পশু-পাখির ডাক্তারী পেশার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৩৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,আমি একজন ভেটেরিনারি বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্র,আমার ভবিষ্যৎ পেশার একটা বড় অংশ রয়েছে কুকুর বিড়াল বা অন্য যেকোনো পশুর চিকিৎসার সাথে, আবার কুকুর কে নাপাক প্রাণী হিসেবেই আমি জানি,, এমতা অবস্থায় শরীয়ত কতটুকু আমাকে ছাড় দিবে বা কী কী শর্তে আমি কুকুর এর চিকিৎসা করতে পারি তা নিয়ে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন ছিলো
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
একাধিক হাদিসে বিনা প্রয়োজনে কুকুর পালনের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যে ঘরে কুকুর থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না বলেও হাদিস বর্ণিত হয়ছে। আরেকটি হাদিসে এসেছে, প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালনকারীর আমল থেকে প্রতিদিন এক কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমিয়ে দেওয়া হয়। অতএব, শরিয়ত যেসব ক্ষেত্রে কুকুর পালনের অনুমতি দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্র ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ঘরে, বিলাসিতা করে, অর্থবিত্তের প্রকাশ ক্ষেত্র হিসেবে কুকুর পালন করা কল্যাণ, বরকত ও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং গুনাহের কাজ। তাই অপ্রয়োজনীয় কুকুর পালন থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে পশুসম্পদ ও কৃষিজমি পাহারা দেওয়া কিংবা শিকারের উদ্দেশ্যে কুকুর পালন করার অনুমতি শরিয়তে রয়েছে।
তবে কুকুরের চিকিৎসা করা জায়েজ। এ থেকে অর্জিত আয়ও জায়েজ।
আর বিড়ালের ক্ষেত্রে বিধান হলো, বিড়াল পালন করাও জায়েজ অনুরূপভাবে, বিড়ালের চিকিৎসা করাতেও শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো অসুবিধা নেই। এবং এর থেকে অর্জিত আয়ও হালাল।
রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন ও তাদের উপকার করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এ কাজের কারণে তাঁকে ক্ষমা করে দেন। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, প্রাণীদের উপকার করার কারণেও কি আমাদের সওয়াব হবে? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: فِي كُلِّ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণীর উপকার করার মধ্যে সওয়াব রয়েছে। সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৪৪।
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রাণীর প্রতি দয়া করা এবং তার কষ্ট দূর করার মধ্যে সওয়াবের আশা রয়েছে। সুতরাং অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা করা, আহত প্রাণীর ক্ষত সারিয়ে দেওয়া কিংবা কোনো প্রাণীকে অযথা কষ্ট থেকে রক্ষা করা ইসলামের দয়া ও সদাচরণের শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
ফতোয়া হিন্দিয়া গ্রন্থে আছে—
"وفي الأجناس: لا ينبغي أن يتخذ كلباً إلا أن يخاف من اللصوص أو غيرهم". الفتاوى الهندية (5/ 361):
আল বাহরুর রায়েক গ্রন্থে আছে—
(صح بيع الكلب والفهد والسباع والطيور) لما رواه أبو حنيفة - رضي الله تعالى عنه - «أنه - صلى الله عليه وسلم - رخص في ثمن كلب الصيد» ولأنه مال متقوم آلة الاصطياد فصح بيعه كالبازي بدليل أن الشارع أباح الانتفاع به حراسة واصطيادا فكذا بيعا وهذا على القول المفتى به من طهارة عينه (باب المتفرقات في البيع: المكتبة الشاملة)
(কুকুর, চিতা, হিংস্র প্রাণী ও পাখি বিক্রি করা সহিহ।) কেননা, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ শিকারি কুকুরের মূল্য গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। আর এসব প্রাণী মূল্যবান সম্পদ এবং শিকারের উপকরণ। তাই বাজপাখি বিক্রির মতো এগুলো বিক্রি করাও সহিহ। এর প্রমাণ হলো, শরিয়ত এগুলো দ্বারা পাহারা দেওয়া ও শিকার করার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং এগুলো বিক্রি করার অনুমতিও রয়েছে। ….।
তবে আপনার মনে কুকুরের নাপাকির বিষয়টি নিয়ে যে প্রশ্ন এসেছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। হানাফি মাযহাবে কুকুরের পুরো শরীরকে নাপাক বলা হয় না। কুকুরের শরীর ও লোম মূলত পবিত্র; তবে তার মুখের লালা, প্রস্রাব, পায়খানা এবং অন্যান্য তরল বস্তু নাপাক। কাজেই সেগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা الكلب ليس بنجس العين، ولكن سؤره ورطوباته نجسة কুকুর নিজ সত্তায় নাপাক নয়; তবে তার উচ্ছিষ্ট ও আর্দ্রতাজাতীয় পদার্থ নাপাক।
অতএব, কুকুরের গায়ে হাত দেওয়া, তার লোম স্পর্শ করা কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে তার শরীর পরীক্ষা করা নিজে থেকে নিষিদ্ধ নয়। তবে লালা বা অন্য নাপাক পদার্থ হাতে, শরীরে কিংবা পোশাকে লাগলে তা পবিত্র করে নিতে হবে।
আপনার ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে পরামর্শ
ইসলামে যেহেতু বিনা প্রয়োজনে কুকুর পোষার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই শিকার, পাহারা, কৃষিকাজ বা শরিয়তসম্মত অন্য কোনো প্রয়োজনের বাইরে কুকুর পালনের জন্য কাউকে উৎসাহিত করা উচিত নয়। চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে চিকিৎসা গ্রহনে আগত কুকুরের মালিকদের বিষয়টি বোঝাতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় কুকুর পালন থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন