প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩০৫৯২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তেলজুড়ী দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার ৯৩ শতাংশ জায়গা আছে। মাদ্রাসা টি বাজার এবং রাস্তার পাশে। মাদ্রাসার ভেতরের পাশের ১৭ শতাংশ জায়গা একেবারেই অব্যবহৃত হয়ে পরে আছে। এই ১৭ শতাংশ জায়গা বিক্রি করে মাদ্রাসার রাস্তার পাসের জায়গায় দোকান করলে মাদ্রাসা লাভবান হবে। অন্যদিকে মাদ্রাসা মহল্লায় কোন কবরস্থান নাই, একটা কবরস্থান মাদ্রাসার সাথে করা গেলে মাদ্রাসার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আরো বাড়বে। তাই আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার ১৭ শতাংশ জায়গা ন্যায্যমূল্যে কবরস্থানের কাছে বিক্রি করতে চাই। উল্লেখ্য মাদ্রাসার এই ৯৩ শতাংশ জায়গা ই সাধারণ দান হিসেবে পাওয়া।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন যে, ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে শরীয়তের মৌলিক বিধান হলো-
ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করা, এওয়াজ-বদল করা জায়েয নয়। বিশেষত ওয়াকফকারী যদি বিক্রি না করার কথা উল্লেখ করেন তখন তা বিক্রি করার কোনো সুযোগ থাকে না। কেননা হাদীস শরীফে আছে,
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমি একটি উত্তম সম্পদের মালিক হয়েছি (একটি খেজুর বাগান)। আমি তা সদকা (ওয়াকফ) করতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি মূল সম্পত্তিটি এভাবে সদকা (ওয়াকফ) কর যে, তা বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না এবং এতে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এর থেকে উৎপন্ন ফলফলাদি (নির্ধারিত খাতে) ব্যয় হবে। এরপর উমর রা. তা ঐভাবে সদকা (ওয়াকফ) করলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ২৭২৪)
তবে কোনো ওয়াকফের সম্পাত্তি যদি এমন হয় যে, সেখান থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া যায়, অথবা উপকৃ হওয়া গেলেও তার পরিমাণ খুবই নগণ্য বরং উপকৃত হওয়ার বিবেচনায় সেখানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি, উপরন্তু যদি সেগুলোকে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ টাকা/অর্থ দিয়ে অন্য সম্পত্তি গড়লে প্রতিষ্ঠানের লাভ বেশি হবে’ তাহলে এজাতীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সেই জাগয়া উপযুক্ত মূল্যে বিক্রি করে লাভজনক খাতে ব্যয় করতে পারবে। তবে শর্ত হলো, পরবর্তী যেই খাতের জন্য ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করা হচ্ছে সেটা ওয়াকফের উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট হতে হবে।
المحیط البرہانی :
"سئل شمس الإسلام الحلواني عن أوقاف المسجد إذا تعطلت وتعذر استغلالها هل للمتولي أن يبيعها ويشتري مكانها أخرى؟ قال: نعم،.......وهكذا حكى فتوى شمس الأئمة السرخي رحمه الله في فصل العمارة إذا ضعفت الأراضي الموقوفة عن الاستغلال والقيم يجد بثمنها أرضا أخرى هي أكثر ريعا أن له أن يبيع هذه الأرض ويشتري بثمنها ما هو أكثر ريعا."
(كتاب الوقف، الباب السادس والعشرون في المتفرقات، ج:6، ص:233، ط:دار الكتب العلمية)
فتاوی شامی:
"وشرط في البحر خروجه على الانتفاع بالكلية وكون البدل عقارا....(قوله: وشرط في البحر إلخ) عبارته وقد اختلف كلام قاضي خان في موضع جوزه للقاضي بلا شرط الواقف، حيث رأى المصلحة فيه وفي موضع منع منه: لو صارت الأرض بحال لا ينتفع بها والمعتمد أنه بلا شرط يجوز للقاضي بشرط أن يخرج عن الانتفاع بالكلية، وأن لا يكون هناك ريع للوقف يعمر به وأن لا يكون البيع بغبن فاحش، وشرط الإسعاف أن يكون المستبدل قاضي الجنة المفسر بذي العلم والعمل لئلا يحصل التطرق إلى إبطال أوقاف المسلمين كما هو الغالب في زماننا اهـ ويجب أن يزاد آخر في زماننا: وهو أن يستبدل بعقار لا بدراهم ودنانير فإنا قد شاهدنا النظار يأكلونها، وقل أن يشتري بها بدلا ولم نر أحدا من القضاة فتش على ذلك مع كثرة الاستبدال في زماننا. اهـ (ولا شك أن هذا هو الاحتياط، ولا سيما إذا كان المستبدل من قضاة هذا الزمن وناظر الوقف غير مؤتمن) ...ولا يخفى أن هذه الشروط فيما لم يشترط الواقف استبداله لنفسه أو غيره،فلو شرطه لا يلزم خروجه عن الانتفاع ولا مباشرة القاضي له ولا عدم ريع يعمر به كما لا يخفى."
(كتاب الوقف، مطلب في استبدال الوقف وشروطه، ج:4، ص:386، ط:سعيد)
صورتِ مسئولہ میں مذکورہ دینی ادارہ کے نام پر وقف شدہ جن جائیدادوں سے ادارہ کو بالکل فائدہ نہیں ہورہا یا کچھ فائدہ ہورہا ہے لیکن (فائدہ سے زیادہ ادارہ کو خسارہ کا سامنا کرنا پڑتا ہواور) ان کوبیچ کراس سے حاصل شدہ رقم کے عوض دوسری جائیدادیں لینے میں ادارہ کا فائدہ زیادہ ہو، تو ایسی صورت میں متولیان کو ادارہ کی مذکورہ نقصان دہ یا کم فائدہ دینے والی جائیدادوں کو مناسب قیمت پر بیچنے کی اجازت ہوگی، البتہ بیچنے کے بعد حاصل شدہ رقم کے عوض لی گئی دوسری جائیدادوں کا استعمال واقفین کے منشاءکے مطابق استعمال کرنا ضروری ہوگا، تاہم اگر واقفین نے وقف کرتے وقت ادارہ مذکورہ میں کسی خاص مد کی تعیین نہ کی ہو تو متولیان اسے ادارہ کی مختلف مدات و مصالح میں استعمال کرسکتے ہیں۔
কাজেই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে, তেলজুড়ী দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার ওই অপ্রয়োজনীয় এবং পরিত্যক্ত ১৭ শতাংশ জমি মাদ্রাসার রাস্তার পাশের জায়গায় দোকান করলে মাদ্রাসা লাভবান হওয়ার শর্তে বিক্রি করা যাবে।
এখানে জমি বিক্রির মূল লক্ষ্য থাকবে মাদরাসার কল্যাণ। কবরস্থান করার বিষয়টা যেহেতু মাদরাসার স্বর্থ সংশ্লিষ্ট নয় বরং সেটা স্থানীয় মানুষের ভিন্ন দায়িত্ব তাই সেটা বিবেচনায় জমির ক্রয়বিক্রয় হবে না। বরং হতে হবে ওই জমি মাদরাসার কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে না বিধায় বিক্রি করে এমন খাতে ব্যয় করা যেখানে মাদরাসার ফায়দা হচ্ছে/হবে।
https://www.banuri.edu.pk/readquestion/kisi-adare-ke-name-mukhtalef-awqaf-ko-mukhtalef-aazar-ki-bana-par-bechne-ka-hukam-144604101387/17-10-2024
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন