যোহরের নামাজ কয়টায় পড়া উচিত
প্রশ্নঃ ১৭০৭৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হল বাংলাদেশের অনেক মসজিদে সারা বছর যোহরের নামাজ একটা তিরিস মিনিটে পড়া হয়? হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সময়টা আসলে কত হওয়া উচিত ছিল? নাকি যা আছে তাই সঠিক। সারা বছর জোহরের নামাজ কোন সময় থেকে কোন সময়ের মধ্যে পড়লে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী উত্তম হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সূর্য যখন মধ্য আকাশ থেকে পশ্চিম দিকে একটু হেলে যায় তখন যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর প্রতিটি জিনিসের মূল ছায়া ব্যতীত তার ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত যোহরের ওয়াক্ত থাকে। কিন্তু গরমকালে যোহরের নামায ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি করে পড়া উত্তম আর শীতকালে তাড়াতাড়ি পড়া উত্তম।
ঘড়ির হিসাবে যোহরের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ সারা বছর এক থাকে না। সূর্যের অবস্থান এবং ছায়ার পরিবর্তনের কারণে তার সময় প্রতিদিনই কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশে সারা বছর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে যোহরের জামাত করা সাধারণত জায়েজ। তবে সময়টি প্রতিদিন ও সারা বছর যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে পড়ছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য স্থানীয় নামাজের সময়সূচি দিয়ে যাচাই করা জরুরি।
আবার মুসল্লিদের জামাতে নামাজ আদায় করার সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট সময় রাখার ফায়দা রয়েছে।
এই কারণে আমাদের দেশে গরমকালে যোহর নামাযের জামাত দেড়টায় আর শীতকালে সোয়া একটায় অনুষ্ঠিত হয়। তবে শীতকালে আরও একটু আগে আদায় করা উচিত।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ
১.অর্থ: খালেদ ইবনে দীনার আবু খালদাহ্ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রা.)-কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গরমের সময় (যোহরের নামায) দেরিতে এবং ঠাণ্ডার সময় তাড়াতাড়ি আদায় করতেন। (সুনানে নাসাঈ হাদীস নং ৪৯৯ সহীহ বুখারী হাদীস নং ৯০৬ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” إِذَا كَانَ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ”
২.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, গরমের সময় যোহরের নামায শীতল করে (গরমের প্রচণ্ডতা কমলে) আদায় করো। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়াতেই হয়ে থাকে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৬১৭ সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৩৮ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ الْمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” أَبْرِدْ ”. ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ فَقَالَ لَهُ ” أَبْرِدْ ”. حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ
৩.অর্থ: আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াযযিন যোহরের আযান দিতে চাইল। তখন নবী (ﷺ) বললেন,গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার মুয়াযযিন আযান দিতে চাইলে নবী (ﷺ) (পুনরায়) বললেন, গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (নামায আদায়ে) দেরি করতে করতে এত দেরি হল যে, আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন,গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে। কাজেই গরম প্রচণ্ড হলে উত্তাপ কমার পর নামায আদায় করো। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৩৯ সুনানে তিরমিযি হাদীস নং ১৫৮ হাদীসের মান: সহীহ)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন