ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য ও সন্তানকে নসিহত
প্রশ্নঃ ১৭০৮১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেম অর্জনের ক্ষেত্রে কি বলেছেন, এলেম মূলত কি জন্য অর্জন করতে হবে? এবং আমি আমার সন্তানকে এলেম অর্জন সম্পর্কে কি নসিহত করতে পারি?
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শ্রীপুর
৭২২ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
দ্বীনি এলেম অন্বেষণকারীদের মর্যাদায় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) অসংখ্য হাদিসে অসাধারণ সব সুসংবাদ দিয়েছেন।
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
দ্বীনি এলেম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৪)
২. জান্নাতের পথ সহজ হয়ে যায়। রাসূল সা. বলেছেন,
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম ও সহজ করে দেন। (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯)৩. সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর দোয়া লাভ হয়। রাসূল সা. বলেছেন,
وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ
জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য ফেরেশতারা নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। নিশ্চয়ই একজন আলেমের জন্য আসমান ও জমিনের সমস্ত সৃষ্টি, এমনকি পানির ভেতরের মাছ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে! (সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৪১; জামে তিরমিযী)৪. তারা নবীগণের উত্তরাধিকারী।
নিশ্চয়ই উলামায়ে কেরাম হলেন নবীগণের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ কোনো টাকা-পয়সা মিরাস হিসেবে রেখে যাননি; তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন এলেম। (জামে তিরমিযী: ২৬৮২)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/32327
এলেম কী জন্য অর্জন করতে হবে?
ইসলামের দৃষ্টিতে এলেম কেবল তথ্য মুখস্থ করার নাম নয়। এলেম অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হলো ৪টি।
ক. আল্লাহকে চেনা ও অন্তরে আল্লাহর ভয় তৈরি করা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই (প্রকৃত জ্ঞানীরাই) আল্লাহকে যথার্থ ভয় করে। (সূরা আল-ফাতির, আয়াত : ২৮)
খ. নিজের অজ্ঞতা দূর করে সঠিক উপায়ে আল্লাহর ইবাদত করা। অজ্ঞ মানুষ ইবাদত করতে গিয়েও বিভ্রান্ত হতে পারে। সঠিক উপায়ে আল্লাহকে সেজদা করার জন্য এবং হালাল-হারাম চিনে নিজের জীবন পরিচালনার জন্য এলেম অর্জন করতে হয়।
গ. অর্জিত এলেম অনুযায়ী আমল করা।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেই এলেম থেকে আশ্রয় চেয়েছেন যা মানুষের কোনো কাজে আসে না। এলেম অর্জন করতে হবে যেন সেই অনুযায়ী নিজের চরিত্র ও আমলকে সুন্দর করা যায়। নবীজি সা. দোয়া করেছেন,
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেই এলেম থেকে আশ্রয় চেয়েছেন যা মানুষের কোনো কাজে আসে না। এলেম অর্জন করতে হবে যেন সেই অনুযায়ী নিজের চরিত্র ও আমলকে সুন্দর করা যায়। নবীজি সা. দোয়া করেছেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا
ঘ. উম্মাহর খেদমত ও অন্ধকার দূর করা। মানুষের কাছে দ্বীনের সঠিক বাণী পৌঁছানো এবং সমাজ থেকে কুসংস্কার ও অজ্ঞতা দূর করার নিয়তে এলেম অর্জন করতে হয়।
বিপরীতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে বাহাদুরি দেখাতে, মূর্খদের সাথে বিতর্ক করতে কিংবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করার জন্য এলেম অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন! (জামে তিরমিযী: ২৬৫৪; ইবনে মাজাহ: ২৫৩)
বিপরীতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে বাহাদুরি দেখাতে, মূর্খদের সাথে বিতর্ক করতে কিংবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আকর্ষণ করার জন্য এলেম অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন! (জামে তিরমিযী: ২৬৫৪; ইবনে মাজাহ: ২৫৩)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/32299
সন্তানকে কীভাবে নসিহত করবেন?
(নিচের লেখাটি মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ সাহেবরে বিভিন্ন লেখার ভাব অবলম্বনে)
প্রিয় সন্তান!
তুমি জীবনে অনেক বড় হও, ভালো শিক্ষা অর্জন করো, প্রতিষ্ঠিত হও, আমি তোমার জন্য এসবই চাই। কিন্তু মনে রেখো, শুধু বড় ডিগ্রি অর্জন করাই প্রকৃত সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা, যা তোমাকে ভালো মানুষ বানাবে, আল্লাহর পরিচয় দেবে এবং মানুষের উপকার করতে শেখাবে।
তুমি ইলম অর্জন করবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের কাছে বড় হওয়ার জন্য নয়, মানুষকে ছোট করার জন্য নয়, কিংবা শুধু অর্থ ও সম্মান অর্জনের জন্যও নয়।
তুমি যে বিষয়ই পড়ো, মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কারণ উপকারী জ্ঞান অর্জন করাও একটি মহৎ কাজ। তবে নিজের দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অবশ্যই শিখবে। তোমার ঈমান কী, কীভাবে নামাজ পড়তে হয়, কী হালাল আর কী হারাম, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়, এসব তোমাকে জানতে হবে।
মনে রেখো, জ্ঞান অর্জন করে অহংকারী হবে না। বেশি জানলে আরও বিনয়ী হবে। কোনো কিছু না জানলে স্বীকার করবে, প্রশ্ন করবে এবং যোগ্য মানুষের কাছ থেকে শিখবে।
তোমার জ্ঞান যেন শুধু তোমার নিজের উপকারে সীমাবদ্ধ না থাকে। তোমার পরিবার, সমাজ ও অন্য মানুষ যেন তোমার দ্বারা উপকৃত হয়। তুমি এমন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে, যার কথা ও কাজে সততা আছে, যার আচরণে সুন্দর চরিত্র প্রকাশ পায় এবং যার মাধ্যমে অন্যরা কল্যাণ লাভ করে।
সবশেষে মনে রেখো, জীবনে কত বড় ডিগ্রি অর্জন করলে, কত টাকা আয় করলে কিংবা কত মানুষ তোমাকে সম্মান করল, এগুলোই তোমার সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। বরং তুমি কতটা সৎ হলে, কতটা দায়িত্বশীল হলে, কতটা মানুষের উপকার করলে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কতটা চেষ্টা করলে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
তাকে নিয়মিত এই দোয়াগুলো পড়তে বলবেন,
তুমি জীবনে অনেক বড় হও, ভালো শিক্ষা অর্জন করো, প্রতিষ্ঠিত হও, আমি তোমার জন্য এসবই চাই। কিন্তু মনে রেখো, শুধু বড় ডিগ্রি অর্জন করাই প্রকৃত সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা, যা তোমাকে ভালো মানুষ বানাবে, আল্লাহর পরিচয় দেবে এবং মানুষের উপকার করতে শেখাবে।
তুমি ইলম অর্জন করবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের কাছে বড় হওয়ার জন্য নয়, মানুষকে ছোট করার জন্য নয়, কিংবা শুধু অর্থ ও সম্মান অর্জনের জন্যও নয়।
তুমি যে বিষয়ই পড়ো, মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কারণ উপকারী জ্ঞান অর্জন করাও একটি মহৎ কাজ। তবে নিজের দ্বীনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অবশ্যই শিখবে। তোমার ঈমান কী, কীভাবে নামাজ পড়তে হয়, কী হালাল আর কী হারাম, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়, এসব তোমাকে জানতে হবে।
মনে রেখো, জ্ঞান অর্জন করে অহংকারী হবে না। বেশি জানলে আরও বিনয়ী হবে। কোনো কিছু না জানলে স্বীকার করবে, প্রশ্ন করবে এবং যোগ্য মানুষের কাছ থেকে শিখবে।
তোমার জ্ঞান যেন শুধু তোমার নিজের উপকারে সীমাবদ্ধ না থাকে। তোমার পরিবার, সমাজ ও অন্য মানুষ যেন তোমার দ্বারা উপকৃত হয়। তুমি এমন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে, যার কথা ও কাজে সততা আছে, যার আচরণে সুন্দর চরিত্র প্রকাশ পায় এবং যার মাধ্যমে অন্যরা কল্যাণ লাভ করে।
সবশেষে মনে রেখো, জীবনে কত বড় ডিগ্রি অর্জন করলে, কত টাকা আয় করলে কিংবা কত মানুষ তোমাকে সম্মান করল, এগুলোই তোমার সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। বরং তুমি কতটা সৎ হলে, কতটা দায়িত্বশীল হলে, কতটা মানুষের উপকার করলে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কতটা চেষ্টা করলে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
তাকে নিয়মিত এই দোয়াগুলো পড়তে বলবেন,
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন