কফিলের পক্ষ থেকে কেনাকাটায় প্রাপ্ত ডিসকাউন্ট বা গিফট গ্রহণের শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১৭০৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, অনেক সময় কফিলের কোন পণ্য দোকান থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসি অথবা লন্ড্রির ঘর থেকে কাপড় নিয়ে আসি অথবা কোনো কিছুর বিল পেমেন্ট করি, তখন দোকান বা লন্ডির মালিকরা স্বেচ্ছায় আমাদের কাছ থেকে কিছু টাকা কম রাখে এবং বলে এই টাকা তোমার। তাহলে সেই টাকা নেওয়া কি শরিয়তসম্মত হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি আপনার কফিলের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তার প্রতিনিধি। তাই দোকানদার কর্তৃক দেওয়া মূল্যছাড়, কমিশন বা অতিরিক্ত টাকা মূলত কফিলের লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত সুবিধা হিসেবেই গণ্য হবে। অতএব, কফিলের অনুমতি ছাড়া তা নিজের জন্য গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত হবে না। এটি খেয়ানত এবং এক ধরণের ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিনিধির ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ মূলনীতি হলো, প্রতিনিধি কম দামে পণ্য ক্রয় করলে সেই সুবিধা তার নিজের নয় বরং তা মূল ব্যক্তির লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ
অর্থ : হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।
[সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]
(আয়াতের লিংক : https://muslimbangla.com/sura/4/tafsir/29)
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইবনুল উতবিয়্যাহ (রা.) কে যাকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন
أَفَلَا قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَنْظُرَ أَيُهْدَى لَهُ أَمْ لَا
অর্থ: সে তার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকল না কেন, তাহলে সে দেখত, তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না?
[সহীহ বুখারী, হাদিস: ৭১৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৩২]
(হাদীসের লিংক : https://muslimbangla.com/hadith/6686)
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব, পদ বা প্রতিনিধিত্বের কারণে যে উপহার বা আর্থিক সুবিধা তার কাছে আসে, সেটিকে নিছক ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে গণ্য করা যায় না।
অপর এক হাদীসে এসেছে, হযরত আবু হুমাইদ সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্মচারীদের উপহার বা অতিরিক্ত নেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন,
هَدَايَا الْعُمَّالِ غُلُولٌ
অর্থ : কর্মচারীদের (কাজের সুবাদে প্রাপ্ত) উপঢৌকন হলো খেয়ানত (আত্মসাৎ)।
[মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩৬৯৩; বায়হাকি, হাদিস: ২০৮৪০]
তবে আপনার কফিল যদি অনুমতি দেয় তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয আছে।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হাদিসে ইরশাদ করেছেন
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ
অর্থ : কোনো ব্যক্তির সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।
[সুনানে কুবরা লিল-বায়হাকি, হাদিস: ১১৩২৫; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২০৬৯৫]
সুতরাং বিষয়টি কফিলের সাথে আলোচনা করুন। কফিল যদি অনুমতি দেয় তাহলে গ্রহণ করতে পারেন। আর আর যদি অনুমতি না দেয় বা তার সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব না হয় তাহলে এ ধরণের হাদিয়া বা মূল্যছাড়ার আপনার গ্রহণ করা জায়েয হবে না। বরং তা কফিলকে দিয়ে দিতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন