অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটে এমন কাজের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৭২৮৭৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের মসজিদের একজন মুসুল্লি প্রতিদিন আসরের পর পরই কিতাব থেকে হাদিস শুনান, সেক্ষেত্রে মাসনুন দোয়া পড়তে সমস্যা হয় আবার উনি কিতাব খানি মসজিদের মেঝেতে সরাসরি রেখে মোনাজাত ধরেন, আমার প্রশ্ন হলো এই দুই কাজ কি ঠিক হচ্ছে, জানালে উপকার হবে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আসরের পর হাদিসের দরস দেওয়া না জায়েজ নয়। কিন্তু এর কারণে অন্য মুসল্লিদের মাসনুন যিকির-দোয়া আদায়ে নিয়মিত বাঁধা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। এমন হলে দরসের সময় বা পদ্ধতি পরিবর্তন করা উচিত।
হাদিসে রাসূল (ﷺ) কুরআন পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ আমলকে পর্যন্ত উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করতে বারণ করেছেন, যাতে অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ : اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ، فَكَشَفَ السِّتْرَ وَقَالَ : ” أَلاَ إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ فَلاَ يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلاَ يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقِرَاءَةِ ” . أَوْ قَالَ : ” فِي الصَّلاَةِ ”
অর্থ: আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে ইতিকাফ করাকালীন সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি পর্দা সরিয়ে বললেন, জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই তার প্রতিপালকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় নিমগ্ন রয়েছ। কাজেই তোমরা একে অন্যকে (উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করে) কষ্ট দিও না এবং পরস্পরের সামনে কিরাতে বা নামাযে আওয়ায উঁচু করো না। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ১৩৩২ )
আর ইসলামে দ্বীনি কিতাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আদবের অন্তর্ভুক্ত। তাই কিতাব মেঝেতে না রেখে তাই রেহাল বা উঁচু স্থানে রাখা উচিত। অসম্মানজনকভাবে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ﴾
অর্থ: “আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, নিশ্চয়ই তা অন্তরের তাকওয়া থেকে উৎসারিত।” সুরা আল-হাজ্জ, ২২:৩২।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন