কাইলুলাহ খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়
প্রশ্নঃ ১৬৫৮৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত আমার জানার বিষয় হলো কাইলুলা কখন কিভাবে করতে হয়? এটা কি খাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত নাকি রুটিন হিসেবে দুপুরবেলা কেউ বিশ্রাম করলে সেটাই কাইলুলা হয়ে যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
২৩ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী!
‘কাইলুলা’ (قیلولہ) হলো, দুপুরের সময়ে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে অথবা পরে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া। বিধানগত সুন্নত।
ইবনুল আসীর রহ. বলেন, ‘কাইলুলা’ হলো মধ্যাহ্নের সময়ে বিশ্রাম নেওয়া; যদিও সে সময় ঘুমানো না হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে সাহাবায়ে কেরাম রাযি.-এর সাধারণ আমল ছিল, তাঁরা যোহরের নামাজের আগে খাবার খেতেন এবং কাইলুলা করতেন। তবে জুমার দিন তাঁদের খাবার খাওয়া ও কাইলুলা করার নিয়ম ছিল নামাজের পরে। সহিহ বুখারিতে হযরত সাহল রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ‘আমরা নবী করিম ﷺ-এর সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতাম, এরপর কাইলুলা করতাম।’
হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন, এই হাদিসে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এটি সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল।
তিনি ‘ফাতহুল বারী’তে আরও লিখেছেন: সুনানে ইবনে মাজাহ ও সহিহ ইবনে খুযাইমায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করিম ﷺ বলেছেন: ‘দিনের রোজার জন্য সাহরির মাধ্যমে এবং রাতের কিয়াম তথা তাহাজ্জুদের জন্য কাইলুলার মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো।’
হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘তোমরা কাইলুলা করো; কেননা শয়তান কাইলুলা করে না।’
হযরত খাওয়াত ইবনে জুবাইর রা. বলেন: ‘দিনের প্রথম ভাগের ঘুম আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো; দিনের মধ্যভাগের ঘুম উত্তম অভ্যাস; আর দিনের শেষভাগের ঘুম নির্বুদ্ধিতা।’
হযরত ডাক্তার মুহাম্মদ আবদুল হাই রহ. বলেন: ‘যদি অবসর ও সুযোগ থাকে, তাহলে সুন্নতের অনুসরণের নিয়তে দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবে। এটাকেই কাইলুলা বলা হয়। এই সুন্নত আমলের জন্য ঘুমানো জরুরি নয়; শুধু শুয়ে থাকাই যথেষ্ট।’
(উসওয়ায়ে রাসূল আকরাম ﷺ, পৃষ্ঠা ৩৬১, মাকতাবায়ে উমর ফারুক)
সুতরাং প্রশ্নোক্ত কাইলুলাহ খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত না এবং তা সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে অথবা পরে সামান্য সময় ঘুমানো/ শোয়ার দ্বারা আদায় হয়ে যাবে।
শরঈ দলীল:
سنن الدارقطني (2/ 20):
"عن سهل بن سعد قال : كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه و سلم الجمعة ثم تكون القائلة بعد".
عمدة القاري شرح صحيح البخاري - (33 / 15):
"والقائلة هي القيلولة وهي النوم بعد الظهيرة، وقال ابن الأثير: المقيل والقيلولة الاستراحة نصف النهار وإن لم يكن معها نوم، يقال: قال يقيل قيلولة فهو قائل".
فتح الباري - ابن حجر - (11 / 69):
"( قوله: باب القائلة بعد الجمعة ) أي بعد صلاة الجمعة وهي النوم في وسط النهار عند الزوال وما قاربه من قبل أو بعد، قيل لها: "قائلة"؛ لأنها يحصل فيها ذلك وهي فاعلة بمعنى مفعولة مثل عيشة راضية، ويقال لها أيضاً: "القيلولة"، وأخرج بن ماجة وبن خزيمة من حديث بن عباس رفعه: استعينوا على صيام النهار بالسحور، وعلى قيام الليل بالقيلولة. وفي سنده زمعة بن صالح وفيه ضعف، وقد تقدم شرح حديث سهل المذكور في الباب في أواخر كتاب الجمعة، وفيه إشارة إلى أنها كانت عادتهم ذلك في كل يوم، و ورود الأمر بها في الحديث الذي أخرجه الطبراني في الأوسط من حديث أنس رفعه، قال: قيلوا فإن الشياطين لاتقيل. وفي سنده كثير بن مروان وهو متروك. وأخرج سفيان بن عيينة في جامعه من حديث خوات بن جبير رضي الله عنه موقوفاً، قال: نوم أول النهار حرق، وأوسطه خلق، وآخره حمق. وسنده صحيح ".
فتح الباري - ابن حجر - (2 / 388):
"والمعنى أنهم كانوا يبدؤن بالصلاة قبل القيلولة بخلاف ما جرت به عادتهم في صلاة الظهر في الحر؛ فإنهم كانوا يقيلون ثم يصلون لمشروعية الإبراد".
عمدة القاري شرح صحيح البخاري (10 / 212):
"عن ( سهل ) قال: كنا نصلي مع النبي الجمعة ثم تكون القائلة".
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১