ছাত্রদের টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২৬৭৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, যদি কোন শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত- সেখান থেকে তার ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত গবেষণার অর্থ উত্তোলন করে তার একাংশ/সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত গবেষণার কাজে ব্যবহার করে এবং সেই গবেষণার গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রমোশন নেয়- তবে এটাকে শারীয়াহ কী দৃষ্টিতে দেখে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ছাত্রদের গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত গবেষণায় ব্যয় করা এবং এর মাধ্যমে পদোন্নতি লাভ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অন্যায় ও কবিরা গুনাহ। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বা দাতা সংস্থা যখন নির্দিষ্ট খাতে (ছাত্রদের গবেষণায়) ব্যয়ের জন্য কোনো শিক্ষককে অর্থ প্রদান করে, তখন তিনি সেখানে একজন 'আমিন' (বিশ্বস্ত দায়িত্বশীল) ও 'ওয়াকিল' (প্রতিনিধি)। নির্ধারিত খাতের বাইরে নিজের কাজে তা খরচ করা সুস্পষ্ট আমানতের খেয়ানত।শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে পরের হক বা প্রতিষ্ঠানের তহবিল আত্মসাৎ করা হারাম পন্থায় সম্পদ গ্রহণের শামিল। ছাত্রদের হক নষ্ট করে নিজের নামে গবেষণাপত্র তৈরি করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে পদোন্নতি ও অতিরিক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণ করা প্রতারণামূলক উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।
তাই এখন করণীয় হলো, অন্যায়ভাবে ব্যবহৃত সম্পূর্ণ অর্থ প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ ফান্ডে অথবা ছাত্রদের জন্য যথানিয়মে ফেরত দেওয়া। নিজের পদোন্নতি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধায় কোনো অসদুপায় ছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষকে অবগত করে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা এবং দায়মুক্ত হওয়া। আল্লাহর দরবারে একনিষ্ঠভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা।
صحيح مسلم (1/ 122)
عن أبي أمامة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اقتطع حق امرئ مسلم بيمينه، فقد أوجب الله له النار، وحرم عليه الجنة» فقال له رجل: وإن كان شيئا يسيرا يا رسول الله؟ قال: «وإن قضيبا من أراك»،
البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري (2/ 266)
بل غاية الأمر أنه وجوب اتباع شرط الواقف على الناظر
الموسوعة الفقهية الكويتية (1/ 279)
إذا كان الواقف شرط ألا يؤجرها أكثر من سنة، فإنه لا يجوز مخالفة شرط الواقف
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন