তেল পড়া, পানি পড়া খাওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২২৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তৈল পনি পড়া খাওয়া জায়েয না বেদয়াত? বর্তমানে যে তৈল পানি পড়া প্রচলিত আছে তা কি জায়েয?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও মাসনূন দুআ পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করা অথবা তেলে ফুঁ দিয়ে তা শরীরে মালিশ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ এবং এটি কোনো বিদআত বা নাজায়েজ কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
“আর আমি নাযিল করি এমন কুরআন, যা মুমিনদের জন্য শিফা (নিরাময়) ও রহমত।”
হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে:
عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه دخل على ثابت بن قيس - قال أحمد - وهو مريض فقال " اكشف الباس رب الناس " . عن ثابت بن قيس ثم أخذ ترابا من بطحان فجعله في قدح ثم نفث عليه بماء وصبه عليه .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সাবেত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস (রা.)- এর অসুস্থতার সময় তার কাছে যান এবং এরূপ দুআ করেনঃ হে মানুষের রব! আপনি ছাবিত ইবনে কায়সকে রোগমুক্ত করুন। এরপর তিনি বাতহান প্রান্তর থেকে এক মুঠ মাটি নিয়ে তা একটি পাত্রে রাখেন এবং পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পাত্রে তা ঢেলে দেন। পরে সে পানি তার সমস্ত শরীরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। আবু দাউদ, ৩৮৮৫
বর্তমানে প্রচলিত পানি পড়া বা তেল পড়া জায়েজ হওয়ার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
১. পড়াটি স্পষ্ট কুরআন মাজীদের আয়াত, আল্লাহর নাম বা অর্থবোধক মাসনূন দুআ হতে হবে। অর্থহীন কোনো শব্দ, কুফরী মন্ত্র বা শিরকি বাক্যের সংমিশ্রণ থাকলে তা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ।
২. বিশ্বাস রাখতে হবে যে আরোগ্য দানকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা; তেল বা পানি কেবল বাহ্যিক ও শরয়ী একটি মাধ্যম মাত্র।
৩. তান্ত্রিকতা, গণকবৃত্তি বা মানুষের সাথে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তেল-পানি পড়ার ব্যবসা করা নাজায়েজ।
সারকথা হলো, শরিয়তসম্মত পন্থায় কুরআন ও দুআ পড়ে পানি বা তেলে ফুঁ দিয়ে তা পান করা বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ ও নিরাময়ের বৈধ মাধ্যম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন