নারীদের জন্য ঘরের বাইরে চাকরি করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২৩৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাবা অসুস্থ, তাই পরিবারের দায়িত্ব নিতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাই। গুনাহ থেকে বাঁচতে বিয়েও করতে চাই। পর্দাশীল ও দ্বীনের মৌলিক জ্ঞানসম্পন্ন স্ত্রীকে বিয়ে করে দুজন একসঙ্গে গার্মেন্টসে চাকরি করা কি জায়েজ? নারীর চাকরির শরয়ি শর্তগুলো কী? স্ত্রী কি গারমেন্টস এ জব করতে পারবে? দলিল সহ দিয়েন
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রীর খোরপোশ ও আবাসন নিশ্চিত করার একক দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পিত। স্ত্রীর ব্যক্তিগত কোনো উপার্জন বা সংসার খরচে টাকা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। স্বামীর আর্থিক অসচ্ছলতা বা পরিবারের সংকট থাকলেও স্ত্রীর ওপর রুজি-রোজগারের দায়িত্ব চাপানো জায়েজ নয়; বরং স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়াই শরীয়তের মূল বিধান।
নারীরা ঘরের বাইরে চাকরির শরয়ী শর্তসমূহ
জরুরি প্রয়োজনে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো নারী ঘরের বাইরে চাকরি করতে চাইলে কিছু শর্তাবলি পূরণ করা আবশ্যক:
১. বিবাহিত নারী ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করার জন্য স্বামীর আন্তরিক অনুমতি থাকা আবশ্যক।
২. কর্মক্ষেত্রে যাওয়া-আসার পথে এবং কর্মস্থলে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দা (মুখমণ্ডল ও শরীর যথাযথভাবে ঢেকে রাখা) বজায় রাখতে হবে।
৩. কর্মক্ষেত্র এমন হতে হবে যেখানে বেগানা পুরুষদের সাথে গায়ে গা ঘেঁষে কাজ করা, অবাধ মেলামেশা বা নির্জনে অবস্থানের কোনো সুযোগ থাকবে না।
৪. সাজসজ্জা প্রদর্শন এবং পুরুষ আকৃষ্ট হয় এমন কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. চাকরি যেন পরিবারের দায়িত্ব এবং দাম্পত্য হক নষ্ট না করে।
স্ত্রী কি গার্মেন্টসে জব করতে পারবে?
যেসব গার্মেন্টসে নারীদের জন্য আলাদা জায়গা থাকে, যেখানে পুরুষদের সাথে মিশতে হয় না, অথবা পুরুষ থাকলেও পুরোপুরি পর্দার সাথে কাজ করা যায়, সেখানে একান্ত প্রয়োজনে স্ত্রী চাকরি করতে পারবে। কিন্তু বেপর্দা হয়ে শরীয়তের খেলাফ কাজ করতে হলে চাকরি করা জায়েয হবে না।
আপনার জন্য উত্তম পরামর্শ হলো—আপনি পুরুষ হিসেবে নিজে চাকরি ও মেহনত করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্ত্রীকে ঘরে রেখে সাংসারিক শান্তি ও দ্বীনদারিতার পরিবেশ রক্ষা করবেন।
قال الله تعالى: ﴿ وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ﴾
قال الله تعالى: وعلى المولود له رزقهن و كسوتهن بالمعروف
قال الله تعالى: ﴿ الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ﴾
الفتاوى الهندية
وَلَوْ فَرَضَ الْحَاكِمُ النَّفَقَةَ عَلَى الزَّوْجِ فَامْتَنَعَ مِنْ دَفْعِهَا، وَهُوَ مُوسِرٌ، وَطَلَبَتْ الْمَرْأَةُ حَبْسَهُ لَهُ أَنْ يَحْبِسَهُ إلَّا أَنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يَحْبِسَهُ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ تَقَدَّمَ عَلَيْهِ بَلْ يُؤَخِّرُ الْحَبْسَ إلَى مَجْلِسَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ يَغِيظُهُ فِي كُلِّ مَجْلِسٍ تَقَدَّمَ عَلَيْهِ، فَإِنْ لَمْ يَدْفَعْ حَبَسَهُ حِينَئِذٍ كَمَا فِي سَائِرِ الدُّيُونِ هَكَذَا فِي الْبَدَائِعِ وَإِذَا حَبَسَهُ لَا تَسْقُطُ عَنْهُ النَّفَقَةُ، وَتُؤْمَرُ بِالِاسْتِدَانَةِ حَتَّى تَرْجِعَ عَلَى الزَّوْجِ إذَا ظَهَرَ لَهُ مَالٌ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন