣﻞ اﻟﻠﻪ اﻟﺒﻴﻊ ﻭﺣﺮﻡ اﻟﺮﺑﺎ}
ﻭﻋﻨﻪ ﻋﻠﻴﻪ اﻟﺼﻼﺓ ﻭاﻟﺴﻼﻡ "ﺃﻧﻪ اﺷﺘﺮﻯ ﻣﻦ ﻳﻬﻮﺩﻱ ﻃﻌﺎﻣﺎ ﺇﻟﻰ ﺃﺟﻞ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻭﺭﻫﻨﻪ ﺩﺭﻋﻪ". ﻭﻻ ﺑﺪ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ اﻷﺟﻞ ﻣﻌﻠﻮﻣﺎ؛ ﻷﻥ اﻟﺠﻬﺎﻟﺔ ﻓﻴﻪ ﻣﺎﻧﻌﺔ ﻣﻦ اﻟﺘﺴﻠﻴﻢ اﻟﻮاﺟﺐ ﺑﺎﻟﻌﻘﺪ، ﻓﻬﺬا ﻳﻄﺎﻟﺒﻪ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻗﺮﻳﺐ اﻟﻤﺪﺓ، ﻭﻫﺬا ﻳﺴﻠﻤﻪ ﻓﻲ ﺑﻌﻴﺪﻫﺎ.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ২৫২৬৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আশাকরি আপনার/আপনাদের সময় আল্লাহ্-তাআলা প্রশান্তিতে কাঁটছে।বর্তমানে ইএমআই এর মাধ্যমে অনেক দ্রব্যাদি ক্রয় করা যায়। কিন্তু ইএমআই এর মাধ্যমে কোনো কিছু ক্রয় করা শরিয়ত সমর্থন করে কিনা?উদাহরণ স্বরূপঃ আমি একটা মোটরসাইকেল ক্রয় করতে চাই। মোটর সাইকেলের মূল্য ৩,৮৯,০০০৳। মোট টাকার মধ্যে ১,০০,০০০ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার আছে আর বাকি ২,৮৯,০০০৳ ইএমআই তে পরিশোধ করতে চাই কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, এক্ষেত্রে আমাকে ইএমআই দেয় এমন কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট ব্যবহার করতে হবে।উক্ত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের কারণ ব্যাংক আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা চার্জ করবে। এক্ষেত্রে শরিয়ত কী বলে, আমাকে জানালে অনেক উপকৃত হতাম, শুকরিয়া।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, মূলত ক্রেডিট কার্ড হল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খরচ করার সুবিধা নেওয়া। যেমন, প্রশ্নেল্লেখিত সুরতে আপনি মোটর সাইকেল খরিদ করলে ব্যাংক আপনার বাকি টাকা পে করে দেবে, পরে আপনি ব্যাংককে ওই টাকা কিস্তিতে পে-ব্যাক করবেন। সুতরাং এক্ষেত্রে ব্যাংক অতিরিক্ত যেটাই নিবে সেটা সুদ হবে। আর সুদ নিঃসন্দেহে হারাম।
ইমাম আবু বকর জাস্সাস রহ. বলেন,
هو القرض المشروط فيه الأجل وزيادة مال على المستقرض
সুদ বলা হয়, এমন ঋণ যাতে মেয়াদ শর্ত করা হয় এবং গ্রহিতাকে অতিরিক্ত প্রদানের শর্ত করা হয়। (আহকামুল কুরআন ১/৫৫৭)
তবে যদি ক্রেডিট কার্ডের মিনিমাম ডিউ টাইমের মধ্যে ব্যাংককে পে-ব্যাক করেন তাহলে যেহেতু তখন ব্যাংককে অতিরিক্ত কোনো ইন্টারেস্ট পে করতে হয় না তাই এক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করা আপনার জন্য যদিও উত্তম নয়, তবে নিষেধও নয়। (দারুল ইফতা, দারুল উলূম, দেওবন্দ, জবাব নং ১৪৫৫৮)
উত্তম নয় এজন্য যে, ক্রেডিট কার্ডের চুক্তিপত্রেই লেখা রয়েছে যে, মিনিমাম ডিউ টাইমে/ডেটে বাকী পরিশোধ না করলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে সুদ দিতে হবে। সুতরাং এটা হয়, সুদের শর্তে চুক্তি করা।
আর নিষেধও নয় এজন্য যে, যদিও চুক্তিতে উক্ত কথা আছে, কিন্তু মিনিমাম ডিউ টাইমের মধ্যে ব্যাংককে পে-ব্যাক করলে যেহেতু তখন ব্যাংককে অতিরিক্ত কোনো ইন্টারেস্ট পে করতে হয় না, তাই নিষেধ নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সিনিয়র মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ, মিরপুর
খতীব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, মিরপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন