আযান কখন দেওয়া উচিত
প্রশ্নঃ ১৬৯৪৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সহীহ হাদীস অনুযায়ী ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কতক্ষণ পরে আজান দিতে হয়।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শরীয়তে বিধান অনুযায়ী, নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কোনো রকম বিলম্ব না করে আজান দিতে হয়। ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর আজান দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মিনিট বা সময়ের ব্যবধান বা "এতক্ষণ পরে আজান দিতে হবে" এমন কোনো শর্ত শরীয়তে নির্ধারণ করা হয়নি। বরং ওয়াক্ত প্রবেশ করাই আজান ওয়াজিব বা সুন্নাত হওয়ার একমাত্র শর্ত। কাজেই ওয়াক্ত হওয়ার পরপরই আযান হওয়া উচিত। তবে যদি মহল্লাবাসীর নামাজের ইন্তেজাম রক্ষার্থে আযান এবং জামাতের জন্য সময় নির্ধারণ করা থাকে (সাধারণত যেমনটি হয়ে থাকে) তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নাই।حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الحُوَيْرِثِ، أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِي، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَحِيمًا رَفِيقًا، فَلَمَّا رَأَى شَوْقَنَا إِلَى أَهَالِينَا، قَالَ: «ارْجِعُوا فَكُونُوا فِيهِمْ، وَعَلِّمُوهُمْ، وَصَلُّوا، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ»
মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম এবং আমরা তার নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং নামায আদায় করবে। যখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় তিনি ইমামতি করবেন।
সহীহ বুখারী
আযান-ইকামতের অধ্যায়
হাদীস নংঃ ৬০০
আন্তর্জাতিক নং: ৬২৮
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/600
661 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ هَلِ اتَّخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا؟ فَقَالَ: نَعَمْ أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ العِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ بَعْدَ مَا صَلَّى، فَقَالَ: «صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا» قَالَ: فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ
হুমাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। একরাতে তিনি ইশার নামায অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। নামায শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা নামায আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ নামাযের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ নামাযে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে।
আনাস (রাযিঃ) বলেন, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আংটির চমক দেখতে পাচ্ছিলাম।
সহীহ বুখারী
আযান-ইকামতের অধ্যায়
হাদীস নংঃ ৬২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৬৬১
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/628
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন