দুই তালাকের পরে খোলা খোলা তালাক হলে কয় তালাক হয়?
প্রশ্নঃ ১৬৯১০৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার স্বামী বাসায় দুই আলাদা ভাবে দুই বার বলছে তোকে তালাক দিয়ে দিলাম।তার পর কোটে একবার খোলা তালাক দেওয়া হয়েছে । ওনার সাথে কি এখনও আমার সম্পর্ক আছে নাকি আমাদের তালাক হয়ে গেছে। উনি বলে বাসায় বলছে সেগুলো উনি মন থেকে বলে নাই। আমার এখন অন্য জায়গায় পরিবার বিয়ে দিয়েছে।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মুহতারাম, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী যদি বাসায় পৃথক দুই সময়ে স্পষ্টভাবে “তোকে তালাক দিয়ে দিলাম” বলে থাকেন, তাহলে এটি তালাকের সরীহ বা স্পষ্ট শব্দ। এ ধরনের স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে আলাদা করে নিয়তের প্রয়োজন হয় না। এরপর যদি আদালত/কোর্টের মাধ্যমে খোলা তালাকও সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী মোট তিন তালাক সংঘটিত হয়েছে।
অতএব, আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। স্বামী পরবর্তীতে “মন থেকে বলিনি” বললেও স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণের পর তা বাতিল হবে না।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}
সুতরাং, আপনাদের এখন একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা জায়েয হবে না। পুনরায় একসঙ্গে সংসার করতে চাইলে শুধু নতুন করে বিবাহ করলেই হবে না। বরং শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে এবং সেই বিবাহে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) স্থাপিত হতে হবে। এরপর দ্বিতীয় স্বামী যদি স্বেচ্ছায় তালাক দেন এবং তার ইদ্দতও পূর্ণ হয়, তখন প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ করা যাবে।
এ অবস্থায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ করতে হলে নতুন করে মোহর নির্ধারণ করে, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ করতে হবে। এ বিবাহে প্রথম স্বামীর বা স্ত্রীর অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি শর্ত নয়।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
فَاِنۡ طَلَّقَہَا فَلَا تَحِلُّ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدُ حَتّٰی تَنۡکِحَ زَوۡجًا غَیۡرَہٗ ؕ فَاِنۡ طَلَّقَہَا فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡہِمَاۤ اَنۡ یَّتَرَاجَعَاۤ اِنۡ ظَنَّاۤ اَنۡ یُّقِیۡمَا حُدُوۡدَ اللّٰہِ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ یُبَیِّنُہَا لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ
অতঃপর সে (স্বামী) যদি (তৃতীয়) তালাক দিয়ে দেয় তবে সে (তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী) তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনও স্বামীকে বিবাহ করবে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তাদের জন্য এতে কোন গুনাহ নেই যে, তারা (নতুন বিবাহের মাধ্যমে) পুনরায় একে অন্যের কাছে ফিরে আসবে শর্ত হল, তাদের প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে, (এবার) তারা আল্লাহর সীমা কায়েম রাখতে পারবে। এসব আল্লাহর স্থিরীকৃত সীমা, যা তিনি জ্ঞানবান লােকদের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন। (আল বাকারা - ২৩০)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৪৫৫৪২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে ইসলামের একটি বিয়ে সম্পন্ন হতে গেলে সর্বনিম্ন কি কি হওয়া প্রয়োজন? আর ছেলে এবং মেয়ে দুইজনের সঠিক বিয়ের বয়সটা বললে উপকৃত হতাম।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের মৌলিক শর্ত হলো দুইটি,
(১) ইজাব কবুল (একপক্ষের প্রস্তাব আরেকপক্ষের গ্রহন) বলা।
(২) দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর সম্মুখে বিবাহ সম্পন্ন হওয়া এবং উভয়ে একসাথে ইজাব কবুল শ্রবণ করা।
(তৃতীয় বিষয় হলো) মোহর ধার্য করা। মোহর নির্ধারণ না করলেও বিবাহ সহীহ হয়ে যায় তাবে সেক্ষেত্রে মোহরে মিছিল আবাশ্যক হয়।
* বিবাহের আগে অভিভাবকের অনুমতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সন্তান যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয় এবং উপরোক্ত শর্ত মেনে সে নিজেই নিজের বিবাহ করে ফেলে তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে যদিও এটা জায়েজ তবে এতে বহুবিধ ক্ষতি রয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
** বিবাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুফু। এটা যদিও বিবাহের শর্তের অন্তর্ভূক্ত নয় কিন্তু দাম্পত্য জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে কাফায়াত (বিবাহ প্রত্যাশীদের সমতা) এর ভূমিকাও অপরিসীম। আর হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে কুফু হবে চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " تُنْكَحُ المَرْأَةُ [ص:8] لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ "
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী (ﷺ) বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে শাদী করা যায়- তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ (সহীহ বুখারী)
হাদীস নং: ৪৭২৩ আন্তর্জাতিক নং: ৫০৯০
হাদীসের লিংকঃ https://muslimbangla.com/hadith/4723
প্রাসঙ্গিক মাসায়েল:
** বিবাহে পর অলিমা।
https://muslimbangla.com/masail/3764
** বিয়ের দিনে কনের বাড়ীতে খাবারের আয়োজন করা
https://muslimbangla.com/masail/13948
বরের খরচে কনের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা
https://muslimbangla.com/masail/26342
বিয়ের বয়স কত?
https://muslimbangla.com/masail/25190
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজুল ইফতা, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন