নামাজের জন্য আযানের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১৩৩৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নামাজের জন্য আযানের দরকার আছে কিনা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আযান ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিআর (তথা ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শন) এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। তবে আযান নামাজের সহিহ হওয়ার শর্ত নয়। বরং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আযান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। জামাতের নামাজের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি।
তবে নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য আযান শর্ত বা ফরজ নয়। তাই কেউ কোনো কারণে আযান ছাড়া ফরজ নামাজ আদায় করলে তার নামাজ সহিহ হয়ে যাবে।
ফতোয়ায়ে শামীতে আছে,
وَهِيَ أَنَّهُ سُنَّةٌ لِلْفَرَائِضِ
অর্থ : আযান পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য সুন্নাত।
(রদ্দুল মুহতার, ১/৩৮৮)
অতএব, আযান নামাজের শর্ত নয় বরং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
সুলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে নামাজের সময় আযান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
অর্থ : যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন তোমাদের জন্য আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬২৮]
(হাদীসের লিংক : https://muslimbangla.com/hadith/628)
কোনো ব্যক্তি যদি নিজ বাড়িতে বা দোকানে একা একা কিংবা পরিবারের সাথে নামাজ পড়েন এবং নিজ এলাকার মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি শোনা যায়, তবে সেই আজানই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। নতুন করে আজান দেওয়া আবশ্যক নয়। তবে একাকী নামাজ পড়ার সময়েও নিজে আজান ও একামত দিয়ে নামাজ পড়া মোস্তাহাব ও সওয়াবের কাজ।
এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি লোকালয় থেকে দূরে, ভ্রমণপথে বা মাঠে একা নামাজ পড়েন, তবে তার জন্য আজান দিয়ে নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةٍ بِجَبَلٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلاَةِ وَيُصَلِّي، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلاَةَ يَخَافُ مِنِّي، قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ
অর্থ : তোমাদের প্রতিপালক পাহাড়ের ওপর ছাগলের সেই রাখালকে দেখে আনন্দিত হন, যে নামাজের জন্য আজান দেয় এবং নামাজ আদায় করে। মহান আল্লাহ বলেন: আমার এই বান্দার দিকে তাকাও, সে আজান দিচ্ছে এবং নামাজ কায়েম করছে, সে আমাকে ভয় করে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২০৯]
(হাদীসের লিংক : https://muslimbangla.com/hadith/14867)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
রাসূল ﷺ-কে অস্বীকারকারীর জানাজার বিধান
নির্দোষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগের বিধান
“দ্বীনের ব্যাপারে পরামর্শ করা ওয়াজিব, আর দুনিয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করা সুন্নত” এ কথাটি কি সঠিক
স্বামী অনলাইন বা যেকোনো ফরমে ‘ডিভোর্সড’ নির্বাচন বা লেখার দ্বারা তালাক হবে?
অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে এমন কাজের হুকুম
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন